বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন
উত্তর : একজন আদর্শ মুসলিমের উচিত ইসলামী বিচারালয়ে ওয়াকালতি ও আইনজীবীর কাজ করা, যেখানে যাবতীয় বিচার-ফয়সালা ইসলামী আইন অনুযায়ী হবে। মানবরচিত আইনের আওতায় থেকে অনৈসলামী পদ্ধতিতে বিচারব্যবস্থা পরিচালনা করা উচিত নয়। পরন্তু বিশেষ প্রয়োজনে জায়েয। যেমন যেখানে ইসলামী বা শারঈ বিচারব্যবস্থা নেই। দ্বিতীয়তঃ একজন আইনজীবী বা প্রসিকিউটর (prosecutor) হিসাবে কাজ করার ও মামলার তদন্ত করার উদ্দেশ্য যদি সত্যের পৃষ্ঠপোষকতা করা এবং মিথ্যাকে প্রতিহত করা হয়, প্রকৃত মালিকের নিকট তার প্রাপ্য অধিকার ফিরিয়ে দেয়া এবং মাযলূম ও নিপীড়িতদের সাহায্য করা হয়, তাহলে তা বৈধ। কারণ এটি সততা ও আল্লাহভীরুতায় সাহায্য করার অন্তর্ভুক্ত এবং এই কাজের জন্য ন্যায্য পারিশ্রমিক নেয়াও জায়েয। অপরদিকে যদি উদ্দেশ্য অসৎ হয়, (যেমন সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বানানো, ঘুষের নামে গরীব ও দুঃস্থদের বিষয়সম্পত্তি আত্মসাৎ করা ইত্যাদি) তাহলে তা জায়েয হবে না। কেননা তা অন্যায় ও পাপাচারে সহযোগিতা করার অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাক্বওয়ায় পরস্পর সহযোগিতা কর এবং মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে একে অন্যের সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ আযাব প্রদানে অত্যধিক কঠোর’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ২)।

তৃতীয়তঃ যদি এমন কোন ব্যক্তি মানবরচিত আইন অধ্যয়ন করতে চায়, যার মেধাশক্তি ও বুদ্ধিমত্তা আছে, আর সে তার মাধ্যমে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করে এবং তার আছে ইসলামী জ্ঞানে পরিপক্কতা ও সুদৃঢ়তা যার মাধ্যমে সে ন্যায়নীতি ও সত্যবাদিতা হতে বিচ্যুত হওয়া থেকে এবং মিথ্যা প্রলোভনে প্রভাবিত হওয়া থেকে নিরাপদে থাকে। এই অধ্যয়নের উদ্দেশ্যই হল, ইসলামী বিধি-বিধানের সঙ্গে মানবরচিত বিধি-বিধানের তুলনা করা, অতঃপর ইসলামী বিধি-বিধানের কল্যাণকর ও সুবিধাজনক দিকগুলো জনসম্মুখে স্পষ্ট করা এবং মানুষের ধর্মীয় ও জাগতিক সুবিধার্থে এর প্রয়োজনীয়তার ব্যাখ্যা করা। সর্বোপরি সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ও মিথ্যাকে প্রতিহত করার জন্য এই শিক্ষা অর্জন করা বৈধ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১২তম খণ্ড, পৃ. ১৩৬-১৩৭ এবং ২৩তম খণ্ড, পৃ. ৫০২)।

শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আইনজীবী বা ওয়াকালতি রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগ থেকে শুরু করে আমাদের যুগ পর্যন্ত বিদ্যমান। ওয়াকালতি করা দোষনীয় নয়। যদি আইনজীবী আল্লাহভীরু হয় এবং বাদী অথবা বিবাদীকে মিথ্যা, মনগড়া মানবরচিত মামলা দ্বারা সাহায্য না করে, তাহলে তাতে কোন সমস্যা নেই (ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ দার্ব, ইবনু বায অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, https://binbay.org.sa/fatwas/10658)।


প্রশ্নকারী : জাহিদুল ইসলাম, ঢাকা।





প্রশ্ন (২৭) : জুমু‘আর দিনে খত্বীব মহোদয়ের তাহিয়াতুল মসজিদ এর ছালাত আদায় করা লাগবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : সূদী ঋণ নিয়ে হজ্জ করলে হজ্জ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : সফরে কতদিন পর্যন্ত ছালাত ক্বছর করা যায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : জনৈক ব্যক্তি এমন এলাকায় থাকে সেখানকার সকল মসজিদে ফজরের ছালাত অনেক দেরি করে আরম্ভ হয় এবং ছালাত শেষে দেখা যায় যে, আকাশ অনেক ফর্সা/আলোকিত হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে অত্র মসজিদে জামা‘আত শুরুর আগে মসজিদে গিয়ে একা একা ছালাত পড়া কি জায়েয হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : ফাতাওয়া গ্রহণ ও বর্জনের ক্ষেত্রে শারঈ মানদণ্ড কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : বাচ্চাদের পেশাব করা কাপড় দিয়ে কি ছালাত আদায় করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : জুমু‘আহ মসজিদে প্রথম জামা‘আতের পর আর জামা‘আত করা যাবে কি? পরের জামা‘আতে ইক্বামত দিতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : কবরস্থানে কুরআন তেলাওয়াত করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : হিজড়ারা জিনের সন্তান। এ দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : আইয়ামে বীযের নফল ছিয়াম ও তার ফযীলত সম্পর্কে জানতে চাই। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : যাদুবিদ্যা শেখার পরিণাম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : যাকাতের নিসাবে মতভেদ দেখা যাচ্ছে, সোনার ক্ষেত্রে ৮৫ গ্রাম/৮৭.৪৮ গ্রাম। রুপার ক্ষেত্রে ৫৯৫ গ্রাম/৬১২.৩৬ গ্রাম। ১ তোলা সমান ১১.৬৬৪ গ্রাম হলে ৮৭.৪৮ গ্রাম সোনা এবং ৬১২.৩৬ গ্রাম রুপো সঠিক হয়। তাহলে ৮৫ গ্রাম এবং ৫৯৫ গ্রাম কিভাবে হিসাব করা হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ