শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৫১ অপরাহ্ন
উত্তর : উক্ত দাবী সঠিক। ফের‘আউনের লাশ ক্বিয়ামত পর্যন্ত অক্ষত থাকবে এই ব্যাখ্যা সঠিক নয়। আল্লাহ বলেন, ‘আমরা আজ তোমরা দেহকে সংরক্ষণ করব, যাতে তুমি তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হয়ে থাকো’ (সূরা ইউনুস ৯২)। উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

أَيْ نُلْقِيكَ عَلَى نَجْوَةٍ مِنَ الْأَرْضِ. وَذَلِكَ أَنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ لَمْ يُصَدِّقُوا أَنَّ فِرْعَوْنَ غَرِقَ.

‘অর্থাৎ আমরা তোমার দেহকে যমীনের উঁচু স্থানে নিক্ষেপ করব। এর কারণ হল, বানী ইসরাঈলের লোকেরা বিশ্বাস করেনি যে, ফের‘আউন ডুবে মরেছে’ (তাফসীরে কুরতুবী ৮/৩৭৯ পৃ.)। ইমাম ইবনে কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

لِتَكُونَ لِبَنِي إِسْرَائِيلَ دَلِيلًا عَلَى مَوْتِكَ وَهَلَاكِكَ.

‘তোমার মৃত্যু ও ধ্বংস যেন বানী ইসরাঈলদের জন্য প্রমাণ হিসাবে কাজ করে’ (তাফসীরে ইবনে কাছীর ৪/২৯৪ পৃ.)। প্রায় সব মুফাসসিরের বক্তব্য একই।

স্পষ্ট হল যে, এটা বানী ইসরাঈলদের জন্য নিদর্শন ছিল। কারণ তাদের মধ্যে যারা ফেরাউনের মৃত্যুকে অস্বীকার করেছিল তাদের জন্য আল্লাহ ফেরাঊনের মৃত দেহকে সাগরের তীরে উপস্থাপন করেছিলেন। ক্বিয়ামত পর্যন্ত রাখার জন্য নয়। কারণ আয়াতে এমনটি বলা হয়নি। ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) স্পষ্ট করে বলেন,

فَلَمَّا رَأَتْهُ بَنُو إِسْرَائِيلَ قَالُوا نَعَمْ! يَا مُوسَى هَذَا فِرْعَوْنُ وَقَدْ غَرِقَ، فَخَرَجَ الشَّكُّ مِنْ قُلُوبِهِمْ وَابْتَلَعَ الْبَحْرُ فِرْعَوْنَ كَمَا كَانَ

বানী ইসরাইলের লোকেরা যখন ফেরাউনের মৃত লাশ দেখল, তখন তারা বলল, হে মূসা (আলাইহিস সালাম) এটা ফের‘আউন ডুবে মরেছে। এভাবে তাদের অন্তর থেকে যখন সন্দেহ দূর হয়ে গেল, তখন সাগর আবার ফেরাউনকে গিলে ফেলল (তাফসীরে কুরতুবী ৮/৩৮০ পৃ.)। শাইখ ফাওযান বলেন, যারা ধারণা করে ফেরাউনের লাশ এখনো মিশরে আছে তারা মূর্খ। ফেরাউনের মৃত দেহ ক্ষণিকের জন্য যমীনের উপর তুলার উদ্দেশ্যে ছিল  ফেরাউনের মৃত্যু সম্পর্কে বনী ইসরাইলের লোকেদের বিশ্বাস করানো। লাশ দেখার পর তারা বিশ্বাস করে নিয়েছে আর উদ্দেশ্যেও পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছে (আল-মুন্তাক্বা ১/২১৩ পৃ.)।

ইমাম মুহাম্মাদ বিন ছালেহ আল-উছায়মীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

هم الذين يقولون إن فرعون صاحب موسى موجود في الأهرامات، هذا كذب وكلام لا أصل له.

যারা বলেন, ফের‘আউনের লাশ এখনো পিরামিডে আছে, এটা তাদের মিথ্যাচার; এটা এমন কথা যার কোন ভিত্তি নেই (লিক্বাউল বাব আল-মাফতূহ ১৮৩/২৫)।


প্রশ্নকারী : আব্দুল্লাহ তাহসীন, রংপুর।





প্রশ্ন (৮) : জনৈক ব্যক্তি জর্জ কোর্টে মুহুরীর সহযোগী হিসাবে কাজ করে। মজুরী হিসাবে টাকাও পায়। কিন্তু যার সহযোগী হিসাবে কাজ করে সে মানুষের কাছ থেকে মিথ্যা/প্রতারণা করে টাকা নেয় এবং বিভিন্ন সময় তাকেও মিথ্যা কথা বলতে হয়। এ ধরনের চাকরী করা বৈধ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : একই রাতে দুইবার বিতর পড়া যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : ইয়াযীদ ইবনু মু‘আবিয়া সম্পর্কে কেমন ধারণা পোষণ করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘যারা আল্লাহর আইন মেনে শাসনকার্য পরিচালনা করে না তারা কাফির, যালেম, ফাসেক। বর্তমানে যারা আল্লাহর আইন দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালনা করছে না, তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা কি আবশ্যক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : গালি নির্দেশ করে এমন কথাকে রসিকতা করে বলা; সিরিয়াসলি নয়। এ ব্যক্তিও কি কুফুরী করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : ঈদের ছালাত শেষে পরস্পরে কোলাকুলি করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : আমার এলাকার বাসিন্দারা মাযহাবের অনুসারী এবং তারা খুবই কট্টরপন্থী। বাপ-দাদার আমলকেই তারা ইসলাম মনে করে। কুরআন-হাদীছ অনুযায়ী আমল করার কথা বললে তারা ফিতনা মনে করে। তারা বুঝে না বুঝতেও চায় না; বরং হাসি-ঠাট্টা, গালাগালি করে এবং নানা যুক্তি দেখিয়ে ছহীহ হাদীছ অস্বীকার করে। এক্ষণে গ্রামবাসীকে কিভাবে বুঝানো যাবে? এভাবে শরী‘আতকে অস্বীকার করলে তার বিধান কী হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : তাওহীদ কাকে বলে? তাওহীদে বিশ্বাসের প্রভাব কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : সিজদাতে ‘সুবহানা রব্বিয়াল ‘আলা’-এর জায়গায় ভুলে বা বেখেয়ালিতে ‘সুবহানা রব্বিয়াল ‘আযীম’ বললে ছালাতের কোন ক্ষতি হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : টার্কী মুরগীর গোশত খাওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ইয়া’জূজ-মা’জূজ মানুষ জাতি। তারা কি সবাই পথভ্রষ্ট? ইয়া’জূজ-মা’জূজ কি কোন নবীর অনুসরণ করতে পেরেছে? তাদেরকে কেন সুযোগ দেয়া হল না? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : সূরা ইয়াসীন ও ত্বা-হা পাঠের ফযীলত বর্ণনায় বলা হয় যে, আল্লাহ তা‘আলা আসমান ও যমীন সৃষ্টির এক হাযার বছর পূর্বে সূরা ‘ত্বা-হা’ ও ‘ইয়াসীন’ পাঠ করলেন। তখন ফেরেশতারা শুনে বললেন, ধন্য সেই জাতি, যাদের উপর এটা নাযিল হবে, ধন্য সেই পেট যে সেটা ধারণ করবে এবং ধন্য সেই মুখ যে সেটা উচ্চারণ করবে (দারেমী, হা/৩৪১৪; মিশকাত, হা/২১৪৮; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/২০৪৫, ৫/১৮ পৃ.)। বর্ণনাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ