রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন
উত্তর : একজন আদর্শ মুসলিমের উচিত ইসলামী বিচারালয়ে ওয়াকালতি ও আইনজীবীর কাজ করা, যেখানে যাবতীয় বিচার-ফয়সালা ইসলামী আইন অনুযায়ী হবে। মানবরচিত আইনের আওতায় থেকে অনৈসলামী পদ্ধতিতে বিচারব্যবস্থা পরিচালনা করা উচিত নয়। পরন্তু বিশেষ প্রয়োজনে জায়েয। যেমন যেখানে ইসলামী বা শারঈ বিচারব্যবস্থা নেই। দ্বিতীয়তঃ একজন আইনজীবী বা প্রসিকিউটর (prosecutor) হিসাবে কাজ করার ও মামলার তদন্ত করার উদ্দেশ্য যদি সত্যের পৃষ্ঠপোষকতা করা এবং মিথ্যাকে প্রতিহত করা হয়, প্রকৃত মালিকের নিকট তার প্রাপ্য অধিকার ফিরিয়ে দেয়া এবং মাযলূম ও নিপীড়িতদের সাহায্য করা হয়, তাহলে তা বৈধ। কারণ এটি সততা ও আল্লাহভীরুতায় সাহায্য করার অন্তর্ভুক্ত এবং এই কাজের জন্য ন্যায্য পারিশ্রমিক নেয়াও জায়েয। অপরদিকে যদি উদ্দেশ্য অসৎ হয়, (যেমন সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বানানো, ঘুষের নামে গরীব ও দুঃস্থদের বিষয়সম্পত্তি আত্মসাৎ করা ইত্যাদি) তাহলে তা জায়েয হবে না। কেননা তা অন্যায় ও পাপাচারে সহযোগিতা করার অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাক্বওয়ায় পরস্পর সহযোগিতা কর এবং মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে একে অন্যের সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ আযাব প্রদানে অত্যধিক কঠোর’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ২)।

তৃতীয়তঃ যদি এমন কোন ব্যক্তি মানবরচিত আইন অধ্যয়ন করতে চায়, যার মেধাশক্তি ও বুদ্ধিমত্তা আছে, আর সে তার মাধ্যমে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করে এবং তার আছে ইসলামী জ্ঞানে পরিপক্কতা ও সুদৃঢ়তা যার মাধ্যমে সে ন্যায়নীতি ও সত্যবাদিতা হতে বিচ্যুত হওয়া থেকে এবং মিথ্যা প্রলোভনে প্রভাবিত হওয়া থেকে নিরাপদে থাকে। এই অধ্যয়নের উদ্দেশ্যই হল, ইসলামী বিধি-বিধানের সঙ্গে মানবরচিত বিধি-বিধানের তুলনা করা, অতঃপর ইসলামী বিধি-বিধানের কল্যাণকর ও সুবিধাজনক দিকগুলো জনসম্মুখে স্পষ্ট করা এবং মানুষের ধর্মীয় ও জাগতিক সুবিধার্থে এর প্রয়োজনীয়তার ব্যাখ্যা করা। সর্বোপরি সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ও মিথ্যাকে প্রতিহত করার জন্য এই শিক্ষা অর্জন করা বৈধ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১২তম খণ্ড, পৃ. ১৩৬-১৩৭ এবং ২৩তম খণ্ড, পৃ. ৫০২)।

শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আইনজীবী বা ওয়াকালতি রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগ থেকে শুরু করে আমাদের যুগ পর্যন্ত বিদ্যমান। ওয়াকালতি করা দোষনীয় নয়। যদি আইনজীবী আল্লাহভীরু হয় এবং বাদী অথবা বিবাদীকে মিথ্যা, মনগড়া মানবরচিত মামলা দ্বারা সাহায্য না করে, তাহলে তাতে কোন সমস্যা নেই (ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ দার্ব, ইবনু বায অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, https://binbay.org.sa/fatwas/10658)।


প্রশ্নকারী : জাহিদুল ইসলাম, ঢাকা।





প্রশ্ন (১৩) : হস্তমৈথুনকে কেন ছিয়াম ভঙ্গের কারণ হিসাবে গণ্য করা হয়? অথচ বেপর্দা ও অন্যান্য গুনাহকে ছিয়াম ভঙ্গের কারণ হিসাবে গণ্য করা হয় না। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : রামাযান মাসে প্রতিদিন মসজিদে মুছল্লীদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : বিয়ের বয়স প্রায় ২০ বছর। মেয়েও অনেক বড় হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় প্রচণ্ড অনীহা পরিলক্ষিত হচ্ছে। আবার মাঝে মাঝে নির্যাতনেরও স্বীকার হতে হয়। ভয় হয় যে, স্বামীর হক আদায় করা হচ্ছে না। এমতাবস্থায় করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : অনেক মহিলারা ডান হাতের নখ রাখে। কারণ তারা তা না রাখলে নাকি কাজ করতে পারে না। এখন কেউ যদি বড় নখ রাখে তাহলে তার পাপ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : অন্যের খরচে হজ্জ আদায় করলে সেই হজ্জটি কি ইসলামের ফরয হজ্জ হিসাবে আদায় হবে? অথচ তিনি তার হজ্জের জন্য নিজের সম্পদ থেকে কিছুই ব্যয় করেননি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) বিয়ের সময় মেয়ের বাবার বাড়ী থেকে যে মালপত্র দেয়া হয় তা দেয়া কি ঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : যে সকল রাষ্ট্র আল্লাহকে সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক মনে করে না, সেই রাষ্ট্রের অধীনে যারা সরকারী চাকুরী করেন তাদেরকে দেশের নির্বাচনের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করতে হয়। মুসলিম হিসাবে বাধ্যগত কারণে উক্ত দায়িত্ব পালন করা কি কুফরীর অন্তর্ভুক্ত হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : হস্তমৈথুন নিষিদ্ধ হওয়ার শারঈ দলীল কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : ফের্কাবন্দীর হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : ইসলামী শরী‘আতের আলোকে সূদ কাকে বলে? কত প্রকার ও কী কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : এক রাক‘আত বিতরের ছালাত আদায় করার প্রমাণ জানতে চাই? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯): ‘আহাদ’ কি আল্লাহর নাম? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ