উত্তর : সুদ খাওয়া এবং যিনার মধ্যে কোনটি বড় অপরাধ, তা বোঝার জন্য ইসলামের বিভিন্ন দলীল এবং সালাফদের বক্তব্যের দিকে নজর দেয়া প্রয়োজন। সূদ খাওয়া ইসলামে একটি গুরুতর অপরাধ এবং কুরআনে এ ব্যাপারে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘যারা সূদ খায়, তারা কেবল সেভাবে উঠবে যেভাবে শয়তান দ্বারা পাগল করা হয় এবং যারা তাদের রবের কাছে থেকে নিষেধ করা হয়েছিল, তারা যদি ফিরে আসে, তবে তাদের জন্য যা কিছু ঘটবে তা তাদের জন্য গুনাহ’ (সূরা আল-বাক্বারাহ: ২৭৫)। ‘যারা সূদ ত্যাগ করে, তাদের জন্য যা কিছু তাদের জন্য আছে, তা আল্লাহর কাছে রয়েছে। আর যারা ফিরে আসে, তারা জাহান্নামের অধিবাসী’ (সূরা আল-বাক্বারাহ: ২৭৮)।
যিনা ইসলামে একটি মারাত্মক অপরাধ হিসাবে গণ্য হয় এবং এর জন্য কঠিন শাস্তির বিধান রয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর যিনা কাছেও যেও না। নিশ্চয় এটি অশ্লীলতা এবং এটি একটি খারাপ পথ’ (সূরা আল-ইসরাঈল: ৩২)। ‘যিনাকারীদের শাস্তি তাদের মধ্যে থেকে চারজন সাক্ষী আনা’ (সূরা আন-নূর: ২)। সালাফগণ উভয় বিষয়কে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করতেন। ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘সূদ খাওয়া যিনার চেয়ে বড় অপরাধ। কারণ সূদের শাস্তি আল্লাহর দ্বারা ঘোষণা করা হয়েছে এবং যিনার শাস্তি মানুষের হাতে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৬২)। ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘সূদ খাওয়া অত্যন্ত কঠিন অপরাধ, যেরকম যিনা। উভয়েরই শাস্তি অত্যন্ত কঠিন’ (ইবন কুদামাহ, আল-মুগনী, ৩/৮০ পৃ.)।
সুতরাং সূদ খাওয়া এবং যিনা উভয়ই গুরুতর অপরাধ। তবে, কুরআন এবং হাদীছের আলোকে দেখা যায় যে সূদ খাওয়া বিশেষভাবে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে আল্লাহর ঘৃণা প্রকাশিত হয়েছে। এই কারণে, ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে সূদ খাওয়া যিনার চেয়ে গুরুতর অপরাধ হিসাবে গণ্য হয়। তবে পুরো বিষয়টি অবস্থা ও পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে। আল্লাহ অধিক অবগত।
প্রশ্নকারী : আলমগীর, লালবাগ, ঢাকা।