রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৫:০৬ অপরাহ্ন
উত্তর : কুরআনের কিছু আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, কিছু অপরাধী চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে বসবাস করবে। যেমন কাফির, মুশরিক ও মুনাফিক্ব। তাই কুফরী এমন এক অপরাধ, যার জন্য চিরস্থায়ী জাহান্নাম ভোগ করতে হবে। কুফরী মানে অস্বীকার, আল্লাহকে অবিশ্বাস অথবা আল্লাহ তা‘আলা সম্পর্কিত কিছু বিষয়কে অবিশ্বাস করা। কপটতা বা মুনাফিক্বীর কুফরী, সন্দেহ পোষণের কুফরী, কিছুতে বিশ্বাস ও কিছুতে অবিশ্বাসের কুফরী, আদেশ-নিষেধ অমান্য করার কুফরী ইত্যাদি। আল্লাহ বলেন, ‘যারা অবিশ্বাস করে কিতাবকে এবং যা সহ আমার রাসূলগণকে আমি পাঠিয়েছি তাকে; তারা শীঘ্রই জানতে পারবে। যখন তাদের গলায় বেড়ী ও শৃঙ্খল থাকবে, তাদেরকে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে ফুটন্ত পানিতে, তারপর তাদেরকে পোড়ানো হবে আগুনে। অতঃপর তাদেরকে বলা হবে, আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে তোমরা শরীক করতে কোথায় তারা? তারা বলবে, তারা তো আমাদের কাছ থেকে উধাও হয়েছে, বরং আগে আমরা কিছুকে ডাকিনি। এভাবে আল্লাহ কাফিরদেরকে বিভ্রান্ত করেন। এটা এ জন্য যে, তোমরা ভূপৃষ্ঠে অযথা উল্লাস করতে এবং এ জন্য যে, তোমরা অহংকার করতে। তোমরা জাহান্নামের বিভিন্ন দরজা দিয়ে প্রবেশ কর, তাতে চিরস্থায়ীভাবে অবস্থানের জন্য, অতএব কতই না নিকৃষ্ট অহংকারীদের আবাসস্থল!’ (সূরা আল-মুমিন বা গাফির: ৭০-৭৬, ১১-১২, ৫০)। এর ধরনের আরো আয়াত আছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে ও যুলুম করেছে আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন না এবং তাদেরকে কোন পথও দেখাবেন না, জাহান্নামের পথ ছাড়া, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে এবং এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ’ (সূরা আন-নিসা: ১৬৮-১৬৯)। অন্য আয়াতে বলেন, ‘এরাই তারা, যারা তাদের রবের সাথে কুফরী করেছে, আর এরাই তারা, যাদের গলদেশে থাকবে শিকল। আর তারাই জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে’ (সূরা আর-রা‘দ: ৫)।

মুনাফিক্বদের জন্য চিরস্থায়ী জাহান্নাম, অপরাধের দিক থেকে কুফরীর চাইতে মুনাফিক্বী অধিকতর সাংঘাতিক। তাই তার শাস্তিও অধিক। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আল্লাহ মুনাফিক্ব পুরুষ, মুনাফিক্ব নারী ও কাফিরদেরকে জাহান্নামের আগুনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, এটা তাদের জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তাদেরকে অভিশাপ করেছেন। আর তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী শাস্তি’ (সূরা আত-তাওবাহ: ৬৮)। অনুরূপভাবে স্বৈরাচারী অহংকারীদের জন্য চিরস্থায়ী জাহান্নাম। এই অহংকারের ফলে মানুষ সত্য প্রত্যাখ্যান করে। ঈমান আনতে নাক সিঁটকায়, মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করে। অহংকারী জাহান্নামীদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা মনে করেছে এবং অহংকারে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তারাই জাহান্নামী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে’ (সূরা আল-আ‘রাফ: ৩৬; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-২১৩৬৫)।

‘নিশ্চিতরূপে জান্নাতীরা জান্নাতে চিরস্থায়ী হবে, সেখানে না থাকবে মৃত্যুর ভয় আর না থাকবে বহিষ্কৃত হওয়ার ভয়’ (সূরা আল-হিজর: ৪৫-৪৮; সূরা আদ-দুখান: ৫১-৫৭)। ঠিক তেমনি কিছু জাহান্নামী জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে। ‌তারা সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘তারা আগুন থেকে বের হতে চাইবে, কিন্তু তারা তা থেকে বের হতেই পারবে না এবং তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী শাস্তি’ (সূরা আল-বাক্বারা: ১৬৭; সূরা আল-মায়িদাহ: ৩৭; মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া মাক্বালাত ইবনে বায, ৪/৩৬১ পৃ.)।

উল্লেখ্য যে, কাফির, মুশরিক ও মুনাফিক্বরা ছাড়া কাবীরা গুনাহের জন্য কোন মুমিন জাহান্নামে চিরস্থায়ী বাসিন্দা হবে না। যার বুকে সরিষার দানা পরিমান ঈমান থাকবে, সে একদিন না একদিন জান্নাতে প্রবেশ করবে। যদিও আল্লাহ্ তা‘আলা সূদখোর এবং ইচ্ছাকৃতভাবে মুমিন ব্যক্তিকে হত্যাকারীর জন্য চিরস্থায়ী শাস্তির কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘যে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মুমিনকে হত্যা করবে, তার শাস্তি জাহান্নাম। সেখানে সে চিরকাল থাকবে এবং আল্লাহ তার প্রতি রুষ্ট হবেন, তাকে অভিসম্পাত করবেন এবং তার জন্য মহাশাস্তি প্রস্তুত করে রাখবেন’ (সূরা আন-নিসা: ৯৩)।

উপরিউক্ত আয়াতে শাস্তি হিসাবে যে চিরস্থায়ী জাহান্নামের কথা বর্ণিত হয়েছে, তার অর্থ হল, তাতে সুদীর্ঘ কাল অবস্থান করতে হবে। কারণ, কাফির ও মুশরিকরাই কেবল জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে। তাছাড়া সূদ ও হত্যার সম্পর্ক যদিও বান্দার অধিকারের সাথে, যা থেকে তাওবার মাধ্যমেও দায়িত্বমুক্ত হওয়া যায় না, তবুও আল্লাহ্ তা‘আলা স্বীয় কৃপা ও অনুগ্রহে তার এমনভাবে নিষ্পত্তি করতে পারেন যে, নিহত ব্যক্তিও প্রতিদান পেয়ে যাবে এবং সূদখোর ও হত্যাকারীরও মাফ হয়ে যাবে (ইবনু কাছীর ও ফাৎহুল ক্বাদীর দ্রষ্টব্য)। প্রত্যেক মুসলিম যারা কাবীরা গুনাহে লিপ্ত হয়েছে, তারা তাদের পাপের শাস্তি ভোগ করার পর মুক্তি পাবে। অর্থাৎ কোন মুসলিমের বুকে যদি তাওহীদ থাকে, তাহলে সে একদিন না একদিন মুক্তি পাবে, যদিও শাস্তি ভোগার পরে। যেমন আনাস ইবনু মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, নবী (ﷺ) বলেন, شَفَاعَتِيْ لِأَهْلِ الْكَبَائِرِ مِنْ أُمَّتِيْ ‘আমার উম্মাতের কাবীরা গুনাহগারদের জন্যও আমার শাফা‘আত বরাদ্দ’ (আবূ দাঊদ, হা/৪৭৩৯; তিরমিযী, হা/২৪৩৫)।


প্রশ্নকারী : সামিউল, কুলপাড়া, রাজশাহী।





প্রশ্ন (৩০) : জনৈক ব্যক্তি আগে মিউজিসিয়ান ছিল। আল্লাহর রহমতে সেগুলো এখন সব বাদ দিয়েছে। কিন্তু আগের কিছু বাদ্যযন্ত্র রয়েছে। সেগুলো বিক্রয় করে প্রাপ্ত অর্থ কল্যাণকর কাজে লাগাতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : ‘মাযহাব’ শব্দটি কোন্ ভাষার, এর অর্থ কী? মাযহাব না মানলে কি কাফের হয়ে যাবে? মাযহাবের সংখ্যা কত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : তাফসীর ইবনু আব্বাস কি ছহীহ সনদে প্রমাণিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : সকালে বরকত নাযিল হয়। এই কথার কোন দলীল আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : ইমাম ক্বিরায়াত উচ্চৈঃস্বরে পড়বে এবং মুক্তাদিরা আস্তে পড়বে তার দলীল কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : কাউকে বিদায় দেয়ার সময় কোন্ দু‘আ পড়ার কথা হাদীছে এসেছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : শুক্রবারে হানাফী মসজিদে আযান শুরু হয় অনেক আগে। কিন্তু জুমু‘আর খুত্ববাহ শুরু হয় অনেক দেরিতে। প্রশ্ন হল- শুক্রবারে মসজিদে আগে যাওয়ার যে ফযীলত, হানাফী মসজিদ কোন্ সময় গেলে তা হাছিল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : গাযওয়া হিন্দ‌‌ বা হিন্দুদের সাথে মুসলিমদের যুদ্ধ সম্পর্কে অনেক কিছুই শুনা যায়। এগুলো কি হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : কেউ মূর্তি পূজা করলে ইসলামে তার হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : হাজারে আসওয়াদ পাথরটি প্রথমে সাদা ছিল। এটা এখন কালো হয়ে গেছে। এটা কালো কিভাবে হল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : যারা সীমান্ত এলাকায় বসবাস করে তারা রক্ষী বাহিনীকে ঘুষ দিয়ে ভারত থেকে বিভিন্ন মাল নিয়ে এসে ব্যবসা করে। এই ব্যবসা কি হালাল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : জেহরী ছালাতে ইমাম আমীন বলতে ভুলে গেলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে না বললে মুক্তাদীগণের আমীন বলতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ