রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:০৬ অপরাহ্ন
উত্তর : হাশরের ময়দানে মানুষের পাশাপাশি সকল পশু-পাখি ও জীব-জন্তুও পুনরুত্থিত হবে এবং দুনিয়াতে যে সব পশু-পাখি অন্য পশু-পাখির উপর অন্যায়ভাবে আক্রমণ করেছিল, সে দিন তাদের প্রতিশোধ গ্রহণ করা হবে। তারপর আল্লাহর হুকুমে সেগুলো মাটিতে পরিণত হবে। ফলে তাদের জান্নাত বা জাহান্নামে যাওয়ার আর কোন প্রসঙ্গ থাকবে না। কুরআন, হাদীছ এবং ছাহাবায়ে কেরামের বক্তব্য দ্বারা সেটাই প্রমাণিত হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَإِذَا الْوُحُوْشُ حُشِرَتْ ‘আর যখন বন্য পশুদেরকে (হাশরের মাঠে) সমবেত করা হবে’ (সূরা আত-তাকবীর : ৫)। ক্বাতাদাহ (রাহিমাহুল্লাহ) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন,هذه الخلائق موافية يوم القيامة فيقضي الله فيها ما يشاء ‘এ সকল সৃষ্টি জীবকে ক্বিয়ামতের দিন পুনরুত্থিত করা হবে অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা যেভাবে চান সেভাবে তাদের মাঝে বিচার-ফায়সালা করবেন’ (জামি‘ঊল বায়ান ফী তা’বীলিল কুরআন, ২৪তম খণ্ড, পৃ. ২৪২)। তবে এর ব্যাখ্যায় ভিন্ন মতও আছে। আল্লাহ তা‘আলা অন্য আয়াতে বলেন,

وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الأَرْضِ وَلا طَائِرٍ يَطِيْرُ بِجَنَاحَيْهِ إِلا أُمَمٌ أمْثَالُكُمْ مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ ثُمَّ إِلَى رَبِّهِمْ يُحْشَرُونَ.

‘আর যত প্রকার প্রাণী পৃথিবীতে বিচরণশীল রয়েছে এবং যত প্রকার পাখী দু’ ডানাযোগে উড়ে বেড়ায় তারা সবাই তোমাদের মতই একেকটি শ্রেণী। আমি কোন কিছুই কিতাবে লিখতে ছাড়িনি। অতঃপর সবাইকে তাদের প্রতিপালকের নিকট সমবেত করা হবে’ (সূরা আল-আন‘আম : ৩৮)।

আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, لَتُؤَدَّنَّ الْحُقُوْقَ إِلَى أَهْلِهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُقَادَ لِلشَّاةِ الْجَلْحَاءِ مِنَ الشَّاةِ الْقَرْنَاءِ ‘ক্বিয়ামতের দিন সবার অধিকার যথাযথভাবে আদায় করা হবে, এমনকি শিংবিহীন ছাগলকে শিং প্রদান করে প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ দেয়া হবে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৮২)। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো বলেছেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা ক্বিয়ামতের দিন জিন, মানুষ ও চতুষ্পদ জন্তুর মাঝে বিচার-ফয়সালা করবেন। এমনকি দুনিয়ায় কোনও শিং বিশিষ্ট জন্তু কোনও শিং বিহীন জন্তুকে আঘাত করে থাকলে সে তার প্রতিশোধ নিবে। যখন একটি পশুরও অন্য পশুর প্রতি আর কোনও দাবী-দাওয়া ও অভিযোগ থাকবে না তখন আল্লাহ বলবেন, ‘তোমরা মাটি হয়ে যাও’। এ সময় কাফিররা আক্ষেপ করে বলবে, يَا لَيْتَنِي كُنتُ تُرَابًا ‘হায় আফসোস! আমিও যদি মাটি হয়ে যেতাম’ (সূরা আন-নাবা : ৪০; জামি‘ঊল বায়ান ফী তা’বীলিল কুরআন, ২৪তম খণ্ড, পৃ. ১৮১; সিলসিলা ছহীহা, হা/১৯৬৬-১৯৬৭, সনদ ছহীহ)। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, يحشر كل شيء حتى الذباب ‘সব কিছুকেই সমবেত করা হবে; এমনকি একটি মাছিকেও’ (তাফসীর ইবনু কাছীর, ৮ম খণ্ড, পৃ. ৩৩১)।

উল্লেখ্য যে, কিছু কিছু তাফসীরে দুনিয়ার বেশ কিছু প্রাণীর জান্নাতে প্রবেশের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এর পক্ষে হাদীছের কোন দলীল নেই। তাই এ জাতীয় কথা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ ছহীহ হাদীছে বর্ণিত হয়েছে যে, বিচারকার্য সংঘটিত হওয়ার পর আল্লাহর হুকুমে তারা আবার মাটিতে মিশে যাবে। আল্লাহই অধিক জ্ঞাত।

প্রশ্নকারী : ছাদীক্ব, নাটোর।




প্রশ্ন (১১) : জনৈক ব্যক্তি এক দোকান থেকে কিছু পোশাক কিনেছে; পরবর্তীতে জেনেছে যে, সেখানে চুরিকৃত জিনিস বিক্রি করা হয়। এমতাবস্থায় ঐ ব্যক্তির জন্য করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : রংধনু অংকিত পাঞ্জাবী কিংবা শার্ট পড়ে ছালাত আদায় করা যাবে কি কিংবা এরূপ জামা গায় দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : বাবার চার ছেলে, মেয়ে নেই। প্রথম ছেলে ও দ্বিতীয় ছেলে ১৫-১৬ বছর থেকে শহরে ব্যবসা করেন। ৩য় ছেলে ১৬-১৭ বছর যাবৎ বাবার সংসারে এখনো হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে সংসার দেখাশুনা করে যাচ্ছে। প্রথম ও দ্বিতীয় ছেলে বাবার সংসার থেকে চাল ডাল প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়মিত নিয়েছেন। প্রথম ও দ্বিতীয় ছেলেকে বাবা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতাও করেছেন, এখন তারা সাবলম্বী। চতুর্থ ছেলে ছোট হওয়ায় লেখাপড়া করে ও বর্তমানে বিবাহ করে বাবার সংসারে খায় আর সারাদিন ঘুরে বেড়ায়। প্রশ্ন হল- যখন বাবা সব ছেলেকে কিছু কিছু করে জমি লিখে দিতে চাইলেন, তখন তৃতীয় ছেলে সবার উপস্থিতিতে প্রস্তাব করল, ‘আমি যেহেতু ১৬-১৭ বছর ধরে সংসার দেখাশুনা করছি তাই এজমালিতে আমাকে এক বিঘা জমি দেয়া হোক’। উক্ত শর্তে দ্বিতীয় ও চতুর্থ ছেলের কোন দ্বিমত নেই। কিন্তু প্রথম ছেলে উক্ত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। ফলে তৃতীয় ছেলে বলে, আমি যেহেতু পরিশ্রম করেছি তাই এটা আমার অধিকার। পরবর্তীতে বাবা তৃতীয় ছেলেকে এক বিঘা জমি লিখে দেন। এক্ষেত্রে প্রথম ছেলে তৃতীয় জনকে ভাই হিসাবে স্বীকার করতে নারাজ এবং তাকে জাহান্নামী ও হারামখোর বলে প্রচার করতেছে। উল্লেখ্য যে, বাবার জমির পরিমাণ ৪০ বিঘার উপরে। এক্ষেত্রে বাবা কি অপরাধ করেছেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : ওয়ায মাহফিলের হ্যান্ড বিল তৈরি করার সময় ‘বিসমিল্লাহি’ ও ‘আল্লাহু আকবার’ লেখা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : প্রচলিত আছে যে, ‘জিবরীল (আলাইহিস সালাম) বলেছেন, পৃথিবীতে বৃষ্টি হলে কত ফোটা পানি পড়ে, আমি তা গুণতে পারি, কিন্তু যৌবনের ইবাদতের ছওয়াব গুণে শেষ করতে পারি না’। উক্ত বর্ণনা কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : কুরআন এবং ছহীহ হাদীছে কয়টি আসমান ও কয়টি যমীনের কথা বলা হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : দুনিয়াতে বেইমান, প্রতারক, পাপী, মিথ্যাবাদী লোকেরাই কেন সবচেয়ে বেশি সুখে থাকে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : কোন মুক্তাদি যদি মাগরিবের ছালাতে ইমামের সাথে এক রাক‘আত পান, তাহলে পরবর্তী দুই রাক‘আতেই তিনি কী সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলাবেন, না-কি এক রাক‘আতে মিলাবেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : পরিকল্পিতভাবে, ষড়যন্ত্রপূর্বক বা হিংসা করে জমি-জায়গা বা অন্য কোন বস্তুর মূল্য বাড়িয়ে দেয়া কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : আবূ দাঊদে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ  বলেছেন, যে কুরআনকে মধুর সূরে পাঠ করে না সে আমাদের দলভুক্ত নয়’। উক্ত হাদীছের মূল ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : বর্তমানে ফেসবুকে বিভিন্ন পণ্য বিক্রয়ের মধ্য দিয়ে কূপনের মাধ্যমে লটারী ড্র করে উমরাহ পালন, মোরটসাইকেল, এসি, ফ্রিজসহ আরো অনেক কিছু উপহার দেয়া হয়। এগুলোতে অংশগ্রহণ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : ছালাতে তাশাহুদের সময় নযর কোন দিকে রাখতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ