বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যবসার মূলনীতি হল- ক্রেতা ও বিক্রেতার সম্মতি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না। তবে তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে ব্যবসার মাধ্যমে (গ্রহণ করলে তা বৈধ)। আর নিজেদেরকে হত্যা করো না, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু’ (সূরা আন-নিসা : ২৯)। আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেন, ‘ক্রয়-বিক্রয় কেবল পারস্পরিক সম্মতিতে অনুষ্ঠিত হয়’ (ইবনু মাজাহ, হা/২১৮৫)। উরওয়া আল-বারিকী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) আমাকে তার নিজের জন্য একটি ছাগল কেনার উদ্দেশ্যে একটি দীনার প্রদান করলেন। আমি তার জন্য দু’টি ছাগল কিনলাম। আমি এর মধ্য হতে একটিকে এক দীনারের বিনিময়ে বিক্রয় করে দিলাম। তারপর আমি একটি ছাগল ও একটি দীনারসহ রাসূল (ﷺ)-এর নিকট এলাম এবং তাঁকে পুরো ঘটনা বর্ণনা করে শুনালাম। তিনি বললেন, আল্লাহ তোমার ডান হাতের ব্যবসায়ে বরকত দান করুন। তিনি কূফার অদূরে কুনাসা নামক জায়গায় চলে যান এবং ব্যবসায়ে অনেক মুনাফা অর্জন করেন। ফলে তিনি কূফার সম্পদশালী লোকে পরিণত হন’ (তিরমিযী, হা/১২৫৮; আবূ দাঊদ, হা/৩৩৮৪; ইবনু মাজাহ, হা/২৪০২)। লক্ষণীয় বিষয় হল- তিনি প্রায় অর্ধ দীনার দিয়ে একটি ছাগল ক্রয় করেছিলেন এবং তা এক দীনারে বিক্রয় করেছিলেন। এটি শতকরা ১০০% মুনাফা। নবী (ﷺ) তাঁর এ কাজকে অনুমোদন দিয়েছেন এবং তাঁর জন্য দু‘আ করেছেন। ছহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে যে, জুবায়ের ইবনুল আওয়াম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ‘আল-গাবাহ’ নামক জমিটি এক লাখ সত্তর হাজারে কিনেছিলেন। ‘আব্দুল্লাহ্ ইবনু যুবায়র (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) তা ষোল লাখের বিনিময়ে বিক্রয় করেন। অর্থাৎ ক্রয়মূল্যের চেয়েও নয় গুণের বেশি দামে (ছহীহ বুখারী, হা/৩১২৯)। এটি প্রমাণ করে যে, মুনাফার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই।

সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির আলেমগণ বলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘অথচ আল্লাহ‌ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল ও সূদকে হারাম করেছেন’ (সূরা আল-বাক্বারা : ২৭৫)। অতএব, উভয়ের পারস্পরিক সম্মতি ও চুক্তি অনুযায়ী তা বিক্রি করতে কোন অসুবিধা নেই, হোক তা এক-চতুর্থাংশ বা এক-তৃতীয়াংশ মুনাফায়। তেমনিভাবে, নিজের পণ্যের বিক্রয়মূল্যে পার্থক্য থাকলেও তাতে কোনা দোষ নেই। তবে শর্ত হলঃ- ক্রেতার কাছে মিথ্যা বলবেন না যে, ‘অমুককে যত দামে বিক্রি করেছি, তোমাকেও তত দামে দিলাম’, অন্যজনের দামে-ই বিক্রি করলাম, অথচ বাস্তবে তার বিক্রয়মূল্য ভিন্ন। এতে যেন কোন প্রতারণা না থাকে। বাজারমূল্যের সুস্পষ্ট বিরোধিতা যেন না হয়। তবে তার উচিত সহনশীলতা ও সন্তুষ্টির গুণ ধারণ করা এবং নিজের জন্য যা পসন্দ করেন তা-ই তাঁর মুসলিম ভাইয়ের জন্যও পসন্দ করা। এতে কল্যাণ ও বরকত রয়েছে। লোভ ও অতিরিক্ত লালসায় না জড়ানো উচিত, কারণ এগুলো সাধারণত হৃদয়ের কঠোরতা, স্বভাবের হীনতা ও চরিত্রের খারাপ দিক থেকে জন্ম নেয়’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১৩/৮৮ পৃ.)।

শাইখ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘মুনাফার কোন নির্দিষ্ট সীমা নেই। তবে তার জন্য মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা জায়েয নয়। যদি সে জানে যে বাজারে কোন জিনিসের দাম এক রিয়াল, তাহলে তার জন্য দেড় রিয়ালে বিক্রি করা জায়েয নয়। বরং মানুষকে স্পষ্ট বলে দিতে হবে যে, বাজারে এর দাম এত, কিন্তু আমি তোমাকে এত দামে বিক্রি করব, তুমি চাইলে আমার কাছ থেকে নাও, নাহলে অন্য দোকান থেকে কিনে নাও। কিন্তু প্রতারণা করা, যেমন বাজারে দাম এক রিয়াল, অথচ সে দুই রিয়ালে বিক্রি করছে, আর অজ্ঞ ক্রেতাকে ঠকাচ্ছে, এটা তার জন্য জায়েয নয় (ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ র্দাব লিইবনি বায, ১৯/৫৩ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : মুজাহিদ, নরসিংদী।





প্রশ্ন (৭) : রামাযান মাসের ছিয়ামের ক্বাযা বাকি রেখে, শাওয়াল মাসের ছয়টি ছিয়াম পালন করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : ওযূ করার সময় যদি বার বার মনে হয় যে, বায়ু নির্গত হয়েছে। এমতাবস্থায় করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : নফল ছিয়াম ভেঙ্গে ফেলা যাবে কি এবং ভেঙ্গে ফেলা ছিয়ামের কাযা আদায় করতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : মানুষ বিপদে পতিত হলে হতাশা প্রকাশ করে চিন্তিত হয়ে পড়ে। অনেকেই অসন্তুষ্টি প্রকাশও করে। প্রশ্ন হল- বিপদে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করলে তার হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : বিভিন্ন ধরনের বৈদ্যুতিক মেশিনের মাধ্যমে কুরবানী পশু যব্হ করা যাবে কি? কেউ যদি এমনভাবে কুরবানী দেয়, তবে উক্ত গোশত খাওয়া হালাল হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : ভুলবশত কেউ যেনা করে ফেললে সেটা থেকে কিভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা পাওয়া যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : রামাযান শব্দের অর্থ কী? রামাযানের উদ্দেশ্য কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : ছোটবেলায় আমার বাবা মারা যান। আমি যখন দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ি তখন আমার অবিভাবক মা এবং চাচারা। ফুফুদের ওয়ারিশ সূত্রে জমির অংশ বাবদ সে সময়ের বাজার মূল্য থেকে কিছু টাকা কম দেন। তাতে তারা পুরোপুরি সন্তুষ্ট না থাকলেও জমি লিখে দেন। তবে এখন তাদের আচরণে টাকার বিষয়ে অসংগতি প্রকাশ পাচ্ছে। এখন উক্ত সম্পত্তি ভোগ করা কি আমার জন্য জায়েয হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : প্রসিদ্ধ চার মাযহাবের অনুসরণ করার বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : পাইলস, অর্শ, ভগন্দর রোগের কারণে তেল বা মলম ব্যবহার করলে ছিয়ামের কোন ক্ষতি হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : ইসলামের দৃষ্টিতে বজ্রপাতের ব্যাখ্যা কী এবং এ সময় আমাদের করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : কোন এলাকার মসজিদে আযান ও ছালাত না হলে সেখানকার মুসলিমদের কী অবস্থা হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ