রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৮ পূর্বাহ্ন
উত্তর : এক্ষেত্রে উলামায়ে কেরামের পরামর্শ হল, أن لها أن تفسخ بعجزه عن الوطء স্বামী সহবাসে অপারগ হলে, স্ত্রীর জন্য বিবাহ বিচ্ছেদ করার অধিকার রয়েছে। এক্ষেত্রে স্ত্রী উক্ত স্বামীর সাথে সংসার করতে বাধ্য নয়। বরং সে স্বামীর নিকট খুলা‘ ত্বালাক্ব চাইতে পারে বা মুসলিম বিচারকের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছিন্ন করতে পারে’ (আশ-শারহুল মুমতি‘, ১২/৪১০ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-২১২৩৭৪)। কারণ বিবাহের গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হল পরস্পরের দৈহিক চাহিদা পূরণ করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ عَاشِرُوۡہُنَّ بِالۡمَعۡرُوۡفِ ‘আর তাদের (অর্থাৎ স্ত্রীদের) সাথে সৎভাবে জীবন যাপন কর’ (সূরা আন-নিসা: ১৯)। এখানে ‘সৎভাবে জীবন যাপন’ বলতে সহবাসের ইচ্ছাপূরণ ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে। শক্তি ও সামর্থ্য অনুযায়ী এটি স্বামীর উপর অপরিহার্য। যদি সে অপারগ হয়, তাহলে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছিন্ন করার অধিকার রাখে। কেননা সহবাসে সক্ষমতা না থাকা স্বামীর একটি বড় ত্রুটি। যে কারণে স্ত্রী খুলা‘ ত্বালাক্বের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন হতে পারে (আল-ইসতিযকার, ৬/১৯৩ পৃ.; আল-মুগনী, ৭/৩২৩ পৃ.; আশ-শারহুল মুমতি‘, ১২/২০৭ পৃ.)।

শাইখ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘এমতাবস্থায় যদি স্ত্রী নিজেকে ফিতনাহ অর্থাৎ পরকীয়া, ব্যভিচার বা অন্য কোনো হারাম পন্থায় লিপ্ত হওয়া থেকে বেঁচে ধৈর্যধারণ করতে পারে, তবে অবশ্যই এটি তার জন্য প্রশংসা, কৃতজ্ঞতা ও পুরস্কার প্রাপ্তির কাজ। আর যদি ধৈর্যধারণ করতে না পারে, তাহলে সে ত্বালাক্বের আবেদন করতে পারে এবং এক্ষেত্রে স্বামী তাকে ত্বালাক্ব দিতে বাধ্য থাকবে’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং- ৫০১৭৫২)।

তৃতীয়তঃ এমতাবস্থায় যদি স্ত্রী স্বামীর কাছে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে বৈধ পন্থায় যতটা সম্ভব একে অপরকে উপভোগ করা বৈধ। যেমন আলিঙ্গন, চুম্বন, উরু মৈথুন ইত্যাদি। কেননা প্রত্যেক বৈধ পন্থায় উপভোগ করা জায়েয। (তুহফাতুল মুহতাজ, ৭/৩২৫ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৫০১৭৫২)। ইমাম ইবনু কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, সহবাস বলতে বুঝায় স্বামীর হাশাফাহ অর্থাৎ পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগ স্ত্রীর যৌনাঙ্গে প্রবেশ করা, বিশুদ্ধ মতানুযায়ী এটিই সহবাস’ (আল-মুগনী, ৭/২০৪ পৃ.)। ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) ও যাকারিয়া আনছারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘স্বামীর জন্য স্ত্রীর হস্ত দ্বারা উপকৃত হওয়া বৈধ, যেমন সে উপকৃত হয় তার সমগ্র দেহ দ্বারা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে। নিজেদের স্ত্রী অথবা অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত, এতে তারা নিন্দনীয় হবে না। সুতরাং কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করলে তারা হবে সীমালংঘনকারী’ (সূরা আল-মুমিনূন: ৫-৭; আল-উম্মু, ৫/১০১; আসনাল মাত্বালীব, ৩/১৮৬ পৃ.)। শায়খ মুহাম্মাদ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন,

..إنه يجوز لزوجك أن يقضي شهوتكِ بيده إن كان لا يريد مجامعتك،

‘সহবাস করতে না চাইলে আপনার স্বামীর জন্য জায়েয স্বীয় হস্ত দ্বারা আপনার কামোদ্দীপনা নিবৃত করা’ (সূরা আল-মুমিনূন: ৫-৭)। আলহামদুলিল্লাহ, এক্ষেত্রে অনেক হালাল রাস্তা উন্মুক্ত রয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত হালাল পথ খোলা আছে, ততক্ষণ পর্যন্ত উপভোগ করা জায়েয। আল্লাহ তা‘আলা আপনাদের সকল সমস্যার সমাধান করে দিন এবং আপনার স্বামীকে শারীরিকভাবে সক্ষম করে তুলুন। আমীন (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১৭৫৪৮৭)।


প্রশ্নকারী : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, জামালপুর।





প্রশ্ন (৯) : যদি কোন ব্যক্তি নতুন বাড়িতে ওঠে এবং অনুষ্ঠানের আয়োজন করে লোকজনকে দাওয়াত করে খাওয়ায়, তাহলে জায়েয হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : মসজিদের ফরয ছালাত কিংবা জুম‘আর ছালাতের পর কেউ কেউ পিতা-মাতা বা নিজের রোগমুক্তির জন্য সবার কাছে দু‘আ চায়। অনেকে ইমামের নিকট পত্র লিখে দু‘আ চায়। এভাবে কেউ দু‘আ চাইলে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : আমি এক ছাত্রকে মসজিদের ভিতর গণিত ও পদার্থ পড়ায়। প্রশ্ন হল, মসজিদের ভিতরে এই বিষয়গুলো পড়ানো কি মসজিদের আদবের খেলাপ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : যদি কোন ব্যক্তি ত্বাওয়াফ করার সময় সন্দেহে পড়ে যে কয় চক্কর হল, তাহলে কি সাহু সেজদা দিবে? কারণ বায়তুল্লাহ্‌কে ত্বাওয়াফ করা ছালাততুল্য। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : কোন ব্যক্তি তওবা করার পর পুনরায় সেই পাপে লিপ্ত হলে তাকে কি কাফফারা দিতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : কোন ভবনের দ্বিতীয় তলায় মসজিদ। নিচতলায় রংয়ের গুদাম, মসজিদের টয়লেট এবং ওযূখানা। দ্বিতীয় তলায় মসজিদের মিম্বার বরাবর নিচ তলায় হাতের বায়ে দেয়াল ঘেষে একটি কবর। প্রশ্ন হল, উক্ত মসজিদে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : জুমু‘আর দিন কিছু শর্ত মেনে আগে আগে উপস্থিত হলে প্রতি কদমে যে এক বছরের নফল ক্বিয়াম ও ছিয়ামের ফযীলত বর্ণিত আছে, তা অর্জন করতে হলে খুত্ববা শুরুর কমপক্ষে কতক্ষণ আগে উপস্থিত থাকতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : কোনও কর্মজীবী মহিলা যদি পারফিউম মেখে কর্মক্ষেত্রে যায় এবং সেখানে সে ওয়াক্তের ছালাত আদায় করে, তবে তার ছালাত কবুল হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : পাত্রীর পরিবারে কারো কারো সন্তান হচ্ছে না, বিয়ের প্রস্তাবকারী ছেলেকে এ কথা অবহিত করা কি আবশ্যক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : সম্মেলন, সমাবেশ, সভা-সমিতি, খতমে বুখারী ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান শেষে দলবদ্ধ মুনাজাত করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : মানুষের শরীরে পা লাগলে অথবা বই হাত থেকে পড়ে গেলে উঠিয়ে সালাম করতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক রাতে সূরা আল-ওয়াক্বি‘আহ পড়বে, সে কখনো অভাবের মধ্যে পড়বে না। ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) তার মেয়েদেরকে প্রত্যেক রাতে উক্ত সূরা পড়তে বলতেন (বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান, হা/২৪৯৮; মিশকাত, হা/২১৮১)। বর্ণনাটির তাহক্বীক্ব জানতে চাই। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ