বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন
উত্তর : শ্বশুর-শাশুড়িকে বাবা-মা ডাকা নিষেধ নয়; বরং এটি সৌহার্দ্য ও উত্তম শিষ্টাচারের নিদর্শন। পবিত্র কুরআনে জন্মদাত্রী মা ছাড়া অন্য মহিলাকে ‘মা’ বলার কথা এসেছে। যেমন রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রীদেরকে মুমিনদের মা বলা হয়েছে (সূরা আল-আহযাব : ৬; সূরা ইউসুফ : ৯৯-১০০)। অনুরূপভাবে নিজ জন্মদাতা পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলার কথাও এসেছে (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৩৩; সূরা আল-হজ্জ : ৭৮)। নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রীগণ জননী না হয়েও মুমিনদের মাতা। অনুরূপভাবে তিনিও মুমিনদের জনক না হয়েও ‘পিতা’। মহান আল্লাহ বলেন, اَلنَّبِیُّ اَوۡلٰی بِالۡمُؤۡمِنِیۡنَ مِنۡ اَنۡفُسِہِمۡ وَ اَزۡوَاجُہٗۤ اُمَّہٰتُہُمۡ ‘নবী করীম মুমিনদের নিকট তাদের নিজেদের অপেক্ষা ঘনিষ্ঠ এবং তার পত্নীরা তাদের মাতা’ (সূরা আল-আহযাব : ৬)। উক্ত আয়াতের اَلنَّبِیُّ اَوۡلٰی بِالۡمُؤۡمِنِیۡنَ এর ব্যাখ্যায় মুফাসসিরগণ বলেন, وهو أب للمؤمنين ‘নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুমিনদের পিতা’ (তাফসীরে সা‘আদী, পৃ. ৬৫৯; তাফসীরে ইবনু কাছীর, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ৩৮১; ফাৎহুল ক্বাদীর, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ২০)। অন্যদিকে প্রকৃত সন্তান না হয়েও মহানবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে ‘হে আমার সন্তান!’ বলে সম্বোধন করতেন (ছহীহ মুসলিম, হা/২১৫১)।

অতএব শ্বশুর-শাশুড়িকে আব্বা-আম্মা বলে ডাকাতে কোন দোষ নেই। তবে কিছু হাদীছে অন্যকে ‘বাবা’ বলতে নিষেধ করা হয়েছে। যেমন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, مَنِ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ وَهْوَ يَعْلَمُ فَالْجَنَّةُ عَلَيْهِ حَرَامٌ ‘যে ব্যক্তি পরের বাবাকে নিজের বাবা বলে, অথচ সে জানে যে, সে তার বাবা নয়, তাহলে সে ব্যক্তির জন্য জান্নাত হারাম’ (ছহীহ বুখারী, হা/৪৩২৬, ৬৭৬৬; ছহীহ মুসলিম, হা/৬৩; মিশকাত, হা/৩৩১৪)। মূলত এ জাতীয় হাদীছ দ্বারা উদ্দেশ্য হল, বংশপরিচয় প্রকাশ করার ক্ষেত্রে আসল পরিচয় গোপন রেখে নিজের বাবার নাম উল্লেখ না করে, অন্যের নাম উল্লেখ করা। যেমন- আইডি কার্ড, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন অথবা এমন কোন দলীল বা স্থান যেখানে কোন ব্যক্তির জন্মদাতা বাবার নাম উল্লেখ করা যরূরী হয়, সেখানে যদি অন্য কারো নাম উল্লেখ করা হয়, তাহলে তা হারাম হবে। আর যেহেতু শ্বশুর-শাশুড়িকে বাবা-মা ডাকার দ্বারা বংশপরিচয় গোপন হয় না, সেহেতু শ্বশুর-শাশুড়িকে বাবা-মা বলে আহ্বান করাতে কোন সমস্যা নেই। তবে কেউ যদি নিজ পিতা-মাতার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে শ্বশুর-শাশুড়িকে নিজ পিতা-মাতার জায়গায় স্থান দেয়, তাহলে সেটা হারাম হবে।


প্রশ্নকারী : সাদ্দাম হোসেন, দিনাজপুর।




প্রশ্ন (৪১) : বর্তমানে আহলেহাদীছদেরকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থানে তাদের মসজিদ ভেঙ্গে দেয়া হচ্ছে, বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। আহলেহাদীছদের পরিচয় এবং তাদের মৌলিক নিদর্শনগুলো কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : কুরআনের তরজমা পড়লে কি কুরআন পড়ার ছাওয়াব হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : বাবার মৃত্যুর পর তাঁর সম্পদ আমি, আমার বোনেরা ও আমার মা নিয়মানুযায়ী ভাগ করে নিয়েছি। এক বছর পর আমার মা মারা গেলেন। এখন মায়ের সম্পত্তি কে পাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : মৃত্যুর পর তার পক্ষ থেকে হজ্জ ও ছাদাক্বাহ করলে মৃতের কোন উপকার হয় কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) কোন্ কোন্ শস্যের যাকাত প্রদান করা ফরয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৯) : নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, ‘তাঁর উম্মতকে রামাযান মাসের শেষ রাতে মাফ করা হয়। জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)! এটা কি ক্বদরের রাত্রি? তিনি বললেন, না; বরং এই কারণে যে, কর্মচারীর বেতন দেয়া হয়, যখন সে তার কর্ম শেষ করে (আহমাদ, হা/৭৯০৪; মিশকাত, হা/১৯৬৮) মর্মে বর্ণনাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ফলের গাছ রয়েছে। উক্ত গাছের ফল খাওয়া হালাল হবে কি? উল্লেখ্য, ফল কে নিয়েছে বা কে খেয়েছে কর্তৃপক্ষ কোন খবর নেয় না। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : মসজিদে বা মসজিদের আঙ্গিনায় ফুটবল, ক্রিকেট, বলিবল ইত্যাদি খেলা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : মৃত ব্যক্তির নামে কুরবানী করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : মানুষের শরীরে পা লাগলে অথবা বই হাত থেকে পড়ে গেলে উঠিয়ে সালাম করতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : কোন মেয়ের সাথে বিয়ে ঠিক হওয়ার পর বিয়ে করার পূর্বে তার সাথে ঘুরতে যাওয়া বা হোটেলে খেতে যাওয়া কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : ঔষধ দিয়ে পোকা-মাকড়, পিঁপড়া, মাছি, তেলাপোকা মারা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ