উত্তর : উক্ত দাবী ভিত্তিহীন ও উদ্ভট। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পড়লেন ৮ রাক‘আত আর ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ২০ রাক‘আত পড়ে কি তাঁর বিরোধিতা করলেন না? (নাঊযুবিল্লাহ)। ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে বিশ রাক‘আত চালু ছিল মর্মে যে বর্ণনাগুলো এসেছে, সেগুলো সবই যঈফ ও মুনকার। বরং তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাতের আলোকে ১১ রাক‘আতই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সায়েব ইবনু ইয়াযীদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ওবাই বিন কা‘ব ও তামীম দারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে রামাযান মাসে ১১ রাক‘আত তারাবীহর ছালাত পড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন (মুওয়াত্ত্বা, ১/১১৫ পৃ.; মিশকাত ১১৫ পৃ., হা/১৩০২ ‘ছালাত’ অধ্যায়, ‘রামাযানে রাত্রি জাগরণ’ অনুচ্ছেদ)।
২০ রাক‘আতের উপর ইজমা হয়েছে, এ দাবীও মিথ্যা। কারণ ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সময়ে ২০ রাক‘আতের অস্তিত্বই ছিল না। এর পক্ষে যে বর্ণনাগুলো এসেছে তার সবই জাল, যঈফ ও ভিত্তিহীন। সুতরাং জাল ও দুর্বল সূত্রের উপর ভিত্তি করে যদি কোন বিষয়ে ইজমা করা হয়, তাহলে সেটাও হবে জাল ও দুর্বল। যেমনটি শায়খ আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, لَايَعْلُوْ عَلَيْهِ لِأَنَّهُ بُنِىَ عَلَى ضَعِيْفٍ وَمَا بُنِىَ عَلىَ ضَعِيْفٍ فَهُوَ ضَعِيْفٌ ‘এই ইজমার প্রতি কখনো বিশ্বাসভাজন হওয়া যাবে না, কারণ তা দুর্বল ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। আর দুর্বল ভিত্তির উপর যা গড়ে উঠে, সেটাও দুর্বল হয়’ (আলবানী, ছালাতুত তারাবীহ, পৃ. ৭২)। শায়খ আবদুর রহমান মুবারকপুরী (রাহিমাহুল্লাহ) দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, دَعْوَى الْإِجْمَاعِ عَلَى عِشْرِيْنَ رَكْعَةً وَاسْتِقْرَارُ الْأَمْرِ عَلَى ذَلِكَ فِى الْأَمْصَارِ بَاطِلَةٌ جِدًّا. ‘বিশ রাক‘আতের প্রতি ইজমা হয়েছে এবং সর্বত্র তা স্থায়ী হয়েছে, এই দাবী চরম মিথ্যা’ (তুহফাতুল আহওয়াযী, ৩য় খ-, পৃ. ৪৪৭)।
প্রশ্নকারী : কামরুল, সিরাজগঞ্জ।