শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৫১ অপরাহ্ন
উত্তর :‘ওয়াহ্হাবী’ কথাটি কুরআন-সুন্নাহর প্রকৃত অনুসারী আহলুল হাদীছ বা সালাফীদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত গালি হিসাবে সমাজে প্রচলিত। এটা মিথ্যাচার, তথ্য সন্ত্রাস এবং গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। অন্যান্য বিকৃত মাযহাবের মত এটা কোন মাযহাবও নয়। ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহ্হাব (রাহিমাহুল্লাহ) শিরক-বিদ‘আত ও জাহেলিয়াতের বিরুদ্ধে যে সংস্কার আন্দোলন করেছিলেন, সেটা ছিল রাসূল (ﷺ) ও ছাহাবায়ে কেরামের দাওয়াত ও তাবলীগের অনুকরণে একটি বিশেষ শুদ্ধি আন্দোলন। আর আহলেহাদীছগণও সারা বিশ্বে এই সংস্কারমূলক দাওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। তাই পথভ্রষ্ট বিদ‘আতী ও মাযারপূজারীরা এই সংস্কার আন্দোলনকে সহ্য করতে না পেরে আহলেহাদীছ বা সালাফীদেরকে ‘ওয়াহ্হাবী’ নামে চিত্রিত করে এবং অপপ্রচার চালায়।

১২০০ হিজরী শতক বা ১৭০০ খ্রিষ্টীয় শতকে যখন সঊদী আরবের মুসলিমরা জাহিলিয়্যাতের যুগের ন্যায় পুনরায় শিরকের গভীর গহিনে হাবুডুবু খাচ্ছিল। বিদ‘আত ও কুসংস্কারের কালো মেঘে ঢাকা পড়েছিল সুন্নাতের পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন আকাশ। ঠিক তখনই ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহ্হাব (রাহিমাহুল্লাহ) রাসূল (ﷺ)-এর দেখানো পদ্ধতিতে আরবের বুক থেকে শিরক ও বিদ‘আতকে উৎখাত করে কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহর বিধান প্রতিষ্ঠিত করার জন্য দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করেন। কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহর অনুসারীদের নিয়ে সফল আন্দোলন গড়ে তোলেন। এটাই ছিল তাঁর অপরাধ। তিনি তৎকালীন সঊদী আরবের শাসক মুহাম্মাদ ইবনু সাঊদের পৃষ্ঠপোষকতায় ভূপৃষ্ঠের উপর থেকে কুসংস্কার, জাহিলিয়্যাত ও শিরকের মূলোৎপাটন করে তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর মাধ্যমেই সঊদী আরবকে শিরকমুক্ত করেছিলেন। এরপর থেকেই মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহ্হাব নামটি মাযার পূজারী, ক্ববর পূজারী, বিদ‘আতীদের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠে। পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে, যখনই কেউ ক্ববর, মাযার বা বিদ‘আতের প্রতিবাদ করে, তখন তাঁকে ওয়াহ্হাবী, নবীর দুশমন ইত্যাদি অপবাদ দেয়া হয়।

‘ওয়াহ্হাবী’ নামটি এ আন্দোলনের কর্ণধার মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহ্হাব বা তাঁর অনুসারীদের দেয়া নয়। পরবর্তীতে বিদ্বেষবশতঃ এই নামে চিত্রিত করা হয়েছে। হাসান ইবনু আব্দুল্লাহ আলে শায়খ এ সম্পর্কে বলেন, ‘ওয়াহ্হাবিয়্যাহ বিশেষণটি এ আন্দোলনের অনুগামীরা সৃষ্টি করেনি। বরং তাদের বিরুদ্ধবাদীরা তাদেরকে পৃথক করার জন্য এটা ব্যবহার করে যেন মানুষ তাদের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকে এবং শ্রোতারা মনে করে যে, এ আন্দোলন প্রচলিত বড় বড় চারটি মাযহাবের বিপরীতে পঞ্চম একটি মাযহাব নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে। তবে এ আন্দোলনের কর্মীরা নিজেদেরকে ‘সালাফী’ এবং তাদের দাওয়াতকে ‘সালাফী দাওয়াত’ বলে আখ্যায়িত করাকেই অধিক পসন্দ করতেন (আল-ওয়াহ্হাবিয়াহ ওয়া যাঈমুহা মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহ্হাব, ৮/৮২১ পৃ.)। ষড়যন্ত্রমূলক এই কথাটি আজও সারাবিশ্বে প্রচলিত। অথচ আসল রহস্য অনেকেই জানে না।


প্রশ্নকারী : আব্দুর রহমান, মাদারীপুর।





প্রশ্ন (২১) : ইসলামী শরী‘আতের দৃষ্টিতে দেশে প্রচলিত ইসলমী ব্যাংকসমূহে আমানত রাখার বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : জনৈক ব্যক্তির জখম ছিল, সে আত্মহত্যা করল। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমার বান্দা তার প্রাণ নিয়ে আমার সাথে তাড়াহুড়া করল। কাজেই আমি তার উপর জান্নাত হারাম করে দিলাম (ছহীহ বুখারী, হা/১৩৬৪)। প্রশ্ন হল- যেখানে আল্লাহ তা‘আলা জান্নাত হারাম করে দিলেন, সেখানে বলা হয়, ‘সে চিরস্থায়ী জাহান্নামী নয়’। উক্ত বক্তব্যের সঠিক ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : ‘আল্লাহর ইচ্ছায় গাছের পাতা পড়ে না বা কোন কাজ সংঘটিত হয় না’, না-কি ‘আল্লাহর হুকুমে গাছের পাতা ঝরে পড়ে না বা কোন কাজ হয় না’। কোন্ কথাটি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : আমি আগে হানাফী মাযহাবের অনুসারী ছিলাম। কয়েক বছর থেকে আহলেহাদীছের মাসলাক অনুসরণ করে থাকি আলহামদুলিল্লাহ। আগে থেকেই আমার বাসায় অনেক বিদ‘আতী কিতাব আছে। যেমন বেহেস্তি জেওর, নেয়ামুল কোরআন, ফাজায়েলে আমল ইত্যাদি ইত্যাদি রয়েছে। এখন এগুলো পুড়িয়ে ফেলা বা নষ্ট করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : এক সাথে তিন ত্বালাক্ব দিলে বিবাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) :  যেখানে পানির ব্যবস্থা নেই, সেখানে পেশাব করার পর শুধু ঢিল বা টিস্যু নিয়ে পবিত্রতা হাছিল করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : হাদীছে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি কুরআনে নিজের মত পেশ করবে সে জাহান্নামে যাবে। যুগ যুগ ধরে মুফাসসিরগণ কুরআনের তাফসীর করতে কুরআন, হাদীছ, ছাহাবী, তাবেঈদের উক্তির পাশাপাশি নিজ চিন্তা, গবেষণা ও মত প্রকাশ করেন। তাহলে হাদীছে নিজ মত প্রকাশ করা বলতে কী বুঝানো হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : ধুমপান নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : কোন টাকা বা মূল্যবান বস্তু পাওয়া গেলে কী করা উচিত? অনেকেই বলেন, ফকীরকে বা মসজিদে দিয়ে দিতে। এটি কতটুকু সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : ছহীহ বুখারীতে ‘যাকাতুল ফিতর’ ঈদের ছালাতের পূর্বে বণ্টন করার কথা রয়েছে। কিন্তু কেউ কেউ ছালাতের পরে বন্টন করাকে সুন্নাত বলে প্রচার করেন। কোনটি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : ছালাতে তাশাহুদের সময় নযর কোন দিকে রাখতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : শরী‘আতে হালাল-হারাম ঘোষণা করার অধিকার কার? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ