শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৯ অপরাহ্ন
উত্তর : প্রথমতঃ নিঃসন্দেহে কুরআন অধ্যয়ন করা, তেলাওয়াত করা ও মুখস্থ করা উত্তম নেকীর কাজ। কুরআন ভুলে যাওয়ার আশংকা রোধ করার জন্য নবী (ﷺ) নিয়মিত কুরআন পড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন। অর্থাৎ মুখস্থকৃত অংশ নিয়মিত পুনঃপাঠ করা ও বারবার তেলাওয়াত করা। অন্যদিকে কুরআন ভুলে যাওয়া গর্হিত কাজ। কারণ এতে আল্লাহর কিতাব থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া ও এ কিতাবকে পরিহার করার আলামত পাওয়া যায়।

দ্বিতীয়তঃ কুরআন ভুলে যাওয়ার হুকুম কী এ ব্যাপারে আলেমগণ মতানৈক্য করেছেন। কেউ বলেন, ‘কুরআন ভুলে যাওয়া কাবীরা গুনাহ’। কোন কোন মতে, ‘গুনাহর কাজ’, তবে কাবীরা গুনাহর পর্যায়ে পৌঁছবে না’। কারো কারো মতে, ‘এটি এমন একটি মুসিবত, যা বান্দার অন্তর ও দ্বীনদারীকে আক্রান্ত করে। এর ফলে বান্দার কোন কোন আমলের উপর আল্লাহর শাস্তি নামতে পারে। যদিও এটি কবীরা গুনাহ নয় বা পাপ নয়’। এ মাসয়ালায় এটি সর্বাধিক অগ্রগণ্য অভিমত। কিন্তু কোন হাফেযে কুরআন এর জন্য কুরআন তেলাওয়াতে গাফলতি করা কিংবা নিয়মিত তেলাওয়াতে অবহেলা করা সমীচীন হয়। বরং হাফেযে কুরআনের উচিত ছওয়াবের আশা নিয়ে দৈনিক নির্দিষ্ট একটি পরিমাণ তেলাওয়াত করা; যাতে করে সে তার তেলাওয়াত ধরে রাখতে পারে, ভুলে না যায় এবং কুরআনের হুকুম-আহকাম থেকে উপকৃত হতে পারে।

তৃতীয়তঃ  কুরআনের কিছু অংশ ভুলে যাওয়া কুরআন পড়া ছেড়ে দেয়ার কারণে ঘটে থাকে। কুরআন পড়া ছেড়ে দেয়ার কিছু কিছু রূপ অন্য কিছু রূপের চেয়ে জঘন্য। ইবনুল ক্বাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘তবে কুরআন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া ও কুরআনকে বাদ দিয়ে অন্য কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে কুরআন ভুলে যাওয়া মুসিবত। ছওয়াব থেকে বঞ্চিত হওয়ার সাথে সাথে এ মুসিবতের কারণে আরও অনেক মুসিবত সৃষ্টি হয়’ (আল-ফাওয়ায়েদ, পৃ. ৮২)।

যে ব্যক্তি কুরআনের কিছু অংশ মুখস্থ করার পর ভুলে গেছে তার জন্য করণীয় হল: (ক) যে সূরাগুলো মুখস্থ ছিল সেগুলো পুনঃ পুনঃ পাঠ করা; যাতে দ্বিতীয়বার সেগুলোকে মজবুতভাবে মুখস্থ করে নিতে পারে। (খ) পুনঃপাঠ নিয়মিত অব্যাহত রাখা; যাতে পুনরায় ভুলে না যায়। (গ) একজন দক্ষ শাইখের কাছে মুখস্থ ও পুনঃপাঠ চালু রাখা। (ঘ) কুরআন মাজীদের বড় বড় যেসব অংশ মুখস্থ করেছে যেমন পারা ইত্যাদি; সেগুলো পুনঃপাঠ করা এবং সম্পূর্ণ সূরা মুখস্থ করার চেষ্টা করা। এভাবে পূর্বে মুখস্থকৃত অংশ পুনঃপাঠ করা ও মুখস্থকৃত অংশ পুনরুদ্ধার করার প্রক্রিয়া তাকে গোটা সূরাটি মুখস্থ করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করবে। (ঙ) পক্ষান্তরে কুরআনের ছোট ছোট যে অংশগুলো মুখস্থ করে ভুলে গেছে যেমন- দুই আয়াত বা তিন আয়াত ইত্যাদি সেগুলো নিয়ে ব্যস্ত হবে না এবং সেগুলো থেকে যা ভুলে গেছে সেসব অংশ স্মরণ করার কষ্ট করা দরকার নেই। ছোট ছোট যে অংশগুলো মুখস্থ করেছে এবং কিছু কিছু ভুলে গেছে সেগুলো স্মরণ করতে না পারার কারণে সে ব্যক্তি গুনাহগার হবে না। ইবনুল মুবারক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ইবনু মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, ‘এ অন্তরগুলোর স্পৃহা ও চঞ্চলতা আছে। আবার  জড়তা ও পিছুটান আছে। সুতরাং স্পৃহা ও চাঞ্চলতার সময় অন্তরগুলোকে কাজে লাগাও এবং জড়তা ও পিছুটানের সময় ছাড় দাও’ (আল-যুহ্দ, ১/৪৬৯ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : রুকনুযযামান, দামকুড়াহাট, রাজশাহী।





প্রশ্ন (৩) : ঘুম থেকে জাগতে না পারার কারণে সাহারী খাওয়া সম্ভব হয়নি। এমতাবস্থায় ছিয়াম রাখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : যিলহজ্জ মাসের প্রতিটি দিনের ছিয়াম এক বছরের ছিয়ামের সমতুল্য। এর প্রতিটি রাতের ইবাদত লায়লাতুল ক্বদরের ইবাদতের সমতুল্য। উক্ত মর্মে হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : ফুযাইল ইবনু ই‘যায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, لَوْ أَنَّ لُوْطِيًّا اغْتَسَلَ بِكُلِّ قَطْرَةٍ مِّنَ السَّمَاءِ لَقِيَ اللهَ غَيْرَ طَاهِرٍ ‘সমকামী ব্যক্তি যদি আকাশের সমস্ত পানি দিয়ে গোসল করে তারপরও সে অপবিত্র অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে’ (যাম্মুল লিওয়াত্ব, দুরী, পৃ. ১৪২; ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-২৪৩৬৭৩)। প্রশ্ন হল- কোন সমকামী ব্যক্তি ভুল বোঝার পরে অনুতপ্ত হয়ে যদি ইখলাছের সাথে তওবাহ করে, তাহলে কি তার সমকামের পাপ ক্ষমা হবে এবং সে কি অপবিত্র অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : যোহরের ছালাতে ইমাম ভুলবশত তাশাহহুদ এর বৈঠক না করে দাঁড়িয়ে যায় মুক্তাদিরা আল্লাহু আকবার বললেও তিনি তাশাহহুদ বৈঠক না করে চার রাক‘আত ছালাত শেষ করে এবং শেষে সাহু সিজদা দিয়ে ছালাত শেষ করে। এমতাবস্থায় ছালাত হবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : সমকামী অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চাইলে ক্ষমা পাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : বিকাশ-এর মত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : ইমাম সূরা ফাতিহার শেষের আয়াত তিলাওয়াত করছেন। এমতাবস্থায় কেউ জামা‘আতে অংশগ্রহণ করলে সে কি ইমামের সঙ্গে ‘আমীন’ বলার পরে সূরা ফাতিহা পড়বে, না-কি প্রথমেই সূরা ফাতিহা পড়া শুরু করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : জনৈক আলেম ফৎওয়া দিয়েছেন যে, হানাফী এলাকাতে আছরের ছালাত শেষ ওয়াক্তে হওয়ায় এবং সেই এলাকায় আহলেহাদীছ মসজিদ না থাকলে বাড়িতে ছালাত আদায় করা যাবে। প্রশ্ন হল, এটা কি শরী‘আতসম্মত? আওয়াল ওয়াক্তে একাকী ফরয ছালাত পড়া উত্তম হবে, না-কি শেষ ওয়াক্ত হলেও জামা‘আতে ছালাত আদায় করা উত্তম হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির টাকা ফেরত দেয়ার সক্ষমতা নেই। এক্ষেত্রে ঋণদাতা যদি তাকে পাফ করে দেয় তাহলে তার ফযীলত কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : হজ্জের সামর্থ্য না থাকলে ওমরাহ করা যাবে কি? জনৈক ব্যক্তি বলেন, কারও যদি হজ্জের সামর্থ্য না থাকে, তবে সে কখনও ওমরাহ করতে পারবে না। কথাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : জনৈক ব্যক্তি রাগের বশবর্তী হয়ে তার স্ত্রীকে বলে যে, আমার সাথে দেখা করলে কিংবা আমার সাথে কথা বললে ‘তুই আমার মা আর আমি তোর ছেলে’। তারা ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত। এক্ষণে তার করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : কবরস্থানের গাছের ফলমূল ও পাতা খাওয়া বা ব্যবহার করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ