রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:২০ অপরাহ্ন
উত্তর : নবী করীম (ﷺ) প্রত্যেক রামাযানে দশ দিনের ই‘তিকাফ করতেন। রাসূল (ﷺ) একুশের রাত্রী জাগরণের পর ফরয ছালাত শেষে নির্ধারিত তাঁবুতে প্রবেশ করতেন (ছহীহ বুখারী, হা/২০৪১)। যে বছর তিনি ইন্তিকাল করেন সে বছর তিনি ২০ দিন ই‘তিকাফ করেছিলেন (ছহীহ বুখারী, হা/২০৪৪, ৪৯৯৮)। তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত এই নিয়মই ছিল। এরপর তাঁর স্ত্রীগণও সে দিনগুলোতে ই‘তিকাফ করতেন (ছহীহ বুখারী, হা/২০২৫; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৭১, ১১৭২)। অর্থাৎ ২য় হিজরীতে ছিয়াম ফরয হওয়ার পর থেকে ১১ হিজরীতে মৃত্যুবরণের পূর্ব পর্যন্ত ৯ বছর যাবৎ রাসূল (ﷺ) সকল রামাযানেই শেষ দশকে ই‘তিকাফ করেছেন। মৃত্যুর বছর জীবনের শেষ রামাযানে তিনি ২০ দিন ই‘তিকাফ করেন। শুধু এক বছর স্ত্রীদের উপর ক্রুদ্ধ হয়ে তিনি ই‘তিকাফ করেননি। কিন্তু রামাযানের পরেই শাওয়াল মাসে তার ক্বাযা করেছিলেন (ছহীহ বুখারী, হা/২০৪১, ২০৪৫, ২০৩৪)। জীবনের শেষ বছর বিশ দিন ই‘তিকাফ করার কয়েকটি কারণ বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন, 
১- প্রতি রমাযানে জিবরীল (আলাইহিস সালাম) একবার কুরআন শুনাতেন। কিন্তু যে বছর তিনি মারা যান সে বছর দু’বার কুরআন শুনানোর কারণে ২০ দিন ই‘তিকাফ করেন।
২- তিনি বেশি আমল করার মাধ্যমে আল্লাহর অধিক নৈকট্য লাভ করতে চেয়েছিলেন।
৩- কারো মতে, তিনি ৮ম হিজরীতে মক্কা বিজয়ের সফরকালে ই‘তিকাফ করতে সক্ষম হননি। ফলে তার ক্বাযা স্বরূপ পরবর্তী রামাযানে তিনি ২০ দিন ই‘তিকাফ করেছিলেন (হাকীম, হা/১৬০২; ছহীহ ইবনু খুয়ায়মাহ, হা/২২২৬, সনদ ছহীহ)।

নবী করীম (ﷺ) ছোট আকৃতির তাঁবু পাতার নির্দেশ দিতেন। মসজিদে তার জন্য এটি পাতা হত (ছহীহ মুসলিম, (১১৬৭)। ইবনুল কাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘এ সবকিছু করেছেন যাতে করে ই‘তিকাফের উদ্দেশ্য ও প্রাণ হাছিল হয়। এটি ছিল অজ্ঞ লোকেরা যা করে তথা ই‘তিকাফকে মেলামেশা ও সাক্ষাৎপ্রার্থীদের সাক্ষাৎস্থল হিসাবে গ্রহণ করা এবং তাদের মাঝে খোশ আলাপ জুড়ে দেয়ার এ সবের সম্পূর্ণ বিপরীত। এ ধরণের ই‘তিকাফের একটি রূপ আর নবী করীমর (ﷺ)-এর ই‘তিকাফের আরেকটি রূপ’ (যাদুল মা‘আদ, ২/৯০ পৃ.)। তিনি সারাক্ষণ মসজিদে অবস্থান করতেন। শুধু প্রাকৃতিক প্রয়োজন ছাড়া মসজিদ থেকে বের হতেন না (ছহীহ বুখারী, হা/২০২৯; ছহীহ মুসলিম, হা/২৯৭)। ই‘তিকাফ অবস্থায় নবী করীম (ﷺ) পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করে চলতেন। তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর কামরার দিকে মাথা ঢুকিয়ে দিতেন। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) তাঁর মাথা ধুয়ে চিরুনি করে দিতেন (ছহীহ বুখারী, হা/২০২৮; ছহীহ মুসলিম, হা/২৯৮)। এমনকি মাথা ধুয়েও দিতেন (ছহীহ বুখারী, হা/৩০১, ২০৩১; ছহীহ মুসলিম, হা/২৯৭)।

নবী করীম (ﷺ) ইতিকাফে থাকাবস্থায় কোন রোগী দেখতে যেতেন না, কোন জানাযায় শরীক হতেন না। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, ‘ই‘তিকাফকারীর জন্য সুন্নত হল- রোগী দেখতে না যাওয়া, জানাযার ছালাতে না যাওয়া, কোন নারীকে স্পর্শ না করা ও মেলামেশা না করা এবং একান্ত যে প্রয়োজনে বের না হলে নয়; এমন প্রয়োজন ছাড়া বের না হওয়া’ (আবূ দাঊদ, হা/২৪৭৩, সনদ ছহীহ)। ‘কোন নারীকে স্পর্শ না করা ও মেলামেশা না করা’-এর দ্বারা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) সহবাস বুঝাতে চেয়েছেন (নাইলুল আওত্বার, ৪/৩৫৭ পৃ.)। অতএব নবী করীম (ﷺ)-এর ই‘তিকাফ ছিল সহজতা ও কাঠিন্যবিহীন। গোটা সময় ছিল আল্লাহর যিকির, তাঁর ইবাদত ও লাইলাতুল ক্বদরের সন্ধানে মশগুল (বিস্তারিত দ্র. : ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১২৬৫৮; যাদুল মা‘আদ, ২/৯০)।

প্রশ্নকারী : মেছবাহুল ইসলাম, নারায়গঞ্জ।





প্রশ্ন (৩৬) : ছালাতের দু’টি বৈঠক। প্রথম বৈঠকে শুধু আত্তাহিইয়াতু পড়তে হয়। কিন্তু আমার প্রশ্ন হল, অনেক সময় ইমামের শেষ বৈঠক আমার প্রথম বৈঠক হয়। তাহলে দীর্ঘ সময় আমি কি শুধু আত্তাহিইয়াতু পড়েই বসে থাকব, না-কি অন্য দু‘আ পড়ব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : কিভাবে হাদীছের ছহীহ ও যঈফ নির্ধারণ করা হয়েছে? জনৈক আলেম বলেন, তাঁরা রাবীদের সৎ‌ কিংবা অসৎ, দুর্বল, হাদীছ ভুলে যাওয়া ইত্যাদি কারণে হাদীছকে যঈফ বলা হয়। তার দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : পিরিয়ড হওয়ার দু’একদিন আগে থেকে পেটে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। এজন্য দাঁড়িয়ে, বসে এমনকি শুয়ে থাকলেও খুব যন্ত্রণা হয়। এজন্য ছালাত আদায় কর সম্ভব হয় না। এভাবে ছালাত ছেড়ে দিলে পাপ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : সূরা ইয়াসীন ও ত্বা-হা পাঠের ফযীলত বর্ণনায় বলা হয় যে, আল্লাহ তা‘আলা আসমান ও যমীন সৃষ্টির এক হাযার বছর পূর্বে সূরা ‘ত্বা-হা’ ও ‘ইয়াসীন’ পাঠ করলেন। তখন ফেরেশতারা শুনে বললেন, ধন্য সেই জাতি, যাদের উপর এটা নাযিল হবে, ধন্য সেই পেট যে সেটা ধারণ করবে এবং ধন্য সেই মুখ যে সেটা উচ্চারণ করবে (দারেমী, হা/৩৪১৪; মিশকাত, হা/২১৪৮; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/২০৪৫, ৫/১৮ পৃ.)। বর্ণনাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : ইসলামে বোবা জিনের অস্তিত্ব আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : খাৎনা করার সময় মুখে মিষ্টি দেয়া হয়, অনুষ্ঠান করা, গানবাজনা করা এবং গোসল দেয়ার সময় বিভিন্ন নিয়ম পালন করা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : জনৈক আলেম বলেন, ‘কোন ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় যতবার মসজিদে যাবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে ততবার মেহমানদারীর সামগ্রী তৈরি করে রাখেন’। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি কুরবানী দিবেন, না-কি আগে ঋণ পরিশোধ করবেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : ‘দাতা ব্যক্তি আল্লাহর নিকটবর্তী, জান্নাতের নিকটবর্তী, মানুষেরও নিকটবর্তী, জাহান্নাম হতে দূরবর্তী। আর কৃপণ ব্যক্তি আল্লাহ হতে দূরবর্তী, জান্নাত হতে দূরবর্তী, মানুষ হতেও দূরবর্তী, নিকটবর্তী। নিশ্চয় মূর্খ দানশীল কৃপণ জ্ঞানী অপেক্ষা আল্লাহ্র নিকট অধিক প্রিয়’- মর্মে বর্ণনাটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : যে সব হাদীছে ভারত বা হিন্দে যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : ‘আপনাকে প্রেরণের উদ্দেশ্য না হলে আমি বিশ্বমণ্ডল সৃষ্টি করতাম না’ মর্মে প্রচলিত বর্ণনাট কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০): সাহু সিজদার সঠিক পদ্ধতি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ