রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৪:৩৯ অপরাহ্ন
উত্তর : কোম্পানি বা দোকানের আর্থিক লেনদেনের হিসাব-নিকাশ সূদভিত্তিক হলে এবং নিষিদ্ধ বীমা কোম্পানি বা সূদী ব্যাংকের সঙ্গে লোনের কিস্তি দেয়া ও হিসাব রাখার দায়িত্ব পালন করলে আপনি সরাসরি হারাম কাজের সঙ্গে জড়িত। আপনার জন্য এ ধরনের কাজ বৈধ নয়। জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, নবী (ﷺ) সূদখোর, সূদদাতা, তার সাক্ষীদাতা ও তার লেখককে অভিসাম্পত করেছেন এবং বলেছেন, ‘ওরা সবাই সমান’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৯৭-১৫৯৮; আবূ দাঊদ, হা/৩৩৩৩)।

এখানে সূদের হিসাব রক্ষককেও শামিল করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, সেও সমপাপী। কোম্পানি বা দোকানের হারাম চুক্তিতে সাহায্য-সহযোগিতা করাও একটি অপরাধ। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘তোমরা নেককাজ ও তাক্বওয়ায় পরস্পরকে সাহায্য কর এবং পাপ ও সীমালংঘনে একে অন্যের সাহায্য করবে না। আর আল্লাহর তাক্বওয়া অবলম্বন কর। নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তিদানে অত্যধিক কঠোর’ (সূরা আল-মায়িদাহ: ২)। উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যাতে ইমাম ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) ও ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এখানে আল্লাহ তা‘আলা মুমিন ব্যক্তিদেরকে ভালো কাজে সহযোগিতা করতে আদেশ করেছেন এবং অন্যায়, অসৎ ও হারাম কাজে সাহায্য, সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছেন’ (তাফসীর ইবনু কাছীর, ২/১২; তাফসীরে কুরতুবী, ৬/৪৬-৪৭ পৃ.)।

সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির আলেমগণ বলেন, ‘যে ব্যক্তি সূদের হিসাব-নিকাশ করে বলতে, যে ব্যক্তি কাগজপত্র লিখে, যে ব্যক্তি সংশোধন করে, যে ব্যক্তি হিসাবের খাতায় আদান-প্রদান জমা করে, যে ব্যক্তি শতাংশ নির্ধারণ করে, যে ব্যক্তি সূদের টাকা সংগ্রহ করে অথবা যে ব্যক্তি সংগ্রহকারীর কাছে জমা করে, এরা সকলেই শামিল’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমা, ১৫/৫ পৃ.)।

সুতরাং আপনার উপর অপরিহার্য হল- সূদের সঙ্গে জড়িত সমস্ত রকমের কাজ এই মুহূর্তেই বর্জন করা। তবে আপনি চাইলে কোম্পানীকে বলে এমন কোন কাজ নিতে পারেন, যার সঙ্গে সূদের কোন সম্পর্ক নেই এবং যেটা সূদের কাজে সাহায্য-সহযোগিতাও করা হবে না। যদি তারা আপনার আবেদন গ্রহণ না করে, সেক্ষেত্রে আপনার জন্য ঐ কাজে বহাল থাকা জায়েয হবে না। আপনি অন্য কোম্পানিতে হালাল কাজ অনুসন্ধান করুন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর যে কেউ আল্লাহর তাক্বওয়া অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেবেন এবং তাকে তার ধারণাতীত উৎস হতে রুযী দান করবেন’(সূরা আত-ত্বালাক্ব: ২,৪; মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১৯/৭৭ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১৭৫৪৯২)। 


প্রশ্নকারী : মুহাম্মাদ শাহীন, চরফ্যাশন, ভোলা।





প্রশ্ন (৩৩) : ওযূ না করে আযান দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : কুরআনে এসেছে, কেউ কারো পাপের বোঝা বহন করবে না। তাহলে দাইয়ূছ ব্যক্তি কেন জান্নাতে যাবে না? তার কী দোষ? এটা কি সাংঘর্ষিক নয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : ‘চুরি হওয়া মাল ছাদাক্বাহস্বরূপ’- কথাটি কি ইসলামসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : হরতাল, ধর্মঘট, অবরোধ ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ কি? কিছু ইসলামী সংগঠন বলছে, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় এরূপ জিহাদ ব্যতীত অন্য কোন পথ খোলা নেই। এক্ষেত্রে শরী‘আতের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : মৃত ব্যক্তির নামে, মসজিদে হালাকা করা অর্থাৎ দু‘আ বা যিকিরের আয়োজন করা, কোন দু‘আর মাহফিল করা বা কোন হুজুর ডেকে কুরআন খতম পড়ানো ও খাওয়ানো কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : বর্তমানে অনেক মহিলা শাড়ি পরে ছালাত আদায় করে থাকে। প্রশ্ন হল- শাড়ি পরে মহিলারা ছালাত আদায় করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : আমার তৃতীয় স্ত্রীর আগের স্বামীর একটি সন্তান ছিল, সেই সন্তান এখন আমার সংসারে থাকে। তার ভরণ-পোষণ, যাবতীয় সকল খরচ আমাকে বহন করতে হচ্ছে। আমাকে প্রতি বছর যাকাত দিতে হয়। আমার স্ত্রীর আগের সন্তানের যে খরচ আমাকে বহন করতে হচ্ছে, সেই খরচ কি আমি যাকাত হিসাবে গণ্য করতে পারবো? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : ইউটিউবে অশ্লীল এ্যাডযুক্ত ভিডিও আপলোড করে অর্থ উপার্জন করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : হায়েযগ্রস্ত নারী ক্বদরের রাতগুলো কিভাবে জাগবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : রামাযানের ছিয়াম অবস্থায় ইনজেকশন নিলে কি ছিয়াম নষ্ট হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : বয়স কমিয়ে দিয়ে জন্ম নিবন্ধন করা হয়েছে। শরী‘আতের দৃষ্টিতে বিষয়টি হারাম জানার পরে জন্ম নিবন্ধন ও অন্যান্য সার্টিফিকেট পুনরায় ঠিক করতে অনেক সময় ও অর্থ খরচ হবে এবং অনেক হয়রানির শিকার হতে হবে। এক্ষেত্রে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : হারাম পথে উপার্জিত সম্পদ দ্বারা হজ্জ করলে হজ্জ হবে কি? সন্তানের হারাম পথে উপার্জিত অর্থ দিয়ে পিতা-মাতা হজ্জ করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ