বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ‘কুরআনের মত হাদীছও অহীর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উপর অবতীর্ণ হয়েছে। এটা বহু আয়াত ও হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত (ছহীহ বুখারী, হা/৫২১; আবূ দাঊদ, হা/২৯৪৯)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আল্লাহ আপনার প্রতি কিতাব ও হিকমাত অবতীর্ণ করেছেন এবং আপনি যা জানতেন না, তা আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন। আর তোমার প্রতি আল্লাহর মহা অনুগ্রহ রয়েছে’ (সূরা আন-নিসা : ১১৩; সূরা আলি ‘ইমরান : ১৬৪)। উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) ও ইমাম ত্বাবারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আমি কুরআনুল কারীমের অগণিত বিশেষজ্ঞের নিকটে শুনেছি, তাঁরা বলেছেন, এখানে ‘কিতাব’ বলতে কুরআনুল কারীমকে বুঝানো হয়েছে আর ‘হিকমাত’ বলতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাতকে বুঝানো হয়েছে’ (আহকামুল কুরআন, ১/২৮ পৃ.; আর-রিসালাহ, পৃ. ৪৫; তাফসীরে ত্বাবারী, ১/৫৫৭-৫৫৮ পৃ.)।

শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘কুরআনের মত হাদীছও অহীর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উপর অবতীর্ণ হয়েছে। পার্থক্য শুধু এতটুকুই যে, হাদীছকে কুরআনের মত তিলাওয়াত করা হয় না’ (মাজমূঊল ফাতাওয়া, ১৩/৩৬৩ পৃ.)। খাত্বীব আল-বাগদাদী (রাহিমাহুল্লাহ) ও হাফিয ইবনু হাজার আসক্বালানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আল্লাহর আদেশে যেভাবে জিবরীল (আলাইহিস সালাম) নবী (ﷺ)-এর নিকট কুরআন নিয়ে অবতরণ করতেন, ঠিক এভাবেই তাঁর উপর সুন্নাত নিয়েও অবতরণ করতেন’ (আল-কিফায়াহ, পৃ. ১২; ফাৎহুল বারী, ১৩/২৯১ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৭৭২৪৩)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,  اِنۡ  ہُوَ   اِلَّا  وَحۡیٌ   یُّوۡحٰی-وَ مَا یَنۡطِقُ عَنِ  الۡہَوٰی ‘আর তিনি মনগড়া কোন কথা বলেন না। তা তো অহী, যা তাঁর প্রতি অহী করা হয়’ (সূরা আন-নাজম : ৩-৪)।

কুরআন ও ছহীহ হাদীছের মধ্যে কতিপয় পার্থক্য রয়েছে। যেমন, (১) কুরআন অহীয়ে মাতলূ আর হাদীছ অহীয়ে গায়রে মাতলূ। (২) কুরআন মু‘জিযাসমূহের মধ্যে একটি, কিন্তু হাদীছ তা নয়। (৩) কুরআনের শব্দ ও অর্থ দু’টিই আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে জিবরীল (আলাইহিস সালাম)-এর মাধ্যমে নাযিলকৃত। পক্ষান্তরে হাদীছের অর্থ আল্লাহর কিন্তু শব্দ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর। (৪) কুরআন ইসলামী শরী‘আতের প্রথম উৎস, আর ছহীহ হাদীছ ইসলামী শরী‘আতের দ্বিতীয় উৎস। (৫) কুরআন ছালাতের মধ্যে তিলাওয়াত করা হয় কিন্তু হাদীছ ছালাতে তিলাওয়াত করা হয় না। (৬) কুরআন তিলাওয়াত করলে প্রতিটি অক্ষরে দশ-দশ ছওয়াব পাওয়া যায়, কিন্তু হাদীছ পাঠে কোন নির্ধারিত ছাওয়াব পাওয়া যায় না। (৭) কুরআন তিলাওয়াতের জন্য পবিত্রতা একটি প্রাথমিক শর্ত কিন্তু হাদীছ পাঠের জন্য পবিত্রতা শর্ত নয় (ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-৬৮৮০৫, ৭২৭৯৮)।


প্রশ্নকারী : মাহমূদ, বিরল, দিনাজপুর।




প্রশ্ন (৩৪) : হস্তমৈথুন জায়েয মর্মে নিম্নের বর্ণনা উল্লেখ করা হয়। এক যুবক ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে জিজ্ঞেস করল, আমি যুবক মানুষ, আমি তীব্র যৌন উত্তেজনা অনুভব করি। আমি কি হস্তমৈথুন করে বীর্যপাত করতে পারব? তিনি বলেন, এটা যেনা করার চেয়ে উত্তম এবং তার চেয়েও উত্তম হল কোন দাসীকে বিবাহ করা (বায়হাক্বী, আস-সুনানুল কুবরা হা/১৪৫১৩)। বর্ণনাটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : জনৈক বক্তা বলেন, পাঁচটি বিষয় ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত- কুরআনের মুছহাফের দিকে দৃষ্টি দেয়া, কা‘বা, মাতা-পিতা, যমযম এবং আলেমের চেহারার দিকে দৃষ্টি দেয়া। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশে কেউ হাযারে ২০ টাকা খরচ দিয়ে পাঠালে, টাকা তোলার পর একাউন্টে ২/৩ টাকা থেকে যায়, কোম্পানি পুরো ২০ টাকা কাটে না। এই অবশিষ্ট টাকা গ্রহণ হালাল হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : মহিলার দেহ থেকে লোম তুলে ফেলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : কেউ যদি বলে, ‘আমি মানত করেছি- তুমি যদি আমার স্বামীকে ‘তুমি’ বলে সম্বোধন কর, তাহলে আমি কাবিনের দেনমোহরের অর্ধেক টাকা দান করব’। এরপর যদি তুমি তাকে ‘তুমি’ বলে সম্বোধন করে, তাহলে কি সেই টাকা দান করা তার জন্য আবশ্যক হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : জনৈক খত্বীব বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মিলনের সময় পর্দা না করলে নাকি ফেরেশতাগণ লজ্জায় চলে যায় এবং শয়তান এসে হাযির হয়। তাদের সন্তান হলে শয়তান তাতে ভাগ বসায়। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : অফিসে কাজ করার সময় বিনা-অনুমতিতে নিজের কাজে ব্যস্ত থাকা বা সময় অপচয় করার হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : জনৈক আলেম বলেন, রাতে ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ার পর যে ব্যক্তি নিম্নের দু‘আটি পাঠ করবে, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। যদি সে দু‘আ করে, তবে তার দু‘আ কবুল হবে। আর সে যদি উঠে ওযয় করে ছালাত আদায় করে, তাহলে তার ছালাত কবুল হবে। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক?   لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ الْعَلِىِّ الْعَظِيمِ رَبِّ اغْفِرْ لِى - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : এ্যানিমেশন কার্টুন দেখা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : বর্তমানে ফেসবুকে বিভিন্ন পণ্য বিক্রয়ের মধ্য দিয়ে কূপনের মাধ্যমে লটারী ড্র করে উমরাহ পালন, মোরটসাইকেল, এসি, ফ্রিজসহ আরো অনেক কিছু উপহার দেয়া হয়। এগুলোতে অংশগ্রহণ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : সিল্ক বা রেশমের কাপড় পুরুষদের জন্য হারাম। কিন্তু তা কি ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : একজন স্বামী রাগের মাথায় বলে- ‘তোমাকে ডিভোর্স, তোমার ১৪ গুষ্টিকে ডিভোর্স’। কিন্তু স্বামীর ত্বালাক্ব দেয়ার কোন নিয়ত (ইচ্ছা) ছিল না। সে কথাগুলো শুধু রাগ ও গালির ভাষায়, ত্বালাক্বের উদ্দেশ্য ছাড়া উচ্চারণ করেছে। স্বামী জানে যে, ‘তোমাকে ত্বালাক্ব দিলাম’- এই কথা নিয়তসহ বললে তবেই ত্বালাক্ব হয়। ইংরেজিতে ডিভোর্স, বললে হয় না। এখন প্রশ্ন হলো- এই অবস্থায় স্বামীর উক্তি ‘তোমাকে ডিভোর্স, তোমার ১৪ গুষ্টিকে ডিভোর্স’। বলার মাধ্যমে তাদের মধ্যে ত্বালাক্ব সংঘটিত হয়েছে কি না? যদি হয়, তাহলে কয়টা হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ