উত্তর : ইসলামে সফরের সময় কছর ছালাত (চার রাক‘আতের ছালাতকে দুই রাক‘আতে সংক্ষেপ করা) একটি ‘সুন্নহ’, ওয়াজিব নয়। এটি সুন্নাতে মুওয়াক্কাদা। অধিকাংশ আলেম সফরের ক্ষেত্রে কছর করাকে ‘সুন্নাহ’ হিসাবে নিয়েছেন। ইয়াকূব ইবনু আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে সফর করেছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সফরে কখনো চার রাক‘আত ছালাত পূর্ণ আদায় করেননি; বরং সবসময় দুই রাক‘আত আদায় করতেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/১১০২)। এই হাদীছ থেকে স্পষ্ট হয় যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সবসময় সফরে কছর করতেন, যা তার সুন্নাহর অংশ হিসাবে পরিগণিত। ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ), আবূ বকর, উমার এবং উছমান (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর সাথে সফর করেছি। তারা সবাই সফরে দুই রাক‘আত করে ছালাত আদায় করতেন’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৬৮৭)। এই বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং খোলাফায়ে রাশেদীন সফরে কছর করতেন এবং ছাহাবীরাও এই ‘সুন্নাহ’ অনুসরণ করেছেন।
শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘সফরের সময় কছর ছালাত আদায় করা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাহ এবং এটি আবশ্যিকভাবে পালনীয় নয়, বরং সুন্নাতে মুওয়াক্কাদা। সফরের সময় পূর্ণ চার রাক‘আত আদায় করাও বৈধ, তবে কছর করা উত্তম ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী আমল’(মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১২/২৫৫ পৃ.)। শায়খ ইবনে উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘সফরে চার রাক‘আতের ছালাতকে দুই রাক‘আতে সংক্ষেপ করা সুন্নাহ এবং এটি অবশ্য পালনীয় নয়। পূর্ণ চার রাক‘আত আদায় করা জায়েয, তবে কছর করাই উত্তম’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল ইবনে উছাইমীন, ১৫/২৫২-২৫৫ পৃ.)। সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া বোর্ড কছর ছালাত সম্পর্কে বলে, ‘সফরের সময় চার রাক‘আত ছালাত কছর করে দুই রাক‘আত পড়া সুন্নাতে মুওয়াক্কাদা এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিয়মিত আমল। তবে কেউ যদি পূর্ণ চার রাক‘আত আদায় করতে চান, তবে তা বৈধ; যদিও কছর করাই উত্তম’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়েমাহ, ফৎওয়া নং-৬৮৪০)।
আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) সফরে ছালাত পূর্ণ আদায় করতেন বলে যে বর্ণনা পাওয়া যায় তা সঠিক। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, أَنَّهَا كَانَتْ تُتِمُّ الصَّلَاةَ فِي السَّفَرِ ‘নিশ্চয় তিনি সফরে পূর্ণ ছালাত আদায় করতেন’ (তিরমিযী, হা/৫৪৪; মুছান্নাফু ইবনি আবী শাইবাহ, হা/৮২৭৩, সনদ ছহীহ)। অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে, আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন,
أنَّ الصَّلَاةَ أَوَّلَ ما فُرِضَتْ رَكْعَتَيْنِ، فَأُقِرَّتْ صَلَاةُ السَّفَرِ، وَأُتِمَّتْ صَلَاةُ الحَضَرِ قالَ الزُّهْرِيُّ: فَقُلتُ لِعُرْوَةَ: ما بَالُ عَائِشَةَ تُتِمُّ في السَّفَرِ؟ قالَ: إنَّهَا تَأَوَّلَتْ كما تَأَوَّلَ عُثْمَانُ
‘প্রথম অবস্থায় ছালাত দু’রাক‘আত করে ফরয করা হয় তারপর সফরে ছালাত সে ভাবেই স্থায়ী থাকে এবং মুক্বীম অবস্থায় ছালাত পূর্ণ (চার রাক’আত) করা হয়েছে। যুহ্রী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আমি উরওয়া (রাহিমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (মীনায়) আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) কেন ছালাত পূর্ণ আদায় করতেন?’ তিনি বললেন, ‘উছমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যে ব্যাখ্যা গ্রহণ করেছেন, আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)ও তা গ্রহণ করছেন’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১০২৯)। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘শরহে মুসলিম’ এ এই বর্ণনাটি ব্যাখ্যা করেন এবং বলেন যে, আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) কখনো কখনো সফরে পূর্ণ ছালাত আদায় করেছেন। তবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং অধিকাংশ ছাহাবী সফরে কছর ছালাত আদায় করতেন’ (শরহে মুসলিম, ইমাম নববী, ৫/২০৫-২০৬ পৃ.)।
প্রশ্নকারী : আহনাফ আল-রাফী, বরিশাল।