রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:২৬ অপরাহ্ন
উত্তর : আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের সর্বসম্মত মতানুযায়ী আহলে কুরআন বা হাদীছ অস্বীকারকারীরা কাফির। কারণ কুরআনের অনুসারীদের উপর হাদীছ মানাও ফরয। হাদীছের সত্যতা ও বাস্তবতাকে অস্বীকার করে কেউ আহলে কুরআন হতে পারে না। বুঝা যাচ্ছে যে, ‘আহলে কুরআন’ নামক দলটি কুরআন-সুন্নাহ তথা শরী‘আতের দলীলাদি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। তারা কুরআনের কিছুই বুঝে না। কারণ হাদীছ ছাড়া কুরআন বুঝা কোনক্রমেই সম্ভব নয়। এদের ভ্রান্ত মতবাদ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উম্মতকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘জেনে রাখ! আমাকে কুরআন এবং তার সঙ্গে অনুরূপ কিছু দেয়া হয়েছে। জেনে রাখ! এমন এক সময় আসবে যখন কোন প্রাচুর্যবান ব্যক্তি তার আসনে বসে বলবে, তোমরা শুধু এ কুরআনকেই আঁকড়ে ধর, তাতে যা হালাল পাবে তাকে হালাল হিসাবে এবং যা হারাম পাবে তাকে হারাম হিসাবে গ্রহণ কর। নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘জেনে রাখ! গৃহপালিত গাধা তোমাদের জন্য হালাল নয় এবং ছেদন দাঁতবিশিষ্ট হিংস্র পশুও নয়’ (আবূ দাঊদ, হা/৪৬০৪-৪৬০৫; তিরমিযী, হা/২৬৬৩-২৬৬৪, সনদ হাসান)।

ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘হাদীছ অস্বীকারকারীদের ধ্বংস অনিবার্য’ (শারহু উছূলি ‘ইতিক্বাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা‘আহ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৪৭৮)। ইমাম ইসহাক্ব ইবনু রাহওয়াইহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এমন প্রত্যেক ব্যক্তি যার কাছে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোন একটি ছহীহ হাদীছ পৌঁছেছে, অতঃপর সে কোন ভয়ের আশঙ্কা ছাড়াই তাকে অস্বীকার করেছে, তবে সে নিশ্চিতরূপে কাফির’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ১৯, ফৎওয়া নং-১১৫১২৫)। শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যারা মনে করে যে, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আনুগত্য করা অপরিহার্য নয়, তারা কাফির, তাদের হত্যা করা অপরিহার্য’ (আল-ওয়াসিয়্যাতুল কুবরা লি ইবনি তাইমিয়্যাহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩১৫)। ইমাম সুয়ূত্বী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যারা নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীছকে অস্বীকার করে তারা কাফির এবং তারা ইসলামের গণ্ডি ও চৌহদ্দি থেকে বের হয়ে ইয়াহুদী, খ্রিষ্টান অথবা অন্য কোন ধর্মের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে’ (মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ, পৃ. ১৪)। ইমাম ইবনু দাক্বীক্ব ঈদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীছ প্রমাণিত হওয়ার পরেও যারা তা প্রত্যাখ্যান করে তারা স্পষ্ট কাফির’ (শারহুল ইলমাম, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৭৭-১৭৮)। ইমাম ইবনু হায্ম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যদি কোন ব্যক্তি বলে, আমরা শুধু কুরআনের বিধানই মানব, হাদীছ মানব না, তবে সে সর্বসম্মতিক্রমে কাফির’ (আল-ইহকাম ফী উছূলিল আহকাম, ২য় খণ্ড, পৃ. ৮০)।

শায়খ আবূ বাকর আল-আজুর্রী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আলিমগণ বলেছেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনের মধ্যে যে সমস্ত বিধানকে ফরয করেছেন, তার পদ্ধতি ও নিয়ম-কানুন রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাত ছাড়া উপলব্ধি করা অসম্ভব। আর যারা এর বিপরীত বলবে, অর্থাৎ যারা বলবে যে, সুন্নাত ছাড়াও ইসলাম মানা সম্ভব তারা কাফির। তারা ইসলামী দল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে নাস্তিকদের অন্তর্ভুক্ত হিসাবে বিবেচিত হবে’ (আশ-শরী‘আহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ৪১২)। শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যারা সুন্নাতকে অস্বীকার করে তারা কাফির ও স্বধর্মত্যাগী। কেননা সুন্নাতকে অস্বীকার করা কুরআনকে অস্বীকার করার নামান্তর। যে কিতাব ও সুন্নাতকে অস্বীকার করে অথবা এর কোন একটিকে সে সর্বসম্মতিক্রমে কাফির। অবশ্যই তাকে এ সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন করা দরকার’ (ইবনু বায, মাজমূঊ ফাতাওয়া, ২য় খণ্ড, পৃ. ৪০৩ ও ৯ম খণ্ড, পৃ. ১৭৬-১৭৮)।

সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি বলেন, ‘যারা সুন্নাত অনুযায়ী আমল করাকে অস্বীকার করে তারা কাফির’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ১৯৪ ও ৫ম খণ্ড, পৃ. ১৯-২০)। দলীল হিসাবে তাঁরা নিন্মের হাদীছদ্বয় উল্লেখ করেছেন। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِيْ فَلَيْسَ مِنِّيْ ‘সুতরাং যারা আমার সুন্নাতের প্রতি ঔদাসীন্য ও বিরাগ পোষণ করবে, তারা আমার দলভুক্ত নয়’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫০৬৩; ছহীহ মুসলিম, হা/১৪০১; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৩৫৩৪)।

অন্যত্র তিনি বলেন, مَنْ أَطَاعَنِيْ فَقَدْ أَطَاعَ اللهَ وَمَنْ عَصَانِيْ فَقَدْ عَصَى اللهَ ‘যে আমার আনুগত্য করল, সে আল্লাহ তা‘আলারই আনুগত্য করল। আর যে আমার নাফরমানী করল, সে আল্লাহ তা‘আলারই নাফরমানী করল’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৯৫৭, ৭১৩৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১৮৩৫)।


প্রশ্নকারী : আল-মামুন, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।





প্রশ্ন (৩৮) : মদীনায় একদিন রামাযানের ছিয়াম রাখা অন্য শহরের এক হাযার রামাযানের চেয়ে উত্তম। মদীনায় একদিনের জুমু‘আর ছালাত অন্য শহরে এক হাযার জুম‘আ পড়ার চেয়েও উত্তম’ (ত্বাবারাণী, আল-মু‘জামুল কাবীর ১/৪৯৩ পৃঃ, হা/১১৪৪)। উক্ত হাদীছ কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : ছালাতে হাত বাঁধা সম্পর্কে সঊদী আরবের সর্বোচ্চ ফাতাওয়া বোর্ড এবং শায়খ ইবনু বায, আলবানী, শায়খ উছায়মীন (রাহিমাহুমুল্লাহ) কী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন? নাভীর নিচে বাঁধতে বলেছেন, না-কি বুকের উপর? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : রুকূতে বা সিজদাতে দু‘আ মুখে উচ্চারণ করে পড়তে হবে, না-কি মনে মনে পড়লেও হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : জনৈক ব্যক্তির আয়-উপার্জন থাকা সত্ত্বেও পিঠের নিচের অংশে তীব্র ব্যথার কারণে বিবাহ করার ক্ষেত্রে পেরেশানে আছে। বিয়ে করবে; না-কি করব না? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : মেয়েদের যে কোন ধরনের ছোট-বড় ব্লাউজ কিংবা গলা ও হাতা ছোট-বড়, যা শাড়ীর সাথে পরা হয়। এই জাতীয় ব্লাউজ বিক্রয় করা, মার্কেটিং করা বা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মার্কেটিং করা কি হালাল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : শিশু জন্মের ৩ দিন পর মারা যায়। এরূপ অবস্থায় সেই শিশুর জন্য আক্বীকা করতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : ‘খাবার খেয়ে শুকরিয়া আদায়কারী ধৈর্যশীল ছওমপালনকারীর ন্যায়’ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : ইসলামে বায়ে মুয়াজ্জালের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং -এর কাজ করার বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : যে সকল রাষ্ট্র আল্লাহকে সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক মনে করে না, সেই রাষ্ট্রের অধীনে যারা সরকারী চাকুরী করেন তাদেরকে দেশের নির্বাচনের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করতে হয়। মুসলিম হিসাবে বাধ্যগত কারণে উক্ত দায়িত্ব পালন করা কি কুফরীর অন্তর্ভুক্ত হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : ইবলীশ শয়তানের আর কোন নাম আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : জনৈক মুছল্লী ১ম জামা‘আত শেষ হওয়ার পর মসজিদে যায় এবং সুন্নাত শুরু করে। পরক্ষণেই বুঝতে পারে যে, মসজিদের অপর কোণে ২য় জামা‘আত হচ্ছে। এখন কি সে সুন্নাত ছেড়ে দিয়ে জামা‘আতে অংশগ্রহণ করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ