বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন
উত্তর : রাক‘আত ছুটে যাওয়া ব্যক্তিকে ইমাম হিসাবে অনুসরণ করা জায়েয। তবে একাকী পড়লেও সমস্যা নেই। সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য বক্তব্য অনুযায়ী ‘মাসবূক্ব ব্যক্তিকে ইমাম হিসাবে অনুসরণ করা জায়েয’ সুতরাং তার পিছনে অনুসরণকারীদের ছালাত বিশুদ্ধ হবে এবং এই মতটিকেই শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) পসন্দ করেছেন (তুহফাতুল মুহতাজ, ৮/৩৬১; নিহায়াতুল মুহতাজ, ২/২৩৩; আল-মুবদী, ১/৪২৪; আল-ইনছাফ, ২/৩৬; মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ২৩/৩৮২ পৃ.)। হাদীছ সম্রাট ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন, ‘যদি ইমাম ইমামতির নিয়ত না করেন এবং পরে কিছু লোক এসে শামিল হয় এবং তিনি তাদের ইমামতি করেন’ (অধ্যায় নং-১০, অনুচ্ছেদ নং-৫৯)। অতঃপর তিনি নিম্নোক্ত হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। ইবনু ‘আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, একদা আমি আমার খালা (মাইমুনা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর নিকট রাত্রি যাপন করলাম। নবী (ﷺ) রাতের ছালাতে দাঁড়ালেন, আমিও তাঁর সাথে ছালাত আদায় করতে দাঁড়ালাম। আমি তাঁর বামপাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম, তিনি আমার মাথা ধরে তাঁর ডানপাশে দাঁড় করালেন (ছহীহ বুখারী, হা/৬৯৯, ৬৯৮, ৬৯৭; ছহীহ মুসলিম, হা/৭৬৩)।

আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রামাযান মাসে একদা রাসূল (ﷺ) ছালাত আদায় করছিলেন। আমি তাঁর পাশে এসে দাঁড়ালাম। এরপর অন্য এক ব্যক্তি এসেও তাঁর পাশে দাঁড়ালেন। এভাবে আমরা এক দল লোক হয়ে গেলাম। এরপর নবী (ﷺ) যখন বুঝতে পারলেন যে, আমরা তাঁর পেছনে আছি, তখন তিনি ছালাত সংক্ষিপ্ত করলেন...’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১১০৪, ২৪৬০)। উপরিউক্ত হাদীছ প্রমাণ করে যে, একাকী ছালাত আদায়কারী ব্যক্তির জন্য ইমামে রূপান্তরিত হওয়া অনুমোদিত, আর ইমামের সালাম ফিরানোর পর ছুটে যাওয়া ছালাত আদায়ের ক্ষেত্রে মাসবূক্ব একাকী ছালাত আদায়কারীর হুকুমে পরিগণিত হয় (আল-বাবু ফী শারহিল কিতাব, ১/৯৬; মুগনীউল মুহতাজ, ১/২১১ পৃ.)। সাহল ইবনু সা‘দ আস-সা‘ঈদী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমর ইবনে আওফ গোত্রের বিবাদ ও মীমাংসার সময় প্রথমে আবূ বাকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইমামতিতে ছালাত শুরু হয়, কিন্তু পরবর্তীতে যখন রাসূল (ﷺ) আসলেন, তখন আবূ বাকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) পিছে গেলেন এবং কাতারের বরাবর দাঁড়ালেন। আর রাসূল (ﷺ) সামনে এগিয়ে ছালাত আদায় করালেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৮৪)। উক্ত হাদীছ প্রমাণ করে যে, দু’জন ইমামের ইমামতিতে ছালাত আদায় করা বৈধ (আল-মুগনী, ১/৭৭৯ পৃ.)।

শাইখ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ) ও শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মতানুযায়ী ‘অবশিষ্ট ছালাত আদায়কারী মাসবুক্ব ব্যক্তিকে জামা’আতের ফযীলাত পাওয়ার আশায় ইমাম হিসাবে অনুসরণ করা জায়েয’। কেননা ছালাতের শুরুতে ইমামতির নিয়ত করা শর্ত নয়। অসংখ্য দলীল প্রমাণ করে যে, একাকী ছালাত আদায়কারী ব্যক্তি পরবর্তীতে ইমামতির নিয়ত করতে পারে (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১২/১৪৮; আশ-শারহুল মুমতি‘, ২/৩০৭-৩১৮ পৃ.)।

আর শাইখ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এ ব্যাপারে ব্যাপক প্রশস্ততা রয়েছে। যদি আপনি একাকী ছালাত আদায় করেন, তবে এটি অধিক সতর্কতা ও উত্তম হবে। কারণ এর ফলে আলিমদের মতভেদ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা যায়। আর যদি আপনার সঙ্গে একাধিক লোক থাকে, তবে এক্ষেত্রে উত্তম ও সর্বোত্তম হল- সকলে মিলে নতুন জামা‘আত করে ছালাত আদায় করুন। তবুও মাসবূক্বের সঙ্গে যুক্ত হবেন না। পক্ষান্তরে আপনি যদি মাসবূক্ব ব্যক্তিকে ইমাম হিসাবে অনুসরণ করেন, সেক্ষেত্রেও বিশুদ্ধ মতানুযায়ী এতে কোন সমস্যা নেই এবং ছালাত বিশুদ্ধ হবে ইনশাআল্লাহ। তবে উত্তম ও পসন্দনীয় হল- আপনি একাকী ছালাত আদায় করুন, কারণ অনেক আলিম মাসবূক্ব ব্যক্তিকে ইমাম হিসাবে গ্রহণ করা বৈধ মনে করেন না। কিন্তু যদি আপনি তার সঙ্গে ছালাত আদায় করেন, তবে এতে কোন সমস্যা নেই। যেমন আপনি যদি একাকী ছালাত আদায়কারী কোন ব্যক্তির সঙ্গে দাঁড়িয়ে তাকে ইমাম বানিয়ে ছালাত আদায় করেন, তাহলে তাতেও কোন সমস্যা নেই। এখানে জামা‘আতের ফযীলাত পাওয়াটা মূখ্য উদ্দেশ্য (ফাতাওয়া নূরুন আলাদ র্দাব লি ইবনে বায, ২/৯৬৪ পৃ.)।

তবে হানাফী ও মালিকী মাযহাবের মতানুযায়ী ‘মাসবূক্ব ব্যক্তিকে ইমাম হিসাবে অনুসরণ করা জায়েয নয়’। সুতরাং তার পিছনে অনুসরণকারীদের ছালাত বিশুদ্ধ হবে না’ (ফাৎহুল ক্বাদীর, ১/২৭৭; আশ-শারহুল কাবীর, ১/৩২৭ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : আব্দুল খালেক, সঊদী আরব।




প্রশ্ন (২৯) : মাখরাজ ছাড়া কুরআন পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : আমি গর্ভবতী। আমি আল্লাহর কাছে নেককার সন্তান লাভের জন্য নিয়মিত দু‘আ করি। আমি এক লোকের কাছে শুনেছি যে, গর্ভবতী নারী যদি প্রতিদিন নিয়মিত সূরা মারিয়াম তেলাওয়াত করে, তাহলে তার প্রসব সহজ হয় এবং প্রতিদিন নিয়মিত সূরা ইউসুফ পড়ে, তাহলে বাচ্চা সুন্দর হয়। এর সমর্থনে কি কোন ছহীহ হাদীছ আছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : সৌন্দর্যের জন্য ভ্রু চাঁছা কি বৈধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধ উন্নয়নে নৈতিক শিক্ষার ভূমিকা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : কোন আলেম যদি তাবীয ব্যবহার করে, তাহলে তার পিছনে ছালাত আদায় করা কি জায়েয হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : জনৈক বক্তা বলেছেন, দাজ্জালের সাথে যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করুন। দাজ্জাল অচিরেই আগমন করবে। এভাবে বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : কোন ব্যক্তি টাকা ধার নিয়ে সময়মত টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়। যাকাত দেয়ার সময় উক্ত টাকা বাদ দিয়ে যাকাত দিলে হবে কি? উল্লেখ্য, যে টাকা ধার দেয়, সে দেয়ার সময়ই নিয়ত করে যে, যদি সেই ব্যক্তি কোন কারণে টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে উক্ত টাকা সে যাকাতের টাকা ধরে বাদ দিবে। এটা কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : ‘চিরস্থায়ী জাহান্নামী’-এর অর্থ কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৫) : ঈদের মাঠ আলোকসজ্জা করা, আগরবাতী জ্বালানো এবং ঈদের দিন পটকা ফোটানো, বাঁশি বাজানো, মেলায় যাওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : যোহরের পরের ২ রাক‘আত সুন্নাত কি ফরয ছালাতের আগে পড়ে নেয়া যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : অর্থ বা সম্পদ আত্মসাতের গুনাহ মোচনের উপায় কী? পরিশোধ করা সম্ভব না হলে, করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : সাত আসমানে সাতজন মুহাম্মাদ (ﷺ) আছেন। এই দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ