শুক্রবার, ১৯ Jun ২০২৬, ০২:৩১ পূর্বাহ্ন
উত্তর : শ্বশুর-শাশুড়িকে বাবা-মা ডাকা নিষেধ নয়; বরং এটি সৌহার্দ্য ও উত্তম শিষ্টাচারের নিদর্শন। পবিত্র কুরআনে জন্মদাত্রী মা ছাড়া অন্য মহিলাকে ‘মা’ বলার কথা এসেছে। যেমন রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রীদেরকে মুমিনদের মা বলা হয়েছে (সূরা আল-আহযাব : ৬; সূরা ইউসুফ : ৯৯-১০০)। অনুরূপভাবে নিজ জন্মদাতা পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলার কথাও এসেছে (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৩৩; সূরা আল-হজ্জ : ৭৮)। নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রীগণ জননী না হয়েও মুমিনদের মাতা। অনুরূপভাবে তিনিও মুমিনদের জনক না হয়েও ‘পিতা’। মহান আল্লাহ বলেন, اَلنَّبِیُّ اَوۡلٰی بِالۡمُؤۡمِنِیۡنَ مِنۡ اَنۡفُسِہِمۡ وَ اَزۡوَاجُہٗۤ اُمَّہٰتُہُمۡ ‘নবী করীম মুমিনদের নিকট তাদের নিজেদের অপেক্ষা ঘনিষ্ঠ এবং তার পত্নীরা তাদের মাতা’ (সূরা আল-আহযাব : ৬)। উক্ত আয়াতের اَلنَّبِیُّ اَوۡلٰی بِالۡمُؤۡمِنِیۡنَ এর ব্যাখ্যায় মুফাসসিরগণ বলেন, وهو أب للمؤمنين ‘নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুমিনদের পিতা’ (তাফসীরে সা‘আদী, পৃ. ৬৫৯; তাফসীরে ইবনু কাছীর, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ৩৮১; ফাৎহুল ক্বাদীর, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ২০)। অন্যদিকে প্রকৃত সন্তান না হয়েও মহানবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে ‘হে আমার সন্তান!’ বলে সম্বোধন করতেন (ছহীহ মুসলিম, হা/২১৫১)।

অতএব শ্বশুর-শাশুড়িকে আব্বা-আম্মা বলে ডাকাতে কোন দোষ নেই। তবে কিছু হাদীছে অন্যকে ‘বাবা’ বলতে নিষেধ করা হয়েছে। যেমন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, مَنِ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ وَهْوَ يَعْلَمُ فَالْجَنَّةُ عَلَيْهِ حَرَامٌ ‘যে ব্যক্তি পরের বাবাকে নিজের বাবা বলে, অথচ সে জানে যে, সে তার বাবা নয়, তাহলে সে ব্যক্তির জন্য জান্নাত হারাম’ (ছহীহ বুখারী, হা/৪৩২৬, ৬৭৬৬; ছহীহ মুসলিম, হা/৬৩; মিশকাত, হা/৩৩১৪)। মূলত এ জাতীয় হাদীছ দ্বারা উদ্দেশ্য হল, বংশপরিচয় প্রকাশ করার ক্ষেত্রে আসল পরিচয় গোপন রেখে নিজের বাবার নাম উল্লেখ না করে, অন্যের নাম উল্লেখ করা। যেমন- আইডি কার্ড, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন অথবা এমন কোন দলীল বা স্থান যেখানে কোন ব্যক্তির জন্মদাতা বাবার নাম উল্লেখ করা যরূরী হয়, সেখানে যদি অন্য কারো নাম উল্লেখ করা হয়, তাহলে তা হারাম হবে। আর যেহেতু শ্বশুর-শাশুড়িকে বাবা-মা ডাকার দ্বারা বংশপরিচয় গোপন হয় না, সেহেতু শ্বশুর-শাশুড়িকে বাবা-মা বলে আহ্বান করাতে কোন সমস্যা নেই। তবে কেউ যদি নিজ পিতা-মাতার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে শ্বশুর-শাশুড়িকে নিজ পিতা-মাতার জায়গায় স্থান দেয়, তাহলে সেটা হারাম হবে।


প্রশ্নকারী : সাদ্দাম হোসেন, দিনাজপুর।




প্রশ্ন (১৮) : জনৈক বক্তা বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘আমি প্রত্যেক তাক্বওয়াশীল ব্যক্তির দাদা’। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : পিতা মারা যাওয়ার পরে ছেলেরা জানতে পেরেছে যে, তিনি ফুফুকে জমি দেননি। এখন আমার ফুফুকে কি জমি দেয়া লাগবে, না-কি ফুফুর কাছ থেকে মাফ চেয়ে নিলেই হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : বাবা-মা পরিবারের বড় ছেলের তুলনায় ছোট ভাই-বোনদেরকে সবকিছুই বেশি দিয়ে থাকেন। তারা মোটেও ইনছাফ করেন না। এজন্য কি তাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে না আল্লাহ তা‘আলার কাছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : মাইয়েতকে কবর দেয়ার সময় কবরের চার পাশে চারটি খেজুরের ডাল পোঁতা হয় এবং চার কুল পড়া হয়। এর কোন দলীল আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : খুলা তালাক্ব কাকে বলেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : ‘তাওহীদে আসমা ওয়াছ ছিফাত’ কাকে বলে এবং এর দাবি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : পাপ কাজের জন্য কি মানুষ রিযিক থেকে বঞ্চিত হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : কোন ব্যক্তি দু‘আ চাইলে তাকে কী বলে দু‘আ করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : ইসলামে বোবা জিনের অস্তিত্ব আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯): এক মহিলা কোন মাহরাম পুরুষ ছাড়া অন্যান্য মহিলার সাথে গিয়ে হজ্জ করে ফেলেছে। তার সেই হজ্জ কী বিশুদ্ধ হয়েছে? না-কি পুনরায় হজ্জ আদায় করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : ‘যে ব্যক্তি কোন হাজীকে চল্লিশ কদম এগিয়ে দিবে, অতঃপর আলিঙ্গন  করে তাকে বিদায় করবে, উভয়ে পৃথক হওয়ার পূর্বেই আল্লাহ তার গোনাহ মাফ করে দিবেন’ বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : জনৈক আলেম বলেন, রাসূল (ﷺ) ছালাতে যখন সিজদাহ থেকে দাঁড়াতেন তখনও হস্ত উত্তোলন করতেন। এমনকি প্রত্যেক উঠা বসায় তিনি এরূপ করতেন। তার দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ