শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৩:২০ অপরাহ্ন
উত্তর :উক্ত দাবী সঠিক নয়। খুৎবা স্ব স্ব জাতির ভাষায় দিতে হবে। কারণ খুত্ববার উদ্দেশ্য হচ্ছে উপদেশ দেয়া, শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করা। তাই খুৎবা উপস্থিত লোকদের ভাষায় না হলে তো সেটি অর্জিত হবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ مَاۤ  اَرۡسَلۡنَا مِنۡ رَّسُوۡلٍ  اِلَّا بِلِسَانِ قَوۡمِہٖ  لِیُبَیِّنَ لَہُمۡ ‘আমি প্রত্যেক রাসূলকে তাঁর স্বজাতির ভাষায় পাঠিয়েছি। তাদের কাছে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য’ (সূরা ইবরাহীম : ৪)। তবে অন্য ভাষার কোন বিজ্ঞ আলেম আগমন করলে তিনি খুৎবা তার ভাষায় প্রদান করবেন আর স্থানীয় আলেম সেটা মুছল্লীদের জন্য অনুবাদ করে বুঝিয়ে দিবেন। এটাই শারঈ নিয়ম। শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এ বিষয়ে সঠিক অভিমত হচ্ছে উপস্থিত মুছল্লীগণ যে ভাষা বুঝে, খত্বীবের জন্য সেই ভাষাতেই খুত্ববাহ দেয়া জায়েয। যদি উপস্থিত লোকজন আরবীয় না হয় এবং আরবী ভাষা না জানে, তাহলে খত্বীব তাদের ভাষাতে খুত্ববাহ দিবেন। কেননা এটাই হচ্ছে তাদেরকে বুঝানোর মাধ্যম। খুত্ববার উদ্দেশ্য হচ্ছে বান্দাদের কাছে আল্লাহ‌র আদেশ ও নিষেধসমূহের বিবরণ দেয়া, তাদেরকে উপদেশ দেয়া, দিকনির্দেশনা দেয়া। তবে কুরআনের আয়াতগুলো আরবীতে বলা আবশ্যকীয়। অতঃপর উপস্থিত লোকদের ভাষায় তাফসীর করা। খুত্ববাহ স্থানীয় ভাষায় হওয়ার দলীল হচ্ছে আল্লাহর বাণী, ‘আর আমি প্রত্যেক রাসূলকে তাঁর স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি। তাদের কাছে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য’ (সূরা ইবরাহীম : ৪)। আল্লাহ তা‘আলা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বায়ান হতে হবে সম্বোধিতরা যে ভাষা বুঝে সে ভাষায়। এর আলোকে খত্বীব অনারবী ভাষায় খুত্ববাহ দিতে পারেন। (ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ র্দাব, প্রশ্নোত্তর নং-৯৮৪; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১১২০৪১)।

শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘খুবই স্পষ্ট এবং অধিক নিকটবর্তী অভিমত হচ্ছে এ সম্পর্কে অবস্থাভেদে ভিন্ন ভিন্ন অভিমত দেয়া। সুতরাং বলা হবে যদি মসজিদের অধিকাংশ উপস্থিতি অনারব হয়, যারা আরবী বুঝে না, তাহলে অনারবী ভাষায় খুত্ববাহ দিতে কোন আপত্তি নেই। কিংবা আরবী ভাষায় খুত্ববাহ দিয়ে পরে এর অনুবাদ পেশ করা। আর যদি অধিকাংশ উপস্থিতি আরবী ভাষা বুঝেন এবং মোটামুটি ভাবটুকু তারা আয়ত্ত্ব করতে পারেন, তাহলে উত্তম হচ্ছে আরবী ভাষায় খুত্ববাহ দেয়া এবং নবী করীম (ﷺ)-এর আদর্শের বিপরীত না করা। বিশেষতঃ সালাফগণ এমন সব মসজিদে খুত্ববাহ দিতেন যেখানে অনারবরা থাকত। কিন্তু এমন কোন উদ্ধৃতি নেই যে, তারা খুত্ববাহ অনুবাদ করতেন। কারণ তখন আধিপত্য ছিল ইসলামের এবং নেতৃত্ব ছিল আরবী ভাষার। পক্ষান্তরে অন্য ভাষায় খুত্ববাহ দেয়া জায়েয হওয়ার পক্ষে শরী‘আতে একটি দলীল রয়েছে। তা হল আল্লাহর বাণী, وَ مَاۤ  اَرۡسَلۡنَا مِنۡ رَّسُوۡلٍ  اِلَّا بِلِسَانِ قَوۡمِہٖ  لِیُبَیِّنَ لَہُمۡ ‘আর আমি প্রত্যেক রাসূলকে তাঁর স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি। তাদের কাছে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য। (সূরা ইবরাহীম : ৪)।

অনুরূপভাবে ছাহাবায়ে কিরাম যখন পারস্য, রোম ইত্যাদি অনারব দেশে অভিযান পরিচালনা করেছেন তখন তারা অনুবাদকদের মাধ্যমে তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দেয়ার পূর্বে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেননি’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১২/৩৭২ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : শাকিল আহমাদ, খিলগাঁও, ঢাকা।





প্রশ্ন (৬) : ওযূ করার সময় মুখে ও নাকে পানি দেয়ার সঠিক পদ্ধতি কোনটি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : সমাজে প্রচলিত আছে যে, হজ্জ পালন করে বাড়ীতে ফেরার পর তিনদিন কারো সাথে কথা বলা এবং বাড়ী থেকে বের হওয়া যায় না। গরু-খাসী যবেহ করে সবাইকে খাওয়াতে হয়। বাজারে কিছু কিনতে গেলে একদরে কিনতে হয়। এগুলো কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : নবী মুহাম্মদ (ﷺ)-এর উপর সর্বপ্রথম ঈমান আনয়নকারী ব্যক্তি কে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২): নিছাব পরিমাণ হওয়ার সময় আমার কাছে সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ লক্ষ টাকা। বছর ফুর্তির সময় সেটা বেড়ে ২ লক্ষ টাকা হয়। তাহলে কোন্ অংকটির উপর যাকাত হিসাব করতে হবে? নিছাব পরিমাণ হওয়া থেকে, না-কি বছর পুর্তি থেকে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : ফজরের সুন্নাত ছালাত বাড়িতে পড়ার পর মসজিদে গিয়ে সময় থাকলে কি তাহিইয়াতুল মসজিদ/দুখুলুল মসজিদের দু’রাক‘আত আদায় করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : বিদ‘আতী প্রতিষ্ঠানে দান করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : আমরা আলেমদের নিকট থেকে শুনেছি যে, আল্লাহর গুণবাচক নাম রাখলে নামের পূর্বে ‘আব্দ’ যোগ করতে। যেমন আব্দুর রহমান। কিন্তু ‘মালেক’-এর পূর্বে কি ‘আব্দ যোগ করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : ইসলামের দৃষ্টিতে বজ্রপাতের ব্যাখ্যা কী এবং এ সময় আমাদের করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : বাচ্চাদের জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য কোন ছহীহ দু‘আ আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : অফিসে কোন ব্যক্তির কাজ করার পর যদি খুশি হয়ে আমি টাকা না নেয়া সত্ত্বেও ঐ ব্যক্তি জোর করে আমাকে টাকা দেয় এবং বলে আমার মন থেকে হাদিয়া দিয়েছি। তাহলে এইটা জায়েয হবে কিনা? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : একদিন স্বামীর সাথে ঝগড়ার একপর্যায়ে প্রচণ্ড রাগের বশবর্তী হয়ে কুরআন হাতে নিয়ে যদি কেউ বলে যে, এই কুরআন ছুয়ে বলছি জীবনে কোনদিন তোমার টাকায় হাত দিব না, তোমার টাকা দিয়ে কিছু করব না, যত টাকা নিয়েছি সব ফেরত দিয়ে দিব। অতঃপর পরবর্তীতে ভুল বুঝতে পারে যে, তার এমন কাজ করা ঠিক হইনি। এমতাবস্থায় করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : জনৈক ব্যক্তি বাকী গোরস্থান থেকে পাথর এনে ছওয়াবের আশায় মসজিদে স্থাপন করেছেন। উক্ত মসজিদে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ