বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন
উত্তর : মানুষের দোষত্রুটি নিয়ে সমালোচনা করা এবং অন্যকে সংশোধন করার পূর্বে নিজের দোষত্রুটি সংশোধন করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নিজেরা ভ্রান্তির মধ্যে ডুবে থেকে অন্যকে সংশোধনের বলা ঈমানের পরিচয় নয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, اَتَاۡمُرُوۡنَ النَّاسَ بِالۡبِرِّ وَ تَنۡسَوۡنَ اَنۡفُسَکُمۡ وَ اَنۡتُمۡ تَتۡلُوۡنَ الۡکِتٰبَ ؕ اَفَلَا تَعۡقِلُوۡنَ ‘তোমরা কি মানুষকে সৎকর্মের নির্দেশ দাও এবং নিজেরা নিজেদেরকে ভুলে যাও, অথচ তোমরা কিতাব পাঠ কর? তবুও কি তোমরা চিন্তা কর না’? (সূরা আল-বাক্বারাহ : ৪৪)। অন্য আয়াতে বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের চিন্তা কর। তোমরা যখন সৎপথে রয়েছ, তখন কেউ পথভ্রান্ত হলে তাতে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ১০৫)।

সাধারণত কেউ যদি আত্মসমালোচনা করে অর্থাৎ নির্জনে-একান্ত একাকীত্বে নিজের দায়িত্ব-কর্তব্য, করণীয়-বর্জনীয়, সফলতা-ব্যর্থতা এবং দোষত্রুটি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা ও হিসাব-নিকাশ করে তাহলে তার কাছে তার নিজের ত্রুটি-বিচ্যুতি ধরা পড়বে। আল্লাহ তা‘আলা প্রতিটি মানুষকে বিবেক নামক এটি আয়না দিয়েছেন। মানুষ যদি সে আয়নার সামনে নিজেকে দাঁড় করায় তাহলে তার মধ্যে কোথায় কী সমস্যা আছে তা সে পরিষ্কার দেখতে পায়। আল্লাহ বলেন, بَلِ الۡاِنۡسَانُ  عَلٰی نَفۡسِہٖ بَصِیۡرَۃٌ ‘বরং মানুষ নিজেই নিজের ব্যাপারে খুব ভাল জানে’ (সূরা আল-ক্বিয়ামাহ : ১৪)। যেমন ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন,

حَاسِبُوْا أَنْفُسَكُمْ قَبْلَ أَنْ تُحَاسَبُوْا وَزِنُوْا أَنْفُسَكُمْ قَبْلَ أَنْ تُوْزَنُوْا فَإِنَّهُ أَهْوَنُ عَلَيْكُمْ فِي الْحِسَابِ غَدًا أَنْ تُحَاسِبُوْا أَنْفُسَكُمُ الْيَوْمَ وَتَزَيَّنُوا لِلْعَرْضِ الْأَكْبَرِ يَوْمَئِذٍ تُعْرَضُوْنَ لَا تَخْفَى مِنْكُمْ خَافِيَةٌ

‘তোমরা নিজরা নিজেদের হিসাব নাও (পরকালে) হিসাবের সম্মুখীন হওয়ার পূর্বে এবং তোমরা নিজেরা নিজেদের মেপে নাও (পরকালে) তোমাদেরকে মাপার পূর্বে। কেননা আজকের তোমার এই নিজে নিজে হিসাব-নিকাশ করাটা আগামী কালকে হিসাব দেয়ার চেয়ে অনেক সহজ। আর তোমরা বড় পরীক্ষা দেয়ার সম্মুখীন হওয়ার জন্য প্রস্তুত হও। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,  یَوۡمَئِذٍ تُعۡرَضُوۡنَ  لَا تَخۡفٰی مِنۡکُمۡ خَافِیَۃٌ ‘সেদিন তোমাদেরকে (আল্লাহর সামনে হিসাব-নিকাশ ও প্রতিদান প্রদানের জন্য) পেশ করা হবে, তখন তোমাদের কোনকিছুই গোপন থাকবে না’ (সূরা আল-হাক্কাহ : ১৮; ইবনু আবিদ দুনিয়া, মুহাসাবাতুন নাফস, পৃ. ২৯, হা/২; আয-যুহুদ লিল ইমাম আহমাদ, পৃ. ১২০; হিলইয়াতুল আওলিয়া, ১ম খণ্ড, পৃ. ৫২; ‍মুসান্নাফে ইবনু আবী শায়বাহ, ১৩ তম খণ্ড, পৃ. ২৭০; মুওআত্তা ইমাম মালিক, ২য় খণ্ড, পৃ. ১১১)। আরবিতে একটা প্রবাদ আছে, أبصر الناس من نظر إلى عيوبه ‘সবচেয়ে দূরদৃষ্টি সম্পন্ন বা বিচক্ষণ মানুষ হল ঐ ব্যক্তি যে নিজের দোষ-ত্রুটি দেখে’। অতএব এটাই নিজেকে সংশোধনের সবচেয়ে বড় উপায়।


প্রশ্নকারী : মীকাঈল, টঙ্গী, ঢাকা।





প্রশ্ন (২৮) : জ্বালানি তেল জাতীয় পদার্থ যেমন পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল, কেরোসিন ইত্যাদি কাপড়ে লাগলে নাপাক হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : মেয়ের শ্বশূরবাড়ি আর নিজের বাড়ির লোকের মধ্যে ঝামেলার কারণে প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী যদি নিজের মা আর চাচাদের চাপে পরে, স্বামীর বাড়িতে মোহরানা না জানিয়ে রেখে যায় এবং এর পর কোর্ট থেকে নোটারীর পাবলিকের মাধ্যমে স্বামীর অনুপস্থিতিতে নোটিশ পাঠিয়ে খোলা ত্বালাক্ব দেয়। তাহলে ত্বালাক হবে কিনা? উল্লেখ্য, এখানে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে তেমন কোন জামেলা ছিলো না। আর স্বামী ত্বালাক্ব দিতে বা মানতেও রাজি না। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : আমি এবং আমার স্ত্রী নিয়মিত ছালাত আদায় করতাম না। আমি শুধু জুমু‘আহর ছালাত আদায় করতাম। বর্তমানে আমি ৫ ওয়াক্ত ছালাত আদায় করছি এবং ছিয়াম রাখতেছি। কিন্তু আমার স্ত্রী ছালাত আদায় করে না। সেক্ষেত্রে কি স্ত্রী অটো ত্বালাক্ব হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : আল্লাহ তা‘আলা আসমান-যমীনের মধ্যকার সবকিছুরই সৃষ্টিকর্তা, তাহলে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করলেন, এরূপ প্রশ্ন করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : অনেক মসজিদে ফজরের ছালাতের পর সূরা হাশরের শেষের তিন আয়াত সম্মিলিতভাবে তেলাওয়াত করা হয়। আর ফযীলত হিসাবে বলা হয় যে, ফজর এবং মাগরিবের ছালাতের পর যে ব্যক্তি সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত তেলোয়াত করবে, ৭০ হাজার ফেরেশতা সারাদিন ও সারারাত তার জন্য দু‘আ করতে থাকবে। উক্ত বর্ণনাটি কি বিশুদ্ধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : আমি বিয়ের আগে যেনায় লিপ্ত ছিলাম। বিয়ের পর থেকে ভুল বুঝতে পেরে আমি খুবই অনুতপ্ত। আল্লাহ কি আমাকে ক্ষমা করবেন?  কিভাবে তওবাহ করলে উক্ত পাপ ক্ষমা হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : আমাদের এলাকায় একটি হাদীছ প্রচলিত রয়েছে যে, ‘যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওযূ করে ছওয়াবের উদ্দেশ্যে তার কোন মুসলিম ভাইকে দেখতে যাবে, তাকে জাহান্নাম হতে ষাট বছরের পথ দূরে রাখা হবে’ (আবুদাঊদ, হা/৩০৯৭, ‘জানাযা’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৭)। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : সূরা আন-নিসার ৩৪ নং আয়াতে অবাধ্য স্ত্রীকে প্রহার করার কথা বলা হয়েছে। কেউ বলেন লাঠি মেসওয়াক পরিমাণ হতে হবে। এর সঠিক সমাধান জানতে চাই? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : জানাযা ছালাতের পূর্বে নছীহতমূলক আলোচনা করার কোন বিধান আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : বিবাহ বিচ্ছেদের হালাল উপায় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : শুধু বেজোড় রাত্রিগুলোতে ই‘তিকাফ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : যারা নিজেকে ‘আহলে কুরআন’ দাবী করে বলে, আমরা কেবল কুরআন মানব, হাদীছ মানব না। এমন ব্যক্তিদেরকে কাফির বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ