উত্তর : বিষয়টি দু’টি অবস্থার উপর নির্ভরশীল।
প্রথম অবস্থা : যদি এটি ঋণ হিসাবে হয়- যদি আপনি মূলত ব্যবসায়ীকে টাকা ধার দিয়েছেন (ঋণ) এবং পরে বলেছেন যে লাভ দিলে দেবেন বা ইনসাফ অনুযায়ী কিছু দেবেন, তাহলে যদি চুক্তির সময়েই বলা হয় যে, ‘ঋণ দিচ্ছি, পরে কিছু বেশি দিতে হবে’-এটি স্পষ্ট সূদ হবে, যা হারাম। কিন্তু যদি শর্ত না থাকে- কেবল টাকা ধার দিলেন এবং পরে ব্যবসায়ী স্বেচ্ছায় কোন উপহার দেন এটি সূদ নয়, এটি হাদিয়া। হাদীছে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আযাদকৃত গোলাম আবূ রাফি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, উঠতি বয়সের একটি উট রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ধার হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন। তারপর (বাইতুল মালে) যাকাতের উট আসে। আবূ রাফি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ঐ লোকের উঠতি বয়সের উটটি পরিশোধের জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে নির্দেশ দিলেন। আমি বললাম, (বাইতুল মালে) ছয় বছর বয়সের উটের চেয়ে ছোট উট পাচ্ছি না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাকে ঐটিই প্রদান কর। কেননা, উত্তমভাবে ঋণ পরিশোধকারী ব্যক্তিই লোকদের মধ্যে বেশি উত্তম’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৬০০; তিরমিযী, হা/১৩১৮; আবূ দাঊদ, হা/৩৩৪৬)। এখানে রাসূল (ﷺ) ধার নেয়ার পর স্বেচ্ছায় ভাল মানের উট ফেরত দিয়েছেন। শর্ত না থাকলে অতিরিক্ত দেয়া বৈধ।
দ্বিতীয় অবস্থা : যদি এটি ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব হিসাবে হয়। অর্থাৎ যদি চুক্তি হয় যে, আপনি পণ্য কিনে দেবেন এবং ব্যবসায়ী বিক্রি করবে, তারপর লাভ থেকে আপনার অংশ দেবে এবং লাভ নির্দিষ্ট শতাংশ বা ইনসাফ অনুযায়ী ঠিক হয়, তাহলে এটি মুদারাবাহ বা শিরকাহ-র মত হয় এবং সূদ নয়, বরং হালাল লাভ। তবে শর্ত হলো:
১. চুক্তি স্পষ্ট হতে হবে- কত শতাংশ লাভ বা কোন্ ভিত্তিতে দিবে।
২. নির্দিষ্ট টাকার নিশ্চয়তা দেয়া যাবে না- যেমন ‘কমপক্ষে ৫০০ টাকা লাভ দিবেন’- এভাবে হলে তা সূদ হয়ে যায়।
প্রশ্নকারী : সাইফুল ইসলাম, ঢাকা।