বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন
উত্তর : প্রথমতঃ স্ত্রী ও দুই কন্যার নির্ধারিত অংশ দেয়ার পর অবশিষ্ট অংশে ‘আছাবাহ’ সূত্রে ভাই ও বোনেরা অংশীদার হবেন। এক্ষেত্রে কন্যার অংশ হল, তারা মোট পরিত্যক্ত সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) পাবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

فَاِنۡ کُنَّ نِسَآءً فَوۡقَ اثۡنَتَیۡنِ فَلَہُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَکَ ۚ وَ اِنۡ کَانَتۡ وَاحِدَۃً  فَلَہَا النِّصۡفُ

‘কিন্তু দুয়ের অধিক কন্যা থাকলে, তাদের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ, আর মাত্র একটি কন্যা থাকলে, তার জন্য অর্ধাংশ’ (সূরা আন-নিসা : ১১)। অর্থাৎ কোন ছেলে যদি না থাকে, তাহলে মালের দুই-তৃতীয়াংশ (মালকে তিনভাগ করে দু’ভাগ) দুই অথবা ততধিক মেয়েদেরকে দেয়া হবে। আর যদি মেয়ে কেবল একজনই হয়, তাহলে সে অর্ধাংশ (দুই ভাগের এক ভাগ) পাবে। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, সা‘দ ইবনু রাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর স্ত্রী সা‘দের ঔরসজাত দুই কন্যাসহ রাসূল (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল(ﷺ)! এরা সা‘দ ইবনু রাবীর দুই মেয়ে। এদের বাবা উহুদের যুদ্ধে আপনার সাথে অংশগ্রহণ করে শহীদ হয়েছেন। এদের সমস্ত ধন-সম্পদ এদের চাচা নিয়ে নিয়েছে, এদের জন্য সামান্য কিছুও রাখেনি। এদের কোন ধন-সম্পদ না থাকলে এদের বিয়েও তো হবে না। তিনি বললেন, এ বিষয়টি আল্লাহ তা‘আলাই সমাধান করে দিবেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মীরাস বণ্টন বিষয়ক আয়াত অবতীর্ণ হয়। তাদের চাচাকে রাসূল (ﷺ) ডেকে এনে বললেন, সা‘দের দুই মেয়েকে দুই-তৃতীয়াংশ সম্পত্তি এবং তাদের মাকে এক-অষ্টমাংশ সম্পত্তি দিয়ে দাও, তারপর যেটুকু অবশিষ্ট থাকবে তা তোমার’ (তিরমিযী, হা/২০৯২; আবূ দাঊদ, হা/২৮৯১; ইবনু মাজাহ, হা/২৭২০; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৪৮৪০)। মোদ্দাকথা হল, দু’জন বা দু’য়ের অধিক মেয়ে হলে, মৃত ব্যক্তির পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে দুই-তৃতীয়াংশই পাবে। অবশিষ্ট মাল ‘আছাবাহ’ সূত্রে সবচেয়ে নিকটাত্মীয় উত্তরাধিকারী ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।

আর স্ত্রীর অংশ হল, সন্তানের উপস্থিতিতে স্ত্রী পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক-অষ্টমাংশ (১/৮) পাবে। যেমন আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন,

وَ لَکُمۡ نِصۡفُ مَا تَرَکَ اَزۡوَاجُکُمۡ   اِنۡ لَّمۡ یَکُنۡ لَّہُنَّ وَلَدٌ ۚ فَاِنۡ کَانَ لَہُنَّ وَلَدٌ فَلَکُمُ الرُّبُعُ  مِمَّا تَرَکۡنَ مِنۡۢ بَعۡدِ وَصِیَّۃٍ یُّوۡصِیۡنَ بِہَاۤ اَوۡ دَیۡنٍ

‘তোমাদের সন্তান না থাকলে তাদের (অর্থাৎ স্ত্রীদের) জন্য তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক-চতুর্থাংশ, আর তোমাদের সন্তান থাকলে তাদের (অর্থাৎ স্ত্রীদের) জন্য তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক-অষ্টমাংশ। তোমরা যা ওয়াছিয়ত কর তা কার্যকর ও ঋণ পরিশোধ করার পর’ (সূরা আন-নিসা : ১২)। অর্থাৎ যদি স্বামী মারা যায় এবং তার কোন সন্তান না থাকে, তবে ঋণ পরিশোধ ও ওয়াছিয়ত কার্যকর করার পর স্ত্রী মোট সম্পত্তির এক-চতুর্থাংশ পাবে। আর যদি মৃত স্বামীর সন্তান থাকে, এ স্ত্রীর গর্ভজাত হোক কিংবা অন্য স্ত্রীর, তবে ঋণ পরিশোধ ও ওয়াছিয়ত কার্যকর করার পর স্ত্রী এক-অষ্টমাংশ পাবে। স্ত্রী একাধিক হলেও উপরিউক্ত বিবরণ অনুযায়ী এক অংশ সকল স্ত্রীর মধ্যে সমহারে বণ্টন করা হবে। অর্থাৎ প্রত্যেক স্ত্রীই যে এক-চতুর্থাংশ কিংবা এক-অষ্টমাংশ পাবে তা নয়, বরং সবাই মিলে এক-চতুর্থাংশ কিংবা এক-অষ্টমাংশে অংশীদার হবে। স্ত্রীর অংশ দেয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকবে, তা তাদের অন্যান্য ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।

দ্বিতীয়তঃ আপনার বোন জীবিত আছেন না মারা গেছেন সে বিষয়টি কিন্তু ঊহ্য আছে। প্রশ্নে উল্লেখিত বর্ণনা অনুযায়ী আপরার ভাতিজার দু’টি অবস্থা। যথা : (১) আপনার মৃত্যুর সময় যদি আপনার বোন জীবিত থাকেন, তাহলে কিন্তু আপনার ভাতিজা বঞ্চিত হবে। এক্ষেত্রে আপনার স্ত্রী ও দুই কন্যাকে কুরআন ও ছহীহ হাদীছে বর্ণিত নির্ধারিত অংশ দেয়ার পর অবশিষ্ট অংশ ‘আছাবাহ’ সূত্রে আপনার বোন পাবেন। যেমন, হুযাইল ইবনু শুরাহবীল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত। ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি এ ব্যাপারে ঐ ফায়সালাই দিচ্ছি, যে ফায়সালা নবী করীম (ﷺ) প্রদান করেছিলেন। অথবা নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, للْابْنَةِ النِّصْفُ وَلِابْنَةِ الِابْنِ السُّدُسُ وَمَا بَقِيَ فَلِلْأُخْتِ ‘কন্যার জন্য অর্ধাংশ আর পৌত্রীর জন্য ষষ্ঠাংশ। অতঃপর যা অবশিষ্ট থাকবে তা বোনের জন্য’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৭৩৬, ৬৭৪২; আবূ দাঊদ, হা/২৮৯০; তিরমিযী, হা/২০৯৩; ইবনু মাজাহ, হা/২৭২১)। (২) আর যদি আপনার বোন আপনার পূর্বেই মারা গেছেন। সেক্ষেত্রে আপনার স্ত্রী ও দুই কন্যাকে কুরআন ও ছহীহ হাদীছে বর্ণিত নির্ধারিত অংশ দেয়ার পর অবশিষ্ট অংশ ‘আছাবাহ’ সূত্রে আপনার ভাতিজা পাবে। যেমন আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, أَلْحِقُوا الْفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا فَمَا بَقِيَ فَهُوَ لِأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ ‘সুনির্দিষ্ট অংশের অধিকারীদের নিকট মীরাছ পৌঁছে দাও। অতঃপর যা অবশিষ্ট থাকবে তা (মৃতের) নিকটতম পুরুষ আত্মীয়দের জন্য’ (ছহীহ বুখারী হা/৬৭৩২; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬১৫)।


প্রশ্নকারী : ইবরাহীম সরদার, নাটোর।





প্রশ্ন (৫) : যিলহজ্জ মাসের প্রতিটি দিনের ছিয়াম এক বছরের ছিয়ামের সমতুল্য। এর প্রতিটি রাতের ইবাদত লায়লাতুল ক্বদরের ইবাদতের সমতুল্য। উক্ত মর্মে হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : জনৈক ব্যক্তি বাকী গোরস্থান থেকে পাথর এনে ছওয়াবের আশায় মসজিদে স্থাপন করেছেন। উক্ত মসজিদে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : বয়স কমিয়ে দিয়ে জন্ম নিবন্ধন করা হয়েছে। শরী‘আতের দৃষ্টিতে বিষয়টি হারাম জানার পরে জন্ম নিবন্ধন ও অন্যান্য সার্টিফিকেট পুনরায় ঠিক করতে অনেক সময় ও অর্থ খরচ হবে এবং অনেক হয়রানির শিকার হতে হবে। এক্ষেত্রে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : শাসক, লেখক অথবা সরদার না হয়ে মৃত্যুবরণ করলে সফলকাম হওয়া যায়। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : নূহ (আলাইহিস সালাম) ও হূদ (আলাইহিস সালাম) উভয়ের স্ত্রী কাফের, না-কি শুধু কাবীরা গুনাহের জন্য উভয়ে জাহান্নামে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : গালি নির্দেশ করে এমন কথাকে রসিকতা করে বলা; সিরিয়াসলি নয়। এ ব্যক্তিও কি কুফুরী করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : বাম হাতে কোন জিনিস আদান-প্রদান করা কি নাজায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : নবী (ﷺ) জনৈক ছাহাবীর দাফন শেষে ফিরে আসছিলেন। তখন উক্ত ‘মাইয়েতের স্ত্রী’ তাঁকে খাওয়ার দাওয়াত দিলেন এবং রাসূল (ﷺ) দাওয়াত গ্রহণপূর্বক উক্ত মহিলার বাড়িতে গিয়েছিলেন। অতঃপর খাবার উপস্থিত করা হলে তিনি এবং উপস্থিত অন্যান্য লোকজন খাবার গ্রহণ করলেন। এর আলোকেই মাইয়েতকে কেন্দ্র করে খাবারের আয়োজন করা হয়। তাই উক্ত বর্ণনাটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : দেশের জন্য গণতান্ত্রিক আন্দোলনে কেউ মারা গেলে, তাকে শহীদ বলা যাবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭): পশুদের বংশবৃদ্ধি করানোর লক্ষ্যে ব্যবসা করা কী জায়েয? যেমন গাভীকে টাকার বিনিময়ে এঁড়ে গরু দিয়ে যৌন মিলন ঘটানো হয়। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : সরকারি জায়গার মধ্যে যদি মসজিদ নির্মাণ করা হয় তাহলে সেখানে জুম‘আর ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০): ইসলামের পথ থেকে দূরে থাকার কারণে বিগত বছরগুলোতে আমি যাকাত আদায় করিনি। আলহামদুলিল্লাহ্, গত বছর থেকে আমি ইসলামে ফিরে এসেছি। এখন আমি তাওবাহ্ করেছি। আমার তাওবার কারণে কি আমি যাকাত আদায় করা থেকে অব্যাহতি পাবো? যদি অব্যাহতি না পায় তাহলে সমাধান কী? বিগত বছরগুলোর যাকাত আমি কিভাবে আদায় করব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ