রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২২ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ইসলামী শরী‘আত অনুযায়ী কোন পুরুষের ব্যাপারে সমকাম বা পায়ুগমন প্রমাণিত হয়ে গেলে তাকে ও তার সমকামী সঙ্গীকে শাস্তি স্বরূপ হত্যা করতে হবে। এ ব্যাপারে ছাহাবীগণ এবং আলেমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। ইমাম তিরমিযী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, উভয় সমকামীকেই রজম অর্থাৎ পাথর মেরে হত্যা করতে হবে, চায় সে বিবাহিত হোক অথবা অবিবাহিত হোক। এই মতের পক্ষে রয়েছেন ইমাম মালিক, ইমাম শাফিঈ, ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল ও ইসহাক। পক্ষান্তরে তাবিঈদের মধ্য হতে হাসান আল-বাছরী, ইবরাহীম নাখঈ, ‘আত্বা ইবনু আবূ রাবাহ সহ অন্যান্য বিদ্বান বলেছেন, সমকামীর শাস্তি ব্যভিচারীর শাস্তির মতই। একই মত পোষণ করেছেন সুফিয়ান ছাওরী ও কূফাবাসীরা (তিরমিযী, হা/১৪৫৬)।

ফুযাইল ইবনু ‘ইয়ায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, لَوْ أَنَّ لُوْطِيًّا اغْتَسَلَ بِكُلِّ قَطْرَةٍ مِّنَ السَّمَاءِ لَقِيَ اللهَ غَيْرَ طَاهِرٍ ‘যদি কোন সমকামী আকাশের সমস্ত পানি দিয়ে গোসল করে তবুও সে অপবিত্র অবস্থাতেই আল্লাহ তা‘আলার সাথে সাক্ষাৎ করবে’ (যাম্মুল লিওয়াত্ব, দুরী, পৃ. ১৪২; ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-২৪৩৬৭৩)। ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, যেহেতু সমকামিতার অনিষ্টতা সর্বাধিক ধ্বংসাত্মক, সেহেতু ইহকালে ও পরকালে এর শাস্তিও হবে সবচেয়ে ভয়াবহ’ (আল-জাওয়াবুল কাফী, ১/১৬৮ পৃ.)।

শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘উভয় সমকামীকেই হত্যা করার ব্যাপারে ছাহাবীগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে কিছু সংখ্যক ছাহাবী বলেছেন, পাথর মেরে হত্যা করতে হবে। আবার কিছু সংখ্যক ছাহাবী বলেছেন, সমকামীকে মহল্লার সর্বোচ্চ প্রাসাদের ছাদ থেকে উপুড় করে নিক্ষেপ করতে হবে। অতঃপর তার উপর পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করতে হবে। পক্ষান্তরে কিছু সংখ্যক ছাহাবী বলেছেন, তাদেরকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করতে হবে। তবে জমহূর সালাফ ও ফিক্বাবিদদের মতানুযায়ী উভয় সমকামীকেই রজম করতে হবে, চায় সে বিবাহিত হোক অথবা অবিবাহিত হোক’ (মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ১১/৫৪৩ পৃ.; যাদুল মা‘আদ, ৫/৪০ পৃ.; আযওয়াউল বায়ান, ৩/৩৫ পৃ.)।

সমকামীদের বিষয়ে ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) অত্যধিক কঠোর ছিলেন। তিনি সমকামীকে রজম করা অপরিহার্য করেছিলেন, চায় সে বিবাহিত হোক অথবা অবিবাহিত হোক। আর এ বিষয়ে এটিই সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মত (ইগাছাতুল লাহফান, ২/১৪৪ পৃ.)। ইবনু আবিদীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ব্যভিচারীর মত সমকামীদের উপরেও হদ্দ (শাস্তি) প্রয়োগ করা অপরিহার্য। তাদের উপর হদ্দ অপরিহার্য হওয়ার ব্যাপারে ছাহাবীগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তবে কেউ কেউ মতপার্থক্যও করেছেন, যেমন আবূ বকর ছিদ্দীক্ব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করার কথা বলেছেন (হাশিয়াতু ইবনে আবিদীন, ৪/৯১; আদ-দুররুল মুখতার, ৪/২৭ পৃ.)।

এ প্রসঙ্গে দলীল হিসাবে নিম্নোক্ত হাদীছগুলো উল্লেখযোগ্য। ক- ইবন আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) বলেন, مَنْ وَجَدْتُمُوْهُ يَعْمَلُ عَمَلَ قَوْمِ لُوْطٍ فَاقْتُلُوْا الْفَاعِلَ وَالْـمَفْعُوْلَ بِهِ ‘তোমরা যে মানুষকে লূত্ব সম্প্রদায়ের কুকর্মে (সমকামিতায়) নিয়োজিত পাবে সেই কুকর্মকারীকে এবং যার সাথে কুকর্ম করা হয়েছে তাদের উভয়কেই হত্যা করবে’ (আবূ দাঊদ, হা/৪৪৬২; তিরমিযী, হা/১৪৫৬; ইরওয়াউল গালীল, হা/২৩৫০; হাসান ছহীহ)। খ- আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) লূত্ব জাতির অনুরূপ অপকর্মে লিপ্ত ব্যক্তি সম্পর্কে বলেন, اُرْجُمُوْا الْأَعْلَى وَالْأَسْفَلَ اُرْجُمُوْهُمَا جَمِيْعاً ‘তোমরা উপরের এবং নিচের উভয় ব্যক্তিকেই রজম করে অর্থাৎ প্রস্তরাঘাতে হত্যা কর’ (ইবনু মাজাহ, হা/২৫৬২, ২০৯২; মুসনাদ আবু ইয়া‘আলা, হা/৬৬৮৭; শারহু মুশকিলিল আছার, হা/৩৮৩৩, সনদ হাসান)। গ- ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, فِي الْبِكْرِ يُؤْخَذُ عَلَى اللُّوطِيَّةِ، قَالَ: يُرْجَمُ ‘অবিবাহিতদের পায়ুকামে বা সমকামিতায় লিপ্ত পাওয়া গেলে রজম করা হবে অর্থাৎ পাথর মেরে হত্যা করা হবে’ (আবূ দাঊদ, হা/৪৪৬৩, সনদ ছহীহ)। ঘ- আবূ বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু), আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু), আব্দুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এবং হিশাম ইবনু আব্দুল মালিক (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মত ব্যক্তিত্বরা পায়ুকামী বা সমকামীদের আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছেন। যেমন, মুহাম্মাদ ইবনু মুনকাদীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) একদা আবূ বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট এ মর্মে একটি চিঠি পাঠালেন যে, তিনি আরবের কোন এক উপশহরে এমন এক ব্যক্তিকে ধরেছেন যাকে দিয়ে যৌন উত্তেজনা নিবারণ করা হয় যেমনিভাবে নিবারণ করা হয় মহিলা দিয়ে। তখন আবূ বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ছাহাবীগণকে একত্রিত করে এ ব্যাপারে তাঁদের পরামর্শ চেয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)ও তখন উপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন, এটি এমন একটি গুনাহ যা বিশ্বে শুধু একটি জাতি-ই সংঘটন করেছে। আল্লাহ তা‘আলা  তাদের সঙ্গে যে ব্যবহার করেছেন তা সম্পর্কে আপনারা অবশ্যই অবগত। অতএব আমার মত হচ্ছে, তাকে আগুনে জ্বালিয়ে দেয়া হোক। উপস্থিত সকল ছাহাবীও উক্ত মতের সমর্থন করেন। তখন আবূ বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়ার নির্দেশ জারি করেন (বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান, হা/৫৩৮৯; আল-মুহাল্লা, ১১/৩৮৩; আল-জাওয়াবুল কাফী, ইবনুল ক্বাইয়িম, পৃ. ১৬৯; আত-তারগীর ওয়াত-তারহীব, হা/৩৫৭২; জামিঊল ঊলূম, ১/৩৮৭ পৃ.)। তবে সরকার কর্তৃক ইসলাম বিরোধী আইন প্রণয়ন করার জন্য সমকামী দুনিয়াবী শাস্তি থেকে রক্ষা পেলেও কিন্তু তার জন্য অপেক্ষা করছে পরকালের ভয়াবহ শাস্তি।


প্রশ্নকারী : তাসনীম, সাতক্ষীরা।





প্রশ্ন (১৩) : কেউ মূর্তি পূজা করলে ইসলামে তার হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : নাফসের শিরক বলতে কী বুঝায়? নাফসের আনুগত্য বলতে কী বুঝায়? যেমন, সিনেমা দেখা, নন-মাহরামের মন রক্ষার্থে কথা বলা অথবা ইচ্ছা করেই জোহরের সুন্নাত ছালাত ছেড়ে দেয়া প্রভৃতি কাজ কি নাফসের আনুগত্যের মাঝে পড়ে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : রাগের মাথায় ত্বালাক্ব দিলে কি ত্বালাক্ব পতিত হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : দাড়ি একমুষ্টি রেখে বাকি অংশ কাটা যাবে কি? যেখানে ছহীহ বুখারীর ৫৮৯২ নম্বর হাদীছে এসেছে, ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহ আনহুমা) সূত্রে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, তোমরা মুশরিকদের উল্টো করবে- দাড়ি লম্বা রাখবে, গোঁফ ছোট করবে। ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহ আনহুমা) যখন হজ্জ বা ওমরাহ করতেন, তখন তিনি তাঁর দাড়ি মুষ্টি করে ধরতেন এবং মুষ্টির বাইরে যতটুকু বেশি থাকত, তা কেটে ফেলতেন। এছাড়া আরো হাদীছ এসেছে। এই বিষয়ে সঠিক সমাধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : রুকূ অবস্থায় দৃষ্টি কোথায় রাখতে হবে এবং ইমাম যখন ‘সামি‘আল্লাহু লিমান হা‘মদাহ’ বলেন, তখন মুক্তাদীগণও কি ‘সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : কোন ব্যক্তি যদি হজ্জের সফরে গিয়ে ওমরাহ আদায় করে মদীনা বা মীক্বাতের বাইরে কোন স্থানে সফর করে, তবে তিনি কি মক্কায় আগমনের সময় পুনরায় ওমরাহ করতে পারবেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : ছেলে যদি তার টাকা বা স্ত্রীর স্বর্ণালংকারের উপর যাকাত না দেয়, তাহলে বাবাকে কি তাদের পক্ষ থেকে যাকাত দিতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : স্বামী যদি স্ত্রীর সাথে কাজের লোকের মত আচরণ করে, উঠতে বসতে বিশ্রী গালি-গালাজ করে, রাস্তা-ঘাট অপমান ও অবহেলা করে। এমতাবস্থায় উক্ত সমস্যার সমাধানের জন্য স্ত্রী কি তার পিতা-মাতাকে জানাতে পারে? জানালে কি অন্যায় হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : মুকিম অবস্থায় কোন্ কোন্ ছালাত (যোহর/আছর ও মাগরিব/এশা) জমা করে পড়া জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : যারা নিজেকে ‘আহলে কুরআন’ দাবী করে বলে, আমরা কেবল কুরআন মানব, হাদীছ মানব না। এমন ব্যক্তিদেরকে কাফির বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : জনৈক বক্তা বলেন, রাসূল (ﷺ) নবজাতক অবস্থায় একদিন তাঁর মা বাড়ীর আঙ্গিনায় শুইয়ে রেখেছিলেন। অন্যদিকে তাঁর জন্মের পূর্বে তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ ইন্তিকাল করাই মা আমিনার মন খারাপ ছিল। এমতাবস্থায় চাচা আবূ তালিব বলেন, আমি ঐ অবস্থায় লক্ষ্য করলাম যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) যখন তার হাত ডানদিকে নিচ্ছে তখন চন্দ্র ডান দিকে যাচ্ছে, আর যখন হাত বাম দিকে যাচ্ছে তখন চন্দ্র বাম দিকে যাচ্ছে। আর যখন উভয় হাত নিজের দিকে টেনে নিচ্ছে, তখন চন্দ্রও তাঁর নিকটবর্তী হচ্ছে। নবুওয়াত প্রাপ্তির পর চাচা আবূ তালিব এ সম্পর্কে রাসূল (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, জন্মের পূর্বে আমার পিতা মারা যাওয়ায় আমার মায়ের মন খারাপ ছিল। তাই ঐ সময়ের জন্য আল্লাহ তা‘আলা চন্দ্রকে আমার খেলনাস্বরূপ বানিয়ে দিয়েছিলেন। যাতে আমার আনন্দের কোন ঘাটতি না পড়ে’। উক্ত ঘটনা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : কোন কারণে গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেলে এবং সিজারের মাধ্যমে সন্তান ভূমিষ্ট হলে ঐ মহিলাদ্বয়ের ইদ্দতকাল কতদিন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ