বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২০ পূর্বাহ্ন
উত্তর : আধুনিক ট্রেডিংয়ের অধিকাংশের মাঝেই (গরার) ধোঁকা, পণ্যের অনুপস্থিতি, মালিকানা গ্রহণের পূর্বেই বিক্রি সূদের সংমিশ্রণ ও হারামের সহায়ক ইত্যাদি থাকার কারণে হারাম।
(১) ফরেক্স ট্রেডিং (Forex Trading) : ফরেক্স বা বৈদেশিক মুদ্রার কেনাবেচার ক্ষেত্রে মূলনীতি হল- এটি মূলত ‘বায়‘উস সারফ’ বা মুদ্রার বিনিময়। ইসলামী শরী‘আতে এক দেশের মুদ্রার সাথে অন্য দেশের মুদ্রার বিনিময় জায়েয (শায়খ বিন বায, মাজমূঊ ফাতাওয়া, ১৯/১৭১-১৭৪ পৃ.)। তবে এর জন্য কিছু কঠোর শর্ত রয়েছে। যে সকল কারণে ফরেক্স হারাম হবে, তাহল-
(ক) নগদ লেনদেন না হওয়া : মুদ্রা বিনিময়ের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষকে একই মজলিসে বা বৈঠকে মুদ্রার মালিকানা বুঝে নিতে হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘সোনার বদলে সোনা, চাঁদির বদলে চাঁদি... লেনদেন সমপরিমাণ ও নগদে হতে হবে। যখন এই বস্তুগুলোর মধ্যে ভিন্নতা থাকবে (যেমন এক দেশের মুদ্রার বদলে অন্য দেশের মুদ্রা), তখন নগদে তোমরা ইচ্ছানুযায়ী ক্রয়-বিক্রয় করো’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৮৭; মিশকাত, হা/২৮০৮)।
(খ) মালিকানা (কবজা) না থাকা: বর্তমানে প্রচলিত অনলাইন ফরেক্স ট্রেডিংয়ে সাধারণত তাৎক্ষণিক মালিকানা পাওয়া যায় না, বরং শুধু দরের ওঠানামা থেকে লাভের আশা করা হয়, যা শরী‘আতসম্মত নয়।
(গ) সূদ ও শর্ত: অনেক ক্ষেত্রে ফরেক্স অ্যাকাউন্টে ‘সোয়াপ’ (Swap) বা সূদযুক্ত থাকে, যা সম্পূর্ণ হারাম। এছাড়া মালিকানা পাওয়ার আগেই পণ্য বিক্রি করা (বাই‘ কাবলাল কবয) ইসলামে নিষিদ্ধ।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করে, সে যেন তা পূর্ণ হস্তগত করার আগে বিক্রি না করে’ (বুখারী হা/২১৩৩; মুসলিম, হা/১৫২৫; ওআইসি ইসলামিক ফিক্বহ একাডেমি, সিদ্ধান্ত নং ১৮৭ (১১/১৯), ২০০৬ শারজাহ অধিবেশনে গৃহীত; ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দাইমাহ, ফৎওয়া নং-২৪১৬৩; ফাতাওয়া দারুল ইফতা আল-মিছরিয়্যাহ, ফৎওয়া নং-৪৭১৬)। সারকথা হল- বৈদেশিক মুদ্রার কেনাবেচা জায়েয তবে, বর্তমানে প্রচলিত অধিকাংশ অনলাইন ফরেক্স ট্রেডিং পদ্ধতি শরী‘আতের এসকল শর্ত পূরণ না করায় তা বৈধ নয়।

(২) ক্রিপ্টোকারেন্সি (Cryptocurrency) : বিটকয়েন, ইথেরিয়াম বা এজাতীয় ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলো মূলত এক ধরনের সাংকেতিক ডিজিটাল মুদ্রা, যার কোন বাস্তব অস্তিত্ব নেই। এটি ব্যবহার বা এতে বিনিয়োগ করা বৈধ নয় (ফাতাওয়া দারুল ইফতা আল-মিছরিয়্যাহ, ফৎওয়া নং-৪৭১৬)। এর কারণগুলো হল-
(ক) অনিশ্চয়তা ও ধোঁকা : এতে ধোঁকা ও চরম অনিশ্চয়তার আশঙ্কা রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কঙ্কর নিক্ষেপের মাধ্যমে কেনাবেচা এবং প্রতারণামূলক ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করেছেন (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫১৩)।
(খ) পণ্যের অনুপস্থিতি : ক্রেতা ও বিক্রেতা কেউই জনেন না, আসলে তারা যার ক্রয়-বিক্রয় করছেন আদৌ তার কোন অস্তিত্ব আছে কি-না।
(গ) ভ্যালুর চরম অস্থিরতা : এর মান দ্রুত পরিবর্তনশীল, যা অনেকটা জুয়ার মত ঝুঁকি তৈরি করে।
(ঘ) আইনি স্বীকৃতি ও অস্বচ্ছতা : এর উদ্ভাবক কে তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে অজানা এবং এর কোন কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বা রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি নেই।
(ঙ) সন্দেহজনক বিষয় : ইসলামে সন্দেহজনক বিষয় থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘হালালও স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট আর এ দু’য়ের মাঝে রয়েছে কিছু সন্দেহজনক বিষয়... যে ব্যক্তি সেই সন্দেহজনক বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকবে, সে তার দ্বীন ও মর্যাদা রক্ষা করতে পারবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫০)।

(৩) বাইনারি ট্রেডিং (Binary Trading) : এটা হল কোন পণ্যের দাম ভবিষ্যতে বাড়বে, না কমবে, তার ওপর ভিত্তি করে বাজি ধরা। ইসলামী শরী‘আতে এটি সম্পূর্ণ হারাম এবং নাজায়েয কাজ। কারণ এর মধ্যে যে সমস্যাগুলো রয়েছে, তাহল-
(ক) জুয়া : এটি মূলত এক ধরনের জুয়া। কারণ এখানে পণ্যের মালিকানা পাওয়া যায় না, শুধু অনুমানের ওপর ভিত্তি করে অর্থ বাজি রাখা হয়। আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘হে মুমিনগণ! নিশ্চয় মদ, জুয়া, প্রতিমার বেদি ও জুয়ার তীর অপবিত্র, শয়তানী কাজ। সুতরাং এসব পরিহার কর, যাতে তোমরা সফলতা অর্জন কর’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ৯০)।
(খ) অন্যের ক্ষতিতে লাভ : জুয়াতে একজনের লাভ মানেই অন্যজনের নিশ্চিত ক্ষতি, যা পারস্পরিক ঘৃণা ও শত্রুতা তৈরি করে (ইসলামিক ফিক্বহ একাডেমী, সিদ্ধান্ত নং-৬৩ (১/৭); ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-১৮৮৫৮৭, ৩৭৬৪৫৬)।

অতএব ফরেক্স (বর্তমান প্রচলিত পদ্ধতি), ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং বাইনারি ট্রেডিং— এই তিনটিই অনিশ্চয়তা, জুয়া বা শারঈ শর্তভঙ্গের কারণে মুসলিমদের জন্য হারাম।


প্রশ্নকারী : ইউসুফ, বাঘা, রাজশাহী।





প্রশ্ন (২) : মসজিদে হারাম বা মসজিদে নববীর চত্বরে ছালাত আদায় করলে কি মূল মসজিদে ছালাত আদায় করার সমান ছাওয়াব পাওয়া যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : সাত আসমানে সাতজন মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আছেন। এই দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : জুমু‘আর দিনে খত্বীব মহোদয়ের তাহিয়াতুল মসজিদ এর ছালাত আদায় করা লাগবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : জনৈক বক্তা বলেন, জুমু‘আর খুত্ববা বাংলা ভাষায় দেয়া যাবে না, আরবী ভাষায় দিতে হবে। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : পিতা মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও তিনি একটি কালিমাও পারেন না। প্রশ্ন হল-তিনি কি মুসলিম? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : তাকবীরে তাহরিমার সময় আঙ্গুলগুলো বাঁকা থাকবে, না-কি সোজা থাকবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : কোন ব্যক্তি যদি একটি বা দু’টি মাস’আলার কারণে মাযহাব ত্যাগ করে ছহীহ আক্বীদা গ্রহণ করে, তাহলে কি সে মুশরিক হয়ে যাবে? তার উপর কি জান্নাত হারাম হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : আমরা আলেমদের নিকট থেকে শুনেছি যে, আল্লাহর গুণবাচক নাম রাখলে নামের পূর্বে ‘আব্দ’ যোগ করতে। যেমন আব্দুর রহমান। কিন্তু ‘মালেক’-এর পূর্বে কি ‘আব্দ যোগ করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : আর্থিকভাবে স্বচ্ছল এমন ইমাম তারাবীহ পড়িয়ে হাদিয়া নিতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : জনৈক আলেম বলেন, মিশরের জাদুঘরে ফের‘আউনের লাশ বলে যা রাখা হয়েছে, সেটা ফেরাউনের লাশ নয়। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : ইসলামে ব্যবসায় সর্বাধিক কত পার্সেন্ট লাভে পণ্য বিক্রয় করা উচিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : ইসলামে শ্রমের মর্যাদা সম্পর্কে কী বলা হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ