শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:৪৯ অপরাহ্ন
উত্তর : ইসলামের দৃষ্টিতে যে কোন ভালো কাজের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা এবং তাতে অংশগ্রহণ করা জায়েয। উক্ত কর্মসূচীগুলো সৎকর্মে উৎসাহ সৃষ্টি করে এবং মানুষের মাঝে কুরআন, হাদীছ ও দ্বীন চর্চা বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ তা‘আলা কুরআনের বিভিন্ন স্থানে সৎকর্মে প্রতিযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, فَاسۡتَبِقُوا الۡخَیۡرٰتِ ‘অতএব তোমরা সৎকাজে প্রতিযোগিতামূলকভাবে এগিয়ে যাও’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৪৮)। আল্লাহ তা‘আলা সৎকর্মে প্রতিযোগিতাকারীদের প্রশংসা করে বলেন, وَ یُسَارِعُوۡنَ فِی الۡخَیۡرٰتِ ؕ وَ اُولٰٓئِکَ مِنَ  الصّٰلِحِیۡنَ ‘আর তারা সৎকর্মে পরস্পরের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে আর এরাই হল, সৎকর্মশীল’ (সূরা আলে ইমরান : ১১৪)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘তারা তো সৎকাজে প্রতিযোগিতা করত’ (সূরা আল-আন্বিয়া : ৯০)।

প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন পুরস্কারের প্রদানের মাধ্যমে বিজয়ীকে সম্মানী দেয়াও জায়েয। কেননা এটা মূলত কুরআন তিলাওয়াত, মুখস্থকরণ, জ্ঞানর্চার বা দ্বীনি কাজের প্রতিদান নয়, বরং এটা প্রতিযোগীর সময় ও শ্রমের মূল্যায়ন এবং মেধার স্বীকৃতি। এর মূল পুরস্কার সে আখিরাতে অর্জন করবে। তবে শর্ত হল, যারা এসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে তাদের অন্তরে খুলূছিয়্যাত তথা এ নিয়ত থাকতে হবে যে, তাদের এ সকল কার্যক্রমের আসল পুরস্কার মহান আল্লাহ তাদেরকে আখিরাতে দান করবেন। দুনিয়ার এই পুরস্কার তাদের তার মূল টার্গেট নয়। যেমন মসজিদের ইমাম, ধর্মীয় শিক্ষক, দাঈ, ওয়ায়েয প্রমুখ ব্যক্তিগণ তাদের দ্বীনি কার্যক্রমের বিনিময়ে বেতন/পারিশ্রমিক গ্রহণ করে এবং বিভিন্ন অবদানের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পুরস্কার, অর্থকড়ি, সার্টিফিকেট ও সম্মাননা গ্রহণ করে। কিন্তু এগুলো তাদের সৎকর্মের বিনিময় নয়, বরং তাদের কষ্ট, পরিশ্রম ও মেধার সামান্য মূল্যায়ন এবং পারিশ্রমিক মাত্র।

শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ)-কে প্রশ্ন করা হয়, কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করায় কোনও সমস্যা আছে কি? তিনি বলেন,

مسابقات القرآن فيها خير عظيم، فإذا أعطوا مساعدة في حفظ ما تيسر من القرآن أو في استنباط الأحكام وأخذ الفوائد فهذا من باب الأجرة، ومن باب التشجيع، فهذا لا بأس به بل هو من باب الجعالة لا حرج في ذلك

‘কুরআন প্রতিযোগিতায় বিশাল কল্যাণ রয়েছে। সুতরাং যদি কুরআনের সহজ কিছু অংশ মুখস্থ করা বা কুরআন গবেষণা করে সেখান থেকে হুকুম-আহকাম ও উপকারী বিষয়াদি উদ্ভাবন করার বিনিময়ে যদি প্রতিযোগীদেরকে সহায়তা করা হয়, তাহলে এটা ‘পারিশ্রমিক’ ও ‘উৎসাহ প্রদান’-এর অন্তর্ভুক্ত। এতে কোনও সমস্যা নেই। বরং এটা জু‘আলা বা বিশেষ কোনও কাজের জন্য অগ্রিম পুরস্কার বা পারিশ্রমিক ঘোষণা করার অন্তর্ভুক্ত। এতে কোনও অসুবিধা নেই’ (যঃঃঢ়ং://নরহনধু.ড়ৎম.ংধ/ভধঃধিং/৯৩৮৮/ حكم-الجواىز-لحفاظ-القران-الكريم)।


প্রশ্নকারী : মেসবাহুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ।





প্রশ্ন (৩৭) : প্রসিদ্ধ চার ইমামের জন্ম ও মৃত্যু তারিখ জানিয়ে বাধিত করবেন। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : সূর্য গ্রহণের ছালাতে প্রত্যেক রাক‘আতে কতবার সূরা ফাতিহা পাঠ করতে হবে? প্রথম রুকূ‘র পর উঠে আবার সূরা ফাতিহাসহ পাঠ করতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : কুরবানীর দিন কুরবানীর পশু যব্হ করার আগ পর্যন্ত না খেয়ে থাকার কোন বিধান আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : আমি যদি আওয়াল ওয়াক্তে একাকী ছালাত আদায় করি, তাহলে কি জামা‘আতের নেকী থেকে বঞ্চিত হব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (০৬) : ঈদগাহে ব্যবস্থা না থাকার কারণে মহিলারা কি মসজিদে অথবা বাড়িতে মহিলার ইমামতিতে জামা‘আতবদ্ধভাবে ঈদের ছালাত আদায় করতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : কোন্ কোন্ শর্ত পূরণ করলে তওবাহ বিশুদ্ধ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : জনৈক ছাহাবী রাসূল (ﷺ)-এর নিকট এসে বিনীতভাবে বললেন, দুনিয়া আমার দিকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে অর্থাৎ তিনি দারিদ্র্যের কথা বলেন। তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, ‘তুমি কি সেই তাসবীহ মুখস্থ করনি, যা ফেরেশতাদের তাসবীহ এবং এর বরকতে রিযিক প্রদান করা হয়? এই দুনিয়ার চাহিদা তোমার কাছে প্রচুর পরিমাণে আসবে। প্রতিদিন ভোরবেলা তথা সুবহে ছাদিকের পর এই তাসবীহটি প্রতিদিন ১০০ বার পড়ুন। তাসবীহটি হল- ‘সুবহা-নাল্ল-হি ওয়া বিহামদিহি, সুবহা-নালল্ল-হিল আযীম ওয়াবিহামদিহি এবং আস্তাগফিরুল্লাহ’। অতঃপর সাতদিন পর, সেই একই ছাহাবী আবার এলেন এবং বিনীতভাবে বললেন, হে আল্লাহ রাসূল (ﷺ)! দুনিয়া (সম্পদ) আমার কাছে এত বেশি পরিমাণে আসছে যে আমি জানি না কিভাবে বহন করতে হবে বা কোথায় রাখব। আমি একেবারে বিস্মিত যে, এটা দিয়ে কী করা যায়’ (লিসানুল মীযান, ৪/৩০৪ পৃ., হা/৫১০০)। উক্ত বর্ণনা কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : আযান চলাকালীন ভুলবশত হারাম কাজে লিপ্ত থাকলে কি ঈমান নষ্ট হয়ে যায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : কুরবানী করার সময় কি যিনি কুরবানী দিচ্ছেন তার নাম উল্লেখ করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : লোকসানের অংশীদার হবে এমন শর্তে কোন ইসলামী ব্যাংকে টাকা রেখে তার লভ্যাংশ খাওয়া যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : অনেককে দেখা যায় বিশেষ করে কসাইয়ের দোকানে নিজেকে মুসলিম বলে দাবী করলেও ছালাত আদায় করেন না। এদের দ্বারা যব্হকৃত পশুর গোশত খাওয়া যাবে কি? যদিও বিসমিল্লাহ বলে যব্হ করে। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : প্রতি বছর ‘আরাফার দিন (৯ যিলহজ্জ) ছিয়াম রাখা সুন্নাত। কিন্তু বাংলাদেশের হিসাব অনুযায়ী সাধারণত ৮ কিংবা ৭ যিলহজ্জ তারিখে ‘আরাফা হয়। এক্ষণে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ