আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর গুরুত্ব ও তাৎপর্য
- খত্বীব : শায়খ ড. হুসাইন বিন আব্দুল আজীজ আলে শায়খ
- অনুবাদ : হারুনুর রশীদ ত্রিশালী আল-মাদানী
[গত ৮ যুল ক্বা‘দ ১৪৪৫ হি. মোতাবেক ১৭ মে, ২০২৪ তারিখের ‘মসজিদে নববী, মদীনাতুল মুনাওয়ারা’-এর জুমু‘আর খুত্ববার বঙ্গানুবাদ]
আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উপর ছালাত ও সালামের পরে সম্মানিত খত্বীব বলেছেন, আপনারা আল্লাহর তাক্বওয়া অবলম্বন করুন এবং তাঁর আনুগত্য করুন। মহান আল্লাহ বলেন, وَ اتَّقُوا اللّٰہَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ شَدِیۡدُ الۡعِقَابِ ‘আর তোমরা আল্লাহর তাক্বওয়া অবলম্বন কর; নিশ্চয় আল্লাহ আযাব প্রদানে কঠোর’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ২)। তিনি বলেন, وَاتَّقُوا اللّٰہَ ؕاِنَّ اللّٰہَ سَرِیۡعُ الۡحِسَابِ ‘এবং আল্লাহর তাক্বওয়া অবলম্বন কর; নিশ্চয়ই আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ৪)। তিনি আরো বলেন, وَ اتَّقُوا اللّٰہَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ عَلِیۡمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوۡرِ ‘আর তোমরা আল্লাহর তাক্বওয়া অবলম্বন কর; নিশ্চয় আল্লাহ অন্তরে যা আছে সে সম্পর্কে সবিশেষ অবগত’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ৭)। তিনি অন্যত্র বলেন, وَ اتَّقُوا اللّٰہَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ خَبِیۡرٌۢ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ ‘আর তোমরা আল্লাহর তাক্বওয়া অবলম্বন কর। নিশ্চয় তোমরা যা কর, আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ৮)।
সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে চলে তার জন্য রয়েছে পরিপূর্ণ প্রতিদান এবং অগণিত সওয়াব। মহান আল্লাহ বলেন, وَعَدَ اللّٰہُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ ۙ لَہُمۡ مَّغۡفِرَۃٌ وَّ اَجۡرٌ عَظِیۡمٌ ‘যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ৯)।
গুরুত্বপূর্ণ মহৎ লক্ষ্য এবং সবচেয়ে দরকারী, সম্মানজনক ও শ্রেষ্ঠ ইলম হল আল্লাহর সুন্দর নামগুলো সম্পর্কে জ্ঞানার্জন, যা অধিকতর সুন্দর অর্থ বহন করে এবং সবচেয়ে নিখুঁত, মহান ও উন্নত মর্যাদাসম্পন্ন গুণের নির্দেশ করে।
সবচেয়ে মহৎ বিষয় যা দ্বারা হৃদয় আলোকিত হয় এবং অন্তর প্রফুল্ল হয় তাহল: অহীর আলোকে আল্লাহর সুন্দর নাম ও মহান গুণাবলীকে জানা। সুতরাং আল্লাহর ইবাদতকল্পে যে কেউ এগুলোকে সন্তুষ্টি ও বশ্যতা সহকারে গ্রহণ করবে, আনুগত্যের সাথে এর নিকট আত্মসমর্পণ করবে এবং এতে তার আত্মা স্বাচ্ছন্দ্য লাভ করবে, হৃদয় প্রশান্ত হবে ও জ্ঞান শক্তিশালী হবে, তাহলে এর মাধ্যমে সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি তার বিশ্বাস, প্রভুর প্রতি সম্মান বৃদ্ধি পাবে এবং স্রষ্টার প্রতি তার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা তীব্র হয়ে উঠবে।
তাই বান্দার সাফল্য ও সুখ আল্লাহর সবচেয়ে সুন্দর নাম ও মহান গুণাবলীর স্বীকৃতিতে বিদ্যমান। সুতরাং সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে জানা, তাঁকে ভালোবাসা, তাঁর যিকির করা, তাঁর প্রতি খুশি থাকা, তাঁর নিকট অসীলা সন্ধান করা এবং তাঁর নিকটবর্তী হওয়ার চেয়ে অন্তরের জন্য এর চেয়ে বড় কিছুর প্রয়োজন নেই। এক্ষেত্রে পবিত্র কুরআন ও বিশুদ্ধ সুন্নাতে বর্ণিত তাঁর নাম ও গুণাবলী জানা ছাড়া বিকল্প আর কোন উপায় নেই। তাই বান্দা যখন এ বিষয়ে অধিক জ্ঞানী হবে, সে আল্লাহ সম্পর্কে অধিক ভালো জানবে, তাঁরই নিকটে বেশি নিবেদন করবে এবং তাঁরই অধিক নিকটবর্তী হবে।
আল্লাহর অন্যতম নাম হল: আল-আজীম (মহান), আল-মাজীদ (মহিমান্বিত) আল-মুতাকাব্বির (অহংকারী), আল-মুতায়ালি (পরম উচ্চ), আল-হাইয়ুল ক্বাইয়্যুম (চিরঞ্জীব, সর্বসত্ত্বার ধারক), যুল জালালে ওয়াল ইকরাম (মহিমা ও মর্যাদার অধিকারী), আল-ইলাহ (উপাস্য), আল-ক্বাহির (বিজয়ী), আল-ক্বাদীর (সর্বশক্তিমান), আল-আলিইউল আ‘লা (মহত্তম সত্ত্বা), তাঁর সিংহাসনে তিনি প্রতিষ্ঠিত, তিনি এক ও অমুখাপেক্ষী। এই সকল গুণাবলী হৃদয়কে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা, মহিমা ও ভয় দ্বারা পূর্ণ করে এবং তিনি মহিমান্বিত। তিনি ছাড়া কোন আশ্রয় নেই। অতএব, বান্দা তার প্রয়োজন ও দু‘আয় শুধুমাত্র তাঁরই নিকট মুখাপেক্ষী হবে।
আল্লাহর অন্যতম নাম হল: আল-খাবীর (সর্বজ্ঞ), আল-লাতীফ (সুক্ষ্মদর্শী), আশ-শহীদ (মহাসাক্ষী), আর-রাক্বীব (মহাপর্যবেক্ষক), আস-সামী‘ (শ্রবণকারী), আল-বাছীর (সর্বদ্রষ্টা); এগুলো যমীনে বিচরণ বা অবস্থানকালে তাঁর পূর্ণাঙ্গ নজরদারি দিয়ে হৃদয়কে পরিপূর্ণ করে এবং ইবাদতে দ্রুত অগ্রসর হওয়া ও পাপাচার থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য অর্জনের দিকে বান্দাকে পরিচালিত করে।
আর আল্লাহর নাম: আর-রহমান (পরম করুণাময়), আর-রহীম (পরম দয়ালু), আল-বাররু (ন্যায়পরায়ণ), আল-কারীম (পরম দাতা) আল-জাওয়াদ (মহাদানশীল), আর-রাজ্জাক (রিযিকদাতা); এগুলো তাঁর প্রতি ভালোবাসা, তাঁর জন্য আকাঙ্ক্ষা, তাঁর রিযিক ও করুণা প্রত্যাশা এবং তাঁর প্রশংসা ও শুকরিয়ায় হৃদয়কে পূর্ণ করে।
আর এভাবে যত বেশি আল্লাহর নাম ও গুণাবলী সম্পর্কে একজন ব্যক্তির জ্ঞান বৃদ্ধি পাবে, তত বেশি তার ঈমান, দাসত্ব, ভীতি, শ্রদ্ধা, বশ্যতা, অবনত হওয়া, আগ্রহ ও চাওয়া বৃদ্ধি পেতে থাকবে। মহান আল্লাহ বলেন, وَ لِلّٰہِ الۡاَسۡمَآءُ الۡحُسۡنٰی فَادۡعُوۡہُ بِہَا ‘আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দর সুন্দর নাম। অতএব তোমরা তাকে সেসব নামেই ডাক’ (সূরা আ'‘রাফ : ১৮০)। তিনি আরো বলেন, اَللّٰہُ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ؕ لَہُ الۡاَسۡمَآءُ الۡحُسۡنٰی ‘আল্লাহ, তিনি ছাড়া অন্য কোন সত্য ইলাহ নেই, সুন্দর নামসমূহ তাঁরই’ (সূরা ত্ব-হা : ০৮)। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে; যে তা সংরক্ষণ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে’।[১]
‘যে তা সংরক্ষণ করবে’-এর মানে হল, নামগুলো মুখস্থ করা, সেগুলোর অর্থ ও তাৎপর্য অনুধাবন করা এবং তার দাবি ও আহকাম অনুযায়ী আমল করা।
উক্ত হাদীছটির মর্ম হল, কুরআন ও সুন্নাহতে সাব্যস্ত হওয়া আল্লাহর নাম ও গুণাবলীকে বান্দা তার বাহ্যিক অর্থে আল্লাহর সাথে উপযুক্তভাবে সাব্যস্ত করবে; কোন ধরণের পরিবর্তন না করে, অর্থ অস্বীকার না করে, উপমা পেশ বা সাদৃশ্য না দিয়ে এবং মানুষের বিবেক অনুপাতে কোন আকৃতি প্রদান করা ছাড়াই। কেননা তাঁর সত্ত্বা ও গুণাবলীর ধরণ সম্পর্কে তিনি ব্যতীত অন্য কেউ অবগত নয়। এটি এমন বিষয়ের অন্তর্গত যা আল্লাহ তা‘আলা স্বীয় জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রেখেছেন। সুতরাং তা অবগত হওয়ার কোন উপায় নেই। মহান আল্লাহ বলেন, لَیۡسَ کَمِثۡلِہٖ شَیۡءٌ ۚ وَ ہُوَ السَّمِیۡعُ الۡبَصِیۡرُ ‘কোন কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা’ (সূরা আশ-শূরা : ১১)। তিনি বলেন, ہَلۡ تَعۡلَمُ لَہٗ سَمِیًّا ‘আপনি কি তাঁর সমনামগুণসম্পন্ন কাউকেও জানেন? (সূরা মারইয়াম : ৬৫)। তিনি আরো বলেন, وَ لَمۡ یَکُنۡ لَّہٗ کُفُوًا اَحَدٌ ‘এবং তাঁর সমতুল্য কেউই নেই’ (সূরা আল-ইখলাছ : ০৪)। বস্তুত তিনিই উত্তম নাম, পূর্ণাঙ্গ ও সুন্দর গুণাবলী এবং শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত্বের বৈশিষ্ট্যাবলীর ধারক।
অনুরুপভাবে কুরআন ও সুন্নাহতে যে সকল বিষয় আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, বান্দা সেগুলো প্রত্যাখ্যান করবে এবং তার বিপরীত বিষয়টি সাব্যস্ত করবে। যেমন: আল্লাহর সাথে ‘যুলুম’ সম্পৃক্ত করাকে প্রত্যাখ্যান করার সাথে সাথে তাঁর জন্য ‘পূর্ণ ন্যায়পরায়ণতা’র গুণটি সাব্যস্ত করা এবং তাঁর থেকে ‘অক্ষমতা’ অপনোদন করার সাথে সাথে তাঁর জন্য পূর্ণ জ্ঞান ও ক্ষমতার গুণ সাব্যস্ত করা।
কাজেই আল্লাহর নামসমূহ শব্দ, অর্থ ও মর্মগতভাবে জানা আবশ্যক এবং সেগুলোর দাবি অনুযায়ী আল্লাহর ইবাদত করা ও সেগুলোর মাধ্যমে তাঁর নিকট প্রশংসা, ইবাদত ও প্রার্থনামূলক দু‘আ করা আবশ্যক।
ইবাদতমূলক দু‘আতে যখন সে জানবে আল্লাহ আল-ক্বাবি (সর্বশক্তিমান), আল-মাতিন (মহাশক্তিধর), আল-আযিয (মহাপরাক্রমশালী) ও আল-হাকিম (প্রজ্ঞাবান), তখন সে তার রবের উপর তাওয়াক্কুল করবে, তার সৃষ্টিকর্তার নিকট আশ্রয় নিবে এবং সকল মাখলুকের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে; যাদের কোন কামালিয়্যাত নেই। সুতরাং আল্লাহ ছাড়া কোন শক্তি ও সামর্থ নেই।
অনুরূপভাবে যখন সে জানবে যে তার রব আত-তাওয়াব (তাওবা কবুলকারী), আর-রাহীম (অতিশয় দয়ালু), আল-গাফুর (ক্ষমাকারী) এবং আল- হালিম (পরম সহনশীল)- তখন সে তার রবের নিকট তাওবা করতে এবং তার সৃষ্টিকর্তার দিকে প্রত্যাবর্তন করতে দ্রুত অগ্রসর হবে।
আর যে ব্যক্তি জানবে যে তিনি আর-রাক্বিব (মহাপর্যবেক্ষক), আশ-শাহীদ (মহাসাক্ষী), আস-সামী‘ (সর্বশ্রোতা), আল-বাছির (সর্বদ্রষ্টা), আল-লাতিফ (সুক্ষ্মদর্শী) ও আল-খাবির (মহাবিজ্ঞ), তখন এটি তার জন্য তার রবের অবাধ্য হওয়া থেকে ভয় এবং তার মা‘বূদের ব্যাপারে ডর করাকে আবশ্যক করবে।
আর প্রার্থনামূলক দু‘আ হল প্রয়োজনের ধরণের সাথে মিল রেখে তার রবের নাম ধরে দু‘আ করা; যেমন এভাবে বলা, হে দয়াময়! আমার প্রতি দয়া করুন, হে ক্ষমাশীল! আমাকে ক্ষমা করুন, হে তাওবা কবুলকারী! আমার তাওবা কবুল করুন এবং হে রিযিকদাতা! আমাকে রিযিক দান করুন। আর নবীগণের অধিকাংশ দু‘আ ছিল, হে আমাদের রব!
কেননা দু‘আকারীদের দু‘আ কবুল করা, যাচনাকারীদের প্রদান করা, আশ্রয় প্রার্থনাকারীদের আশ্রয় দেয়া; এ সবগুলোই রুবুবিয়্যাতের অর্থ। তিনি আল-মুতাছররিফ (মহাপরিচালনাকারী), আল-ক্বাদির (মহাশক্তিমান), আল-মুদাববিরু (মহাপরিকল্পনাকারী), আর-রাযযাক্ব (রিযিকদাতা) এবং আল-মু‘তি (মহাদাতা); তিনি এমন ইলাহ একমাত্র যার নিকটই চাওয়া ও আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়।
হে আল্লাহ! আমাদেরকে উপকারী জ্ঞান ও সৎআমলের তাওফীক্ব দান করুন এবং আমাদেরকে সুপথপ্রাপ্ত ও সুপথ প্রদর্শনকারী করুন; পথভ্রষ্ট ও পথভ্রষ্টকারী নয়। আল্লাহ বলেন, ‘বলুন, তোমরা আল্লাহর নামে ডাক বা রহমান নামে ডাক, তোমরা যে নামেই ডাক সকল সুন্দর নামই তো তাঁর’ (সূরা বনী-ইসরাঈল : ১১০)।
দ্বিতীয় খুত্ববা
আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উপর ছালাত ও সালামের পরে সম্মানিত খত্বীব বলেছেন, আল্লাহর বান্দাগণ! সৎকাজ ও তাক্বওয়ার কাজে পরস্পর সহযোগিতা করা আবশ্যক। এর অন্তগর্ত হল, যে ব্যক্তি হজ্জ করতে চায় তাকে অবশ্যই মুসলিমরা যে বিষয়ে সম্মত হয়েছে তা মেনে চলতে হবে। আর তাহল নিবন্ধন করে হজ্জ পালন করা উচিত, যা হজ্জ পালনকারী ব্যক্তিকে তার হজ্জ সম্পাদন করতে সক্ষম করে। এটা শারঈ লক্ষ্য-উদ্দেশ্যগুলোর অন্যতম যা মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। তাই আপনারা যাবতীয় ভাল ও তাক্বওয়ার কাজে সহযোগিতা করুন।
পরিশেষে খত্বীব মহোদয় আল্লাহর প্রশংসা এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উপর দরূদ পাঠ করেন। মুসলিম উম্মাহ ও ইসলামের জন্য দু‘আ চাওয়ার মাধ্যমে খুত্ববা সমাপ্ত করেন।
[১]. ছহীহ বুখারী, হা/২৭৩৬,৭৩৯২; ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৭৭।
প্রসঙ্গসমূহ »:
খুত্ববাতুল হারামাইন