উত্তর : বর্তমান গণতান্ত্রিক নির্বাচনে অংশগ্রহণ শরী‘আতসম্মত নয়। এর অর্থ এই নয় যে, ইসলাম প্রতিষ্ঠার সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে। বরং ইসলাম প্রতিষ্ঠার মূল পদ্ধতি কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহ দ্বারা নির্ধারিত এবং সেটিই সকল নবী-রাসূলের অনুসৃত পদ্ধতি। ইসলাম কখনো কেবল রাষ্ট্রক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় না; বরং মানুষের অন্তরে ঈমান, সমাজে ইসলামী মূল্যবোধ এবং নেতৃত্বে দ্বীনি যোগ্যতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি হয়। রাষ্ট্রক্ষমতা সেই প্রচেষ্টার একটি ফল হতে পারে, কিন্তু সেটিই শুরু নয়। নবী (ﷺ)-এর জীবনের দিকে তাকালে দেখা যায়, তিনি মক্কায় প্রায় ১৩ বছর কোন নির্বাচন, রাজনৈতিক দল বা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার চেষ্টা করেননি। বরং তিনি প্রথমে মানুষের আক্বীদা সংশোধন করেছেন, তাওহীদের দাওয়াত দিয়েছেন, কুরআনের শিক্ষা দিয়েছেন, ছাহাবীদের চরিত্র গঠন করেছেন এবং একটি ঈমানদার জামা‘আত তৈরি করেছেন। এরপর যখন আল্লাহ তা‘আলা উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করলেন, তখন মদীনায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এটাই নববী মানহাজ। তাই ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য করণীয় হল-
১. তাওহীদ ও বিশুদ্ধ আক্বীদার দাওয়াত- শিরক, বিদ‘আত ও কুসংস্কার থেকে মানুষকে ফিরিয়ে আনা। ২. কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহর শিক্ষা প্রসারÑ সঠিক দ্বীনি জ্ঞান ছাড়া ইসলামী সমাজ গঠন সম্ভব নয়। ৩. ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের ইসলামী সংস্কার- সৎ চরিত্র, আমানতদারিতা, ন্যায়বিচার ও তাক্বওয়া প্রতিষ্ঠা করা। ৪. সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ থেকে নিষেধÑ হিকমত, ধৈর্য ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে। ৫. যোগ্য আলেম, দাঈ ও নেতৃত্ব গড়ে তোলা- যারা কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহর আলোকে সমাজকে পরিচালিত করতে পারবেন। ৬. মুসলিমদের ঐক্য, ধৈর্য ও আল্লাহর সাহায্যের ওপর নির্ভর করা- কারণ প্রকৃত বিজয় আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
قُلۡ ہٰذِہٖ سَبِیۡلِیۡۤ اَدۡعُوۡۤا اِلَی اللّٰہِ ۟ؔ عَلٰی بَصِیۡرَۃٍ اَنَا وَ مَنِ اتَّبَعَنِیۡ
‘(হে নবী!) আপনি বলুন, এটাই আমার পথ। আমি এবং আমার অনুসারীরা জেনে-বুঝে আল্লাহর দিকে আহ্বান করি’ (সূরা ইউসুফ : ১০৮)। অন্যত্র তিনি বলেন,
وَلۡتَکُنۡ مِّنۡکُمۡ اُمَّۃٌ یَّدۡعُوۡنَ اِلَی الۡخَیۡرِ وَ یَاۡمُرُوۡنَ بِالۡمَعۡرُوۡفِ وَ یَنۡہَوۡنَ عَنِ الۡمُنۡکَرِ
‘তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত, যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সৎকাজের নির্দেশ দেবে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে’ (সূরা আলে ইমরান: ১০৪)। তিনি আরও বলেন,
وَعَدَ اللّٰہُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مِنۡکُمۡ وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَیَسۡتَخۡلِفَنَّہُمۡ فِی الۡاَرۡضِ کَمَا اسۡتَخۡلَفَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ
‘তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে যমীনে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন, যেমন তিনি প্রতিনিধিত্ব দান করেছেন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে’ (সূরা আন-নূর: ৫৫)।
উক্ত আয়াত থেকে বোঝা যায়, ক্ষমতা (তামকীন) হলো ঈমান ও সৎকর্মের ফল, এর বিকল্প নয়। একজন খাঁটি-নিষ্ঠাবান মুমিনের জন্য বিকল্প পথ হলো নবী (ﷺ)-এর দাওয়াতি ও সংস্কারমূলক পদ্ধতি- তাওহীদের দাওয়াত, ইলম শিক্ষা, তাযকিয়া, সমাজ সংস্কার, সৎ নেতৃত্ব গঠন এবং আল্লাহর সাহায্যের অপেক্ষা করা। কারণ ইসলাম প্রতিষ্ঠা শুরু হয় মানুষের অন্তর থেকে; রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা তার পরবর্তী ধাপ। সুতরাং ইসলাম প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি হল বিশুদ্ধ আক্বীদা, ছহীহ ইলম, দাওয়াত, সমাজ সংস্কার এবং আল্লাহর সাহায্যের উপর ভরসা। ক্ষমতা ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠান এগুলোরই ফল, এগুলোকে অতিক্রম করে শর্টকাট কোন পদ্ধতি কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহ নির্দেশ করে না।
প্রশ্নকারী : মুহাম্মাদ মুতালিব, কুমিল্লা।