বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন
উত্তর : উক্ত দাবী সঠিক। ফের‘আউনের লাশ ক্বিয়ামত পর্যন্ত অক্ষত থাকবে এই ব্যাখ্যা সঠিক নয়। আল্লাহ বলেন, ‘আমরা আজ তোমরা দেহকে সংরক্ষণ করব, যাতে তুমি তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হয়ে থাকো’ (সূরা ইউনুস ৯২)। উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

أَيْ نُلْقِيكَ عَلَى نَجْوَةٍ مِنَ الْأَرْضِ. وَذَلِكَ أَنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ لَمْ يُصَدِّقُوا أَنَّ فِرْعَوْنَ غَرِقَ.

‘অর্থাৎ আমরা তোমার দেহকে যমীনের উঁচু স্থানে নিক্ষেপ করব। এর কারণ হল, বানী ইসরাঈলের লোকেরা বিশ্বাস করেনি যে, ফের‘আউন ডুবে মরেছে’ (তাফসীরে কুরতুবী ৮/৩৭৯ পৃ.)। ইমাম ইবনে কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

لِتَكُونَ لِبَنِي إِسْرَائِيلَ دَلِيلًا عَلَى مَوْتِكَ وَهَلَاكِكَ.

‘তোমার মৃত্যু ও ধ্বংস যেন বানী ইসরাঈলদের জন্য প্রমাণ হিসাবে কাজ করে’ (তাফসীরে ইবনে কাছীর ৪/২৯৪ পৃ.)। প্রায় সব মুফাসসিরের বক্তব্য একই।

স্পষ্ট হল যে, এটা বানী ইসরাঈলদের জন্য নিদর্শন ছিল। কারণ তাদের মধ্যে যারা ফেরাউনের মৃত্যুকে অস্বীকার করেছিল তাদের জন্য আল্লাহ ফেরাঊনের মৃত দেহকে সাগরের তীরে উপস্থাপন করেছিলেন। ক্বিয়ামত পর্যন্ত রাখার জন্য নয়। কারণ আয়াতে এমনটি বলা হয়নি। ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) স্পষ্ট করে বলেন,

فَلَمَّا رَأَتْهُ بَنُو إِسْرَائِيلَ قَالُوا نَعَمْ! يَا مُوسَى هَذَا فِرْعَوْنُ وَقَدْ غَرِقَ، فَخَرَجَ الشَّكُّ مِنْ قُلُوبِهِمْ وَابْتَلَعَ الْبَحْرُ فِرْعَوْنَ كَمَا كَانَ

বানী ইসরাইলের লোকেরা যখন ফেরাউনের মৃত লাশ দেখল, তখন তারা বলল, হে মূসা (আলাইহিস সালাম) এটা ফের‘আউন ডুবে মরেছে। এভাবে তাদের অন্তর থেকে যখন সন্দেহ দূর হয়ে গেল, তখন সাগর আবার ফেরাউনকে গিলে ফেলল (তাফসীরে কুরতুবী ৮/৩৮০ পৃ.)। শাইখ ফাওযান বলেন, যারা ধারণা করে ফেরাউনের লাশ এখনো মিশরে আছে তারা মূর্খ। ফেরাউনের মৃত দেহ ক্ষণিকের জন্য যমীনের উপর তুলার উদ্দেশ্যে ছিল  ফেরাউনের মৃত্যু সম্পর্কে বনী ইসরাইলের লোকেদের বিশ্বাস করানো। লাশ দেখার পর তারা বিশ্বাস করে নিয়েছে আর উদ্দেশ্যেও পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছে (আল-মুন্তাক্বা ১/২১৩ পৃ.)।

ইমাম মুহাম্মাদ বিন ছালেহ আল-উছায়মীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

هم الذين يقولون إن فرعون صاحب موسى موجود في الأهرامات، هذا كذب وكلام لا أصل له.

যারা বলেন, ফের‘আউনের লাশ এখনো পিরামিডে আছে, এটা তাদের মিথ্যাচার; এটা এমন কথা যার কোন ভিত্তি নেই (লিক্বাউল বাব আল-মাফতূহ ১৮৩/২৫)।


প্রশ্নকারী : আব্দুল্লাহ তাহসীন, রংপুর।





প্রশ্ন (২) : আমার স্ত্রীর মায়ের দুধ কোন এক ছেলে পান করছে। তার সাথে কি আমার স্ত্রী কথা বলতে পারবে বা দেখা দিতে পারবে? উল্লেখ্য, পাঁচ বার দুধ পান করেনি। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : সুন্নাহ এবং হাদীছের মধ্যে কী কী পার্থক্য আছে?       - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : আল্লাহ তা‘আলাকে রব হিসাবে মানা বলতে কী বুঝায়? মক্কার কাফেররা কি আল্লাহ তা‘আলাকে রব্ব হিসাবে মেনে নিয়েছিল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : স্বেচ্ছায় কেউ জামা‘আতে ছালাত আদায় না করলে তার হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : রোগ মুক্তির লক্ষ্যে কড়ি, রিং ও বালা ইত্যাদি ব্যবহার করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : সালাফী মানহাজের আলেমের মুখে শুনেছি হাদীছে এসেছে, নবী (ﷺ) ফজর ছালাত অন্ধকার থাকতেই আদায় করেছেন, ছালাত শেষে একজন আরেকজনকে চিনতে পারত না। ইমাম ছাহেবকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ফজরের ছালাত ফর্সা করে আদায় করলে ছওয়াব বেশি হবে। আমরা কোনটাকে প্রাধান্য দিব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : দৈনিক যুগান্তর (২৫ ডিসেম্বর, ২০১৯) পত্রিকায় বলা হয়েছে যে, নাসা খালি চোখে সূর্যগ্রহণ দেখতে নিষেধ করেছে। যাতে করে মানুষ দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারে। সুতরাং ফিল্টার দিয়েই এটা দেখা উচিত। প্রশ্ন হল- সূর্যগ্রহণের সময় সূর্যের দিকে তাকানো যাবে না মর্মে কথাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : মূসা (আলাইহিস সালাম) যখন আল্লাহ্র সাথে সাক্ষাৎ করলেন তখন তিনি প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহ! আমি আপনার যত নিকটবর্তী হয়েছি আর কেউ কি এতো নিকটবর্তী হতে পারবে। আল্লাহ বললেন, মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উম্মত ইফতারের সময় এর চেয়েও বেশী নিকটবর্তী হবে। উক্ত ঘটনা কোন হাদীছ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : আউয়াল ওয়াক্তে ফরয ছালাত আদায় করে বিলম্বিত ওয়াক্তে মসজিদে ছালাত আদায়ের ক্ষেত্রে মুছল্লী কি নফল ছালাতের নিয়ত করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : প্রচলিত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা এবং ভোট দেয়ার সুযোগ আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : রুকূ অবস্থায় দৃষ্টি কোথায় রাখতে হবে এবং ইমাম যখন ‘সামি‘আল্লাহু লিমান হা‘মদাহ’ বলেন, তখন মুক্তাদীগণও কি ‘সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : ইসলামে কুরআন অবমাননাকারীদের শাস্তি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ