রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:২৮ অপরাহ্ন
উত্তর : ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যবসার মূলনীতি হল- ক্রেতা ও বিক্রেতার সম্মতি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না। তবে তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে ব্যবসার মাধ্যমে (গ্রহণ করলে তা বৈধ)। আর নিজেদেরকে হত্যা করো না, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু’ (সূরা আন-নিসা : ২৯)। আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেন, ‘ক্রয়-বিক্রয় কেবল পারস্পরিক সম্মতিতে অনুষ্ঠিত হয়’ (ইবনু মাজাহ, হা/২১৮৫)। উরওয়া আল-বারিকী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) আমাকে তার নিজের জন্য একটি ছাগল কেনার উদ্দেশ্যে একটি দীনার প্রদান করলেন। আমি তার জন্য দু’টি ছাগল কিনলাম। আমি এর মধ্য হতে একটিকে এক দীনারের বিনিময়ে বিক্রয় করে দিলাম। তারপর আমি একটি ছাগল ও একটি দীনারসহ রাসূল (ﷺ)-এর নিকট এলাম এবং তাঁকে পুরো ঘটনা বর্ণনা করে শুনালাম। তিনি বললেন, আল্লাহ তোমার ডান হাতের ব্যবসায়ে বরকত দান করুন। তিনি কূফার অদূরে কুনাসা নামক জায়গায় চলে যান এবং ব্যবসায়ে অনেক মুনাফা অর্জন করেন। ফলে তিনি কূফার সম্পদশালী লোকে পরিণত হন’ (তিরমিযী, হা/১২৫৮; আবূ দাঊদ, হা/৩৩৮৪; ইবনু মাজাহ, হা/২৪০২)। লক্ষণীয় বিষয় হল- তিনি প্রায় অর্ধ দীনার দিয়ে একটি ছাগল ক্রয় করেছিলেন এবং তা এক দীনারে বিক্রয় করেছিলেন। এটি শতকরা ১০০% মুনাফা। নবী (ﷺ) তাঁর এ কাজকে অনুমোদন দিয়েছেন এবং তাঁর জন্য দু‘আ করেছেন। ছহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে যে, জুবায়ের ইবনুল আওয়াম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ‘আল-গাবাহ’ নামক জমিটি এক লাখ সত্তর হাজারে কিনেছিলেন। ‘আব্দুল্লাহ্ ইবনু যুবায়র (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) তা ষোল লাখের বিনিময়ে বিক্রয় করেন। অর্থাৎ ক্রয়মূল্যের চেয়েও নয় গুণের বেশি দামে (ছহীহ বুখারী, হা/৩১২৯)। এটি প্রমাণ করে যে, মুনাফার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই।

সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির আলেমগণ বলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘অথচ আল্লাহ‌ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল ও সূদকে হারাম করেছেন’ (সূরা আল-বাক্বারা : ২৭৫)। অতএব, উভয়ের পারস্পরিক সম্মতি ও চুক্তি অনুযায়ী তা বিক্রি করতে কোন অসুবিধা নেই, হোক তা এক-চতুর্থাংশ বা এক-তৃতীয়াংশ মুনাফায়। তেমনিভাবে, নিজের পণ্যের বিক্রয়মূল্যে পার্থক্য থাকলেও তাতে কোনা দোষ নেই। তবে শর্ত হলঃ- ক্রেতার কাছে মিথ্যা বলবেন না যে, ‘অমুককে যত দামে বিক্রি করেছি, তোমাকেও তত দামে দিলাম’, অন্যজনের দামে-ই বিক্রি করলাম, অথচ বাস্তবে তার বিক্রয়মূল্য ভিন্ন। এতে যেন কোন প্রতারণা না থাকে। বাজারমূল্যের সুস্পষ্ট বিরোধিতা যেন না হয়। তবে তার উচিত সহনশীলতা ও সন্তুষ্টির গুণ ধারণ করা এবং নিজের জন্য যা পসন্দ করেন তা-ই তাঁর মুসলিম ভাইয়ের জন্যও পসন্দ করা। এতে কল্যাণ ও বরকত রয়েছে। লোভ ও অতিরিক্ত লালসায় না জড়ানো উচিত, কারণ এগুলো সাধারণত হৃদয়ের কঠোরতা, স্বভাবের হীনতা ও চরিত্রের খারাপ দিক থেকে জন্ম নেয়’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১৩/৮৮ পৃ.)

শাইখ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘মুনাফার কোন নির্দিষ্ট সীমা নেই। তবে তার জন্য মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা জায়েয নয়। যদি সে জানে যে বাজারে কোন জিনিসের দাম এক রিয়াল, তাহলে তার জন্য দেড় রিয়ালে বিক্রি করা জায়েয নয়। বরং মানুষকে স্পষ্ট বলে দিতে হবে যে, বাজারে এর দাম এত, কিন্তু আমি তোমাকে এত দামে বিক্রি করব, তুমি চাইলে আমার কাছ থেকে নাও, নাহলে অন্য দোকান থেকে কিনে নাও। কিন্তু প্রতারণা করা, যেমন বাজারে দাম এক রিয়াল, অথচ সে দুই রিয়ালে বিক্রি করছে, আর অজ্ঞ ক্রেতাকে ঠকাচ্ছে, এটা তার জন্য জায়েয নয় (ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ র্দাব লিইবনি বায, ১৯/৫৩ পৃ.)


প্রশ্নকারী : মুজাহিদ, নরসিংদী।





প্রশ্ন (১৯) : দুগ্ধদানকারিণী মা ছিয়াম ভঙ্গ করতে পারবে কি? ভঙ্গ করলে কখন তা পূরণ করবে, না-কি ফিদইয়া দিবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : বাংলাদেশে ওশর প্রযাজ্য নয়। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : চোখের যিনা কাবীরা গুনাহ, না-কি ছাগীরা গুনাহ? এটার জন্য কি তওবা করতে হবে, না-কি সৎ আমলের দ্বারা মাফ হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : কুরবানীর গোশত কয় ভাগ করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : হুজুরকে ‘মাওলানা’ বলা যাবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : প্রচলিত রয়েছে যে, শু‘আইব (আলাইহিস সালাম) মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর শ্বশুর ছিলেন। কথাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : হাদীছে জুমু‘আর খুত্ববাহ সংক্ষিপ্ত ও ছালাত দীর্ঘায়িত করার কথা বর্ণিত হয়েছে। এই হাদীছের ব্যাখ্যা কী? উলামায়ে কিরাম কী বলেছেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : ছিয়াম অবস্থায় সাইনোসাইটিস রোগীর পেটের ভেতরে নাকের শ্লেষ্মা চলে গেলে তার ছিয়ামের হুকুম কী? একই রোগী যদি নাকে রক্তসহ ঘুম থেকে জেগে উঠে এবং তার মুখে রক্তের স্বাদ পায় সেক্ষেত্রে হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : মানুষের কাছ থেকে সম্মান অর্জনের ক্ষেত্রে কি কেবল দু‘আতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে, না-কি ইসলামিক শিষ্টাচার, আচার-আচরণ, উত্তম চরিত্র, বক্তব্য ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজসহ অন্যান্য বৈধ উপায় বা কৌশল অনুসরণ করা শরী‘আতসম্মত? আমার ধারণা হলো- সম্মান পাওয়ার উদ্দেশ্যে এসব করা হারাম এবং শিরকের অন্তর্ভুক্ত। আমার এই ধারণা কি সঠিক? ইসলামের দৃষ্টিতে কী করলে সম্মান অর্জন করা বৈধ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
শ্ন (১২) : ‘যখন বান্দার গুনাহ অধিক হয়ে যায় এবং সেগুলোর কাফ্ফারার জন্য তার কোন নেক আমল থাকে না, আল্লাহ তা‘আলা তখন তাকে চিন্তায় ফেলে পরীক্ষা করেন, যাতে তা তার সকল গুনাহর কাফফারা হতে পারে’ (মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫২৭৫) মর্মে হাদীছটি বিশুদ্ধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : কুরআনে বলা আছে, যারা জাহান্নামে যাবে তারা চিরস্থায়ী জাহান্নামী। কিন্তু ছহীহ বুখারীতে রয়েছে যে, আল্লাহ এক সময় মুসলিম জাহান্নামীদেরকে মাফ করে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। তাহলে কি এই হাদীছটি কুরআনের ঐ আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক নয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : তারাবীহর ছালাত কয় রাক‘আত? কেউ ৮ রাক‘আত পড়ে, কেউ পড়ে ২০ রাক‘আত। কোনটি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ