বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন
উত্তর : যারা বাহ্যিকভাবে ইসলামের দাবীদার, আসলে তারা ইসলাম বিরোধী। জনসম্মুখে তারা নিজেদের মুসলিম বলে দাবী করে, আর গোপনে আল্লাহ তা‘আলার সঙ্গে ফুফরী করে এবং রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অস্বীকার করে, এরাই প্রকৃত মুনাফিক্ব। তাদের এ জন্যই মুনাফিক্ব বলা হয় যে, তারা মুখে ইসলামকে প্রকাশ করে আর অন্তরে কুফরীকে গোপনে লালন-পালন করে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘আর মানুষের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে যারা মুখে বলে, ‘আমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী’, কিন্তু তারা বিশ্বাসী নয়। আল্লাহ এবং মুমিনদেরকে তারা প্রতারিত করে। বস্তুত তারা নিজেরাই নিজেদেরকে প্রতারিত করছে, অথচ তারা তা বুঝে না। তাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে। অতঃপর আল্লাহ তাদের ব্যাধি আরো বৃদ্ধি করেছেন ও তাদের জন্য রয়েছে কষ্টদায়ক শাস্তি, কারণ তারা মিথ্যাচারী’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ৮-১০)।

আলিমগণের পরিভাষায় এই প্রকারের নিফাক্বকে ‘নিফাকুল ই‘তিক্বাদী’ বা আক্বীদাগত মুনাফিক্ব বলা হয়। অর্থাৎ তারা মুখে ইসলামকে প্রকাশ করলেও বিশ্বাসে ও চিন্তা-চেতনায় কুফরী বিদ্যমান। অন্য পরিভাষায় এদের ‘নিফাকুল আকবার’ বা বড় মুনাফিক্ব বলা হয়। এরাই প্রকৃত মুনাফিক্ব এবং এরা দ্বীন থেকে বহিষ্কৃত’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনু বায, ২৪/২৩০ পৃ.; ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-১০৪৪৪০)।

দ্বিতীয়তঃ ছহীহ বুখারীর ৩৩ ও ৩৪ নং হাদীছের ব্যাখ্যায় মুহাদ্দিছগণ বলেন, এগুলো মূলত ‘নিফাকুল আমলী বা কার্যকলাপে মুনাফিক’-এর বৈশিষ্ট্য। এই প্রকারের বৈশিষ্ট্যগত বা কার্যকলাপে মুনাফিক্ব বর্তমান যুগেও বিদ্যমান আছে। আর রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে ছিল ইসলামকে অস্বীকার করার মুনাফিক্বী (অর্থাৎ ‘নিফাকুল ই‘তিক্বাদী বা আক্বীদাগত মুনাফিক্বী’ যারা মনেপ্রাণে ইসলাম বিদ্ধেষী ছিল, কিন্তু মুখে নিজেকে মুসলিম হিসাবে প্রচার করত) (তিরমিযী, হা/২৬৩২, সনদ ছহীহ)।

শায়খ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, কালিমায়ে তাওহীদের উপর সাক্ষ্য প্রদানকারী কোন মুসলিম যদি মুনাফিক্বের স্বভাবসমূহের মধ্যে কোন একটির সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে যায়, তবে সে এমন একটি দোষের সঙ্গে সম্পৃক্ত হল যাকে আল্লাহ তা‘আলা তিরস্কার করেছেন। সে যে পরিমাণ মুনাফিক্বী কার্যকলাপের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে সেই অনুপাতে তার উপর মুনাফিক্বের বিধান প্রতিষ্ঠিত হবে। পক্ষান্তরে মিথ্যা অথবা খিয়ানতের মত দোষের সঙ্গে সম্পৃক্ত মুসলিম সম্পূর্ণরূপে ঈমানহারা হয়ে যায় না। কেননা ঈমানের মর্যাদা নিফাক্বের তুলনায় অনেক বেশি। তবে তাকে এমন নিকৃষ্ট আচরণের জন্য অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। এজন্যই আলেমগণ এই ধ্বংসাত্মক ক্ষতির নামকরণ করেছেন ‘নিফাকুল আমলী বা কার্যকলাপে মুনাফিক্ব’ নামে। অন্য পরিভাষায় এটিকে নিফাকুল আছগার বা ছোট নিফাক্ব বলা হয়। তাঁদের উদ্দেশ্য, উক্ত স্বভাবের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি অবশ্যই গুনাহগার ও শাস্তিযোগ্য অপরাধী। তবুও কিন্তু সে ঐ মুনাফিক্বের মত নয়, যে মুখে ইসলামকে প্রকাশ করে, আর অন্তরে কুফরীকে গোপনে লালন-পালন করে। যে মনেপ্রাণে ইসলাম বিদ্ধেষী, কিন্তু বাহ্যিকভাবে নিজেকে মুসলিম হিসাবে প্রচার করে (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১৪৫৭০০; জামিঊল ঊলূম ওয়াল হিকাম, ১/৪২৯-৪৩২ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : নূর আলম, ফরিদপুর।





প্রশ্ন (৯) : পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়ার উদ্দেশ্যে মুহরিম ব্যক্তির জন্য গোসল করা কি জায়েয? মুহরিমের জন্য ইহরামের কাপড় পরিবর্তন করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : পাপ কাজের জন্য কি মানুষ রিযিক থেকে বঞ্চিত হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : আমার তৃতীয় স্ত্রীর আগের স্বামীর একটি সন্তান ছিল, সেই সন্তান এখন আমার সংসারে থাকে। তার ভরণ-পোষণ, যাবতীয় সকল খরচ আমাকে বহন করতে হচ্ছে। আমাকে প্রতি বছর যাকাত দিতে হয়। আমার স্ত্রীর আগের সন্তানের যে খরচ আমাকে বহন করতে হচ্ছে, সেই খরচ কি আমি যাকাত হিসাবে গণ্য করতে পারবো? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪১) : আহলে কিতাবদের সবাই কাফির হওয়া সত্ত্বেও কেন তাদের কন্যাদের সাথে মুসলিম পুরুষদের বিবাহ জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : মানুষের কাছ থেকে সম্মান অর্জনের ক্ষেত্রে কি কেবল দু‘আতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে, না-কি ইসলামিক শিষ্টাচার, আচার-আচরণ, উত্তম চরিত্র, বক্তব্য ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজসহ অন্যান্য বৈধ উপায় বা কৌশল অনুসরণ করা শরী‘আতসম্মত? আমার ধারণা হলো- সম্মান পাওয়ার উদ্দেশ্যে এসব করা হারাম এবং শিরকের অন্তর্ভুক্ত। আমার এই ধারণা কি সঠিক? ইসলামের দৃষ্টিতে কী করলে সম্মান অর্জন করা বৈধ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : ইমাম আবূ হানিফা (রাহিমাহুল্লাহ) সম্পর্কে কেমন আক্বীদা পোষণ করা উচিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : চুল কাটানোর পর গোসল না করে শুধু পানি দিয়ে মাথা ভালো করে ধুয়ে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : এক ব্যক্তি বিবাহ করার পর তাদের একটি কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে। কিন্তু পরবর্তীতে জানা গেল যে, ঐ ব্যক্তির স্ত্রী তার দুধ বোন। এখন তাদের দু’জনের ব্যাপারে ইসলামের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : দেশে নিষিদ্ধ চায়না জালের ব্যবসা করে আয় করলে তা হালাল হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : মৃত্যু যন্ত্রণা কি গুনাহগুলোকে হালকা করবে? অনুরূপভাবে রোগ-বিমার কি গুনাহকে কিছুটা লাঘব করে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : হিন্দুরা যেখানে হাঁটাচলা করে সেখানে কি ছালাত হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : ছালাতে সিজদা থেকে দাঁড়িয়ে একটি সিজদা হয়েছে, না-কি দুটি সিজদা হয়েছে- এরূপ সন্দেহ হলে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ