বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ইসলামী শরী‘আতে কোন অর্থ হালাল হওয়ার জন্য মূলনীতি হল, তা বৈধ উৎস থেকে অর্জিত হতে হবে এবং গ্রহণের ক্ষেত্রে শরী‘আতের কোন নিষেধাজ্ঞা থাকবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَاۡکُلُوۡۤا اَمۡوَالَکُمۡ بَیۡنَکُمۡ بِالۡبَاطِلِ ‘হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ কর না’ (সূরা আন-নিসা: ২৯)। রাসূল (ﷺ) বলেন, إِنَّ اللهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا ‘নিশ্চয় আল্লাহ পবিত্র, তিনি কেবল পবিত্র জিনিসই গ্রহণ করেন’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১০১৫)। উল্লেখিত ক্ষেত্রে যদি সরকার বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কোন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত ২.৫০% অর্থ বৈধ নিয়মে বরাদ্দ করে এবং প্রতিষ্ঠান প্রধান (সিও) সরকারী নীতিমালার আওতায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অতিরিক্ত সুবিধা বা ইনসেনটিভ হিসাবে বণ্টন করেন, তাহলে মূলত এ অর্থ গ্রহণ করা বৈধ হবে; কারণ এটি চাকরির অংশ হিসাবে প্রদত্ত অনুমোদিত ভাতা বা সুবিধা হিসাবে গণ্য হবে। কর্মচারী তার দায়িত্ব পালন করার কারণে এই অর্থ পাচ্ছে। শরী‘আতের দৃষ্টিতে বৈধ চাকরির বিনিময়ে প্রাপ্ত বেতন, ভাতা বা ইনসেনটিভ হালাল। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ اَنۡ  لَّیۡسَ لِلۡاِنۡسَانِ  اِلَّا مَا سَعٰی ‘মানুষ তাই পায়, যার জন্য সে চেষ্টা করে’ (সূরা আন-নাজম : ৩৯)।

এখানে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ যেমন: প্রথমতঃ এই অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারী আইন বা নীতিমালা লঙ্ঘন করা যাবে না। যদি সিও নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে অন্যায়ভাবে কাউকে বেশি বা কম দেন, ঘুষ, পক্ষপাত বা আত্মসাৎ করেন, তাহলে সেই অতিরিক্ত বা অবৈধ অংশ গ্রহণ করা জায়েয হবে না। দ্বিতীয়তঃ যদি এ অর্থ মূলত উন্নয়ন খাতে ব্যয় করার জন্য নির্ধারিত হয়, কিন্তু বেআইনিভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয় এবং আইনগতভাবে তা অনুমোদিত না হয়, তাহলে তা গ্রহণ করা বৈধ হবে না। কারণ এটি সরকারী আমানতের খিয়ানত হিসাবে গণ্য হবে।

রাসূল (ﷺ) বলেন, مَنْ اسْتَعْمَلْنَاهُ عَلَى عَمَلٍ فَرَزَقْنَاهُ رِزْقًا فَمَا أَخَذَ بَعْدَ ذَلِكَ فَهُوَ غُلُوْلٌ ‘আমি যাকে কোন কাজের দায়িত্বে নিয়োগ দিয়ে পারিশ্রমিক নির্ধারণ করে দিয়েছি, এরপর সে অতিরিক্ত যা গ্রহণ করে তা হল খিয়ানত’ (আবূ দাঊদ, হা/২৯৪৩)। এ কারণে অনেকেই সতর্কতার জন্য এ ধরনের অর্থ গ্রহণ করেন না। বিশেষত যখন তাদের কাছে বিষয়টি পুরোপুরি স্বচ্ছ নয় বা সন্দেহজনক মনে হয়। এটি তাক্বওয়া ও পরহেযগারিতার অন্তর্ভুক্ত। তবে কেউ না নিলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে হারাম হয়ে যায় না। রাসূল (ﷺ) বলেন, دَعْ مَا يَرِيبُكَ إِلَى مَا لَا يَرِيبُكَ ‘যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে তা ছেড়ে দাও, আর যা সন্দেহমুক্ত তা গ্রহণ কর’ (তিরমিযী, হা/২৫১৮)। সুতরাং সারকথা হল, যদি উক্ত অর্থ সরকারী নীতিমালার অধীনে বৈধভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ সুবিধা হিসাবে প্রদান করা হয়, তাহলে তা গ্রহণ করা জায়েয। আর যদি তা উন্নয়ন খাতের অর্থ আত্মসাৎ করে বা বেআইনিভাবে ভাগ-বণ্টন করা হয়, তাহলে তা গ্রহণ করা হারাম হবে।


প্রশ্নকারী : মীযানুর রহমান ভুঁইয়া।





প্রশ্ন (৩০): সরকারী ভ্যাট বা কর হিসাবে যাকাতের টাকা প্রদান করা যাবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : একটি ইসলামী কোম্পানীতে মানুষ তাদের উপার্জিত লক্ষ লক্ষ টাকা গচ্ছিত রাখে। কোম্পানী উক্ত টাকা দিয়ে বিভিন্ন ব্যবসা করে। যেমন: জমি ক্রয়-বিক্রয়, প্লট ক্রয়-বিক্রয়, বিদেশ থেকে পাথর ক্রয় ও তা বিক্রয়, ফ্লাট ক্রয়-বিক্রয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে শমিং মল পরিচালনা ইত্যাদি। উক্ত ব্যবসা করে কোম্পানী লাখে কখনো ১২০০/-, কখনো ১৩০০/- এভাবে কমবেশি লভ্যাংশ দিয়ে থাকে। এখন আমি উক্ত কোম্পানীতে আমার পেনশনের প্রায় চল্লিশ লক্ষ টাকা রাখতে চাচ্ছি। প্রশ্ন হল- কোম্পানী প্রদত্ত উক্ত লভ্যাংশ গ্রহণ সূদ হবে, না-কি হালাল হবে? উল্লেখ যে, উপরিউক্ত ব্যবসায়ের মধ্যে কোন্ ব্যবসায়ে আমার টাকা ব্যয় হবে তা আমি জানি না এবং শপিং মলে কিছু মিউজিক ও পর্দার সাথে মহিলা রিপ্রেজেনটিভ রয়েছে। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : মহিলাদের পেট খোলা না রেখে পেটের নাভীতে অলংকার পরা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : ছালাতের ওয়াক্ত হওয়ার আগে আযান দেয়া যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : ‘ফাজায়েলে দরূদ শরীফ’ নামক বইয়ের ৬৪ নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ ফ বলেছেন, আমার উপর দরূদ পাঠকারীর জন্য পুলসিরাতে নূর হবে। আর যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন ৮০ বার দরূদ শরীফ পাঠ করবে, তার ৮০ বছরে গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে’ মর্মে বর্ণিত কথা কি সত্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘ছালাতের প্রথম ওয়াক্ত আল্লাহ সন্তুষ্টি আর শেষ ওয়াক্ত আল্লাহ ক্ষমা’ (তিরমিযী, হা/১৭২, ১/৪৩ পৃ.) মর্মে বর্ণিত হাদীছটি কি ছহীহ, না-কি জাল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘ফরয ইবাদতের পর হালাল রিযিক অন্বেষণ করা আরেকটি ফরয’ (বায়হাকী)। হাদীছটি কী ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : কেউ গান-বাজনাকে হালাল মনে করলে তার ঈমান থাকবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : মসজিদের দেওয়ালে মক্কা-মদীনার ছবিওয়ালা টাইলস লাগানো যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : উঠাবাসা করতে সমস্যা হয় কিন্তু দাঁড়িয়ে থাকতে ও হাঁটতে কোন সমস্যা হয় না। বাজারেও হেঁটে বেড়ানো যায় কিন্তু মসজিদে ছালাতের সময় চেয়ার কিংবা টুলে বসে ছালাত আদায় করতে হয়। এ অবস্থায় করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : কোন সরকারী  প্রতিষ্ঠানে সারা বছর যে উন্নয়ন হয় তার জন্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত ২.৫০% টাকা ঠিকাদার ঐ প্রতিষ্ঠানের সিও বরাবর জমা করে। তারপর সিও উক্ত টাকা তার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডিউটির উপর বিবেচনায় করে বেসিকের  ১৫%, ২০% ৩০% এভাবে দিয়ে থাকেন (বিশেষ সুবিধা)। এই টাকা মসজিদের ইমাম সহ আরও ২/৩ জন নেয় না। প্রশ্ন হল- এই টাকা গ্রহণ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : ছহীহ হাদীছ মেনে চলার কারণে কলেজের অন্যান্য ছাত্রীরা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে থাকে এবং দ্বীনের দাওয়াতকে উপহাস করে। তাদের কাছ থেকে দূরে থাকা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ