বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২০ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ‘হিজামা’ একটি ইসলামিক চিকিৎসা ব্যবস্থা। হিজামা অর্থ চোষা বা টেনে নেয়া। এটা এমন এক চিকিৎসা যার মাধ্যমে দূষিত ও ব্যবহৃত রক্ত বের করা হয় (আবূ দাঊদ, হা/৩৮৫৯; ইবনু মাজাহ, হা/৩৪৮৪)। যার ফলে শরীরের মাংসপেশী সমূহের রক্ত প্রবাহ দ্রুততর হয়। এর মাধ্যমে পেশী, চামড়া, ত্বক ও শরীরের ভিতরের অরগান সমূহের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। ফলে শরীর সতেজ ও বলবান হয়। এটি অতি প্রাচীন মেডিক্যাল ট্রিটমেন্ট হিসাবে আরব বিশ্বে জনপ্রিয়। ইসলামী শরী‘আতে হিজামার গুরুত্ব অত্যধিক। এর কয়েকটি কারণ আছে। যেমন-
১. হিজামার মধ্যে রয়েছে রোগের নিরাময় (ছহীহ বুখারী, হা/৫৬৮০, ৫৬৯৭; ছহীহ মুসলিম, হা/২২০৫)।
২. রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মি‘রাজে যাওয়ার সময় ফেরেশতাদের সকল দল তাঁকে এবং তাঁর উম্মতকে হিজামা করার কথা বলেন (তিরমিযী, হা/২০৫২, ২০৫৩; ইবনু মাজাহ, হা/৩৪৭৭)।
৩. রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, হিজামা সর্বোত্তম চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং ঔষধের মধ্যে অধিক ফলদায়ক (ছহীহ বুখারী, হা/৫৬৯৬; ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৭৭)।
৪. নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অসুস্থতার (যেমন মাথা ব্যথা) কারণে হিজামা করতে বলতেন (আবূ দাঊদ, হা/৩৮৫৮)।
৫. হিজামা শরীর হতে দূষিত রক্তগুলো বের করে দেয়, সে কারণে রোগের অন্য কোন ঔষধ ব্যবহার না করলেও কোন ক্ষতি হবে না (আবূ দাঊদ, হা/৩৮৫৯; ইবনু মাজহ, হা/৩৪৮৪)।
৬. হিজামা করা নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সুন্নাত। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের মাথায় এবং উভয় বাহুর মধ্যখানে (আবূ দাঊদ, হা/৩৮৫৯; ইবনু মাজাহ, হা/৩৪৮৪), নিতম্বে (আবূ দাঊদ, হা/৩৮৬৩), ঘাড়ের দুই পার্শ্বের উভয় রগে (আবূ দাঊদ, হা/৩৮৬০; তিরমিযী, হা/২০৫১; ইবনু মাজাহ, হা/৩৪৮২) হিজামা করেছেন।
৭. ছাহাবীগণও হিজামা করেছেন এবং এর মাধ্যমে আরোগ্য লাভ করেছেন (ছহীহ মুসলিম, হা/২২০৫)। অতএব উম্মতে মুহাম্মাদীর উচিত চাঁদের সতের, ঊনিশ এবং একুশ তারিখে হিজামা করা (শারহুস সুন্নাহ, ৬ষ্ঠ খ-, পৃ. ১২৪)। কারণ রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সতের, ঊনিশ ও একুশ তারিখে হিজামা করবে, সে সকল রোগ হতে নিরাপদ থাকবে’ (আবূ দাঊদ, হা/৩৪৬১)।


প্রশ্নকারী : আনোয়ার, রাজশাহী।





প্রশ্ন (২৬): সমাজে বহুলভাবে প্রচলিত আছে এবং বিভিন্ন ডাক্তারও বলে থাকেন যে, স্বামী ও স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ যদি এক হয়, তাহলে তাদের বাচ্চা বিকলাঙ্গ বা প্রতিবন্ধী হয়। এ বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গী কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : হিজড়ারা জিনের সন্তান। এ দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : দাঁতের কোন সমস্যা নেই তবে দাঁতগুলো হলদে। যার কারণে সংকোচবোধ হয়। এমতাবস্থায় স্থায়ীভাবে দাঁতকে সাদা রং করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : আছরের ছালাতে যদি ইমামের সাথে দুই রাক‘আত পায়, তবে বাকী দুই রাক‘আতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য কোন সূরা পড়তে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : আপ্যায়নের উদ্দেশ্যে কাকে দাওয়াত দেয়া বেশি উত্তম? আলেমগণকে, না গরীব-মিসকীনদেরকে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : গ্রাম অঞ্চলে অল্প শিক্ষিত মহিলারা রাগের মাথায় গালি দেয়, ‘আল্লার ঘরের আল্লা আমার কপালে শান্তি দিলা না’ (নাউজুবিল্লাহ)। এই কথা বললে সে কি মুসলিম থাকবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : বান্দার আমল কখন ইবাদতে পরিণত হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : বিভিন্ন ধরনের ঔষধ, খাবার বা অন্যান্য প্যাকেটের সাথে মানুষ বা জীবজন্তুর ছবি দেয়া থাকে। এগুলো থেকে বাঁচার উপায় কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : চীন কর্তৃক হাড় দিয়ে তৈরিকৃত পাত্রে খাওয়া কি জায়েয হবে? চাইনাতে কোন ধরণের হাড় থেকে পাত্রগুলো তৈরি করা হয় সেগুলোর উৎস সম্পর্কে যদি জানা না থাকে, তাহলে সেক্ষেত্রেকরণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : সন্তানের খাৎনা করার সময় মুখে ক্ষীর দেয়া হয়, অনুষ্ঠান করা, গানবাজনা করা এবং গোসল দেয়ার সময় চারপাশে পান রাখা কি শরী‘আত সম্মত?
প্রশ্ন (২২) : ঝাড়-ফুঁক করা কি শরী‘আতে জায়েয? কুরআনের আয়াত লিখে গলায় ঝুলিয়ে রাখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪): বর্ণিত আছে, ‘যে ব্যক্তি রাতে ‘সূরা হা-মীম দুখান’ পড়ে সকালে উঠে, তার জন্য সত্তর হাজার ফেরেশতা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রর্থনা করতে থাকেন (তিরমিযী, হা/২৮৮৮; মিশকাত, হা/২১৪৯)। এ বর্ণনাটি কি বিশুদ্ধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ