বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন
উত্তর : বড় অপবিত্রতা থেকে গোসল করার দু’টি পদ্ধতি রয়েছে। যথা: 
(ক) ন্যূনতম বা জায়েয পদ্ধতি : অর্থাৎ কেউ যদি এ পদ্ধতিতে গোসল করে তাহলে তার গোসল শুদ্ধ হবে এবং সে বড় অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হবে। আর যে ব্যক্তি এ পদ্ধতিতে কোন কমতি করবে তার গোসল শুদ্ধ হবে না।
(খ) পরিপূর্ণ মুস্তাহাব পদ্ধতি : যে পদ্ধতিতে গোসল করা মুস্তাহাব বা উত্তম; ফরয নয়। ফরয ও জায়েয পদ্ধতির গোসল হচ্ছে। যথা: ১- ব্যক্তি অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ার নিয়ত করবে; সেটা জুনুবি অবস্থা হোক কিংবা হায়েয হোক কিংবা নিফাস হোক। ২- এরপর সারা শরীর ধৌত করবে। শরীরের লোমের নিচে পানি পৌঁছাবে। যেসব স্থানে সাধারণত পানি পৌঁছে না সেসব স্থানে পানি পৌঁছাবে যেমন- দুই বগল, দুই হাঁটুর নিচে। এর সাথে আলেমদের বিশুদ্ধ মতানুযায়ী, গড়গড়া কুলি ও নাকে পানি দিবে।
শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এ পদ্ধতির গোসল যে বৈধ গোসল এর সপক্ষে দলীল হচ্ছে আল্লাহর বাণী: ‘যদি তোমরা জুনুবি হও তাহলে প্রকৃষ্টভাবে পবিত্রতা অর্জন কর’ (সূরা আল-মায়েদাহ : ৬)। এখানে আল্লাহ তা‘আলা অন্য কিছু উল্লেখ করেননি। যে ব্যক্তি তার সারা শরীর একবার ধৌত করেছে তার ব্যাপারে সে প্রকৃষ্টভাবে পবিত্রতা অর্জন করেছে এ কথা বলা যায় (শারহুল মুমতি‘, ১/৪২৩)

গোসলের পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতি হলো: ১- বড় অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ার নিয়ত করবে। সেটা জানাবাত হোক, হায়েয হোক কিংবা নিফাস। ২- এরপর বিসমিল্লাহ বলবে। দুই হাত তিনবার ধৌত করবে। লজ্জাস্থানের ময়লা ধৌত করবে।
৩- তারপর ছালাতের ওযূ করার ন্যায় পরিপূর্ণ ওযূ করবে।
৪- এরপর মাথার উপর তিনবার পানি ঢালবে। চুল ঘষা দিবে যাতে চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছে।
৫- অতঃপর সারা শরীরে পানি ঢালবে ও ধৌত করবে। ডানপার্শ্ব দিয়ে শুরু করবে। এরপর বামপার্শ্ব ধৌত করবে। সারা শরীরে যেন পানি পৌঁছে সেজন্য হাত দিয়ে ঘষামাজা করবে।

গোসলের মুস্তাহাব পদ্ধতির দলীল হচ্ছে- আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন জানাবাতের (অপবিত্রতার) গোসল করতেন তখন তিনি তাঁর হাত দুইটি ধৌত করতেন, ছালাতের ওযূর ন্যায় ওযূ করতেন। এরপর গোসল করতেন। হাত দিয়ে চুল খিলাল করতেন; যতক্ষণ পর্যন্ত না তিনি মনে করতেন যে, চামড়া ভিজেছে। তিনি মাথার উপর তিনবার পানি ঢালতেন। এরপর সারা শরীর ধৌত করতেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৪৮; ছহীহ মুসলিম, হা/৩১৬)। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন জানাবাতের গোসল করতে চাইতেন তখন তিনি একটি পাত্র আনতে বলতেন। যেমন- হিলাব (উটের দুধ দোহনের পাত্র।) তিনি হাত দিয়ে পানি নিতেন। ডান পার্শ্ব থেকে গোসল শুরু করতেন। এরপর বামপার্শ্ব। এরপর দুই হাতে পানি নিয়ে মাথার উপর পানি ঢালতেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৫৮; ছহীহ মুসলিম, হা/৩১৮)


প্রশ্নকারী : জুয়েল, যশোর।





প্রশ্ন (১৬) : নবী মুহাম্মদ (ﷺ)-এর উপর সর্বপ্রথম ঈমান আনয়নকারী ব্যক্তি কে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : জনৈক ব্যক্তি হারাম অর্থ দিয়ে বাড়ীতে নলকূপ স্থাপন করেছে। ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে সেই নলকূপের পানি দিয়ে ওযূ করা বা ফরয গোসল করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : আমি একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার। আমাকে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় মানুষ ও প্রাণীর ছবি সম্বলিত ডিজাইন করতে হয়। ইসলামী শরী‘আতে এটা কি বৈধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : যোহরের ছালাতের আউয়াল ওয়াক্ত কখন শুরু হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : কোন কাপড়ে ধর্মীয় প্রতীক বা মন্দিরের ত্রিভুজ আকৃতির ডিজাইন দেয়া কাপড়ের ব্যবসা করা হালাল হবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : হাজারে আসওয়াদ পাথরটি প্রথমে সাদা ছিল। এটা এখন কালো হয়ে গেছে। এটা কালো কিভাবে হল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : কবরস্থানে জন্মানো গাছ থেকে কিছু খাওয়া যাবে? কবরস্থানে থাকা প্রাণী খাওয়া যাবে? যেহেতু এসবের খাদ্যের মূল উৎস মরা মানুষ। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : মসজিদের ক্বিবলার দিকে এক কোণায় কিছু কবর আছে। কবরগুলো দেওয়াল দিয়ে পাকা করা। কবরের দেওয়াল এবং মসজিদের দেওয়ালের মধ্যে ২ ফিট পার্থক্য আছে। প্রশ্ন হল- উক্ত মসজিদে কি ছালাত হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : কুরআন খতমের পর নিম্নের দু‘আ পড়ার কোন ছহীহ দলীল আছে কি? اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي بالقُرْءَانِ وَاجْعَلهُ لِي إِمَاماً وَنُوراً وَهُدًى وَرَحْمَةً اللَّهُمَّ ذَكِّرْنِي مِنْهُ مَانَسِيتُ وَعَلِّمْنِي مِنْهُ مَاجَهِلْتُ وَارْزُقْنِي تِلاَوَتَهُ آنَاءَ اللَّيْلِ وَأَطْرَافَ النَّهَارِ وَاجْعَلْهُ لِي حُجَّةً يَارَبَّ العَالَمِينَ - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : আঁটসাঁট পোশাকে ছালাত পড়ার হুকুম কী? যে ব্যক্তি আঁটসাঁট পোশাক পরেন সে কি ইমামতি করতে পারেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৯) : জনৈক বক্তা বলেন, যে বান্দা রামাযানের ছিয়াম পালন করে তার সাথে প্রত্যেক দিন তাঁবুতে সুরক্ষিত হুরদের মধ্য হতে একজনকে বিবাহ দিয়ে দেন। প্রত্যেক স্ত্রীর সাথে ৭০টি দামী কাপড় থাকবে। প্রত্যেকটির রং হবে পৃথক পৃথক। তাকে ৭০ প্রকারের সুগন্ধিযুক্ত রং দেয়া হবে। এক রঙের সাথে অন্য রঙ মিলবে না। প্রত্যেকেই বসে থাকবে হীরার খাটে, যাতে মুক্তা দ্বারা বিন্যস্ত করা থাকবে ৭০টি বিছানা, যার আস্তর থাকবে রেশমের। ৭০টি বিছানার উপর থাকবে ৭০টি পালঙ্ক। প্রত্যের স্ত্রীর জন্য থাকবে ৭০ জন্য সেবিকা, যারা তার সেবা করবে। আর ৭০ জন সেবিকা থাকবে তার সাথে মুলাক্বাতের জন্য। আর প্রত্যেক সহচরের সাথে থাকবে অনেক সম্ভ্রান্ত সাথী। জান্নাতে স্বর্ণের পাত্র থাকবে তাতে বিভিন্ন রঙের খাবার থাকবে। প্রথম যে স্বাদ পাওয়া যাবে শেষেও সে স্বাদ পাওয়া যাবে। আর তার স্বামীকেও অনুরূপ লাল হীরার খাট দেয়া হবে, যার উপর দু’টি স্বর্ণের বালা থাকবে, যা বিন্যস্ত থাকবে লাল হীরা দ্বারা। এটা রামাযানের প্রত্যেক দিন ছিয়াম পালনকারীর জন্য, অন্য নেক আমলের জন্য নয় (ত্বাবারাণী, আল-মু‘জামুল কাবীর হা/৯৬৭)। উক্ত বর্ণনা কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘আল্লাহ সর্বপ্রথম যে বস্তুটি সৃষ্টি করেছিলেন তা হচ্ছে কলম। অতঃপর তিনি কলমকে বললেন, লিখ। কলম বলল, কী লিখব? আল্লাহ বললেন, কদ্‌র তথা তাক্বদীর সম্পর্কে লিখ। সুতরাং কলম- যা ছিল ও ভবিষ্যতে যা হবে, সবকিছুই লিখে ফেলল (আবূ দাঊদ, হা/৪৭০০; মিশকাত, হা/৯৪)। এ হাদীছ দ্বারা প্রথম সৃষ্টি কোন্টি, তা কিভাবে বুঝব? কারণ প্রথম সৃষ্টি তার আগে যা ছিল তা লিখেছে। সুতরাং প্রথম সৃষ্টি কোনটি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ