রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:০০ অপরাহ্ন
উত্তর : মানুষের দোষত্রুটি নিয়ে সমালোচনা করা এবং অন্যকে সংশোধন করার পূর্বে নিজের দোষত্রুটি সংশোধন করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নিজেরা ভ্রান্তির মধ্যে ডুবে থেকে অন্যকে সংশোধনের বলা ঈমানের পরিচয় নয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, اَتَاۡمُرُوۡنَ النَّاسَ بِالۡبِرِّ وَ تَنۡسَوۡنَ اَنۡفُسَکُمۡ وَ اَنۡتُمۡ تَتۡلُوۡنَ الۡکِتٰبَ ؕ اَفَلَا تَعۡقِلُوۡنَ ‘তোমরা কি মানুষকে সৎকর্মের নির্দেশ দাও এবং নিজেরা নিজেদেরকে ভুলে যাও, অথচ তোমরা কিতাব পাঠ কর? তবুও কি তোমরা চিন্তা কর না’? (সূরা আল-বাক্বারাহ : ৪৪)। অন্য আয়াতে বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের চিন্তা কর। তোমরা যখন সৎপথে রয়েছ, তখন কেউ পথভ্রান্ত হলে তাতে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ১০৫)।

সাধারণত কেউ যদি আত্মসমালোচনা করে অর্থাৎ নির্জনে-একান্ত একাকীত্বে নিজের দায়িত্ব-কর্তব্য, করণীয়-বর্জনীয়, সফলতা-ব্যর্থতা এবং দোষত্রুটি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা ও হিসাব-নিকাশ করে তাহলে তার কাছে তার নিজের ত্রুটি-বিচ্যুতি ধরা পড়বে। আল্লাহ তা‘আলা প্রতিটি মানুষকে বিবেক নামক এটি আয়না দিয়েছেন। মানুষ যদি সে আয়নার সামনে নিজেকে দাঁড় করায় তাহলে তার মধ্যে কোথায় কী সমস্যা আছে তা সে পরিষ্কার দেখতে পায়। আল্লাহ বলেন, بَلِ الۡاِنۡسَانُ  عَلٰی نَفۡسِہٖ بَصِیۡرَۃٌ ‘বরং মানুষ নিজেই নিজের ব্যাপারে খুব ভাল জানে’ (সূরা আল-ক্বিয়ামাহ : ১৪)। যেমন ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন,

حَاسِبُوْا أَنْفُسَكُمْ قَبْلَ أَنْ تُحَاسَبُوْا وَزِنُوْا أَنْفُسَكُمْ قَبْلَ أَنْ تُوْزَنُوْا فَإِنَّهُ أَهْوَنُ عَلَيْكُمْ فِي الْحِسَابِ غَدًا أَنْ تُحَاسِبُوْا أَنْفُسَكُمُ الْيَوْمَ وَتَزَيَّنُوا لِلْعَرْضِ الْأَكْبَرِ يَوْمَئِذٍ تُعْرَضُوْنَ لَا تَخْفَى مِنْكُمْ خَافِيَةٌ

‘তোমরা নিজরা নিজেদের হিসাব নাও (পরকালে) হিসাবের সম্মুখীন হওয়ার পূর্বে এবং তোমরা নিজেরা নিজেদের মেপে নাও (পরকালে) তোমাদেরকে মাপার পূর্বে। কেননা আজকের তোমার এই নিজে নিজে হিসাব-নিকাশ করাটা আগামী কালকে হিসাব দেয়ার চেয়ে অনেক সহজ। আর তোমরা বড় পরীক্ষা দেয়ার সম্মুখীন হওয়ার জন্য প্রস্তুত হও। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,  یَوۡمَئِذٍ تُعۡرَضُوۡنَ  لَا تَخۡفٰی مِنۡکُمۡ خَافِیَۃٌ ‘সেদিন তোমাদেরকে (আল্লাহর সামনে হিসাব-নিকাশ ও প্রতিদান প্রদানের জন্য) পেশ করা হবে, তখন তোমাদের কোনকিছুই গোপন থাকবে না’ (সূরা আল-হাক্কাহ : ১৮; ইবনু আবিদ দুনিয়া, মুহাসাবাতুন নাফস, পৃ. ২৯, হা/২; আয-যুহুদ লিল ইমাম আহমাদ, পৃ. ১২০; হিলইয়াতুল আওলিয়া, ১ম খণ্ড, পৃ. ৫২; ‍মুসান্নাফে ইবনু আবী শায়বাহ, ১৩ তম খণ্ড, পৃ. ২৭০; মুওআত্তা ইমাম মালিক, ২য় খণ্ড, পৃ. ১১১)। আরবিতে একটা প্রবাদ আছে, أبصر الناس من نظر إلى عيوبه ‘সবচেয়ে দূরদৃষ্টি সম্পন্ন বা বিচক্ষণ মানুষ হল ঐ ব্যক্তি যে নিজের দোষ-ত্রুটি দেখে’। অতএব এটাই নিজেকে সংশোধনের সবচেয়ে বড় উপায়।


প্রশ্নকারী : মীকাঈল, টঙ্গী, ঢাকা।





প্রশ্ন (২৯) : জাহান্নামীদের পানীয় হিসাবে প্রদত্ত مَاءٌ صَدِيْدٌ وَغِسْلِيْنٌ বলতে কী বুঝানো হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : ওয়াহদাতুল উজূদ কাদের বিশ্বাস? ওলী বলতে কি শুধু পীরদের বুঝায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : আমার আশেপাশে কোন আহলেহাদীছ মসজিদ নেই। এমতাবস্থায় বিদ‘আতী মসজিদে জামা‘আতের সাথে ছালাত আদায় করব, না-কি একাকী আদায় করব? বিশেষ করে তারা আছর ও ফজরের ছালাত অনেক দেরি করে পড়ে। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : তিন বছর কিংবা পাঁচ বছরের জন্য সাময়িক জন্ম নিয়ন্ত্রণ কাঠি পড়া গ্রহণ করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : ছোট বাচ্চাদের চোখে কাজল (কালো কালি) দেয়া, কোমরে ডোরা (কালো সুতা) বাঁধা অথবা কপালে কালো ফোঁটা দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : জানাযার আগে এলাকার নেতা ও আলেমরা কথা বলে থাকেন। এটা কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : ছালাত আদায়কারী ব্যক্তির সামনে কেউ বসে থাকলে তাকে সুতরা ধরে চলে যাওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৩) : জনৈক ব্যক্তির বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়ি মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে। সেখানে গিয়ে সে কি ছালাত কছর করতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : হায়েযগ্রস্ত নারী ক্বদরের রাতগুলো কিভাবে জাগবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : বর্তমানে শিশুদেরকে তাহনীক্ব করানো যাবে কি? কেউ কেউ বলেন, এটি রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে খাছ ছিল। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : কেউ গান-বাজনাকে হালাল মনে করলে তার ঈমান থাকবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : অমুসলিমের বাড়ী ভাড়া নেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ