উত্তর : গণতন্ত্রের বিধান সম্পর্কে আলিমদের মধ্যে একক মত নেই। বরং পরিস্থিতি, উদ্দেশ্য এবং ফলাফলের উপর নির্ভর করে ভিন্নমত পরিলক্ষিত হয়। ইমাম নাছিরুদ্দীন আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ইসলাম ও গণতন্ত্র দু’টি বিপরীতমুখী ব্যবস্থা। যা কখনো এক হবার নয়। একটি আল্লাহর উপর ঈমান ও আল্লাহ নির্দেশিত পন্থায় জীবন পরিচালনার নির্দেশ দেয়, অপরটি ত্বাগূতের (আল্লাহ বিরোধী অনুশাসন) প্রতি ঈমান ও তদনুযায়ী জীবন পরিচালনার উপর নির্ভরশীল’ (সিলসিলাতুল হুদা ওয়ান নূর, রেকর্ড নং-৩৫৩)। শাইখ মুহাম্মাদ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন,
‘প্রথমতঃ ডেমোক্রেসি (গণতন্ত্র) শব্দটি আরবী নয়। এটি গ্রীক ভাষার শব্দ। শব্দটি Demos ও Kratia শব্দের সমন্বয়ে গঠিত ও উৎপন্ন হয়েছে। Demos শব্দের অর্থ সাধারণ মানুষ বা জনগণ আর Kratia শব্দের অর্থ শাসন বা ক্ষমতা। সুতরাং উভয় শব্দের মিলিত অর্থ দাঁড়ায় জনগণের শাসন ক্ষমতা। গণতন্ত্র একটি মানব রচিত ধর্মহীন রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থা’।
দ্বিতীয়তঃ গণতন্ত্র ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক একটি তন্ত্র। এই তন্ত্রে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা জনগণের হাতে অথবা তাদের নিযুক্ত প্রতিনিধি (পার্লামেন্ট সদস্য)-এর হাতে অর্পণ করা হয়। তাই এ তন্ত্রের মাধ্যমে গায়রুল্লাহর শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়, বরং জনগণ ও জনপ্রতিনিধির শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ তন্ত্রে জনপ্রতিনিধিদের সকলে একমত হওয়ার দরকার নেই। বরং অধিকাংশ সদস্য একমত হওয়ার মাধ্যমে এমন সব আইন জারী করা হয়, যেসব আইন জনগণ মেনে চলতে বাধ্য, এমনকি সে আইন যদি মানব প্রকৃতি, ধর্ম, বিবেক ইত্যাদির সাথে সাংঘর্ষিক হয় তবুও। উদাহরণস্বরূপ এই তন্ত্রের অধীনে গর্ভপাত করা, সমকামিতা, সূদী মুনাফার বিধান ইত্যাদি জারী করা হয়েছে। ইসলামী শাসনব্যবস্থাকে বাতিল করা হয়েছে। ব্যভিচার ও মদ্যপানকে বৈধ করা হয়েছে। বরং এই তন্ত্রের মাধ্যমে ইসলাম ও ইসলামপন্থীদেরকে প্রতিহত করা হয়। অথচ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কিতাবে জানিয়েছেন, ‘হুকুম বা শাসনের মালিক একমাত্র তিনি এবং তিনিই হচ্ছেন- উত্তম হুকুমদাতা বা শাসক’ (সূরা আল-মুমিন : ১৩)।
পক্ষান্তরে অন্যকে তাঁর শাসনে অংশীদার করা থেকে নিষেধ করেছেন এবং জানিয়েছেন তাঁর চেয়ে উত্তম বিধানদাতা কেউ নেই। তিনি আরো বলেন, ‘আল্লাহ ছাড়া কারো বিধান দেয়ার অধিকার নেই। তিনি আদেশ দিয়েছেন যে, তিনি ব্যতীত অন্য কারও ইবাদত করো না। এটাই সরল পথ। কিন্তু অধিকাংশ লোক তা জানে না’ (সূরা ইউসুফ : ৪০)। তিনি আরো বলেন, ‘তিনি নিজ হুকুমে কাউকে অংশীদার করান না’ (সূরা আল-কাহ্ফ : ২৬)। ঈমানদাররা সুদৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, আল্লাহর আইনের চেয়ে উত্তম কোন আইন নেই। আল্লাহর আইন বিরোধী সকল বিধান জাহিলী বিধান (সূরা আল-মায়িদাহ : ৫০)। এ কারণে যে দেশগুলোতে জনগণের প্রণীত আইনে শাসন চলছে সে দেশগুলোতে বিশৃঙ্খলা, চারিত্রিক অবক্ষয়, সামাজিক বিপর্যয় ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না। ‘মাউসূ‘আতুল আদইয়ান ওয়াল মাযাহিব আল-মু‘আসিরা’ গ্রন্থে এসেছে, ‘কোন সন্দেহ নেই যে, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা আল্লাহর আনুগত্য ও আইনপ্রণয়ন অধিকারের ক্ষেত্রে একটি নব্য শিরকের স্বরূপমাত্র। এ প্রক্রিয়ায় স্রষ্টা হিসাবে আল্লাহ0 আইন প্রণয়ন করার একক অধিকারকে ক্ষুণ্ন করা হয় এবং মাখলূক্বকে এ অধিকার প্রদান করা হয় (মাউসূ‘আতুল আদইয়ান ওয়াল মাযাহিব আল-মু‘আসিরা, ২/১০৬৬-১০৬৭ পৃ.; সূরা আল-আন‘আম : ৫৮; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৯৮১৩৪)।
পক্ষান্তরে আল্লাহর উপর ঈমান ও রাসূলগণের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে সেগুলোর প্রতি ঈমান আনার পর আল্লাহর আইন বাদ দিয়ে অন্য কোন আইন গ্রহণ করার প্রবণতাকে আল্লাহ তা‘আলা ‘বিস্ময়কর’ ঘোষণা করেছেন (সূরা আন-নিসা : ৬০)। সুতরাং বুঝা গেল যে, গণতন্ত্র একটি মানব রচিত মতবাদ। এর মানে জনগণ নিজেই নিজেকে শাসন করা। তাই এটি ইসলাম বিরোধী মতবাদ। শাসনের অধিকার সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহর অধিকার। কোন মানুষকে আইন প্রণয়ন করার অধিকার দেয়া জায়েয নয়, সে মানুষ যেই হোক না কেন! (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১০৭১৬৬)।
দ্বিতীয়তঃ ইসলামী শরী‘আতের স্থিরিকৃত নীতিমালায় রয়েছে: الضرورات تبيح المحظورات ‘প্রয়োজনে অবৈধ কাজও বৈধ হয়’ বা ‘অত্যন্ত প্রয়োজনে নিষিদ্ধ জিনিসও বৈধ হয়ে যায়’। এ মূলনীতি সূরা আন-আন‘আম : ১১৯; সূরা আল-হজ্জর : ৭৮; সূরা আল-বাক্বারার : ১৭৩ নং আয়াতের অনুকরণে নির্মিত (আল-ওয়াজীয ফী ই‘যাহী ক্বাওয়াঈদিল ফিক্বহ আল-কুল্লিয়্যাহ, পৃ. ২৩৪)। উপরিউক্ত মূলনীতির আলোকে কিছু কিছু আলিম পরিস্থিতি ও প্রয়োজনের গভীরতা অনুভব করে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। কিছু আলিমের মতে এটি পুরোপুরি হারাম নয়, বরং ‘আদালত ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার’ একটি মাধ্যম হতে পারে। যদি ভোট দিয়ে একজন ধার্মিক, শরী‘আহ-বান্ধব প্রার্থীকে ক্ষমতায় এনে অপকর্ম কমানো যায়, তাহলে এটি কল্যাণকর নীতির অন্তর্ভুক্ত। ইসলামী শরী‘আতের স্থিরিকৃত নীতিমালায় রয়েছে, الضرورات تبيح المحظورات ‘প্রয়োজনে অবৈধ কাজও বৈধ হয়’ বা ‘অত্যন্ত প্রয়োজনে নিষিদ্ধ জিনিসও বৈধ হয়ে যায়’। মুলনীতিটি সূরা আল-আন‘আম : ১১৯, সূরা আল-হজ্জ : ৭৮ ও সূরা আল-বাক্বারার ১৭৩ নং আয়াতের অনুকরণে নির্মিত (আল-ওয়াজীয ফী ই’যাহী ক্বাওয়াঈদিল ফিক্বহ্ আল-কুল্লিয়্যাহ, পৃ. ২৩৪; তাফসীরে সা‘দী, পৃ. ৮১)। এ পদ্ধতির অধীনে নিজেকে কিংবা অন্য কাউকে নির্বাচিত করে এই আইনসভাতে ঢুকে এর বিরোধিতা করবে, এই পদ্ধতির বিপক্ষে দলীল উপস্থাপন করবে, সাধ্যানুযায়ী অকল্যাণ ও দুর্নীতি রোধ করবে এবং দুর্নীতিবাজ ও নাস্তিকদেরকে বিতাড়িত করবে, তখন কল্যাণের দিক বিবেচনা করে ইজতিহাদের ভিত্তিতে এতে অংশ গ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে। বরং কোন কোন মুজতাহিদ আলেম মনে করেন, এ ধরনের নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করা ফরয।
শায়খ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)-কে নির্বাচনে অংশ নেয়ার হুকুম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জবাবে বলেন, ‘আমি মনে করি এ নির্বাচনগুলোতে অংশ নেয়া ফরয। আমরা যাকে ভাল মনে করি তাকে সহযোগিতা করা ফরয। কারণ ভাল লোকেরা যদি ঢিলেমি করে তাহলে এ স্থানগুলো কে দখল করবে? খারাপ লোকেরাই দখল করবে কিংবা এমন লোকেরা দখল করবে যাদের কাছে না আছে ভাল, না আছে খারাপ, যারা সুবিধাবাদী। তাই আমাদের উচিত যাকে যোগ্য মনে করি তাকে নির্বাচিত করা। যদি কেউ বলেন, আমরা যাকে নির্বাচিত করলাম আইনসভার অধিকাংশ সদস্য তার বিপক্ষে। আমরা জবাবে বলব, কোন অসুবিধা নেই। এই একজনের মধ্যে আল্লাহ বরকত দিতে পারেন। তিনি যদি আইনসভার সামনে হক্ব কথা বলতে পারেন তাহলে অবশ্যই এর প্রভাব থাকবে, প্রভাব থাকতেই হবে। তবে এক্ষেত্রে আমাদের অপরাধ যেটা হয় সেটা হচ্ছে, আল্লাহর সাথে বিশ্বস্ত না হওয়া। আমরা শুধু বৈষয়িক বিষয়ের উপর নির্ভর করি। সুতরাং আপনি যাকে ভাল মনে করেন তাকে নির্বাচিত করুন, এরপর আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করুন (লিক্বা‘আতুল বাব আল-মাফতূহ থেকে সংক্ষেপিত ও সমাপ্ত)।
সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির আলিমগণকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল- নির্বাচনে কাউকে মনোনয়ন দেয়া ও ভোট দেয়া জায়েয আছে কি? উল্লেখ্য, আমাদের দেশের শাসনব্যবস্থা আল্লাহর নাযিলকৃত আইনে নয়। জবাবে তাঁরা বলেন, ‘যে সরকার আল্লাহর নাযিলকৃত আইন দিয়ে শাসন করে না, শরী‘আহ আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করে না কোন মুসলিমের জন্য সে সরকারে যোগ দেয়ার প্রত্যাশায় নিজেকে মনোনীত করা জায়েয নয়। তাই এ সরকারের সাথে কাজ করার জন্য কোন মুসলিমের নিজেকে কিংবা অন্য কাউকে নির্বাচিত করা জায়েয নেই। তবে কোন মুসলিম যদি এ উদ্দেশ্য নিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হয় কিংবা অন্যকে নির্বাচিত করে যে, এর মাধ্যমে এ শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করে ইসলামী শরী‘আহ ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা ক্বায়িম করবে, নির্বাচনে অংশ গ্রহণকে তারা যদি বর্তমান শাসনব্যবস্থার উপর আধিপত্য বিস্তার করার মাধ্যম হিসাবে গ্রহণ করে, তাহলে সেটা জায়েয। তবে, সে ক্ষেত্রেও যে ব্যক্তি প্রার্থী হবেন তিনি এমন কোন পদ গ্রহণ করতে পারবেন না, যা ইসলামী শরী‘আর সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ২৩/৪০৬, ৪০৭ পৃ.)। স্থায়ী কমিটিকে আরো জিজ্ঞেস করা হয় যে, আপনারা জানেন, আমাদের আলজেরিয়াতে ‘আইনসভার নির্বাচন’ অনুষ্ঠিত হয়। কিছু কিছু দল আছে যারা ইসলামী হুকুমত ক্বায়িমের দিকে আহ্বান করে। আর কিছু কিছু দল আছে যারা ইসলামী হুকুমত চায় না। এখন যে ব্যক্তি এমন কাউকে ভোট দেয় যে প্রার্থী ইসলামী হুকুম চায় না সে ব্যক্তির হুকুম কী হবে? তবে এ ব্যক্তি ছালাত আদায় করে। জবাবে তাঁরা বলেন, ‘যে সব দেশে ইসলামী শরী‘আহ ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা চালু নেই, সেসব দেশের মুসলিমদের উপর ফরয ইসলামী হুকুমত ফিরিয়ে আনার জন্য তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা নিয়োজিত করা এবং যে দল ইসলামী হুকুমত বাস্তবায়ন করবে বলে তারা ধারণা করেন, সে দলকে একজোটে সবাই মিলে সহযোগিতা করা।
পক্ষান্তরে, যে দল ইসলামী শরী‘আহ বাস্তবায়ন না করার প্রতি আহ্বান জানায় সে দলকে সহযোগিতা করা নাজায়েয। বরং এ ধরনের সহযোগিতা ব্যক্তিকে কুফরের দিকে ধাবিত করে। দলীল হচ্ছে আল্লাহর বাণী: ‘আর আমি আদেশ করছি যে, আপনি তাদের মাঝে আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তদনুযায়ী বিধান দিন, তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না এবং তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন, যাতে করে আল্লাহ আপনার প্রতি যা নাযিল করেছেন তারা এর কোন কিছু হতে আপনাকে বিচ্যুত করতে না পারে। অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে রাখুন, আল্লাহ তাদেরকে তাদের কিছু পাপের শাস্তি দিতে চান। নিশ্চয় মানুষের মধ্যে অনেকেই ফাসিক্ব। তারা কি জাহিলিয়্যাতের বিধান কামনা করে? যারা (আল্লাহর প্রতি) বিশ্বাস রাখে তাদের কাছে আল্লাহর চেয়ে উত্তম বিধানদাতা কে?’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ৪৯-৫০)। এ কারণে যারা ইসলামী শরী‘আহ অনুযায়ী শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করে না আল্লাহ তাদেরকে কাফির হিসাবে উল্লেখ করেছেন। তাদের সাথে সহযোগিতা করা থেকে, তাদেরকে মিত্র হিসাবে গ্রহণ করা থেকে সাবধান করেছেন। যদি মুমিনগণ প্রকৃত ঈমানদার হয় তাদেরকে তাক্বওয়া অবলম্বন করার নির্দেশ দিয়েছেন (সূরা আল-মায়িদাহ : ৫৭; ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১/৩৭৩ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১০৭১৬৬)।
আল্লামা আব্দুল্লাহিল কাফী আল-কুরায়শী (রাহিমাহুল্লাহ) ১৯৫৭ সালে ছাপানো ‘বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীস’-এর গঠনতন্ত্রে উল্লেখ করেছেন,
(গ) যেসকল মুছলিম আহলেহাদীছ আন্দোলনের প্রতি বিদ্বিস্ট নহেন, অথচ যাঁহারা কোরআন ও ছুন্নতের নির্দেশিত আকীদা, মতবাদ এবং সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় আস্থাশীল এবং এই আস্থাকে যাঁহারা তাঁহাদের অতীত ও বর্তমান কার্যকলাপ দ্বারা প্রতিপন্ন করিয়াছেন ও করিতেছেন, যাঁহারা পাকিস্তানের মৌলিক আদর্শে বিশ্বাসী এবং এই রাষ্ট্র ও উহার নাগরিকদের দরদী, দীন দরিদ্রের বন্ধু, যাঁহারা পূর্বপাক জম্ঈয়তে আহলেহাদীছের উপরিউক্ত রাজনৈতিক দৃষ্টিভংগীকে সমর্থন করেন, যাঁহাদের বিরুদ্ধে সুবিধাবাদ, মতের অস্থিরতা, উৎকোচ, উৎপীড়ন, ইছলামের সহিত বিদ্রƒপ ও বিদ্রোহ, পাকিস্তান ও উহার সংহতির বিধ্বস্তিকল্পে শত্রুপক্ষের সহিত ষড়যন্ত্র, অনৈছলামিকতা ও দুশ্চরিত্রতার পৃষ্ঠপোষকতা, স্বজনপ্রীতি এবং জনগণকে ভুখা মারিয়া পরস্বাপহরণ দ্বারা “আঙ্গুল ফুলিয়া কলাগছ” হইবার অভিযোগ নাই, এইরূপ সচ্চরিত্র, সুশিক্ষিত, দৃঢ়চেতা, তেজস্বী দ্বীনদার ও যোগ্য মুছলমান যাহাতে ভোট-প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করেন, তজ্জন্য কেন্দ্রীয় জম্ঈয়তে আহলেহাদীছের পরামর্শ মত জম্ঈয়তের নেতৃত্বাধীনে পরিচালিত পূর্বপাকিস্তানের সমুদয় প্রতিষ্ঠান সচেষ্ট হইবে’ (পূর্ব-পাক জমঈয়তে আহলেহাদীছ : লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও গঠনতন্ত্র (ঢাকা : সদর দফতর ৮৬ নং কাজী আলাউদ্দীন রোড, ঢাকা; দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৯৫৭ খৃ.), পৃ. ২৭-২৮)।
প্রশ্নকারী : রবিউল, নোয়াখালী।