উত্তর : আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের মৌলিক আক্বীদা হল- আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া বিশ্বজাহানে একটি অণু-পরমাণুও নড়তে পারে না। তাই কাফিরের কুফরিও আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে নয়। তবে আল্লাহর ‘ইচ্ছা’ বা ‘ইরাদা’ দু’টি ভাগে বিভক্ত। যথা:
(১) ইরাদা কওনিয়্যা ক্বাদরিয়্যা (মহাজাগতিক বা সৃষ্টিগত ইচ্ছা): আল্লাহ মহাবিশ্বে যা কিছু ঘটতে দেন (ভালো বা মন্দ)। কাফিরের কুফরি ও পাপাচার আল্লাহর এই কাওনি ইচ্ছার সৃষ্টি।
(২) ইরাদা শারঈয়্যা দ্বীনিয়্যা (বিধানগত বা সন্তুষ্টির ইচ্ছা): আল্লাহ যা পসন্দ করেন, ভালোবাসেন এবং করার আদেশ দেন (যেমন: ঈমান, ছালাত)। কাফিরের কুফরি আল্লাহর এই শারঈ ইচ্ছার অন্তর্ভুক্ত নয়। অর্থাৎ আল্লাহ কুফরি হতে দেন বটে, কিন্তু তিনি এতে সন্তুষ্ট নন।
কাওনী ইচ্ছার দলীল হল- আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ لَوۡ شَآءَ اللّٰہُ مَاۤ اَشۡرَکُوۡا ‘আল্লাহ যদি (কাওনি) ইচ্ছা করতেন, তবে তারা শিরক করত না’ (সূরা আল-আন‘আম : ১০৭)।
শারঈ ইচ্ছার দলীল হল- মহান আল্লাহ বলেন, وَ لَا یَرۡضٰی لِعِبَادِہِ الۡکُفۡرَ ‘আর তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য কুফ্রি পসন্দ করেন না (শারঈ ইচ্ছা নেই)’ (সূরা আয-যুমার : ৭)।
শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ইরাদা কাওনিয়্যা ও শারঈয়্যার পার্থক্য হল- কাওনিয়্যা সেই ব্যাপক ইচ্ছা, যা মহাবিশ্বে ঘটে যাওয়া ভালো-মন্দ সবকিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে; কাফিরের কুফরিও এর অন্তর্ভুক্ত। আর শারঈয়্যা হল ভালোবাসা ও সন্তুষ্টির ইচ্ছা, আর আল্লাহ কুফ্রিকে ভালোবাসেন না এবং তাতে সন্তুষ্ট হন না’ (মাজমূঊল ফাতাওয়া, ৮/১৮৯-১৯০)।
ইমাম ইবনু আবিল ইজ্জ আল-হানাফী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘সুতরাং কাফির আল্লাহর কাওনি ইচ্ছায় কুফ্রি করে, তাঁর শারঈ ইচ্ছা ও ভালোবাসায় নয়’ (শারহুল আক্বীদাহ আত-তাহাবিয়্যা, ১/৭৮)।
প্রশ্নকারী : আশিক ইকবাল, মাকলাহাট, নওগাঁ।