শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৫১ অপরাহ্ন
উত্তর : একজন আদর্শ মুসলিমের উচিত ইসলামী বিচারালয়ে ওয়াকালতি ও আইনজীবীর কাজ করা, যেখানে যাবতীয় বিচার-ফয়সালা ইসলামী আইন অনুযায়ী হবে। মানবরচিত আইনের আওতায় থেকে অনৈসলামী পদ্ধতিতে বিচারব্যবস্থা পরিচালনা করা উচিত নয়। পরন্তু বিশেষ প্রয়োজনে জায়েয। যেমন যেখানে ইসলামী বা শারঈ বিচারব্যবস্থা নেই। দ্বিতীয়তঃ একজন আইনজীবী বা প্রসিকিউটর (prosecutor) হিসাবে কাজ করার ও মামলার তদন্ত করার উদ্দেশ্য যদি সত্যের পৃষ্ঠপোষকতা করা এবং মিথ্যাকে প্রতিহত করা হয়, প্রকৃত মালিকের নিকট তার প্রাপ্য অধিকার ফিরিয়ে দেয়া এবং মাযলূম ও নিপীড়িতদের সাহায্য করা হয়, তাহলে তা বৈধ। কারণ এটি সততা ও আল্লাহভীরুতায় সাহায্য করার অন্তর্ভুক্ত এবং এই কাজের জন্য ন্যায্য পারিশ্রমিক নেয়াও জায়েয। অপরদিকে যদি উদ্দেশ্য অসৎ হয়, (যেমন সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বানানো, ঘুষের নামে গরীব ও দুঃস্থদের বিষয়সম্পত্তি আত্মসাৎ করা ইত্যাদি) তাহলে তা জায়েয হবে না। কেননা তা অন্যায় ও পাপাচারে সহযোগিতা করার অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাক্বওয়ায় পরস্পর সহযোগিতা কর এবং মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে একে অন্যের সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ আযাব প্রদানে অত্যধিক কঠোর’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ২)।

তৃতীয়তঃ যদি এমন কোন ব্যক্তি মানবরচিত আইন অধ্যয়ন করতে চায়, যার মেধাশক্তি ও বুদ্ধিমত্তা আছে, আর সে তার মাধ্যমে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করে এবং তার আছে ইসলামী জ্ঞানে পরিপক্কতা ও সুদৃঢ়তা যার মাধ্যমে সে ন্যায়নীতি ও সত্যবাদিতা হতে বিচ্যুত হওয়া থেকে এবং মিথ্যা প্রলোভনে প্রভাবিত হওয়া থেকে নিরাপদে থাকে। এই অধ্যয়নের উদ্দেশ্যই হল, ইসলামী বিধি-বিধানের সঙ্গে মানবরচিত বিধি-বিধানের তুলনা করা, অতঃপর ইসলামী বিধি-বিধানের কল্যাণকর ও সুবিধাজনক দিকগুলো জনসম্মুখে স্পষ্ট করা এবং মানুষের ধর্মীয় ও জাগতিক সুবিধার্থে এর প্রয়োজনীয়তার ব্যাখ্যা করা। সর্বোপরি সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ও মিথ্যাকে প্রতিহত করার জন্য এই শিক্ষা অর্জন করা বৈধ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১২তম খণ্ড, পৃ. ১৩৬-১৩৭ এবং ২৩তম খণ্ড, পৃ. ৫০২)।

শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আইনজীবী বা ওয়াকালতি রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগ থেকে শুরু করে আমাদের যুগ পর্যন্ত বিদ্যমান। ওয়াকালতি করা দোষনীয় নয়। যদি আইনজীবী আল্লাহভীরু হয় এবং বাদী অথবা বিবাদীকে মিথ্যা, মনগড়া মানবরচিত মামলা দ্বারা সাহায্য না করে, তাহলে তাতে কোন সমস্যা নেই (ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ দার্ব, ইবনু বায অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, https://binbay.org.sa/fatwas/10658)।


প্রশ্নকারী : জাহিদুল ইসলাম, ঢাকা।





প্রশ্ন (২৫) : স্ত্রীকে নিয়ে রাতে হাঁটা রাসূল (ﷺ)-এর সুন্নাহ। কিন্তু দাদি-নানিদের মুখে প্রচলিত আছে বিয়ের পরে ৬/১২/১৮ মাস গায়ের একটা গন্ধ থাকে। যার ফলে নতুন জামাই বৌ রাতে বাইরে যাতায়াত ঠিক নয়। এতে জীন ক্ষতি করে। এই কথাটা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : বাড়ির চাকর থেকে কি পর্দা করতে হবে? কেউ কেউ বলে, মাথায় কাপড় থাকলে সমস্যা নেই। এমতাবস্থায় করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : রামাযান মাসে এক শ্রেণীর যুবককে দেখা যায় যে, তারা নেকীর আশায় সাহারীর খাওয়ার পূর্বে ঢোল পিটিয়ে রাস্তায় ও ওলি-গলিতে মানুষকে সাহারী খাওয়ার জন্য জাগায়। এটা কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ, উলূহিয়্যাহ ও আসমা ওয়াছ ছিফাত বলতে কী বুঝায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : মেয়েদের মাসিক অবস্থায় কুরআনের হিফয ক্লাস কিভাবে করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : যক্ষা রোগে আক্রান্ত কোন ব্যক্তি ছিয়াম রাখতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : জান্নাতী ব্যক্তি কি অন্য জাহান্নামী ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করতে পারবেন? কারণ জান্নাতে যা চাইবে তাইতো পাওয়া যাবে। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৭) : বর্তমানে ঈদের দিন গান-বাজনা এবং বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করা হয় কিংবা পরিবারের সদস্যগণ টিভি-সিনেমার পর্দায় নোংরা চলচ্চিত্র র্দশন করে সময় অতিবাহিত করে। এটি শরী‘আত সম্মত কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : স্ত্রী স্বেচ্ছায় খোলা করে নিয়েছে। দু’এক বছর পর স্বামীর কাছে আসতে চায়। এক্ষেত্রে শরী‘আতের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) মনে মনে কুরআন তেলাওয়াত করলে ছওয়াব পাওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : জনৈক আলোচক বলেন, ইখতিলাফের সময় আমার সুন্নাতের উপর অটল থাকা আগুনের অঙ্গার মুষ্ঠিবদ্ধ ধরে রাখার মত কঠিন হবে। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : ছালাতে হাত বাঁধা সম্পর্কে সঊদী আরবের সর্বোচ্চ ফাতাওয়া বোর্ড এবং শায়খ ইবনু বায, আলবানী, শায়খ উছায়মীন (রাহিমাহুমুল্লাহ) কী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন? নাভীর নিচে বাঁধতে বলেছেন, না-কি বুকের উপর? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ