বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন
উত্তর : নবী করীম (ﷺ) প্রত্যেক রামাযানে দশ দিনের ই‘তিকাফ করতেন। রাসূল (ﷺ) একুশের রাত্রী জাগরণের পর ফরয ছালাত শেষে নির্ধারিত তাঁবুতে প্রবেশ করতেন (ছহীহ বুখারী, হা/২০৪১)। যে বছর তিনি ইন্তিকাল করেন সে বছর তিনি ২০ দিন ই‘তিকাফ করেছিলেন (ছহীহ বুখারী, হা/২০৪৪, ৪৯৯৮)। তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত এই নিয়মই ছিল। এরপর তাঁর স্ত্রীগণও সে দিনগুলোতে ই‘তিকাফ করতেন (ছহীহ বুখারী, হা/২০২৫; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৭১, ১১৭২)। অর্থাৎ ২য় হিজরীতে ছিয়াম ফরয হওয়ার পর থেকে ১১ হিজরীতে মৃত্যুবরণের পূর্ব পর্যন্ত ৯ বছর যাবৎ রাসূল (ﷺ) সকল রামাযানেই শেষ দশকে ই‘তিকাফ করেছেন। মৃত্যুর বছর জীবনের শেষ রামাযানে তিনি ২০ দিন ই‘তিকাফ করেন। শুধু এক বছর স্ত্রীদের উপর ক্রুদ্ধ হয়ে তিনি ই‘তিকাফ করেননি। কিন্তু রামাযানের পরেই শাওয়াল মাসে তার ক্বাযা করেছিলেন (ছহীহ বুখারী, হা/২০৪১, ২০৪৫, ২০৩৪)। জীবনের শেষ বছর বিশ দিন ই‘তিকাফ করার কয়েকটি কারণ বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন, 
১- প্রতি রমাযানে জিবরীল (আলাইহিস সালাম) একবার কুরআন শুনাতেন। কিন্তু যে বছর তিনি মারা যান সে বছর দু’বার কুরআন শুনানোর কারণে ২০ দিন ই‘তিকাফ করেন।
২- তিনি বেশি আমল করার মাধ্যমে আল্লাহর অধিক নৈকট্য লাভ করতে চেয়েছিলেন।
৩- কারো মতে, তিনি ৮ম হিজরীতে মক্কা বিজয়ের সফরকালে ই‘তিকাফ করতে সক্ষম হননি। ফলে তার ক্বাযা স্বরূপ পরবর্তী রামাযানে তিনি ২০ দিন ই‘তিকাফ করেছিলেন (হাকীম, হা/১৬০২; ছহীহ ইবনু খুয়ায়মাহ, হা/২২২৬, সনদ ছহীহ)।

নবী করীম (ﷺ) ছোট আকৃতির তাঁবু পাতার নির্দেশ দিতেন। মসজিদে তার জন্য এটি পাতা হত (ছহীহ মুসলিম, (১১৬৭)। ইবনুল কাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘এ সবকিছু করেছেন যাতে করে ই‘তিকাফের উদ্দেশ্য ও প্রাণ হাছিল হয়। এটি ছিল অজ্ঞ লোকেরা যা করে তথা ই‘তিকাফকে মেলামেশা ও সাক্ষাৎপ্রার্থীদের সাক্ষাৎস্থল হিসাবে গ্রহণ করা এবং তাদের মাঝে খোশ আলাপ জুড়ে দেয়ার এ সবের সম্পূর্ণ বিপরীত। এ ধরণের ই‘তিকাফের একটি রূপ আর নবী করীমর (ﷺ)-এর ই‘তিকাফের আরেকটি রূপ’ (যাদুল মা‘আদ, ২/৯০ পৃ.)। তিনি সারাক্ষণ মসজিদে অবস্থান করতেন। শুধু প্রাকৃতিক প্রয়োজন ছাড়া মসজিদ থেকে বের হতেন না (ছহীহ বুখারী, হা/২০২৯; ছহীহ মুসলিম, হা/২৯৭)। ই‘তিকাফ অবস্থায় নবী করীম (ﷺ) পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করে চলতেন। তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর কামরার দিকে মাথা ঢুকিয়ে দিতেন। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) তাঁর মাথা ধুয়ে চিরুনি করে দিতেন (ছহীহ বুখারী, হা/২০২৮; ছহীহ মুসলিম, হা/২৯৮)। এমনকি মাথা ধুয়েও দিতেন (ছহীহ বুখারী, হা/৩০১, ২০৩১; ছহীহ মুসলিম, হা/২৯৭)।

নবী করীম (ﷺ) ইতিকাফে থাকাবস্থায় কোন রোগী দেখতে যেতেন না, কোন জানাযায় শরীক হতেন না। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, ‘ই‘তিকাফকারীর জন্য সুন্নত হল- রোগী দেখতে না যাওয়া, জানাযার ছালাতে না যাওয়া, কোন নারীকে স্পর্শ না করা ও মেলামেশা না করা এবং একান্ত যে প্রয়োজনে বের না হলে নয়; এমন প্রয়োজন ছাড়া বের না হওয়া’ (আবূ দাঊদ, হা/২৪৭৩, সনদ ছহীহ)। ‘কোন নারীকে স্পর্শ না করা ও মেলামেশা না করা’-এর দ্বারা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) সহবাস বুঝাতে চেয়েছেন (নাইলুল আওত্বার, ৪/৩৫৭ পৃ.)। অতএব নবী করীম (ﷺ)-এর ই‘তিকাফ ছিল সহজতা ও কাঠিন্যবিহীন। গোটা সময় ছিল আল্লাহর যিকির, তাঁর ইবাদত ও লাইলাতুল ক্বদরের সন্ধানে মশগুল (বিস্তারিত দ্র. : ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১২৬৫৮; যাদুল মা‘আদ, ২/৯০)।

প্রশ্নকারী : মেছবাহুল ইসলাম, নারায়গঞ্জ।





প্রশ্ন (৫) : কোন্ কোন্ রক্ত বের হলে ছিয়াম ভেঙ্গে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : বিবাহের অনুষ্ঠানে বা খাৎনার অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিয়ে টাকা নেয়ার শারয়ী বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : রাসূল (ﷺ) ফরয ছালাতের পর যে সমস্ত যিকির ও দু‘আ করতেন তা কি সুন্নাত ও নফল ছালাতের পর করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : এক ব্যক্তি ইবাদত-বন্দেগীতে খুব ভাল এবং সুন্নাত অনুসরণে অধিক আগ্রহী। কিন্তু কিছু ওযর থাকার কারণে সে বিয়ে করতে চাচ্ছে না। বরং বিয়ে করলে কাবীরা গুনাহ করার সম্ভাবনা বেশি। এখন এই ভাইয়ের চেয়ে যিনি বিয়ে করেছেন তিনিই কি আল্লাহর কাছে উত্তম হবেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : ছালাতে ‘জালসায়ে ইস্তিরাহা’ করার বিধান কী? রাসূল (ﷺ) কি এটি সবসময় করতেন? কিছু আলেম বলছেন যে, রাসূল (ﷺ) যখন বৃদ্ধ হন তখন তিনি বয়সের ভারে সিজদাহ হতে দাঁড়াতে না পেরে একটু বসে তারপর হাতের উপর ভর করে উঠতেন। আবার কিছু বলছেন, রাসূল (ﷺ) এটি সবসময় করতেন। এক্ষণে এ বিষয়ে সঠিক ফায়ছালা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : যে সব প্রতিষ্ঠানে নিজেকে সূদের হিসাব করতে হয়, সে সব প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করে উপার্জিত অর্থ হালাল হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : কুরবানীর দিন কুরবানীর পশু যব্হ করার আগ পর্যন্ত না খেয়ে থাকার কোন বিধান আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : মাজা বা হাঁটুতে ব্যথা বা এক্সিডেন্টে পা ভাঙ্গার কারণে রুকূ‘ ও সিজদা করতে অক্ষম ব্যক্তি চেয়ারে বসে ছালাত আদায় করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : যদি কোন ব্যক্তি ত্বাওয়াফ করার সময় সন্দেহে পড়ে যে কয় চক্কর হল, তাহলে কি সাহু সেজদা দিবে? কারণ বায়তুল্লাহ্‌কে ত্বাওয়াফ করা ছালাততুল্য। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : পুরুষরা হাতে-পায়ে মেহেদি লাগাতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩): অপচয় ও অপব্যয় এর মধ্যে কোন পার্থক্য আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : হজ্জের সামর্থ্য না থাকলে ওমরাহ করা যাবে কি? জনৈক ব্যক্তি বলেন, কারও যদি হজ্জের সামর্থ্য না থাকে, তবে সে কখনও ওমরাহ করতে পারবে না। কথাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ