শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৬ অপরাহ্ন
উত্তর : ‘হিজামা’ একটি ইসলামিক চিকিৎসা ব্যবস্থা। হিজামা অর্থ চোষা বা টেনে নেয়া। এটা এমন এক চিকিৎসা যার মাধ্যমে দূষিত ও ব্যবহৃত রক্ত বের করা হয় (আবূ দাঊদ, হা/৩৮৫৯; ইবনু মাজাহ, হা/৩৪৮৪)। যার ফলে শরীরের মাংসপেশী সমূহের রক্ত প্রবাহ দ্রুততর হয়। এর মাধ্যমে পেশী, চামড়া, ত্বক ও শরীরের ভিতরের অরগান সমূহের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। ফলে শরীর সতেজ ও বলবান হয়। এটি অতি প্রাচীন মেডিক্যাল ট্রিটমেন্ট হিসাবে আরব বিশ্বে জনপ্রিয়। ইসলামী শরী‘আতে হিজামার গুরুত্ব অত্যধিক। এর কয়েকটি কারণ আছে। যেমন-
১. হিজামার মধ্যে রয়েছে রোগের নিরাময় (ছহীহ বুখারী, হা/৫৬৮০, ৫৬৯৭; ছহীহ মুসলিম, হা/২২০৫)।
২. রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মি‘রাজে যাওয়ার সময় ফেরেশতাদের সকল দল তাঁকে এবং তাঁর উম্মতকে হিজামা করার কথা বলেন (তিরমিযী, হা/২০৫২, ২০৫৩; ইবনু মাজাহ, হা/৩৪৭৭)।
৩. রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, হিজামা সর্বোত্তম চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং ঔষধের মধ্যে অধিক ফলদায়ক (ছহীহ বুখারী, হা/৫৬৯৬; ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৭৭)।
৪. নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অসুস্থতার (যেমন মাথা ব্যথা) কারণে হিজামা করতে বলতেন (আবূ দাঊদ, হা/৩৮৫৮)।
৫. হিজামা শরীর হতে দূষিত রক্তগুলো বের করে দেয়, সে কারণে রোগের অন্য কোন ঔষধ ব্যবহার না করলেও কোন ক্ষতি হবে না (আবূ দাঊদ, হা/৩৮৫৯; ইবনু মাজহ, হা/৩৪৮৪)।
৬. হিজামা করা নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সুন্নাত। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের মাথায় এবং উভয় বাহুর মধ্যখানে (আবূ দাঊদ, হা/৩৮৫৯; ইবনু মাজাহ, হা/৩৪৮৪), নিতম্বে (আবূ দাঊদ, হা/৩৮৬৩), ঘাড়ের দুই পার্শ্বের উভয় রগে (আবূ দাঊদ, হা/৩৮৬০; তিরমিযী, হা/২০৫১; ইবনু মাজাহ, হা/৩৪৮২) হিজামা করেছেন।
৭. ছাহাবীগণও হিজামা করেছেন এবং এর মাধ্যমে আরোগ্য লাভ করেছেন (ছহীহ মুসলিম, হা/২২০৫)। অতএব উম্মতে মুহাম্মাদীর উচিত চাঁদের সতের, ঊনিশ এবং একুশ তারিখে হিজামা করা (শারহুস সুন্নাহ, ৬ষ্ঠ খ-, পৃ. ১২৪)। কারণ রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সতের, ঊনিশ ও একুশ তারিখে হিজামা করবে, সে সকল রোগ হতে নিরাপদ থাকবে’ (আবূ দাঊদ, হা/৩৪৬১)।


প্রশ্নকারী : আনোয়ার, রাজশাহী।





প্রশ্ন (২৮) : ছালাতের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পূর্বেই আযান দিলে আযান শুদ্ধ হবে কি? এক্ষেত্রে করণীয় কী?. - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : আট বছর বয়সে শিশু মারা গেলে তার কি গোসল দিতে হবে ও তার জানাযার ছালাত পড়তে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : ঘুষের বিনিময়ে চাকরি নিলে সেই চাকরির বেতন কি হালাল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : মাগরিবের আযানের পর সুন্নাত পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : নারীদের ক্যারিয়ার গঠনে ইসলাম কি বাধা দেয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : আযানের সময় কোন ওয়ায বা কথা বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : প্রত্যেক ফরয ছালাতের পর সূরা আল-ইখলাছ তিনবার করে পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : অপবিত্র কাপড় পরিধান অবস্থায় ওযূ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : কোন জরুরী কারণে মুক্বীম অবস্থায় ছালাত জমা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় মুনাফিক্বরা থাকবে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে (সূরা আন-নিসা : ১৪৫)। প্রশ্ন হল, এরা কোন্ ধরনের মুনাফিক্ব? যেমন ছহীহ বুখারী হা/৩৩ ও ৩৪ নম্বরে বলা হয়েছে, মুনাফিক্বদের লক্ষণ তিনটি ও চারটি। এই মুনাফিক্ব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : নতুন বছরের ১ম দিন নফল ছিয়াম রাখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০): মুসলিম যৌন কর্মীদের জানাযা ও দাফন-কাফনের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ