উত্তর : আলিমদের এই মতভেদকে যথাযথভাবে বিবেচনা করার সক্ষমতা থাকতে হবে। হবে এবং যেসব মাসআলায় বিজ্ঞ আলিমদের বিশ্লেষণের গভীরতা বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং আমল করতে হবে। সেই সাথে এ ধরনের মাসআলা পেশ করার ক্ষেত্রে শরী‘আত নির্ধারিত শিষ্টাচার ও আদব বজায় রাখতে হবে। যেমন : ‘যে ব্যক্তি অলসতা ও গাফিলতির কারণে ছালাত পরিত্যাগ করে, তাকে কাফির বলা হবে কি না’? এই মাসআলায় আলিমদের মধ্যে প্রসিদ্ধ ও সুপরিচিত মতভেদ রয়েছে। অতএব এ বিষয়ে আপনি যে মতটিকে অধিকতর শক্তিশালী মনে করেন, সে অনুযায়ী আমল করবেন। যেমন: এ ব্যক্তির জানাযা পড়বেন না, তার যব্হ করা পশুর গোশত খাবেন না, অথবা সে যদি আপনার কোন আত্মীয় হয়, তাহলে তার কাছ থেকে উত্তরাধিকার গ্রহণ করবেন না ইত্যাদি। কোথাও উল্লেখ করতে হলে উভয় বক্তব্য উল্লেখ করতে হবে। কিন্তু আপনি এ মতটি সকল মানুষের উপর বাধ্যতামূলক করে দিতে পারবেন না।
তাই যিনি মানুষকে নছীহত করবেন, তার উচিত প্রজ্ঞা, কোমলতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে দাওয়াত দেয়া এবং এমন আচরণ না করা, যার কারণে মানুষ বিমুখ হয়ে যায়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তুমি তোমার প্রতিপালকের পথে প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করো এবং তাদের সঙ্গে এমন পদ্ধতিতে বিতর্ক করো, যা সর্বোত্তম। নিশ্চয় তোমার প্রতিপালকই সর্বাধিক অবগত, কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং কে সঠিক পথে রয়েছে’ (সূরা আন-নাহল : ১২৫)। বরং এ ধরনের বিধান নির্ধারণের বিষয়টি আপনাদের এলাকার আলিম ও বিচারকদের উপর ন্যস্ত করা উচিত এবং তারা ইজতিহাদ ও গবেষণার মাধ্যমে যে সিদ্ধান্তে উপনীত হন, সেটিই অনুসরণ করা উচিত। আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞানী (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং ২২৫২৭০)।
প্রশ্নকারী : আব্দুর রাযযাক, চারঘাট, রাজশাহী।