বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন
উত্তর : মালিক ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে অগ্রীম যে সিকিউরিটি নিয়ে থাকে, তা দুই প্রকার। যথা: (১) অগ্রীম ভাড়া হিসাবে ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে এককালীন অ্যাডভান্স সিকিউরিটি মানি গ্রহণ করা। যা পরবর্তীতে প্রতি মাসে কিস্তি পদ্ধতিতে চুক্তির শেষ মেয়াদ পর্যন্ত কিছু কিছু করে ভাড়া হিসাবে কাটা হয়। এতে কোন সমস্যা নেই। মূলত এখানে ভাড়ার কিছু অংশ অগ্রীম নেয়া হয়ে থাকে। যেমন বিলম্ব করে ভাড়া দেয়া জায়েয, ঠিক তেমনি অগ্রীম ভাড়া দেয়াও জায়েয। একই সঙ্গে ৭-৮ বছরের ভাড়া গ্রহণ করা বিশুদ্ধ এবং উভয়ের সম্মতিক্রমে সেটি কিস্তি পদ্ধতিতে পরিশোধ করাও জায়েয (মানারুস সাবীল, ১/৪২৩ পৃ.)।

(২) অগ্রীম ভাড়া হিসাবে গ্রহণ না করা। বরং তা সিকিউরিটি মানি হিসাবে গ্রহণ করা। মালিক যামানত হিসাবে ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে এই শর্তে ঐ টাকা গ্রহণ করে থাকে যে, ভাড়ার চুক্তি শেষে তা আবার ভাড়াটিয়াকে ফেরত দিয়ে দিবে। এক্ষেত্রে যেহেতু টাকাটা মালিকের কাছে আমানতস্বরূপ জমা রাখা হয়। সুতরাং তা নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করা বা খরচ করা বৈধ হবে না। যদি মালিক ঐ টাকা খরচ করে, তাহলে সেটি ঋণের আওতায় চলে আসবে। অথচ শরী‘আতের দৃষ্টিতে ভাড়া ও ঋণকে একত্রিত করা জায়েয নয়। কারণ রাসূল (ﷺ) বলেছেন, لَا يَحِلُّ سَلَفٌ وَبَيْعٌ ‘ঋণ ও বিক্রয় একত্রে জায়েয নয়’ (আবূ দাঊদ, হা/৩৫০৪; তিরমিযী, হা/১২৩৪; নাসাঈ, হা/৪৬১১, সনদ হাসান ছহীহ)। আর ভাড়া এক প্রকারের লাভজনক ব্যবসা। সে জন্য অধিকাংশ আলেম ভাড়ার সঙ্গে বিক্রয়ের চুক্তিকে হারাম ঘোষণা করেছেন। টাকাটা মালিকের কাছে থাকলেও আসলে এর মালিক কিন্তু ভাড়াটিয়া ব্যক্তি। সুতরাং সিকিউরিটি মানির যাকাত ভাড়াটিয়া প্রদান করবে। অন্যদিকে অ্যাডভান্স হিসাবে প্রদানকৃত টাকার মালিকানা ভাড়াটিয়া থেকে ভাড়াদাতার কাছে চলে যায়। তাই এর যাকাত ভাড়াদাতা প্রদান করবে (ক্বারারাত ওয়া তাওছি‘আত মাজমাউল ফিক্বহিল ইসলামী, পৃ. ২৬৫)।

সিকিউরিটি মানির উপর ভিত্তি করে ভাড়া কমবেশি করা জায়েয নয়। অর্থাৎ সিকিউরিটি মানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে ভাড়া কমে যাওয়ার যে প্রচলন আমাদের সমাজে রয়েছে, তা জায়েয নয় (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৩৪৩০২৫)। ‘ইসলাম ওয়েব’-এর আলেমগণ বলেন, ‘ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে সিকিউরিটি মানি নেয়া বৈধ, কিন্তু তার দ্বারা লাভবান হওয়া বা উপকৃত হওয়া হারাম’ (ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-২৬১৪৭৫)।


প্রশ্নকারী : সামিঊল ইসলাম, কুলপাড়া, রাজশাহী।





প্রশ্ন (১৭) : ধুমপান নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩): অপচয় ও অপব্যয় এর মধ্যে কোন পার্থক্য আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : আমি যেখানে চাকুরী করি সেখানে যোহরের জন্য ১০ মিনিটের বেশি সময় দেয় না। এজন্য আমি শুধু ফরয ছালাত আদায় করি। প্রশ্ন হল, এমতাবস্থায় পরে সময় পেলে সুন্নাত ছালাত আদায় করতে পারব কি? ছাহাবীগণ যোহর, মাগরিব ও এশার ছালাতের সুন্নাত কি বাড়ীতে আদায় করতেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : আমি একটি হিমাগারে চাকরি করি। আমি যদি আমার বন্ধুর আলু বিক্রয় করে দেই। ক্রেতা যদি ক্রয় মূল্য পরিশোধ করার পর আমাকে অতিরিক্ত টাকা দেন তাহলে তা নেওয়া আমার জন্য জায়েয হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : নির্বাচন আসলে দেশের বড় বড় রাজনৈতিক দলের নেতারা শাহজালাল, শাহপরান, বায়েযীদ বুস্তামী মাযারসহ বিভিন্ন মাজার যিয়ারত করে দু‘আ নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবে এবং প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান/শেখ মুজিবের মাযারে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে দেশ পরিচালনা করার চিন্তা করে। এগুলো কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : ইলম অর্জনের পর তদনুযায়ী আমল না করলে কেমন শাস্তি হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : অর্থ বুঝে কুরআন তেলাওয়াত করা কি অপরিহার্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : গোসলের ফরয কয়টি ও কী কী? অনেকে মনে করেন কুলি ও নাকে পানি না দিলে গোসল হবে না। এই বক্তব্য কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ফরয ছালাতের পর সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার ব্যাপারে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ আলেমগণের অভিমত জানতে চাই। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : ওযূ করার সময় মুখে ও নাকে পানি দেয়ার সঠিক পদ্ধতি কোনটি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : বহু ব্যবসায়ী খাবারে বিষাক্ত কেমিক্যাল বা ভেজাল মিশিয়ে ব্যবসা করছে। এদের পরিণাম কী হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : ঘুম থেকে জাগতে না পারার কারণে সাহারী খাওয়া সম্ভব হয়নি। এমতাবস্থায় ছিয়াম রাখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ