রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০২:৫৭ অপরাহ্ন
উত্তর : বড় অপবিত্রতা থেকে গোসল করার দু’টি পদ্ধতি রয়েছে। যথা: 
(ক) ন্যূনতম বা জায়েয পদ্ধতি : অর্থাৎ কেউ যদি এ পদ্ধতিতে গোসল করে তাহলে তার গোসল শুদ্ধ হবে এবং সে বড় অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হবে। আর যে ব্যক্তি এ পদ্ধতিতে কোন কমতি করবে তার গোসল শুদ্ধ হবে না।
(খ) পরিপূর্ণ মুস্তাহাব পদ্ধতি : যে পদ্ধতিতে গোসল করা মুস্তাহাব বা উত্তম; ফরয নয়। ফরয ও জায়েয পদ্ধতির গোসল হচ্ছে। যথা: ১- ব্যক্তি অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ার নিয়ত করবে; সেটা জুনুবি অবস্থা হোক কিংবা হায়েয হোক কিংবা নিফাস হোক। ২- এরপর সারা শরীর ধৌত করবে। শরীরের লোমের নিচে পানি পৌঁছাবে। যেসব স্থানে সাধারণত পানি পৌঁছে না সেসব স্থানে পানি পৌঁছাবে যেমন- দুই বগল, দুই হাঁটুর নিচে। এর সাথে আলেমদের বিশুদ্ধ মতানুযায়ী, গড়গড়া কুলি ও নাকে পানি দিবে।
শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এ পদ্ধতির গোসল যে বৈধ গোসল এর সপক্ষে দলীল হচ্ছে আল্লাহর বাণী: ‘যদি তোমরা জুনুবি হও তাহলে প্রকৃষ্টভাবে পবিত্রতা অর্জন কর’ (সূরা আল-মায়েদাহ : ৬)। এখানে আল্লাহ তা‘আলা অন্য কিছু উল্লেখ করেননি। যে ব্যক্তি তার সারা শরীর একবার ধৌত করেছে তার ব্যাপারে সে প্রকৃষ্টভাবে পবিত্রতা অর্জন করেছে এ কথা বলা যায় (শারহুল মুমতি‘, ১/৪২৩)

গোসলের পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতি হলো: ১- বড় অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ার নিয়ত করবে। সেটা জানাবাত হোক, হায়েয হোক কিংবা নিফাস। ২- এরপর বিসমিল্লাহ বলবে। দুই হাত তিনবার ধৌত করবে। লজ্জাস্থানের ময়লা ধৌত করবে।
৩- তারপর ছালাতের ওযূ করার ন্যায় পরিপূর্ণ ওযূ করবে।
৪- এরপর মাথার উপর তিনবার পানি ঢালবে। চুল ঘষা দিবে যাতে চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছে।
৫- অতঃপর সারা শরীরে পানি ঢালবে ও ধৌত করবে। ডানপার্শ্ব দিয়ে শুরু করবে। এরপর বামপার্শ্ব ধৌত করবে। সারা শরীরে যেন পানি পৌঁছে সেজন্য হাত দিয়ে ঘষামাজা করবে।

গোসলের মুস্তাহাব পদ্ধতির দলীল হচ্ছে- আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন জানাবাতের (অপবিত্রতার) গোসল করতেন তখন তিনি তাঁর হাত দুইটি ধৌত করতেন, ছালাতের ওযূর ন্যায় ওযূ করতেন। এরপর গোসল করতেন। হাত দিয়ে চুল খিলাল করতেন; যতক্ষণ পর্যন্ত না তিনি মনে করতেন যে, চামড়া ভিজেছে। তিনি মাথার উপর তিনবার পানি ঢালতেন। এরপর সারা শরীর ধৌত করতেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৪৮; ছহীহ মুসলিম, হা/৩১৬)। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন জানাবাতের গোসল করতে চাইতেন তখন তিনি একটি পাত্র আনতে বলতেন। যেমন- হিলাব (উটের দুধ দোহনের পাত্র।) তিনি হাত দিয়ে পানি নিতেন। ডান পার্শ্ব থেকে গোসল শুরু করতেন। এরপর বামপার্শ্ব। এরপর দুই হাতে পানি নিয়ে মাথার উপর পানি ঢালতেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৫৮; ছহীহ মুসলিম, হা/৩১৮)


প্রশ্নকারী : জুয়েল, যশোর।





প্রশ্ন (১৬) : প্রচলিত আছে যে, শিশুর বয়স ৫/৭ মাসে পড়লে কোন মসজিদে গিয়ে হুজুরের মাধ্যমে শিন্নি খাওয়াতে হবে এবং ঐ শিশুর সাথে আরেকটি শিশুর বন্ধু পাতাতে হবে। এমন প্রথা কি শরী‘আতসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : সূদী ঋণ নিয়ে হজ্জ করলে হজ্জ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : আমরা সাধারণ জনগণ হয়ে কিভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : প্রথম কাতারে ছালাত আদায়ের গুরুত্ব কেমন? মসজিদে যদি কেবল একটিই কাতার থাকে তবে সেই ফযীলত পাওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) একবার দাবা খেলায় রত কিছু মানুষের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেন, এই মুর্তিগুলো কী, যাদের সামনে তোমরা বসে আছ? এগুলো স্পর্শ করার চেয়ে জলন্ত অঙ্গার নির্বাপিত হওয়া পর্যন্ত তাতে হাতে রেখে দেয়া ভাল (সুনানে কুবরা, বায়হাক্বী, ১০/২১২)। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে দাবা খেলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, সেটা ‘নারদ’ (নামক খেলা) থেকে নিকৃষ্ট (সুনানে কুবরা, বায়হাক্বী, ১০/২১২)। ইমাম আবু হানীফা (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ছাত্র ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু হাসান (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘দাবা খেলা, পাশা খেলা এবং এ জাতীয় খেলাগুলোতে কোন কল্যাণ নেই’। উপরিউক্ত দলীলের আলোকে লুডু, তাস, ক্যারাম ইত্যাদি খেলাকেও হারাম বলা হয়। প্রশ্ন হল, ছাহাবী বা তাবেঈ কি কোন জিনিস হারাম করতে পারেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : এশার ছালাত কখন আদায় করা উত্তম? আউয়াল ওয়াক্তে, না-কি দেরিতে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪): আদম সন্তানের বীর্য কি পবিত্র? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : মুওয়াযিযন আযান দেয়ার সময় মসজিদে প্রবেশ করলে ‘তাহিয়্যাতুল মসজিদ’ পড়া শুরু করবে না দাঁড়িয়ে থেকে মুওয়াযিযনের জবাব দিবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : গাছে, পাথর, পশুপাখির দেহে ইত্যাদি জায়গায় ‘আল্লাহ’ লেখা দেখতে পাওয়া যায়। এগুলো অনেকে ফেসবুকে প্রচার করে থাকে। এগুলো সম্পর্কে ইসলামের বক্তব্য কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : যে নারী ক্বাযা ছিয়াম পালন করার আগেই গর্ভবতী হয়ে গেছেন এবং আগত রামাযানেও তার পক্ষে ছিয়াম রাখা সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় পূর্বের ক্বাযা ছিয়াম ও আগত ছিয়ামের হুকুম কী হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : ‘রাহে বেলায়েত’ নামক বইয়ের ৮৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে যে, বেশি বেশি সুবহানাল্লাহ, আলহামদুল্লাহ, আল্লাহু আকবার পড়লে মুনাফিক হতে মুক্তি পাওয়া যায় (নাসাঈ ৬/২১০)। উক্ত বর্ণনা ছহীহ কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : বিবাহ, জন্মদিন, দিবস পালন কিংবা বিভিন্ন গানবাজনা ও কনসার্টের জন্য ভিডিও ক্যামেরা ভাড়া দিয়ে অর্থ উপার্জন করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ