রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:১৩ অপরাহ্ন
উত্তর : সুদ খাওয়া এবং যিনার মধ্যে কোনটি বড় অপরাধ, তা বোঝার জন্য ইসলামের বিভিন্ন দলীল এবং সালাফদের বক্তব্যের দিকে নজর দেয়া প্রয়োজন। সূদ খাওয়া ইসলামে একটি গুরুতর অপরাধ এবং কুরআনে এ ব্যাপারে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘যারা সূদ খায়, তারা কেবল সেভাবে উঠবে যেভাবে শয়তান দ্বারা পাগল করা হয় এবং যারা তাদের রবের কাছে থেকে নিষেধ করা হয়েছিল, তারা যদি ফিরে আসে, তবে তাদের জন্য যা কিছু ঘটবে তা তাদের জন্য গুনাহ’ (সূরা আল-বাক্বারাহ: ২৭৫)। ‘যারা সূদ ত্যাগ করে, তাদের জন্য যা কিছু তাদের জন্য আছে, তা আল্লাহর কাছে রয়েছে। আর যারা ফিরে আসে, তারা জাহান্নামের অধিবাসী’ (সূরা আল-বাক্বারাহ: ২৭৮)।

যিনা ইসলামে একটি মারাত্মক অপরাধ হিসাবে গণ্য হয় এবং এর জন্য কঠিন শাস্তির বিধান রয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর যিনা কাছেও যেও না। নিশ্চয় এটি অশ্লীলতা এবং এটি একটি খারাপ পথ’ (সূরা আল-ইসরাঈল: ৩২)। ‘যিনাকারীদের শাস্তি তাদের মধ্যে থেকে চারজন সাক্ষী আনা’ (সূরা আন-নূর: ২)। সালাফগণ উভয় বিষয়কে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করতেন। ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘সূদ খাওয়া যিনার চেয়ে বড় অপরাধ। কারণ সূদের শাস্তি আল্লাহর দ্বারা ঘোষণা করা হয়েছে এবং যিনার শাস্তি মানুষের হাতে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৬২)। ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘সূদ খাওয়া অত্যন্ত কঠিন অপরাধ, যেরকম যিনা। উভয়েরই শাস্তি অত্যন্ত কঠিন’ (ইবন কুদামাহ, আল-মুগনী, ৩/৮০ পৃ.)।

সুতরাং সূদ খাওয়া এবং যিনা উভয়ই গুরুতর অপরাধ। তবে, কুরআন এবং হাদীছের আলোকে দেখা যায় যে সূদ খাওয়া বিশেষভাবে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে আল্লাহর ঘৃণা প্রকাশিত হয়েছে। এই কারণে, ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে সূদ খাওয়া যিনার চেয়ে গুরুতর অপরাধ হিসাবে গণ্য হয়। তবে পুরো বিষয়টি অবস্থা ও পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে। আল্লাহ অধিক অবগত।


প্রশ্নকারী : আলমগীর, লালবাগ, ঢাকা।





প্রশ্ন (১৬) : এশার ছালাত নির্দিষ্ট ওয়াক্তে না পড়ে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পড়া কি জায়েয হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : শাওয়াল মাসে বিয়ে করা কি সুন্নত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : বউ-শাশুড়ীর মাঝে পরস্পর ঝগড়া-বিবাদ লাগলে মীমাংসার জন্য স্বামী যদি কৌশলে মায়ের সাথে স্ত্রীর নামে মিথ্যা কথা বলে এবং স্ত্রীর সাথে মায়ের নামে মিথ্যা কথা বলে, তাহলে বৈধ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : হাজারে আসওয়াদ পাথরের ইতিহাস সম্পর্কে জানাতে চাই। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : জানাযার ছালাতে ইমাম মুক্তাদী উভয় কি সূরা ফাতিহা, অন্য একটি সূরা, দরূদে ইবরাহীম ও জানাযার দু‘আ পড়তেই হবে, না-কি শুধু ইমাম পড়লেই হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : জনৈক ব্যক্তি বিশেষ ফযীলত মনে করে প্রতি শুক্রবার ছিয়াম পালন করেন। এভাবে ছিয়াম রাখা যাবে কি? ক্বাযা ছিয়াম শুক্রবারে আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : আব্দুল্লাহ ইবনু শাকীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘মানুষের হৃদয়ে আছে দু’টি কুঠরী, একটিতে থাকে ফেরেশতা, অপরটিতে থাকে শয়তান। মানুষ যখন আল্লাহর যিকিরে মগ্ন হয়, তখন শয়তান পিছনে সরে যায়। আর যখন মানুষ যিকির থেকে উদাসীন থাকে, তখন সে তার ঠোঁট দিয়ে হৃদয়ে ঠোকর মারতে থাকে। হৃদয়ে প্রক্ষেপ করে প্ররোচনা’। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : ব্যাংকে চাকরীর পর প্রাপ্ত পেনশনের টাকায় ব্যবসা করলে উপার্জন হালাল হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : কতদিনে আক্বীক্বা দিতে হয় এবং ছেলে-মেয়ে উভয়ের জন্য কয়টি করে আক্বীক্বা দিতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : মোবাইলের ব্যাকগ্রাউন্ডে কোন মৃতব্যক্তির ছবি সেট করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : ইমাম সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘আগামী কালের রিয্ক (رِزْق) নিয়ে চিন্তিত হওয়া গুনাহের কাজ’ (আয-যুহদ লি ইমাম আহমাদ)। এই বর্ণনাটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : রামাযানের ছিয়াম অবস্থায় ইনজেকশন নিলে কি ছিয়াম নষ্ট হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ