বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২২ পূর্বাহ্ন
উত্তর : উক্ত হিসাব সম্পর্কে আমরা অবগত নই। আর দলীলও পেশ করা হয়নি। ছহীহ হাদীছের ভিত্তিতে স্বর্ণ ও রৌপ্যের যে নিছাব বর্ণিত হয়েছে, তা নিম্নরূপ:

(১) স্বর্ণের নিছাব : নিছাব পরিমাণ স্বর্ণ না হওয়া পর্যন্ত যাকাত নেই। আর স্বর্ণের নিছাব হল- বিশ মিছক্বাল। ইমাম শাফিঈ, ইবনুল মুনযির, ইবনে বাত্ত্বাল, মাওয়ার্দী ও ক্বাযী আয়াজ (রাহিমাহুমুল্লাহ) বলেন, আলিমদের ঐকমত্যানুযায়ী, বিশ মিছক্বাল পরিমাণ স্বর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাতে যে যাকাত নেই এ বিষয়ে কোন মতভেদ নেই। সুতরাং যখন তা বিশ মিছক্বাল পরিমাণে পৌঁছাবে, তখন তাতে যাকাত ধার্য হবে (আল-উম্ম, ২/৪৩; আল-ইজমা‘, পৃ. ৪৬; শারহু ছহীহিল বুখারী, ৩/৪০১; আল-হাবীউল কাবীর, ৩/২৬৭ পৃ.)। আর মিছক্বাল (مثقال) বলতে এক প্রকারের বিশেষ দীনার বা স্বর্ণের মুদ্রাকে বুঝায়। মূলত এটি হল- স্বর্ণ ও রৌপ্যের ওযন পরিমাপের একটি ঐতিহ্যবাহী একক। আধুনিক ওযন হিসাবে ১ মিছক্বাল=৪.২৫ গ্রাম। সুতরাং ৪.২৫x২০=৮৫ গ্রাম (খাঁটি স্বর্ণের ক্ষেত্রে) (আন-নিহায়া, ১/২১৭; লিসানুল আরব, ১১/৮৭; হাশিয়া ইবনে আবেদীন, ২/২৯৬; মাজাল্লাতুল বুহূছিল ইসলামিয়্যাহ, ৩৯/২৪৩-২৪৪ পৃ.)।

আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেন, ‘স্বর্ণের ক্ষেত্রে বিশ দীনারের কমে যাকাত নেই। বিশ দীনারে পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হলে অর্ধ দীনার যাকাত দিতে হবে। এরপর যা বাড়বে তাতে উপরিউক্ত হিসাবে যাকাত দিতে হবে’ (আবূ দাঊদ, হা/১৫৭৩, ১৫৭২, ১৫৭৪; ইবনু মাজাহ, হা/১৭৯১; ইরওয়াউল গালীল, ৩/২৯০ পৃ.)। প্রখ্যাত তাবিঈ ইবরাহীম নাখঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর স্ত্রীর একটি কণ্ঠহার ছিল যাতে বিশ মিছক্বাল (স্বর্ণ) ছিল। তিনি তাকে এর থেকে পাঁচ দিরহাম (রৌপ্য মুদ্রা) যাকাত বের করার আদেশ দিলেন’ (আল-আমওয়াল লি আবী উবাইদ, হা/৯২৩; মুছান্নাফ ইবনু আবি শাইবাহ, ৩/১২০; দারাকুতনী, হা/১৯৬৩)। উপরিউক্ত হাদীছ ও আছারের আলোকে আমরা বুঝতে পারলাম যে, দীনার (স্বর্ণ মুদ্রা) ও মিছক্বাল ওজনের দিক দিয়ে সমান। মিছক্বাল ও দিরহাম পরিমাপ সম্পর্কে ব্যাখ্যা হল- সাধারণত ২০ মিছক্বাল স্বর্ণের যাকাত হিসাবে এর ২.৫% মিছক্বাল অর্থাৎ প্রায় ৫ দিরহাম রৌপ্যের সমতুল্য দিতে হয়।

(২) রৌপ্যের নিছাব : ইবনুল মুনযির, ইবনে রূশদ ও ইবনে কুদামা (রাহিমাহুমুল্লাহ) বলেন, ‘আলিমদের ঐকমত্যানুযায়ী, নিছাব পরিমাণ রৌপ্য না হওয়া পর্যন্ত যাকাত নেই। আর রৌপ্যের নিছাব হল- পাঁচ উকিয়াহ্, যা দুইশো দিরহামের (রৌপ্য মুদ্রা) সমান’ (আল-ইজমা‘, পৃ. ৪৬; বিদায়াতুল মুজতাহিদ, ১/২৫৫; আল-মুগনী, ৩/৩৫ পৃ.)। আবূ সাঈদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوَاقٍ صَدَقَةٌ ‘পাঁচ উকিয়ার কম সম্পদের উপর যাকাত (ফরয) নেই’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৪০৫, ১৪৪৭, ১৪৫৯, ১৪৮৪; ছহীহ মুসলিম, হা/৯৭৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/১১২৫৩)। ইবনুল আছীর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘উকিয়াহ হল- প্রচলিত দিরহাম। দিরহাম হল- ঐতিহাসিক আরবী রৌপ্যমুদ্রা, যা ইসলামী যুগে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হত’ (আন-নিহায়া, ২/২৫৪ পৃ.)। আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, ‘তোমার কাছে দুইশো দিরহাম (রৌপ্য মুদ্রা) থাকলে এবং তা পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হলে পাঁচ দিরহাম (যাকাত) দিবে’ (আবূ দাঊদ, হা/১৫৭৩, ১৫৭২, ১৫৭৪; ইবনু মাজাহ, হা/১৭৯১)। ইমাম ইবনু আব্দিল বার্র (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, ‘তাঁদের নিকট এক উকিয়াহ হল চল্লিশ দিরহাম পরিমাণ, এতে কোন মতবিরোধ নেই। সুতরাং পাঁচ উকিয়াহ সমান দুইশ’ দিরহাম (রৌপ্য মুদ্রা) (আল-ইসতিযকার, ৩/১২৭-১২৮ পৃ.)।

এক দিরহাম সমান ২.৯৭৫ গ্রাম। তাহলে ২০০ দিরহাম (রৌপ্যের নিছাব) দ্ধ২.৯৭৫ গ্রাম সমান ৫৯৫ গ্রাম। সুতরাং যে ব্যক্তি খাঁটি রৌপ্যের মালিক হবে যার ওজন ৫৯৫ গ্রাম, তার উপর যাকাত ওয়াজিব হবে। সেজন্য শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, ‘নিছাবের পরিমাণ হল- স্বর্ণে পঁচাশি গ্রাম (৮৫), রৌপ্যে পাঁচশ পঁচানব্বই গ্রাম (৫৯৫), যা রৌপ্যের ছাপান্ন রিয়ালের সমতুল্য। আর নগদ অর্থের ক্ষেত্রে এর সমমূল্যের অর্থ নিছাব হিসাবে গণ্য হবে’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল ইবনে উছাইমীন, ১৮/১৩৮ পৃ.)। 

সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি ও শাইখ মুহাম্মাদ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘স্বর্ণের নিছাব হল- ২০ মিছক্বাল বা ৮৫ গ্রাম অর্থাৎ ৭.৫ ভরি আর রূপার নিছাব হল- ১৪০ মিছক্বাল বা ৫৯৫ গ্রাম অর্থাৎ ৫২.৫ ভরি। অতএব যখনই আপনার কাছে ঐ নিছাব পরিমাণ স্বর্ণ বা রূপা একত্রিত হবে এবং তার উপর যখন এক বছর অতিবাহিত হবে, তখন যাকাত ফরয হবে (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ৯/২৫৪-২৫৭ পৃ.)। রাসূল (ﷺ) বলেন, وَفِي الرِّقَّةِ رُبْعُ الْعُشْرِ ‘রৌপ্যের যাকাত চল্লিশ ভাগের এক ভাগ’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৪৫৪, ১৫৭৩)। উপরিউক্ত হাদীছে রৌপ্যের যাকাত সম্পর্কে বলা হয়েছে, ২০০ দিরহামে ৫ দিরহাম যাকাত লাগবে। অর্থাৎ চল্লিশ ভাগের এক ভাগ বা ২.৫%। আর স্বর্ণের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, ২০ দীনারে অর্ধ দীনার যাকাত লাগবে। অর্থাৎ চল্লিশ ভাগের এক ভাগ বা ২.৫%। অতঃপর উপরের দিকে যত বাড়বে তাতে উপরিউক্ত হিসাবে যাকাত দিতে হবে (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১৪৫৬০০)।


প্রশ্নকারী : রাসেল হাওলাদার, মাদারীপুর।





প্রশ্ন (৩৭) : ইয়াযীদ ইবনু মু‘আবিয়া সম্পর্কে কেমন ধারণা পোষণ করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : মৃত্যুর কারণে কান্নাকাটি করার শারঈ বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘ফরয ইবাদতের পর হালাল রিযিক অন্বেষণ করা আরেকটি ফরয’ (বায়হাকী)। হাদীছটি কী ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : হজ্জের সামর্থ্য থাকা বলতে কী বুঝায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ইসলামী শরী‘আতে হিজামার গুরুত্ব কেমন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : গণতান্ত্রিক নির্বাচনে যদি অংশ গ্রহণ না করা যায়, গণতন্ত্র ছাড়া ইসলাম প্রতিষ্ঠার বিকল্প পন্থা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : ছহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে, ‘...এমনকি অবশেষে আমি তাকে আমার এমন প্রিয় পাত্র বানিয়ে নেই যে, আমিই তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শুনে । আমিই তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে । আর আমিই তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে । আমিই তার পা হয়ে যাই, যা দ্বারা সে চলে। সে যদি আমার কাছে কোন কিছু চায়, তবে আমি নিশ্চয় তাকে তা দান করি। আর যদি সে আমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে অবশ্যই আমি তাকে আশ্রয় দেই। আমি কোন কাজ করতে চাইলে তা করতে কোন দ্বিধা করি-না, যতটা দ্বিধা করি মুমিন বান্দার প্রাণ নিতে (ছহীহ বুখারী, হা/৬৫০২)। এই হাদীছের সঠিক ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : একজন সাবালক মেয়ে আরেক সাবালক মেয়ের নিকট কতটুকু শরীর প্রকাশ করতে পারে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : পিতা-মাতার নামে কি দান করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : ছালাতে ক্বিরা‘আতের সময় মাইক ব্যবহার করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : সিজদায় কুরআনে বর্ণিত কোন্ দু‘আ করা নিষেধ? কুরআনে বর্ণিত দু‘আ করার শুরুতে ‘আঊযুবিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজীম’ পড়তে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : দোকানের ভাড়া বাবদ ভাড়াটিয়ার নিকট অনেক টাকা পাওয়া যাবে। সে তার বিভিন্ন সমস্যার কারণে দিতে পারছে না। এমতাবস্থায় যদি তাকে দোকান ছাড়তে বলা হয় এবং তাতে যদি সে কষ্ট পায়, তাহলে কি দোকানের মালিকের গুনাহ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ