রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১২ অপরাহ্ন
উত্তর : বড় অপবিত্রতা থেকে গোসল করার দু’টি পদ্ধতি রয়েছে। যথা: 
(ক) ন্যূনতম বা জায়েয পদ্ধতি : অর্থাৎ কেউ যদি এ পদ্ধতিতে গোসল করে তাহলে তার গোসল শুদ্ধ হবে এবং সে বড় অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হবে। আর যে ব্যক্তি এ পদ্ধতিতে কোন কমতি করবে তার গোসল শুদ্ধ হবে না।
(খ) পরিপূর্ণ মুস্তাহাব পদ্ধতি : যে পদ্ধতিতে গোসল করা মুস্তাহাব বা উত্তম; ফরয নয়। ফরয ও জায়েয পদ্ধতির গোসল হচ্ছে। যথা: ১- ব্যক্তি অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ার নিয়ত করবে; সেটা জুনুবি অবস্থা হোক কিংবা হায়েয হোক কিংবা নিফাস হোক। ২- এরপর সারা শরীর ধৌত করবে। শরীরের লোমের নিচে পানি পৌঁছাবে। যেসব স্থানে সাধারণত পানি পৌঁছে না সেসব স্থানে পানি পৌঁছাবে যেমন- দুই বগল, দুই হাঁটুর নিচে। এর সাথে আলেমদের বিশুদ্ধ মতানুযায়ী, গড়গড়া কুলি ও নাকে পানি দিবে।
শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এ পদ্ধতির গোসল যে বৈধ গোসল এর সপক্ষে দলীল হচ্ছে আল্লাহর বাণী: ‘যদি তোমরা জুনুবি হও তাহলে প্রকৃষ্টভাবে পবিত্রতা অর্জন কর’ (সূরা আল-মায়েদাহ : ৬)। এখানে আল্লাহ তা‘আলা অন্য কিছু উল্লেখ করেননি। যে ব্যক্তি তার সারা শরীর একবার ধৌত করেছে তার ব্যাপারে সে প্রকৃষ্টভাবে পবিত্রতা অর্জন করেছে এ কথা বলা যায় (শারহুল মুমতি‘, ১/৪২৩)।

গোসলের পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতি হলো: ১- বড় অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ার নিয়ত করবে। সেটা জানাবাত হোক, হায়েয হোক কিংবা নিফাস। ২- এরপর বিসমিল্লাহ বলবে। দুই হাত তিনবার ধৌত করবে। লজ্জাস্থানের ময়লা ধৌত করবে।
৩- তারপর ছালাতের ওযূ করার ন্যায় পরিপূর্ণ ওযূ করবে।
৪- এরপর মাথার উপর তিনবার পানি ঢালবে। চুল ঘষা দিবে যাতে চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছে।
৫- অতঃপর সারা শরীরে পানি ঢালবে ও ধৌত করবে। ডানপার্শ্ব দিয়ে শুরু করবে। এরপর বামপার্শ্ব ধৌত করবে। সারা শরীরে যেন পানি পৌঁছে সেজন্য হাত দিয়ে ঘষামাজা করবে।

গোসলের মুস্তাহাব পদ্ধতির দলীল হচ্ছে- আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন জানাবাতের (অপবিত্রতার) গোসল করতেন তখন তিনি তাঁর হাত দুইটি ধৌত করতেন, ছালাতের ওযূর ন্যায় ওযূ করতেন। এরপর গোসল করতেন। হাত দিয়ে চুল খিলাল করতেন; যতক্ষণ পর্যন্ত না তিনি মনে করতেন যে, চামড়া ভিজেছে। তিনি মাথার উপর তিনবার পানি ঢালতেন। এরপর সারা শরীর ধৌত করতেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৪৮; ছহীহ মুসলিম, হা/৩১৬)। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন জানাবাতের গোসল করতে চাইতেন তখন তিনি একটি পাত্র আনতে বলতেন। যেমন- হিলাব (উটের দুধ দোহনের পাত্র।) তিনি হাত দিয়ে পানি নিতেন। ডান পার্শ্ব থেকে গোসল শুরু করতেন। এরপর বামপার্শ্ব। এরপর দুই হাতে পানি নিয়ে মাথার উপর পানি ঢালতেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৫৮; ছহীহ মুসলিম, হা/৩১৮)।


প্রশ্নকারী : জুয়েল, যশোর।





প্রশ্ন (৩) : সিজার করে সন্তান প্রসাব করানো কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : হজ্জ মানুষের পাপকে ধুয়ে দেয়, যেভাবে পানি ময়লাকে ধুয়ে দেয়। এই হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : আমি একটি প্রাইমারী স্কুলে চাকরি করি। চাকরি পরীক্ষায় অন্যজন থেকে কিছু প্রশ্ন দেখে লিখেছিলাম। আর বায়োডাটায় একটা মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলাম। বর্তমানে আমি ঐ বায়োডাটা ও পরীক্ষার মাধ্যমে চাকরি হয়েছে। প্রশ্ন হল- ঐ চাকরির টাকা কী আমার জন্য হালাল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : লাল ও হলুদ পোশাক পরিধানের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : ছাত্রাবাসে দেশের নতুন বিজয় উপলক্ষে এবং যারা মারা গেছে তাদের স্মরণে নফল ছিয়াম রাখে। এরকম আনুষ্ঠানিকভাবে নফল ছিয়াম রাখার কোন দলীল আছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : বাম হাতে খাওয়া বা পান করতে হাদীছে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু দুই হাতে খাওয়া বা পান করার কোন নজীর রাসূল (ﷺ), ছাহাবায়ে কেরাম বা পরবর্তী কোন সালাফ থেকে পাওয়া যায় কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৫) : ইসলামী শরী‘আতে ‘উকীল বাবা’-এর কোন বিধান আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮): খ্রিস্টানদের স্থাপিত স্কুল বা কলেজে পড়াশোনা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : তিনতলা বিশিষ্ট মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে সিরামিক ইট ব্যবহার করে সুন্দর করা হচ্ছে। এটা দেখে এলাকার লোকেরা ঠাট্টা করে বলাবলি করছে এখান থেকেই ক্বিয়ামত শুরু হবে। এভাবে বলা কি জায়েয?   - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : যেসব দেশে রাত বা দিন ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময়ে প্রলম্বিত, সেসব দেশে কিভাবে ছিয়াম পালন করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : প্রচলিত নির্বাচনে অংগ্রহণ করা এবং ভোট দেয়ার সুযোগ আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : কোন ফার্মাসিস্ট বাচ্চা নষ্ট করার ওষুধ বিক্রয় করলে গুনাহ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ