বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০১:৫৯ অপরাহ্ন
উত্তর : দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করতে না পারলে চেয়ারে বসে ছালাত আদায় করতে পারবে। শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ভূপৃষ্ঠে বা চেয়ারে বসে ছালাত আদায়কারীর উপর রুকূর তুলনায় সিজদাহতে একটু বেশি অবনত হওয়া অপরিহার্য। রুকূ অবস্থায় হস্তদ্বয়কে উরুদ্বয়ের উপর রাখা সুন্নাত। সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য সিজদাহ অবস্থায় হস্তদ্বয়কে মাটিতে রাখা ওয়াজিব। আর যদি সামর্থ্যবান না হয়, তবে উরুদ্বয়ের উপরেই রাখবে। কেননা নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘আমি সাতটি অঙ্গের দ্বারা সিজদাহ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি। ললাট, নাসিকা, হস্তদ্বয়, হাঁটুদ্বয় এবং পদযুগলের আঙ্গুলসমূহ দ্বারা। আর আমরা যেন চুল ও কাপড় গুটিয়ে না নিই’ (ছহীহ বুখারী, হা/৮১২)।

আর যে সমস্ত অপারগ ব্যক্তি চেয়ারে বসে ছালাত আদায় করছে, তারা না পারলেও কোন দোষ নেয়। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, فَاتَّقُوا اللّٰہَ  مَا  اسۡتَطَعۡتُمۡ ‘তোমরা আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় কর’ (সূরা আত-তাগাবূন  : ১৬)। এতদ্ব্যতীত শরী‘আতের নির্দেশিত কোন বিষয়কে সাধ্যানুসারে মেনে চলার ব্যাপারে নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশনা প্রদান করেছেন (ছহীহ বুখারী, হা/৭২৮৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১৩৩৭; ইবনু বায, মাজমূঊ ফাতাওয়া, ১২তম খণ্ড, পৃ. ২৪৫-২৪৬)।

ইমরান ইবনু হুছাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার অর্শরোগ ছিল। তাই আমি নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খিদমতে এ অবস্থায়  ছালাত আদায় করার পদ্ধতি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, صَلِّ قَائِمًا فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَقَاعِدًا فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَعَلَى جَنْبٍ‏ ‘দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করবে, তা না পারলে বসে করবে। যদি তাও না পার তাহলে একপাশে শুয়ে আদায় করবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/১১১৭; তিরমিযী, হা/৩৭১; আবূ দাঊদ, হা/৯৫২)।

উক্ত হাদীছ সম্পর্কে সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি বলেন, ‘দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করতে অসমর্থ ব্যক্তি মাটিতে বা চেয়ারে বসে ছালাত আদায় করবে এবং ঝুঁকে রুকু ও সিজদাহ করবে। আর  সিজদাহতে রুকূর তুলনায় একটু বেশি অবনত হবে। তবে কোন অবস্থাতেই বালিশে সিজদাহ করা জায়েয না (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ৩৬০)। শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, মুসলিমরা এ বিষয়ে ঐকমত্য যে, যখন মুছল্লী ছালাতের কোন বিধান পালন করতে অপারগ হবে, যেমন ক্বিয়াম, ক্বিরাত, রুকু, সিজদাহ, ক্বিবলা নির্ধারণ করা ইত্যাদি, তখন সে তার সাধ্যানুযায়ী উক্ত বিধানটি আদায় করবে’ (ইবনু তাইমিয়্যাহ, মাজমূঊ ফাতাওয়া, ৮ম খণ্ড, পৃ. ৪৩৭)।

এক্ষণে বসার প্রকৃত অর্থ পরিষ্কার করা যরূরী। শায়খ ছালেহ আল-উছায়মীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, এক্ষেত্রে চার জানু বা  পদযুগলের উপর নিতম্ব রেখে বসা অপরিহার্য নয়, বরং সে তার সুবিধার্থে ইচ্ছামত বসতে পারে। কেননা নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘দাঁড়িয়ে না পারলে বসে ছালাত আদায় করবে। কিন্তু তিনি বসার কোন পদ্ধতি নির্ধারণ করেননি’ (শারহুল মুমতি‘, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৪৬২)।

উক্ত হাদীছে যমীনে বসার কথা বলা হয়নি, বরং তাকে শুধু বসার কথা বলা হয়েছে, সেটা যমীনের উপর বসা হতে পারে, আবার চেয়ারের উপর বসাও হতে পারে। আরবের লোকেরা চেয়ারের উপর উপবেশিত হওয়াকেও ‘বসা’ বলে থাকে (ছহীহ বুখারী, হা/৬৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬৭৯; নাসাঈ, হা/৯৩-৯৪, ৫৩৭৭; আবূ দাঊদ, হা/১১১, সনদ ছহীহ)। অতএব নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়াতে অক্ষম ব্যক্তিকে বসার অনুমতি দিয়েছেন এবং তিনি বসাকে মাটির সঙ্গে নির্দিষ্ট করেননি। সুতরাং কোন প্রমাণ ছাড়াই একটা স্বাধীন বিষয়কে সীমিত করা এবং প্রশস্ত বিষয়কে সংকোচিত করা অনুচিত। চেয়ারে বসে ছালাত আদায় করাকে বিদ‘আত বলেছেন, এমন কোন জ্ঞানী মুফতিকে আমরা জানি না (ইসলাম ওয়েব, ফাতাওয়া নং-১৩৫৩৪৬)।

‘কাতারের কোথায় চেয়ার রাখতে হবে’ এ সম্পর্কে আলেমগণ বলেন, ‘বসে ছালাত আদায়কারী ব্যক্তি যেখানে নিতম্ব রাখেন সেখানেই চেয়ার রাখতে হবে, কাতারের আগে বা পিছে করা যাবে না (আসনাল মাত্বালিব, ১ম খণ্ড, পৃ. ২২২; তুহফাতুল মুহতাজ, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৫৭; শারতু মুনতাহাল ইদারাত, ১ম খণ্ড, পৃ. ২৭৯; ইসলাম সুওয়াল জাওয়াব, ফাতাওয়া নং-৫০৬৮৪, ৩৬৭৩৮,  ৯৩০৭)।


প্রশ্নকারী : ছালাহ উদ্দিন, ভানপুর, গোদাগাড়ী, রাজশাহী।





প্রশ্ন (২৬) : সূর্যাস্তের সময় ‘দুখূলুল মসজিদ’ আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৪) : কবরে লাশকে কিভাবে রাখতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : ‘আরাফার ময়দানে হাজ্জীগণ ছালাত ক্বছর করবে, না-কি পুরো ছালাত আদায় করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : ‘যে ব্যক্তি সকালে ও বিকালে সূর্যোদয়ের আগে ও সূর্যাস্তের আগে ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে সে যেন একশ’টি হজ্জ আদায় করল বা একশ’টি উট আল্লাহর ওয়াস্তে দান করল। যে ব্যক্তি এই দুই সময়ে ১০০ বার ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ বলল সে যেন আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য ১০০টি ঘোড়ার পিঠে মুজাহিদ প্রেরণ করলো অথবা আল্লাহর রাস্তায় ১০০ টি গাযওয়া বা অভিযানে শরীক হলো। আর যে ব্যক্তি এই দুই সময়ে ১০০ বার করে ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করলো, সে যেন ইসমাঈল বংশের একশ’ ব্যক্তিকে দাসত্ব থেকে মুক্তি প্রদান করলো। আর যে ব্যক্তি এই দুই সময়ে ১০০ বার করে ‘আল্লাহু আকবার’ বলল, ঐ দিনে তার চেয়ে বেশি আমল আর কেউ করতে পারবে না। তবে যদি কেউ তার সমান এই যিকরগুলো পাঠ করে বা তার চেয়ে বেশি পাঠ করে তাহলে ভিন্ন কথা। (তাহলে সেই শুধু তার উপরে উঠতে পারবে।) ইমাম নাসাঈর বর্ণনায় ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু’-র পরিবর্তে ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুআ আলা কুলিল শাইয়্যিন কাদীর’ ১০০ বার পাঠ করার কথা বলা হয়েছে (তিরমিযী, ৫/৫১৩, নং ৩৪৭১; নাসাঈ, আস-সুনানুল কুবরা, ৬/২০৫)। উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছ কি আমলযোগ্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : মেধা ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির জন্য কী করা উচিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : ব্যবসার জন্য মাথা বাদে যে পুতুল রয়েছে, সেগুলো ব্যবহার করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : প্রতিদিন রাতে সূরা মুলক পড়া সুন্নাহ। প্রশ্ন হল- যদি কেউ মাগরিবের ছালাত অথবা এশার ছালাতের পর সময়ের ব্যস্ততার কারণে মসজিদ থেকে বের হয়ে কর্মস্থানে যেতে যেতে সূরা মুলক পাঠ করে, তাহলে কি ছওয়াব পাওয়া যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : জনৈক ছাহাবী রাসূল (ﷺ)-এর নিকট এসে বিনীতভাবে বললেন, দুনিয়া আমার দিকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে অর্থাৎ তিনি দারিদ্র্যের কথা বলেন। তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, ‘তুমি কি সেই তাসবীহ মুখস্থ করনি, যা ফেরেশতাদের তাসবীহ এবং এর বরকতে রিযিক প্রদান করা হয়? এই দুনিয়ার চাহিদা তোমার কাছে প্রচুর পরিমাণে আসবে। প্রতিদিন ভোরবেলা তথা সুবহে ছাদিকের পর এই তাসবীহটি প্রতিদিন ১০০ বার পড়ুন। তাসবীহটি হল- ‘সুবহা-নাল্ল-হি ওয়া বিহামদিহি, সুবহা-নালল্ল-হিল আযীম ওয়াবিহামদিহি এবং আস্তাগফিরুল্লাহ’। অতঃপর সাতদিন পর, সেই একই ছাহাবী আবার এলেন এবং বিনীতভাবে বললেন, হে আল্লাহ রাসূল (ﷺ)! দুনিয়া (সম্পদ) আমার কাছে এত বেশি পরিমাণে আসছে যে আমি জানি না কিভাবে বহন করতে হবে বা কোথায় রাখব। আমি একেবারে বিস্মিত যে, এটা দিয়ে কী করা যায়’ (লিসানুল মীযান, ৪/৩০৪ পৃ., হা/৫১০০)। উক্ত বর্ণনা কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : কেউ তাওবা করে দ্বীনের পথে ফিরে এসেছে। সে যদি অতীতে কাউকে পাপ কাজে সহযোগিতা করে, তাহলে এখনো কি সেই পাপের সমান ভাগীদার হবে? যাকে পাপ কাজে সহযোগিতা করেছে, সে তাকেও ফিরে আসতে বলেছে। কিন্তু সে ফিরে আসতে চাচ্ছে না। এক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : অন্তরের রিয়া দূর করার উপায় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫): কোন যালিম শাসক মৃত্যুবরণ করলে ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : জনৈক খত্বীব বলেন, পাঁচটি রাতের দু‘আ ফেরত দেয়া হয় না। রজবের প্রথম রাত্রি, শা‘বানের মধ্য রাত্রি, জুমু‘আর রাত্রি, ঈদুল ফিতরের রাত্রি এবং ঈদুল আযহার রাত্রি (ইবনু আসাকির, তারীখে দিমাষ্ক ১০/২৭৫ পৃঃ)। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ