উত্তর : ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যবসার মূলনীতি হল- ক্রেতা ও বিক্রেতার সম্মতি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না। তবে তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে ব্যবসার মাধ্যমে (গ্রহণ করলে তা বৈধ)। আর নিজেদেরকে হত্যা করো না, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু’ (সূরা আন-নিসা : ২৯)। আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেন, ‘ক্রয়-বিক্রয় কেবল পারস্পরিক সম্মতিতে অনুষ্ঠিত হয়’ (ইবনু মাজাহ, হা/২১৮৫)। উরওয়া আল-বারিকী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) আমাকে তার নিজের জন্য একটি ছাগল কেনার উদ্দেশ্যে একটি দীনার প্রদান করলেন। আমি তার জন্য দু’টি ছাগল কিনলাম। আমি এর মধ্য হতে একটিকে এক দীনারের বিনিময়ে বিক্রয় করে দিলাম। তারপর আমি একটি ছাগল ও একটি দীনারসহ রাসূল (ﷺ)-এর নিকট এলাম এবং তাঁকে পুরো ঘটনা বর্ণনা করে শুনালাম। তিনি বললেন, আল্লাহ তোমার ডান হাতের ব্যবসায়ে বরকত দান করুন। তিনি কূফার অদূরে কুনাসা নামক জায়গায় চলে যান এবং ব্যবসায়ে অনেক মুনাফা অর্জন করেন। ফলে তিনি কূফার সম্পদশালী লোকে পরিণত হন’ (তিরমিযী, হা/১২৫৮; আবূ দাঊদ, হা/৩৩৮৪; ইবনু মাজাহ, হা/২৪০২)। লক্ষণীয় বিষয় হল- তিনি প্রায় অর্ধ দীনার দিয়ে একটি ছাগল ক্রয় করেছিলেন এবং তা এক দীনারে বিক্রয় করেছিলেন। এটি শতকরা ১০০% মুনাফা। নবী (ﷺ) তাঁর এ কাজকে অনুমোদন দিয়েছেন এবং তাঁর জন্য দু‘আ করেছেন। ছহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে যে, জুবায়ের ইবনুল আওয়াম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ‘আল-গাবাহ’ নামক জমিটি এক লাখ সত্তর হাজারে কিনেছিলেন। ‘আব্দুল্লাহ্ ইবনু যুবায়র (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) তা ষোল লাখের বিনিময়ে বিক্রয় করেন। অর্থাৎ ক্রয়মূল্যের চেয়েও নয় গুণের বেশি দামে (ছহীহ বুখারী, হা/৩১২৯)। এটি প্রমাণ করে যে, মুনাফার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই।
সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির আলেমগণ বলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘অথচ আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল ও সূদকে হারাম করেছেন’ (সূরা আল-বাক্বারা : ২৭৫)। অতএব, উভয়ের পারস্পরিক সম্মতি ও চুক্তি অনুযায়ী তা বিক্রি করতে কোন অসুবিধা নেই, হোক তা এক-চতুর্থাংশ বা এক-তৃতীয়াংশ মুনাফায়। তেমনিভাবে, নিজের পণ্যের বিক্রয়মূল্যে পার্থক্য থাকলেও তাতে কোনা দোষ নেই। তবে শর্ত হলঃ- ক্রেতার কাছে মিথ্যা বলবেন না যে, ‘অমুককে যত দামে বিক্রি করেছি, তোমাকেও তত দামে দিলাম’, অন্যজনের দামে-ই বিক্রি করলাম, অথচ বাস্তবে তার বিক্রয়মূল্য ভিন্ন। এতে যেন কোন প্রতারণা না থাকে। বাজারমূল্যের সুস্পষ্ট বিরোধিতা যেন না হয়। তবে তার উচিত সহনশীলতা ও সন্তুষ্টির গুণ ধারণ করা এবং নিজের জন্য যা পসন্দ করেন তা-ই তাঁর মুসলিম ভাইয়ের জন্যও পসন্দ করা। এতে কল্যাণ ও বরকত রয়েছে। লোভ ও অতিরিক্ত লালসায় না জড়ানো উচিত, কারণ এগুলো সাধারণত হৃদয়ের কঠোরতা, স্বভাবের হীনতা ও চরিত্রের খারাপ দিক থেকে জন্ম নেয়’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১৩/৮৮ পৃ.)।
শাইখ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘মুনাফার কোন নির্দিষ্ট সীমা নেই। তবে তার জন্য মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা জায়েয নয়। যদি সে জানে যে বাজারে কোন জিনিসের দাম এক রিয়াল, তাহলে তার জন্য দেড় রিয়ালে বিক্রি করা জায়েয নয়। বরং মানুষকে স্পষ্ট বলে দিতে হবে যে, বাজারে এর দাম এত, কিন্তু আমি তোমাকে এত দামে বিক্রি করব, তুমি চাইলে আমার কাছ থেকে নাও, নাহলে অন্য দোকান থেকে কিনে নাও। কিন্তু প্রতারণা করা, যেমন বাজারে দাম এক রিয়াল, অথচ সে দুই রিয়ালে বিক্রি করছে, আর অজ্ঞ ক্রেতাকে ঠকাচ্ছে, এটা তার জন্য জায়েয নয় (ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ র্দাব লিইবনি বায, ১৯/৫৩ পৃ.)।
প্রশ্নকারী : মুজাহিদ, নরসিংদী।