উত্তর : ইসলামী শরী‘আতে কোন অর্থ হালাল হওয়ার জন্য মূলনীতি হল, তা বৈধ উৎস থেকে অর্জিত হতে হবে এবং গ্রহণের ক্ষেত্রে শরী‘আতের কোন নিষেধাজ্ঞা থাকবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَاۡکُلُوۡۤا اَمۡوَالَکُمۡ بَیۡنَکُمۡ بِالۡبَاطِلِ ‘হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ কর না’ (সূরা আন-নিসা: ২৯)। রাসূল (ﷺ) বলেন, إِنَّ اللهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا ‘নিশ্চয় আল্লাহ পবিত্র, তিনি কেবল পবিত্র জিনিসই গ্রহণ করেন’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১০১৫)। উল্লেখিত ক্ষেত্রে যদি সরকার বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কোন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত ২.৫০% অর্থ বৈধ নিয়মে বরাদ্দ করে এবং প্রতিষ্ঠান প্রধান (সিও) সরকারী নীতিমালার আওতায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অতিরিক্ত সুবিধা বা ইনসেনটিভ হিসাবে বণ্টন করেন, তাহলে মূলত এ অর্থ গ্রহণ করা বৈধ হবে; কারণ এটি চাকরির অংশ হিসাবে প্রদত্ত অনুমোদিত ভাতা বা সুবিধা হিসাবে গণ্য হবে। কর্মচারী তার দায়িত্ব পালন করার কারণে এই অর্থ পাচ্ছে। শরী‘আতের দৃষ্টিতে বৈধ চাকরির বিনিময়ে প্রাপ্ত বেতন, ভাতা বা ইনসেনটিভ হালাল। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ اَنۡ لَّیۡسَ لِلۡاِنۡسَانِ اِلَّا مَا سَعٰی ‘মানুষ তাই পায়, যার জন্য সে চেষ্টা করে’ (সূরা আন-নাজম : ৩৯)।
এখানে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ যেমন: প্রথমতঃ এই অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারী আইন বা নীতিমালা লঙ্ঘন করা যাবে না। যদি সিও নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে অন্যায়ভাবে কাউকে বেশি বা কম দেন, ঘুষ, পক্ষপাত বা আত্মসাৎ করেন, তাহলে সেই অতিরিক্ত বা অবৈধ অংশ গ্রহণ করা জায়েয হবে না। দ্বিতীয়তঃ যদি এ অর্থ মূলত উন্নয়ন খাতে ব্যয় করার জন্য নির্ধারিত হয়, কিন্তু বেআইনিভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয় এবং আইনগতভাবে তা অনুমোদিত না হয়, তাহলে তা গ্রহণ করা বৈধ হবে না। কারণ এটি সরকারী আমানতের খিয়ানত হিসাবে গণ্য হবে।
রাসূল (ﷺ) বলেন, مَنْ اسْتَعْمَلْنَاهُ عَلَى عَمَلٍ فَرَزَقْنَاهُ رِزْقًا فَمَا أَخَذَ بَعْدَ ذَلِكَ فَهُوَ غُلُوْلٌ ‘আমি যাকে কোন কাজের দায়িত্বে নিয়োগ দিয়ে পারিশ্রমিক নির্ধারণ করে দিয়েছি, এরপর সে অতিরিক্ত যা গ্রহণ করে তা হল খিয়ানত’ (আবূ দাঊদ, হা/২৯৪৩)। এ কারণে অনেকেই সতর্কতার জন্য এ ধরনের অর্থ গ্রহণ করেন না। বিশেষত যখন তাদের কাছে বিষয়টি পুরোপুরি স্বচ্ছ নয় বা সন্দেহজনক মনে হয়। এটি তাক্বওয়া ও পরহেযগারিতার অন্তর্ভুক্ত। তবে কেউ না নিলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে হারাম হয়ে যায় না। রাসূল (ﷺ) বলেন, دَعْ مَا يَرِيبُكَ إِلَى مَا لَا يَرِيبُكَ ‘যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে তা ছেড়ে দাও, আর যা সন্দেহমুক্ত তা গ্রহণ কর’ (তিরমিযী, হা/২৫১৮)। সুতরাং সারকথা হল, যদি উক্ত অর্থ সরকারী নীতিমালার অধীনে বৈধভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ সুবিধা হিসাবে প্রদান করা হয়, তাহলে তা গ্রহণ করা জায়েয। আর যদি তা উন্নয়ন খাতের অর্থ আত্মসাৎ করে বা বেআইনিভাবে ভাগ-বণ্টন করা হয়, তাহলে তা গ্রহণ করা হারাম হবে।
প্রশ্নকারী : মীযানুর রহমান ভুঁইয়া।