বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ‘হিজামা’ একটি ইসলামিক চিকিৎসা ব্যবস্থা। হিজামা অর্থ চোষা বা টেনে নেয়া। এটা এমন এক চিকিৎসা যার মাধ্যমে দূষিত ও ব্যবহৃত রক্ত বের করা হয় (আবূ দাঊদ, হা/৩৮৫৯; ইবনু মাজাহ, হা/৩৪৮৪)। যার ফলে শরীরের মাংসপেশী সমূহের রক্ত প্রবাহ দ্রুততর হয়। এর মাধ্যমে পেশী, চামড়া, ত্বক ও শরীরের ভিতরের অরগান সমূহের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। ফলে শরীর সতেজ ও বলবান হয়। এটি অতি প্রাচীন মেডিক্যাল ট্রিটমেন্ট হিসাবে আরব বিশ্বে জনপ্রিয়। ইসলামী শরী‘আতে হিজামার গুরুত্ব অত্যধিক। এর কয়েকটি কারণ আছে। যেমন-
১. হিজামার মধ্যে রয়েছে রোগের নিরাময় (ছহীহ বুখারী, হা/৫৬৮০, ৫৬৯৭; ছহীহ মুসলিম, হা/২২০৫)।
২. রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মি‘রাজে যাওয়ার সময় ফেরেশতাদের সকল দল তাঁকে এবং তাঁর উম্মতকে হিজামা করার কথা বলেন (তিরমিযী, হা/২০৫২, ২০৫৩; ইবনু মাজাহ, হা/৩৪৭৭)।
৩. রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, হিজামা সর্বোত্তম চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং ঔষধের মধ্যে অধিক ফলদায়ক (ছহীহ বুখারী, হা/৫৬৯৬; ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৭৭)।
৪. নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অসুস্থতার (যেমন মাথা ব্যথা) কারণে হিজামা করতে বলতেন (আবূ দাঊদ, হা/৩৮৫৮)।
৫. হিজামা শরীর হতে দূষিত রক্তগুলো বের করে দেয়, সে কারণে রোগের অন্য কোন ঔষধ ব্যবহার না করলেও কোন ক্ষতি হবে না (আবূ দাঊদ, হা/৩৮৫৯; ইবনু মাজহ, হা/৩৪৮৪)।
৬. হিজামা করা নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সুন্নাত। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের মাথায় এবং উভয় বাহুর মধ্যখানে (আবূ দাঊদ, হা/৩৮৫৯; ইবনু মাজাহ, হা/৩৪৮৪), নিতম্বে (আবূ দাঊদ, হা/৩৮৬৩), ঘাড়ের দুই পার্শ্বের উভয় রগে (আবূ দাঊদ, হা/৩৮৬০; তিরমিযী, হা/২০৫১; ইবনু মাজাহ, হা/৩৪৮২) হিজামা করেছেন।
৭. ছাহাবীগণও হিজামা করেছেন এবং এর মাধ্যমে আরোগ্য লাভ করেছেন (ছহীহ মুসলিম, হা/২২০৫)। অতএব উম্মতে মুহাম্মাদীর উচিত চাঁদের সতের, ঊনিশ এবং একুশ তারিখে হিজামা করা (শারহুস সুন্নাহ, ৬ষ্ঠ খ-, পৃ. ১২৪)। কারণ রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সতের, ঊনিশ ও একুশ তারিখে হিজামা করবে, সে সকল রোগ হতে নিরাপদ থাকবে’ (আবূ দাঊদ, হা/৩৪৬১)।


প্রশ্নকারী : আনোয়ার, রাজশাহী।





প্রশ্ন (৬) : হজ্জের সামর্থ্য বলতে কী বুঝায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫০) : কারো কাছে জমানো টাকা এবং ব্যবসায় বিনিয়োগ করা টাকা মিলে যাকাতের নিছাবের চেয়ে বেশি অর্থ আছে। কিন্তু ঋণ রয়েছে উক্ত অর্থের চেয়ে বেশি। এখন কি তার উপর যাকাত ফরয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : বিভিন্ন ভাষায় রচিত গল্প, নাটক, উপন্যাসের বই বিক্রি করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : শত্রুতার জের ধরে যদি কোন মানুষকে মেরে ফেলার জন্য কোন পয়জন খাওয়ানো হয়, তাহলে জীবন বাঁচানোর জন্য তাবীয ব্যাবহার করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : রামাযান মাসে ওমরাহ করলে হজ্জের নেকী পাওয়া যায়। এই বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ইহুদী-খ্রিষ্টান ও অন্য বিধর্মীরা কি উম্মতে মুহাম্মাদীর দলভুক্ত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : ইমাম আবূ হানিফা (রাহিমাহুল্লাহ) সম্পর্কে কেমন আক্বীদা পোষণ করা উচিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : ইবলীশ শয়তানের আর কোন নাম আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : জনৈক ব্যক্তি আগে মিউজিসিয়ান ছিল। আল্লাহর রহমতে সেগুলো এখন সব বাদ দিয়েছে। কিন্তু আগের কিছু বাদ্যযন্ত্র রয়েছে। সেগুলো বিক্রয় করে প্রাপ্ত অর্থ কল্যাণকর কাজে লাগাতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : ইসলামী শরী‘আতের আলোকে পানি কয় প্রকার ও কী কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : বিভিন্ন ধরনের বৈদ্যুতিক মেশিনের মাধ্যমে কুরবানী পশু যব্হ করা যাবে কি? কেউ যদি এমনভাবে কুরবানী দেয়, তবে উক্ত গোশত খাওয়া হালাল হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : প্রচলিত আছে যে, ‘জিবরীল (আলাইহিস সালাম) বলেছেন, পৃথিবীতে বৃষ্টি হলে কত ফোটা পানি পড়ে, আমি তা গুণতে পারি, কিন্তু যৌবনের ইবাদতের ছওয়াব গুণে শেষ করতে পারি না’। উক্ত বর্ণনা কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ