রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৫:১৩ অপরাহ্ন
উত্তর : একজন আদর্শ মুসলিমের উচিত ইসলামী বিচারালয়ে ওয়াকালতি ও আইনজীবীর কাজ করা, যেখানে যাবতীয় বিচার-ফয়সালা ইসলামী আইন অনুযায়ী হবে। মানবরচিত আইনের আওতায় থেকে অনৈসলামী পদ্ধতিতে বিচারব্যবস্থা পরিচালনা করা উচিত নয়। পরন্তু বিশেষ প্রয়োজনে জায়েয। যেমন যেখানে ইসলামী বা শারঈ বিচারব্যবস্থা নেই। দ্বিতীয়তঃ একজন আইনজীবী বা প্রসিকিউটর (prosecutor) হিসাবে কাজ করার ও মামলার তদন্ত করার উদ্দেশ্য যদি সত্যের পৃষ্ঠপোষকতা করা এবং মিথ্যাকে প্রতিহত করা হয়, প্রকৃত মালিকের নিকট তার প্রাপ্য অধিকার ফিরিয়ে দেয়া এবং মাযলূম ও নিপীড়িতদের সাহায্য করা হয়, তাহলে তা বৈধ। কারণ এটি সততা ও আল্লাহভীরুতায় সাহায্য করার অন্তর্ভুক্ত এবং এই কাজের জন্য ন্যায্য পারিশ্রমিক নেয়াও জায়েয। অপরদিকে যদি উদ্দেশ্য অসৎ হয়, (যেমন সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বানানো, ঘুষের নামে গরীব ও দুঃস্থদের বিষয়সম্পত্তি আত্মসাৎ করা ইত্যাদি) তাহলে তা জায়েয হবে না। কেননা তা অন্যায় ও পাপাচারে সহযোগিতা করার অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাক্বওয়ায় পরস্পর সহযোগিতা কর এবং মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে একে অন্যের সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ আযাব প্রদানে অত্যধিক কঠোর’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ২)।

তৃতীয়তঃ যদি এমন কোন ব্যক্তি মানবরচিত আইন অধ্যয়ন করতে চায়, যার মেধাশক্তি ও বুদ্ধিমত্তা আছে, আর সে তার মাধ্যমে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করে এবং তার আছে ইসলামী জ্ঞানে পরিপক্কতা ও সুদৃঢ়তা যার মাধ্যমে সে ন্যায়নীতি ও সত্যবাদিতা হতে বিচ্যুত হওয়া থেকে এবং মিথ্যা প্রলোভনে প্রভাবিত হওয়া থেকে নিরাপদে থাকে। এই অধ্যয়নের উদ্দেশ্যই হল, ইসলামী বিধি-বিধানের সঙ্গে মানবরচিত বিধি-বিধানের তুলনা করা, অতঃপর ইসলামী বিধি-বিধানের কল্যাণকর ও সুবিধাজনক দিকগুলো জনসম্মুখে স্পষ্ট করা এবং মানুষের ধর্মীয় ও জাগতিক সুবিধার্থে এর প্রয়োজনীয়তার ব্যাখ্যা করা। সর্বোপরি সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ও মিথ্যাকে প্রতিহত করার জন্য এই শিক্ষা অর্জন করা বৈধ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১২তম খণ্ড, পৃ. ১৩৬-১৩৭ এবং ২৩তম খণ্ড, পৃ. ৫০২)।

শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আইনজীবী বা ওয়াকালতি রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগ থেকে শুরু করে আমাদের যুগ পর্যন্ত বিদ্যমান। ওয়াকালতি করা দোষনীয় নয়। যদি আইনজীবী আল্লাহভীরু হয় এবং বাদী অথবা বিবাদীকে মিথ্যা, মনগড়া মানবরচিত মামলা দ্বারা সাহায্য না করে, তাহলে তাতে কোন সমস্যা নেই (ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ দার্ব, ইবনু বায অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, https://binbay.org.sa/fatwas/10658)।


প্রশ্নকারী : জাহিদুল ইসলাম, ঢাকা।





প্রশ্ন (২৩) : মসজিদে হারাম বা মসজিদে নববীর চত্বরে ছালাত আদায় করলে কি মূল মসজিদে ছালাত আদায় করার সমান ছাওয়াব পাওয়া যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : তিনতলা বিশিষ্ট মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে সিরামিক ইট ব্যবহার করে সুন্দর করা হচ্ছে। এটা দেখে এলাকার লোকেরা ঠাট্টা করে বলাবলি করছে এখান থেকেই ক্বিয়ামত শুরু হবে। এভাবে বলা কি জায়েয?   - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : জনৈক খত্বীব বলেছেন যে, খিযির (আলাইহিস সালাম) পানিতে থাকেন। আর মূসা (আলাইহিস সালাম)-কে যখন তার মা সাগরে ফেলে দেন তখন খিযির (আলাইহিস সালাম) তাকে রক্ষা করেছেন। এটা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : একজন সরকারি চাকরি করে প্রতি মাসে বেতন পায়। কিছু টাকা খরচ করে এবং কিছু জমায়। এখন সে কিভাবে যাকাত হিসাব করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : শুক্রবারে ‘আরাফার দিন হলে সেই হজ্জ ৭ হজ্জের সমান- এ কথা কি ঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : হিজামা করিয়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : আল-কুরআন অবমাননাকারীর বিধান ও শাস্তি কী? অবমাননাকারীর শাস্তি কারা দিবে? সাধারণ জনগণ কি অবমাননাকারীকে শাস্তি দিতে পারে? এর প্রতিবাদে মিছিল-মিটিং ও সমাবেশ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : স্বজনপ্রীতি সম্পর্কে ইসলাম কী বলে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : নবী (ﷺ)-এর হাসি-খুশি ও রসিকতার ধরন কেমন ছিল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : কোন ব্যক্তি মারা গেলে সাথে সাথে কবর খনন করা হয়। আর দাফন করতে দেরী হলে কবরটিকে বসে বসে পাহারা দেয়া হয়। এর কারণ কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : জনৈক ছাহাবী রাসূল (ﷺ)-এর নিকট এসে বিনীতভাবে বললেন, দুনিয়া আমার দিকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে অর্থাৎ তিনি দারিদ্র্যের কথা বলেন। তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, ‘তুমি কি সেই তাসবীহ মুখস্থ করনি, যা ফেরেশতাদের তাসবীহ এবং এর বরকতে রিযিক প্রদান করা হয়? এই দুনিয়ার চাহিদা তোমার কাছে প্রচুর পরিমাণে আসবে। প্রতিদিন ভোরবেলা তথা সুবহে ছাদিকের পর এই তাসবীহটি প্রতিদিন ১০০ বার পড়ুন। তাসবীহটি হল- ‘সুবহা-নাল্ল-হি ওয়া বিহামদিহি, সুবহা-নালল্ল-হিল আযীম ওয়াবিহামদিহি এবং আস্তাগফিরুল্লাহ’। অতঃপর সাতদিন পর, সেই একই ছাহাবী আবার এলেন এবং বিনীতভাবে বললেন, হে আল্লাহ রাসূল (ﷺ)! দুনিয়া (সম্পদ) আমার কাছে এত বেশি পরিমাণে আসছে যে আমি জানি না কিভাবে বহন করতে হবে বা কোথায় রাখব। আমি একেবারে বিস্মিত যে, এটা দিয়ে কী করা যায়’ (লিসানুল মীযান, ৪/৩০৪ পৃ., হা/৫১০০)। উক্ত বর্ণনা কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : জনৈক ব্যক্তির জীবনে রাশি রাশি পাপে ভরপুর। বর্তমানে সে এক জটিল রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসা নেয়ার বহু চেষ্টা করেও কোন লাভ হয়নি। ডাক্তার বলেছেন, এই রোগের কোন চিকিৎসা নেই। এ পর্যায়ে এসে তিনি অত্যন্ত অনুতপ্ত এবং গুনাহ থেকে তওবা করতে ইচ্ছুক। এমন ব্যক্তির তওবা শুদ্ধ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ