রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:০৮ অপরাহ্ন
উত্তর : ইসলামে সম্পদ খরচের ক্ষেত্রে কৃপণ হওয়া যেমন নিষিদ্ধ, তেমনি প্রাচুর্যের সময় অপচয়-অপব্যয় করে সম্পদ খরচ করাও নিষিদ্ধ। আল্লাহ তা‘আলা অপচয় ত্যাগের কঠোর নির্দেশ জারি করেছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা আহার এবং পান করো, আর অপচয় করো না; তিনি (আল্লাহ) অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না’ (সূরা আল-আ‘রাফ: ৩২)। অপচয় এবং কৃপণতা দুটোই ইসলামে অনুনমোদিত। এই দুই প্রান্তিকতার মাঝখানে মধ্যমপন্থা হিসাবে মিতব্যয়ী হয়ে ভবিষ্যতের জন্য কিছু অর্থ সঞ্চয় করে রাখা ইসলামের শিক্ষা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘(রহমানের বান্দা তো তারাই) যারা অপব্যয়ও করে না আবার কৃপণতাও করে না। তাদের পন্থা হয় এতদুভয়ের মধ্যবর্তী’ (সূরা আল-ফুরক্বান: ৬৭)।

মনে রাখতে হবে, সঞ্চয় করতে গিয়ে কৃপণের তালিকায় যেন নাম না উঠে। স্ত্রী, সন্তান-সন্ততির ভরণপোষণ, পিতামাতার প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণের মত আল্লাহ নির্দেশিত খাতে খরচ করতে অবহেলাই হলো- প্রকৃত কৃপণতা। অনেকে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও পরিবারের প্রয়োজনীয় খরচটুকু করতে করে না, অভাবগ্রস্তকে কিছু দান করে না; যরূরী দ্বীনি কাজে অর্থ ব্যয় করে না- তাকেও কৃপণ বলা হয়। বস্তুত হালাল-হারামের বিধিনিষেধ মেনে খরচকে সীমাবদ্ধ করতে হবে। প্রাচুর্যের সময় খরচের উৎসবে মেতে না উঠে অপ্রয়োজনীয় কিংবা হারাম খরচ বাদ দিয়ে মিতব্যয়িতার পথ অবলম্বন করে উদ্ধৃত অর্থ ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করতে হবে। যেন পরে নিজের প্রয়োজনে অন্যের কাছে হাত পাতার মত পরিস্থিতির মুখোমুখি না হতে হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তুমি (কৃপণতাবশে) নিজের হাত ঘাড়ের সঙ্গে বেঁধে রেখে একেবারে ব্যয়-কুণ্ঠ হয়ো না। আবার (অপব্যায়ী হয়ে) একোবরে মুক্তহস্তও হয়ো না, তাহলে তুমি তিরস্কৃত ও নিঃস্ব হয়ে বসে থাকবে’ (সূরা বানী ইসরাঈল: ২৯)। আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘উত্তম দান তাই, যা নিজ অভাবমুক্ততা রক্ষার সঙ্গে হয়’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৪২৬)।

কৃপণ না হয়ে মিতব্যয়ী হয়ে সঞ্চয় করলে হাজার কোটি টাকার মালিক হতেও ইসলাম নিষেধ করে না। সঞ্চিত অর্থ থাকলেই তো অর্থনির্ভর আমলগুলো করা যাবে। ছিয়াম পালনকারীকে ইফতার করানো যাবে। শরিক হওয়া যাবে জনকল্যাণমূলক নানা কাজে। চালু করা যাবে ছাদাক্বায়ে জারিয়ার অফুরন্ত ধারা। আবার উদ্ধৃত অর্থ যখন নেছাব পরিমাণ হবে এবং তা বর্ষপূর্তি হবে তখন সেখানে এসে যাবে যাকাতের মত আরেকটি মহান ইবাদতের সুযোগ।


প্রশ্নকারী : আব্দুর রহীম, বরিশাল।





প্রশ্ন (২৪) : ছালাতের মধ্যে সাইয়িদুল ইস্তিগফার ও আল্লাহর প্রশংসা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : জনৈক যুবক ভাই ফাসেকী জীবন ছেড়ে দ্বীনের পথ অবলম্বন করেছেন। প্রশ্ন হল- দ্বীনের পথে অবিচল থাকার জন্য ঐ যুবকের প্রতি কী উপদেশ দেয়া যেতে পারে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : বহু ব্যবসায়ী খাবারে বিষাক্ত কেমিক্যাল বা ভেজাল মিশিয়ে ব্যবসা করছে। এদের পরিণাম কী হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : বাবার অনুমতি ব্যতীত ছেলে ও মেয়ে প্রেম করে বিয়ে করে। বিবাহের অনুষ্ঠানে মেয়ের বড় বোন ও বাগিনা উপস্থিত ছিল। এমনকি বিবাহের পর তারা পালিয়েও যায়নি বরং নিজ নিজ বাড়ি চলে যায়। পরবর্তীতে উভয়ের পিতা-মাতার সম্মতি ও আত্মীয়-স্বজন নিয়ে মেয়ের বাড়ি থেকে মেয়েকে অনুষ্ঠান করে আনা হয় এবং পরের দিন ওয়ালীমা করা হয়। প্রশ্ন হল- তাদের এই বিবাহ কি বৈধ হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : ইসলামের আলোকে ‘মহান সংসদ’, ‘পবিত্র সংবিধান’ ইত্যাদি কথাগুলো যুক্তিসংগত কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : অন্তরের রিয়া দূর করার উপায় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : বড় মেয়ের বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত অভিভাবক ছোট মেয়ের বিয়ে বন্ধ রাখতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : বর্তমান চলমান সংকটের (করোনা ভাইরাসের) কারণে অনেকেই ‘সময় বা যুগকে’ গালি দিচ্ছে, এভাবে সময় বা যুগকে গালি দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : জনৈকা মহিলা স্বামীর অত্যাচারের কারণে অন্য ছেলের সাথে সম্পর্ক করে বিয়ে করে। আগের স্বামীর কাছ থেকে তালাক নেয়নি এবং নিজে খোলা বা বিবাহ বিচ্ছিন্নও করেনি। বর্তমান সংসারে দু’টি সন্তান আছে। সে পাপ কাজে জড়িত বলে অনুতপ্ত। এখন করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : জাহান্নামের দরজা সাতটি মর্মে কোন দলীল আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : ‘শীতকাল মুমিনদের জন্য বসন্তকাল’ কথাটি কি সত্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : কোন কাপড়ে ধর্মীয় প্রতীক বা মন্দিরের ত্রিভুজ আকৃতির ডিজাইন দেয়া কাপড়ের ব্যবসা করা হালাল হবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ