উত্তর : বাংলাদেশে ছাহাবীদের আগমন সম্পর্কিত আলোচনাটি জনসম্মুখে বহু প্রচলিত হলেও এ সম্পর্কে কোন নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় না। তবে ইসলামের আবির্ভাবের বহু পূর্ব থেকেই আরব বণিকগণ বাণিজ্যিক কাজে ভারত মহাসাগরের তীরবর্তী বন্দরগুলোতে যাতায়াত করতেন মর্মে প্রমাণ পাওয়া যায়। হিজরী প্রথম শতকে কোন কোন আরব বণিকদের মাধ্যমে বাংলাদেশের কোন কোন অঞ্চলে ইসলামের আগমন ঘটেছে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। বাণিজ্যের পাশাপাশি সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার অঞ্চলগুলোতে তারা ইসলাম প্রচার করেছিলেন। যার মধ্যে বাংলাদেশও ছিল। চীনের ক্যান্টন সমুদ্রতীরে অবস্থিত ছাহাবী আবূ ওয়াক্কাছ মালিক ইবনু ওহাইবের মসজিদ ও কবর সে সাক্ষ্যই দেয়। কুড়িগ্রাম জেলায় প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কাজ চালিয়ে মাটির নিচে একটি মসজিদের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গিয়েছিল। যার ইটের গায়ে কালিমায়ে ত্বাইয়্যিবাহ ও হিজরী ৬৯ সালের বর্ণনা ছিল। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, হিজরী প্রথম শতকেই আরব বণিকদের দ্বারা এদেশে ইসলামের শুভাগমন ঘটেছিল (গোলাম সাকলায়েন, বাংলাদেশের সূফী সাধক, পৃ. ৩)।
১ম ও ২য় শতাব্দীতে আগত আরব বণিক ও মুবাল্লিগরা ছিলেন তাবিঈ এবং তাবী‘ তাবিঈ। আদতে খ্রিষ্টাব্দ অষ্টম ও নবম শতকেই এদেশে ইসলাম প্রবেশ করেছে বিপুল সমারোহে। বণিকগণ চট্রগ্রামের তৎকালীন সামুদ্রিক বন্দর দিয়ে সে এলাকায় প্রবেশ করেছিলেন এবং সেখানে তারা নিজেদের জন্য একটি উপনিবেশ তৈরি করে সেখান থেকেই দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছিলেন। এমনকি ১৭২ হিজরী সনে খালীফা হারুনুর রাশীদের শাসনামলে তারা নদী পথে বর্তমান রাজশাহী জেলার পাহাড়পুর অঞ্চলেও পৌঁছেছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায় (আব্দুল মান্নাম তালিব, বাংলাদেশে ইসলাম, পৃ. ৫৬)। তাঁদের সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও দাওয়াতে এদেশের সাধারণ জনগণ প্রভাবিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তবে ঐ সময় ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে এতদঞ্চলে যারা আগমন করেন, আজ পর্যন্ত তাঁদের পরিচয় সম্পর্কে ইতিহাস নীরব (আব্দুল মান্নাম তালিব, বাংলাদেশে ইসলাম, পৃ. ৬৩)।
প্রশ্নকারী : শরীফুল ইসলাম শাহিন, বাগাতিপাড়া, নাটোর।