উত্তর : গর্ভধারণ হওয়ার পর ইচ্ছাকৃতভাবে গর্ভপাত করা জায়েয নয়। কারণ, গর্ভস্থ সন্তানও আল্লাহর প্রদত্ত একটি আমানত। গর্ভের বয়স যত বাড়ে, গর্ভপাতের নিষেধাজ্ঞা তত কঠোর হয়। বিশেষ করে ১২০ দিন (চার মাস) পূর্ণ হওয়ার পর, যখন ভ্রুণে রূহ ফুঁকে দেয়া হয়, তখন শরী‘আতসম্মত যরূরী কারণ (যেমন: নির্ভরযোগ্য মুসলিম বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে মায়ের জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়া) ছাড়া গর্ভপাত করা হারাম এবং গুরুতর অপরাধ। অতএব আপনার বর্ণিত ক্ষেত্রে গর্ভের বয়স মাত্র এক সপ্তাহের মত। শুধু প্রথম সন্তান ছোট, মা দুর্বল, ভবিষ্যতে কষ্ট হতে পারে এসব আশঙ্কা মাত্রই গর্ভপাতের বৈধ কারণ নয়। তবে যদি বিশ্বস্ত, দক্ষ ও দ্বীনদার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিশ্চিতভাবে বলেন যে, এই গর্ভ অব্যাহত থাকলে মায়ের জীবন বা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিবে, তাহলে সে ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষজ্ঞ আলেম ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিবেচিত হতে পারে।
আল্লাহ তা’আলা বলেন, وَ لَا تَقۡتُلُوۡۤا اَوۡلَادَکُمۡ خَشۡیَۃَ اِمۡلَاقٍ ؕ نَحۡنُ نَرۡزُقُہُمۡ وَ اِیَّاکُمۡ ‘দারিদ্র্যের ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা কর না। আমরাই তাদেরকে এবং তোমাদেরকে রিযিক দান করি (সূরা বানী ইসরাঈল : ৩১)। তিনি আরও বলেন, وَ لَا تَقۡتُلُوا النَّفۡسَ الَّتِیۡ حَرَّمَ اللّٰہُ اِلَّا بِالۡحَقِّ ‘আল্লাহ যে প্রাণকে সম্মানিত করেছেন, ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া তাকে হত্যা কর না’ (সূরা বানী ইসরাঈল : ৩৩)। রাসূল (ﷺ) বলেছেন,
إِنَّ أَحَدَكُمْ يُجْمَعُ خَلْقُهُ فِيْ بَطْنِ أُمِّهِ أَرْبَعِيْنَ يَوْمًا ثُمَّ يَكُوْنُ عَلَقَةً مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ يَكُوْنُ مُضْغَةً مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ يَبْعَثُ اللهُ مَلَكًا
‘নিশ্চয় তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টির উপাদান নিজ নিজ মায়ের পেটে চল্লিশ দিন পর্যন্ত বীর্যরূপে অবস্থান করে, অতঃপর তা জমাট বাঁধা রক্তে পরিণত হয়। ঐভাবে চল্লিশ দিন অবস্থান করে। অতঃপর তা গোশতপিণ্ডে পরিণত হয়ে (আগের মত চল্লিশ দিন) থাকে। অতঃপর আল্লাহ একজন ফেরেশতা প্রেরণ করেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩২০৮; ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৪৩)।
শুধু সন্তান ছোট হওয়া বা মা শারীরিকভাবে দুর্বল হওয়া গর্ভপাত বৈধ হওয়ার জন্য যথেষ্ট কারণ নয়। যদি নির্ভরযোগ্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিশ্চিত করেন যে, গর্ভধারণ অব্যাহত থাকলে মায়ের জীবন বা গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, তাহলে সে ক্ষেত্রে শরী‘আতের আলোকে বিশেষ প্রয়োজন (ضرورة) হিসাবে বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তাই চিকিৎসাগত নিশ্চিত প্রয়োজন ছাড়া এই প্রাথমিক পর্যায়ের গর্ভও নষ্ট করা থেকে বিরত থাকাই শরী‘আতের দৃষ্টিতে নিরাপদ ও অধিক সতর্কতার পথ।
প্রশ্নকারী : সাদেকুর রহমান, ঢাকা।