রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:৩১ অপরাহ্ন
উত্তর :উক্ত দাবী সঠিক নয়। খুৎবা স্ব স্ব জাতির ভাষায় দিতে হবে। কারণ খুত্ববার উদ্দেশ্য হচ্ছে উপদেশ দেয়া, শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করা। তাই খুৎবা উপস্থিত লোকদের ভাষায় না হলে তো সেটি অর্জিত হবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ مَاۤ  اَرۡسَلۡنَا مِنۡ رَّسُوۡلٍ  اِلَّا بِلِسَانِ قَوۡمِہٖ  لِیُبَیِّنَ لَہُمۡ ‘আমি প্রত্যেক রাসূলকে তাঁর স্বজাতির ভাষায় পাঠিয়েছি। তাদের কাছে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য’ (সূরা ইবরাহীম : ৪)। তবে অন্য ভাষার কোন বিজ্ঞ আলেম আগমন করলে তিনি খুৎবা তার ভাষায় প্রদান করবেন আর স্থানীয় আলেম সেটা মুছল্লীদের জন্য অনুবাদ করে বুঝিয়ে দিবেন। এটাই শারঈ নিয়ম। শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এ বিষয়ে সঠিক অভিমত হচ্ছে উপস্থিত মুছল্লীগণ যে ভাষা বুঝে, খত্বীবের জন্য সেই ভাষাতেই খুত্ববাহ দেয়া জায়েয। যদি উপস্থিত লোকজন আরবীয় না হয় এবং আরবী ভাষা না জানে, তাহলে খত্বীব তাদের ভাষাতে খুত্ববাহ দিবেন। কেননা এটাই হচ্ছে তাদেরকে বুঝানোর মাধ্যম। খুত্ববার উদ্দেশ্য হচ্ছে বান্দাদের কাছে আল্লাহ‌র আদেশ ও নিষেধসমূহের বিবরণ দেয়া, তাদেরকে উপদেশ দেয়া, দিকনির্দেশনা দেয়া। তবে কুরআনের আয়াতগুলো আরবীতে বলা আবশ্যকীয়। অতঃপর উপস্থিত লোকদের ভাষায় তাফসীর করা। খুত্ববাহ স্থানীয় ভাষায় হওয়ার দলীল হচ্ছে আল্লাহর বাণী, ‘আর আমি প্রত্যেক রাসূলকে তাঁর স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি। তাদের কাছে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য’ (সূরা ইবরাহীম : ৪)। আল্লাহ তা‘আলা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বায়ান হতে হবে সম্বোধিতরা যে ভাষা বুঝে সে ভাষায়। এর আলোকে খত্বীব অনারবী ভাষায় খুত্ববাহ দিতে পারেন। (ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ র্দাব, প্রশ্নোত্তর নং-৯৮৪; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১১২০৪১)।

শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘খুবই স্পষ্ট এবং অধিক নিকটবর্তী অভিমত হচ্ছে এ সম্পর্কে অবস্থাভেদে ভিন্ন ভিন্ন অভিমত দেয়া। সুতরাং বলা হবে যদি মসজিদের অধিকাংশ উপস্থিতি অনারব হয়, যারা আরবী বুঝে না, তাহলে অনারবী ভাষায় খুত্ববাহ দিতে কোন আপত্তি নেই। কিংবা আরবী ভাষায় খুত্ববাহ দিয়ে পরে এর অনুবাদ পেশ করা। আর যদি অধিকাংশ উপস্থিতি আরবী ভাষা বুঝেন এবং মোটামুটি ভাবটুকু তারা আয়ত্ত্ব করতে পারেন, তাহলে উত্তম হচ্ছে আরবী ভাষায় খুত্ববাহ দেয়া এবং নবী করীম (ﷺ)-এর আদর্শের বিপরীত না করা। বিশেষতঃ সালাফগণ এমন সব মসজিদে খুত্ববাহ দিতেন যেখানে অনারবরা থাকত। কিন্তু এমন কোন উদ্ধৃতি নেই যে, তারা খুত্ববাহ অনুবাদ করতেন। কারণ তখন আধিপত্য ছিল ইসলামের এবং নেতৃত্ব ছিল আরবী ভাষার। পক্ষান্তরে অন্য ভাষায় খুত্ববাহ দেয়া জায়েয হওয়ার পক্ষে শরী‘আতে একটি দলীল রয়েছে। তা হল আল্লাহর বাণী, وَ مَاۤ  اَرۡسَلۡنَا مِنۡ رَّسُوۡلٍ  اِلَّا بِلِسَانِ قَوۡمِہٖ  لِیُبَیِّنَ لَہُمۡ ‘আর আমি প্রত্যেক রাসূলকে তাঁর স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি। তাদের কাছে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য। (সূরা ইবরাহীম : ৪)।

অনুরূপভাবে ছাহাবায়ে কিরাম যখন পারস্য, রোম ইত্যাদি অনারব দেশে অভিযান পরিচালনা করেছেন তখন তারা অনুবাদকদের মাধ্যমে তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দেয়ার পূর্বে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেননি’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১২/৩৭২ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : শাকিল আহমাদ, খিলগাঁও, ঢাকা।





প্রশ্ন (১০) : ছাদাক্বাহ ও হাদিয়ার মধ্যে পার্থক্য কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : মৃত বা জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলী ওমরাহ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : ইজমা ও ক্বিয়াসের হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : মুবাহালার বিধান কী? এটা কি শুধু রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য খাছ ছিল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : তরকারী জাতীয় পণ্যে যাকাত দিতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : জনৈক আলেম তার বক্তব্যে বলেন, কোন সদাচরণকারী সন্তান যদি তার পিতা-মাতার প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকায়, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তার প্রতিটি দৃষ্টির বিনিময়ে তার ‘আমল-নামায় একটি ‘কবুল হজ্জ’ তথা কবুলযোগ্য হজ্জের ছওয়াব লিপিবদ্ধ করেন। এমনকি দৈনিক একশ’বার তাকালেও। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক! - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : কিছু ব্লগ বা ফোরামে মিউজিক ব্যাকগ্রাউন্ড সহ ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করা কি বৈধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : দস্তরখানের উপর ময়লা ফেলা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : ‘তুমি বিলম্বে সাক্ষাৎ কর, ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে’ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : সুদভিত্তিক ব্যাংকে চাকরি করে এমন ব্যক্তির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যাবে কি? তবে তার কিছু হালাল অর্থও আছে। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ‘আদম সন্তানের সৌভাগ্য তিনটি আর দুর্ভাগ্যও তিনটি। সৌভাগ্য তিনটি হলো, দ্বীনদার-নেককার স্ত্রী, ভালো বাসস্থান, ভালো সওয়ারী বা বাহন। আর দুর্ভাগ্য তিনটি হলো, খারাপ স্ত্রী, খারাপ বাসস্থান ও খারাপ সওয়ারী’ (মুসনাদে আহমাদ)। হাদীছটি কী ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : আমি আগে হানাফী মাযহাবের অনুসারী ছিলাম। কয়েক বছর থেকে আহলেহাদীছের মাসলাক অনুসরণ করে থাকি আলহামদুলিল্লাহ। আগে থেকেই আমার বাসায় অনেক বিদ‘আতী কিতাব আছে। যেমন বেহেস্তি জেওর, নেয়ামুল কোরআন, ফাজায়েলে আমল ইত্যাদি ইত্যাদি রয়েছে। এখন এগুলো পুড়িয়ে ফেলা বা নষ্ট করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ