হুতী আগ্রাসন: নব্য আবরাহার পদধ্বনি এবং ইসলাম ও মুসলিমদের চূড়ান্ত দুশমন
ইয়ামান ঈমান, জ্ঞান, হিকমাহ ও বরকতের ভূমি। অথচ সেই ইয়ামানের বুকেই সশস্ত্র ও ভ্রান্ত মতাদর্শিক হুতী শক্তির উত্থান ঘটেছে। যারা নিজেদের মুখে কুরআন, আহলুল বাইত, ইসলাম ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধিতার ভাষা উচ্চারণ করে। কিন্তু তাদের উৎপত্তি, আক্বীদাগত বিবর্তন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের গভীরে প্রবেশ করলে ভিন্ন এক চিত্র ফুটে ওঠে। হুতী আন্দোলন কেবল সামরিক বা রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিসাবে নয়; বরং এটি দীর্ঘ ঐতিহাসিক, ধর্মতাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক বিবর্তনের ফল। মূলত শী‘আদের যায়দী শাখার ইমামত, নেতৃত্ব ও ধর্মীয় কর্তৃত্বকে কেন্দ্র করে ইয়ামানে হুতী প্রবণতার বিকাশ ঘটে। এটি ১৯৮৬ সালে اتحاد الشباب বা ‘যুবসংঘ’ নামে আধুনিক রূপে প্রকাশ ঘটে। পরবর্তীতে ‘الشباب المؤمن’ বা ‘বিশ্বাসী যুবক’ নামে এর শিক্ষা, ক্যাম্প, সমাবেশ ও মতাদর্শিক কার্যক্রম বিস্তৃত হয়। হুতীদের এই ধারার সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি হলেন হুসাইন বদরুদ্দীন আল-হুতী। তাঁর বক্তৃতা ‘মালাযিম’ এ আন্দোলনের ধর্মীয়-রাজনৈতিক ভাষ্য নির্মাণে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
হুতীবাদ সামরিক শক্তির চেয়ে এর আক্বীদাগত কর্তৃত্ববোধ বেশী শক্তিশালী। যদিও তাদের আক্বীদা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের সাথে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। হুতী আক্বীদার মৌলিক দিকগুলো হল- তারা আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর ক্ষেত্রে তা’বীল বা ভুল ব্যাখ্যা করে থাকে; তারা ইমামত ও নেতৃত্বের ধারণাকে নবুওয়াতের সাথে তুলনা করে এবং আহলুল বাইতের ইমামদের বিশেষ মর্যাদা প্রদান করে; তারা তাকীয়া নীতিতে বিশ্বাসী; তারা শী‘আদের জারুদিয়া ও যায়দিয়াহ ধারণার সঙ্গে যুক্ত; তাদের মতে ইমামের জ্ঞান, নেতৃত্ব, আন্দোলন এবং যালিম শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ধারণা পরস্পর সম্পর্কিত; তারা ইমামের ইসমত বা ভুল থেকে সুরক্ষিত ধারণায় বিশ্বাসী; তারা ছাহাবীদের আদালত বা সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আপত্তি করেছে, তাঁদের বর্ণনাকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে; তারা আবূ বকর, উমার ও উছমান (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) এর কর্মকাণ্ডকে গুরুতর অপরাধ হিসাবে দেখে এবং তাদেরকে কাফের মনে করে; তাদের আলেমরা দাবি করেছেন যে, তাদের প্রতীক্ষিত মাহদী আবূ বকর ও ‘উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে পুনর্জীবিত করবেন। অতঃপর একটি খেজুরগাছের কাণ্ডে তাদের শূলবিদ্ধ করবেন এবং প্রতিদিন তাদেরকে এক হাজারবার হত্যা করবেন। ‘হাক্কুল-ইয়াকীন’ গ্রন্থে বলা হয়েছে, ‘যখন মাহদী আবির্ভূত হবেন, তখন তিনি ‘আয়িশাকে পুনর্জীবিত করবেন এবং তাঁর ওপর হদ্দ কার্যকর করবেন’।
হুসাইন আল-হুতী বলেছেন, ‘এই উম্মতের প্রতিটি মন্দ কাজ, এই উম্মতের ওপর সংঘটিত প্রতিটি যুলুম এবং উম্মত যে প্রতিটি দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে- এসবের জন্য দায়ী আবূ বকর, ‘উমার ও ‘উছমান; বিশেষ করে ‘উমার, কারণ পুরো প্রক্রিয়ার নকশাকার তিনিই’। এমনকি সে ছাহাবীদের বিরুদ্ধে অভিশাপেরও আহ্বান করেছে; তারা কুরআনের সংকলন, সংরক্ষণ ও ছাহাবীদের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ করে থাকে; হাদীছ গ্রহণের ক্ষেত্রে রাবীর মর্যাদা, আহলুল বাইতের সূত্র এবং ছাহাবীদের প্রতি তাদের অবস্থানের আলোকে হয়ে থাকে; তারা মুত‘আহ বিবাহকে বৈধ মনে করে; তাদের ইমামগণ গায়েবের সংবাদ রাখে বলে বিশ্বাস করে; তারা হুসাইন বদরুদ্দীন আল-হুতীকে মাহদী মনে করে এবং তাদের বিশ্বাস হল- হুসাইন নিহত হননি; বরং তিনি পুনরায় ফিরে আসবেন; হুতীরা ইরানী বিপ্লব ও খোমেনীর রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারী; ইমামতকে কেবল সীমিত ফৌজদারি/প্রশাসনিক ক্ষমতা নয়, বরং মানুষের সামগ্রিক জীবন পরিচালনার সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যাপক কর্তৃত্ব রয়েছে বলে মনে করে; তারা ঈদে মীলাদুন্নবী ও মি‘রাজুন্নবী উদযাপন করে থাকে এবং তারা কুরআন ও সুন্নাহকে শরী‘আতের দুই মূল উৎস হিসাবে স্বীকার না করে তাদের ইমামদের বক্তব্যকে শরী‘আতের উৎস হিসাবে গ্রহণ করে। এছাড়া তারা ইসলাম ধর্ম রহিত করে আলে দাঊদের বিধান প্রতিষ্ঠা করতে চায় (আল-হুসীয়্যূন: উছূলুুহুম ওয়া নাশআতুহুম ওয়া আক্বাঈদুহুম-এর ‘হুতীদের আক্বীদাসমূহ’ অধ্যায় দ্র.)।
তাদের দাবি মতে কথিত মাহদী বলবেন, ‘আমি ইয়াছরিবে (মদীনায়) আসব এবং হুজরাটি ধ্বংস করে দেব’। তাদের ‘দালায়িলুল ইমামাহ’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, ‘প্রতিষ্ঠিত মসজিদুল হারামকে ভেঙে তার মূল ভিত্তি পর্যন্ত তারা নিয়ে যাবে এবং রাসূল (ﷺ)-এর মসজিদকেও তার মূল ভিত্তি পর্যন্ত ভেঙে দেবে’। ‘আল-গায়বাহ’ গ্রন্থে এসেছে, তাদের কথিত মাহদীর গোপন স্থান থেকে বেরিয়ে আসতে বিলম্ব হলে ৩১৭ হিজরীর হজ্জের সময় কুরমাতীরা কা‘বার দরজা উপড়ে ফেলে, এর গিলাফ খুলে নেয় এবং প্রায় ত্রিশ হাজার হাজী ও মক্কার অধিবাসীকে হত্যা করে। তারা হাজারে আসওয়াদও উপড়ে নিয়ে যায় এবং সেটি বাইশ বছর তাদের দখলে থাকে। তাদের আশা যে, হুতী দলই তাদের কথিত মাহদীর আবির্ভাবের ক্ষেত্র প্রস্তুতকারী দল হবে। ইরানী আলী আল-কূরানী তাঁর ‘আছরুয যুহূর’ গ্রন্থে বলেছেন, ‘ইয়ামানের ইসলামী বিপ্লব ইমাম মাহদীর আবির্ভাবের ক্ষেত্র প্রস্তুতকারী; আর সেটি সব বিপ্লবের মধ্যে সর্বাধিক হিদায়াতপ্রাপ্ত বিপ্লব’। ১৪৩৮ হিজরীতে ইয়ামানী ‘আল-মিনবার’ পত্রিকায় এসেছে যে, ‘তারা আশিটিরও বেশি মসজিদ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করেছে; একশ’ পঞ্চাশজন ইমাম ও খতীবকে অপহরণ করেছে এবং ষোলোটি দারুল কুরআন ও ধর্মীয় কেন্দ্র বিস্ফোরণে ধ্বংস করেছে।
আরবদের বিরুদ্ধে তাদের বিষোদ্গার ও সংগ্রাম প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই। জা‘ফর আস-সাদিক বলেন, ‘আমাদের ও আরবদের মধ্যে এখন কেবল জবাই করাই বাকি’। ইরাক-ইরান যুদ্ধের শেষদিকে খোমেনীর এক গোপন আদেশের ভিত্তিতে হাজার হাজার আরবকে হত্যা করা হয়। এমনকি ছাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তী স্থানেও অসংখ্য হাজীদের নৃশংসভাবে তারা হত্যা করেছে। তাদের কথিত মাহদী আরবদের বিরুদ্ধে তরবারী ব্যবহার করবে। কারণ, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরব ছিলেন, তাঁর খোলাফায়ে রাশেদীন আরব ছিলেন, তাঁর ছাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) আরব ছিলেন। তারা মনে করে যে, শী‘আ ফকীহ তাদের অদৃশ্য ইমামের প্রতিনিধি। তাঁর অনুসারীরা না-কি মক্কার পবিত্র ভূমিতে এই কথিত শী‘আ মাযহাব বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। একারণেই দুই হারাম ও পবিত্র মাশা‘ইরের বিরুদ্ধে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে ১৪০৬ হিজরীতে জেদ্দার কিং আবদুল ‘আযীয আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ৫১ কেজি বিস্ফোরক পাচারের চেষ্টা করেছিল। ১৪০৭ হিজরীতে তারা ছুরি হাতে মিছিল বের করে এবং হাজী ও বেসামরিক লোকদের ধাক্কা দিতে থাকে। ফলে সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং ৪০২ জন নিহত হয়। ১৪০৯ হিজরীতে তারা দু’টি বিস্ফোরণ ঘটায়। প্রথমটি মসজিদুল হারামের দিকে যাওয়ার একটি সড়কে এবং দ্বিতীয়টি মসজিদুল হারামের নিকটবর্তী একটি সেতুর ওপর। ১৪৩৮ হিজরীতে হুতীরা মক্কা মুকাররমার দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। আল্লাহর অনুগ্রহে ক্ষেপণাস্ত্রটি মক্কায় পৌঁছানোর ৬৫ কিলোমিটার আগে আকাশেই ধ্বংস করা হয়। ১৪৪০ হিজরীর ৯ শাওয়াল বুধবার ভোরে আবহা বিমানবন্দরের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, যাতে কয়েকজন যাত্রী আহত হন।
হুতীদের সাম্প্রতিক হামলার ভয়াবহতা শুধু মক্কা-মদীনার দিকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; সঊদী আরবের বেসামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকেও তারা আক্রমণের আওতায় এনেছে। মক্কার দিকে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে নিক্ষিপ্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে মক্কার দক্ষিণে নিক্ষিপ্ত ড্রোন সঊদী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করে। মদীনায় ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তায়বাহ বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে ড্রোন হামলায় সঊদীর একটি ট্রান্সফরমার অচল হয়, যদিও বৃহত্তর বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়নি। ২৪ অক্টোবর মক্কা ও মদীনা অঞ্চলের দিকে নিক্ষিপ্ত দু’টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে। অন্যদিকে রিয়াদ, আবহা ও অন্যান্য অঞ্চলে হামলা তুলনামূলকভাবে প্রাণঘাতী হয়েছে। ৭ অক্টোবর আবহা ও রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় ৩ জন নিহত ও ৩৬ জন আহত হন; ৯ অক্টোবর রিয়াদ বিমানবন্দরে পৃথক হামলায় আরও ৩ জন নিহত হন এবং একটি সঊদীয়া উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সরকারী হিসাবে ১৩ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হন; বিমানবন্দরের সম্পদের ক্ষতি হয় এবং কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। সঊদী আরব বিশেষ করে মক্কা-মদীনাকে লক্ষ্য করে ইয়ামানের হুতী কর্তৃক উপরিউক্ত হামলা মূলত নব্য আবরাহারই প্রতিধ্বনি। কেননা এই ইয়ামান থেকেই আবরাহা কা‘বা ধ্বংসের উদ্দেশ্যে হাতিবাহিনী নিয়ে মক্কার দিকে অগ্রসর হয়েছিল। সেই যুগে আবরাহা যেভাবে ভক্ষিত-ভূষিতে পরিণত হয়েছিল, আজকের যুগেও হুতী বা ইরানী শী‘আদের অনুরূপ পরিণতি বরণ করতে হবে ইনশাআল্লাহ। কেননা মক্কা-মদীনার নিরাপত্তা স্বয়ং মহান আল্লাহ গ্রহণ করেছেন। অতএব সাবধান!
মুসলিম বিশ্ব বিশেষ করে উপমহাদেশের অধিকাংশ মুসলিম আবেগর বশবর্তী হয়ে সঊদী আরবের বিরুদ্ধে হুতী ও ইরানীদের পক্ষাবলম্বন করে থাকে। তাদেরকেই আমেরিকা ও ইসরাঈলবিরোধী ‘প্রতিরোধের প্রতীক’ হিসেবে গণ্য করে। কেননা তাদের একটি মুখরোচক স্লোগান রয়েছে, তাহল- ‘আল্লাহ মহান; আমেরিকার মৃত্যু; ইসরাঈলের মৃত্যু; ইহুদীদের ওপর অভিশাপ; ইসলামের বিজয়’। বলা যায় যে, এই স্লোগানই হুতী আন্দোলনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি। দুঃখজনক হল- একদিকে তারা স্লোগান দেয় ইসলামের বিজয়ের পক্ষে, অন্যদিকে আমেরিকা, ইসরাঈল ও ইহুদীদের সাথে আঁতাত করে সঊদী আরব বিশেষ করে মক্কা-মদীনা ধ্বংস করার এবং দখল করার পায়তারা করছে। এটা তাদের মুনাফিকী আচরণ ও মুসলিম উম্মাহর সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা। তাই ইয়ামানের ট্র্যাজেডি আমাদের কঠিন যে শিক্ষা দেয়, তাহল- স্লোগানের ইসলাম আর
আক্বীদা-আমলের ইসলাম এক নয়। যে শক্তি ইসলামের নাম ব্যবহার করে মুসলিম সমাজে বিভাজন, বংশগত ধর্মীয় কর্তৃত্ব, ছাহাবীবিরোধী উগ্রতা কিংবা সহিংস আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে, তার মুখোশ উন্মোচন করা প্রয়োজন। নব্য আবরাহার হাতি আজ হয়তো হাতি নয়, তা হতে পারে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, প্রচারণা কিংবা মতাদর্শ। কিন্তু উম্মাহর প্রতিরক্ষা শুরু হয় অস্ত্র দিয়ে নয় বিশুদ্ধ আক্বীদা, ছহীহ ইতিহাসবোধ এবং শত্রু-মিত্র চেনার শারঈ প্রজ্ঞা দিয়ে। হুতী সংকটের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হল- ফিলিস্তীনের প্রতি ভালোবাসা আর হুতী মতাদর্শের প্রতি আনুগত্য এক বিষয় নয়। ইসরায়েলী আগ্রাসনের বিরোধিতা করতে গিয়ে হুতী সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে সমর্থন করা যেমন ভুল, তেমনি হুতী বিরোধিতার অজুহাতে ইসরাঈলী যুলুমকে উপেক্ষা করাও অন্যায়। এক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহর ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান হল- যুলুমের বিরুদ্ধে যুলুমের ভাষায় নয়, ন্যায়ের ভাষায় দাঁড়ানো; বাতিলের বিরোধিতা করা, কিন্তু সত্যকে অন্যের হাতে ছেড়ে না দেয়া এবং মুসলিম উম্মাহর আবেগকে কোন আঞ্চলিক শক্তির ভূরাজনৈতিক প্রকল্পের জ্বালানি হতে না দেয়া।
সুতরাং আজকের প্রয়োজন এমন এক বুদ্ধিবৃত্তিক ও ইসলামী অবস্থান, যা একই সঙ্গে শী‘আ-হুতী মতাদর্শের আক্বীদাগত বিচ্যুতি, হুতী সামরিক আগ্রাসন, ইরানী আধিপত্যবাদ এবং প্রত্যেক প্রকার যুলুমের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করবে; আবার একই সঙ্গে ফিলিস্তীনের মাযলূম মুসলিমদের অধিকার ও ইসরাঈলী আগ্রাসনের বিরুদ্ধেও দৃঢ় থাকবে। এটাই আহলুস সুন্নাহর ভারসাম্যপূর্ণ পথ। ব্যক্তি নয়, হককে মানদণ্ড করা; স্লোগান নয়, আক্বীদা ও সুন্নাহকে মাপকাঠি বানানো এবং কোন শক্তির নয়, আল্লাহর দ্বীনের প্রতি আনুগত্যকে সর্বোচ্চ স্থান দেয়া। মহান আল্লাহ নব্য আবরাহা হুতীদের ধ্বংসাত্মক আগ্রাসন, বিভ্রান্ত আক্বীদা ও সাম্রাজ্যবাদী সামরিক কর্তৃত্ব থেকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আর অনুসারী ব্যক্তি, গোষ্ঠী, সমাজ ও রাষ্ট্রকে হেফাযত করুন, সঊদী আরবের অখণ্ডতা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করুন, মুসলিমদের চূড়ান্ত দুশমন হুতী ও শী‘আ আকীদার স্থায়ীভাবে মূলোৎপাটন ও দমনের শক্তি ও সফলতা দান করুন এবং মুসিলম উম্মাহকে একতাবদ্ধ হওয়ার তাওফীক্ব দান করুন-আমীন!!