উত্তর : কোন মেয়েকে পসন্দ হলে অভিভাবকের মাধ্যমে বিয়ের প্রস্তাব দেয়া বৈধ। বরং এটি স্বাভাবিক ও সুন্নতসম্মত একটি পথ। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কারো কাছে এমন কেউ প্রস্তাব নিয়ে আসে যার দ্বীন ও চরিত্র তোমরা পসন্দ কর, তবে তাকে বিয়ে দাও’ (তিরমিযী, হা/১০৮৪)। আরেক হাদীছে এসেছে, ‘নারীকে চারটি বিষয় দেখে বিয়ে করা হয়: তার সম্পদ, বংশ, সৌন্দর্য ও দ্বীন। তুমি দ্বীনদার নারীকে বেছে নাও, তাতে তুমি সফল হবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫০৯০; ছহীহ মুসলিম, হা/১৪৬৬)। শাইখ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যদি কোন পুরুষ কোন নারীকে পসন্দ করে এবং তার দ্বীন ও চরিত্রে সন্তুষ্ট হয়, তবে তার জন্য বৈধ উপায়ে (অভিভাবকের মাধ্যমে) বিয়ের প্রস্তাব দেয়া বৈধ; এতে কোন দোষ নেই’ (মাজমূ ফাতওয়া, ইবনু বায, ২০/৪২১ পৃ.)। বিয়ের ক্ষেত্রে আসল বিবেচ্য বিষয় হল দ্বীন ও চরিত্র। সৌন্দর্য বা সম্পদ সাময়িক, কিন্তু দ্বীন মানুষের জীবন ও পরিবারকে স্থিতিশীল করে (লিক্বাউল বাব আল-মাফতূহ, সাক্ষাৎকার নং ৫২)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘সৎ নারীরা অনুগত এবং স্বামীর অনুপস্থিতিতে আল্লাহর হেফাযতে নিজেদের রক্ষা করে’ (সূরা আন-নিসা : ৩৪)।
এই আয়াত ও হাদীছসমূহ থেকে আলেমগণ যে বৈশিষ্ট্যগুলো উল্লেখ করেছেন, তা হলো- দ্বীনদার মেয়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য নিয়মিত ছালাত আদায় করে। পর্দা ও লজ্জাশীলতা বজায় রাখে। চরিত্র ও আমানতের ব্যপারে রক্ষণশীল। স্বামীর প্রতি অনুগত (শরী‘আতসম্মত বিষয়ে)। হারাম থেকে বেঁচে থাকে এবং হালালের প্রতি যত্নশীল উত্তম আচরণ ও নরম স্বভাবের অধিকারী। সঊদী আরবের বর্তমান গ্রান্ড মুফতি আল্লামা ছালিহ আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘দ্বীনদার নারী সেই, যে আল্লাহর অধিকার ও বান্দার অধিকার যথাযথভাবে আদায় করে এবং নিজের চরিত্রকে সংরক্ষণ করে’ (আল-মুনতাক্বা, ৩/১২০ পৃ.)।
প্রশ্নকারী : মাহিন ভূঁইয়া, ঢাকা কলেজ।