মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫১ অপরাহ্ন
উত্তর : বড় অপবিত্রতা থেকে গোসল করার দু’টি পদ্ধতি রয়েছে। যথা: 
(ক) ন্যূনতম বা জায়েয পদ্ধতি : অর্থাৎ কেউ যদি এ পদ্ধতিতে গোসল করে তাহলে তার গোসল শুদ্ধ হবে এবং সে বড় অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হবে। আর যে ব্যক্তি এ পদ্ধতিতে কোন কমতি করবে তার গোসল শুদ্ধ হবে না।
(খ) পরিপূর্ণ মুস্তাহাব পদ্ধতি : যে পদ্ধতিতে গোসল করা মুস্তাহাব বা উত্তম; ফরয নয়। ফরয ও জায়েয পদ্ধতির গোসল হচ্ছে। যথা: ১- ব্যক্তি অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ার নিয়ত করবে; সেটা জুনুবি অবস্থা হোক কিংবা হায়েয হোক কিংবা নিফাস হোক। ২- এরপর সারা শরীর ধৌত করবে। শরীরের লোমের নিচে পানি পৌঁছাবে। যেসব স্থানে সাধারণত পানি পৌঁছে না সেসব স্থানে পানি পৌঁছাবে যেমন- দুই বগল, দুই হাঁটুর নিচে। এর সাথে আলেমদের বিশুদ্ধ মতানুযায়ী, গড়গড়া কুলি ও নাকে পানি দিবে।
শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এ পদ্ধতির গোসল যে বৈধ গোসল এর সপক্ষে দলীল হচ্ছে আল্লাহর বাণী: ‘যদি তোমরা জুনুবি হও তাহলে প্রকৃষ্টভাবে পবিত্রতা অর্জন কর’ (সূরা আল-মায়েদাহ : ৬)। এখানে আল্লাহ তা‘আলা অন্য কিছু উল্লেখ করেননি। যে ব্যক্তি তার সারা শরীর একবার ধৌত করেছে তার ব্যাপারে সে প্রকৃষ্টভাবে পবিত্রতা অর্জন করেছে এ কথা বলা যায় (শারহুল মুমতি‘, ১/৪২৩)

গোসলের পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতি হলো: ১- বড় অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ার নিয়ত করবে। সেটা জানাবাত হোক, হায়েয হোক কিংবা নিফাস। ২- এরপর বিসমিল্লাহ বলবে। দুই হাত তিনবার ধৌত করবে। লজ্জাস্থানের ময়লা ধৌত করবে।
৩- তারপর ছালাতের ওযূ করার ন্যায় পরিপূর্ণ ওযূ করবে।
৪- এরপর মাথার উপর তিনবার পানি ঢালবে। চুল ঘষা দিবে যাতে চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছে।
৫- অতঃপর সারা শরীরে পানি ঢালবে ও ধৌত করবে। ডানপার্শ্ব দিয়ে শুরু করবে। এরপর বামপার্শ্ব ধৌত করবে। সারা শরীরে যেন পানি পৌঁছে সেজন্য হাত দিয়ে ঘষামাজা করবে।

গোসলের মুস্তাহাব পদ্ধতির দলীল হচ্ছে- আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন জানাবাতের (অপবিত্রতার) গোসল করতেন তখন তিনি তাঁর হাত দুইটি ধৌত করতেন, ছালাতের ওযূর ন্যায় ওযূ করতেন। এরপর গোসল করতেন। হাত দিয়ে চুল খিলাল করতেন; যতক্ষণ পর্যন্ত না তিনি মনে করতেন যে, চামড়া ভিজেছে। তিনি মাথার উপর তিনবার পানি ঢালতেন। এরপর সারা শরীর ধৌত করতেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৪৮; ছহীহ মুসলিম, হা/৩১৬)। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন জানাবাতের গোসল করতে চাইতেন তখন তিনি একটি পাত্র আনতে বলতেন। যেমন- হিলাব (উটের দুধ দোহনের পাত্র।) তিনি হাত দিয়ে পানি নিতেন। ডান পার্শ্ব থেকে গোসল শুরু করতেন। এরপর বামপার্শ্ব। এরপর দুই হাতে পানি নিয়ে মাথার উপর পানি ঢালতেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৫৮; ছহীহ মুসলিম, হা/৩১৮)


প্রশ্নকারী : জুয়েল, যশোর।





প্রশ্ন (১৩) : দরিদ্র মুহাজিরগণ পাঁচশ’ বছর আগে জান্নাতে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : যদি কোন ব্যক্তি নতুন বাড়িতে ওঠে এবং অনুষ্ঠানের আয়োজন করে লোকজনকে দাওয়াত করে খাওয়ায়, তাহলে জায়েয হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : ঈদের রাতে ইবাদত করার কোন দলীল আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : ইক্বামতে ‘ক্বাদ ক্বা-মাতিছ ছালাহ’-এর জবাবে ‘আক্বা-মাহাল্লাহু ওয়া আদামাহা’ বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) কোন্ কোন্ শস্যের যাকাত প্রদান করা ফরয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : যেকোন মসজিদে ই‘তিকাফ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৯) : দুধ বোনের ভাই-বোন মাহরাম হবে কি? তাদের সাথে দেখা করার শারঈ পদ্ধতি কি হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : আমার উপর হজ্জ ফরয হয়নি। আমি কি উমরাহ করতে পারব? জনৈক ব্যক্তি বলেন, কারো যদি হজ্জ করার সামর্থ্য না থাকে সে কখনো উমরাহ করতে পারবে না। কথাটি কতটুকু সত্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : নিয়তের খবর কি দু’কাঁধের ফেরেশতারা জানে? একটি হাদীছে এসেছে যে, ‘মানুষের ভাল কাজের নিয়ত করার সাথে সাথে একটি ছাওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয়। অতঃপর ঐ কাজ বাস্তবায়ন করলে দু’টি ছাওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয়। আর মানুষের মন্দ কাজের নিয়ত করার সাথে সাথে পাপ লেখা হয় না, বরং তা বাস্তবায়নের পরে লেখা হয়’। এ হাদীছের ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : হারাম ভক্ষণকারী কি চিরস্থায়ী জাহান্নামী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : ‘যে বিয়েতে খরচ কম ঐ বিয়েতে বরকত বেশি’। এই হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : জুমু‘আর দিন মহিলারা মসজিদে ছালাত আদায় করতে যেতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ