সোমবার, ১৩ Jul ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন
উত্তর : কোন মুসলিম ব্যক্তি গুনাহ থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়। তবে একজন মুমিন ও অন্যদের মধ্যে পার্থক্য হল- যখন সে গুনাহে লিপ্ত হয়, তখন সে দু’টি কাজ করে। যথা:
(১) তওবা ও প্রত্যাবর্তন : সে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, দ্রুত তওবা করে এবং ক্ষমা চায়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

قُلۡ یٰعِبَادِیَ  الَّذِیۡنَ  اَسۡرَفُوۡا عَلٰۤی اَنۡفُسِہِمۡ  لَا تَقۡنَطُوۡا مِنۡ رَّحۡمَۃِ اللّٰہِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ یَغۡفِرُ الذُّنُوۡبَ جَمِیۡعًا

‘হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের উপর অত্যাচার করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করেন’ (সূরা আয-যুমার : ৫৩)। অন্যত্র তিনি বলেন, وَ مَنۡ یَّعۡمَلۡ سُوۡٓءًا اَوۡ یَظۡلِمۡ  نَفۡسَہٗ ثُمَّ یَسۡتَغۡفِرِ اللّٰہَ یَجِدِ اللّٰہَ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا ‘যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করে বা নিজের প্রতি যুল্ম করে, অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, সে আল্লাহকে ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু হিসাবে পাবে’ (সূরা আন-নিসা : ১১০)। এছাড়াও মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন যে, যারা তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের মন্দ কাজগুলোকে নেকিতে পরিণত করে দেন (সূরা আল-ফুরক্বান : ৭১)

(২) গুনাহের কারণ দূর করা : মুমিন ব্যক্তি শুধু তওবাই করে না; বরং যে কারণে সে গুনাহে পতিত হয়েছে, সেগুলো খুঁজে বের করে এবং দূর করার চেষ্টা করে। আপনারও তাই করা উচিত।

গোপন গুনাহের ভয়াবহতা : মুসলিমের জন্য নির্জনের গুনাহ থেকে অত্যন্ত সতর্ক থাকা আবশ্যক। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, یَّسۡتَخۡفُوۡنَ مِنَ النَّاسِ وَ لَا یَسۡتَخۡفُوۡنَ مِنَ اللّٰہِ ‘তারা মানুষের কাছ থেকে নিজেদের লুকায়, কিন্তু আল্লাহর কাছ থেকে লুকায় না’ (সূরা আন-নিসা : ১০৮)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গোপন পাপ সম্পর্কে কঠোর সতর্কবাণী দিয়েছেন। ছাওবান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘আমি আমার উম্মতের এমন কিছু লোককে অবশ্যই চিনব, যারা ক্বিয়ামতের দিন তিহামা পর্বতের মত সাদা নেক আমল নিয়ে আসবে। কিন্তু আল্লাহ সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করবেন’। ছাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! তাদের পরিচয় আমাদের বলুন, যাতে অজান্তে আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত না হয়ে যাই। তিনি বললেন, ‘তারা তোমাদেরই ভাই, তোমাদেরই মত মানুষ। তারা রাতের ইবাদতও করে যেমন তোমরা কর। কিন্তু তারা যখন নির্জনে আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়গুলোর মুখোমুখি হয়, তখন সেগুলো লঙ্ঘন করে’ (ইবনু মাজাহ, হা/৪২৪৫, সনদ ছহীহ)

নিম্নোক্ত উপায়ে এই গুনাহ থেকে মুক্তি লাভ করা যায়। যথা: (১) আল্লাহর নিকট আশ্রয় গ্রহণ : প্রতিটি ছালাতে, প্রতিটি সিজদায়, একান্তভাবে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া। মহান আল্লাহ বলেন, فَاِنِّیۡ قَرِیۡبٌ ؕ اُجِیۡبُ دَعۡوَۃَ الدَّاعِ  اِذَا دَعَانِ ‘নিশ্চয় আমি সন্নিকটবর্তী। কোন আহ্বানকারী যখনই আমাকে আহ্বান করে তখনই আমি তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে থাকি’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৮৬)(২) নফস ও শয়তানের বিরুদ্ধে জিহাদ : নিজের প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করুন, শয়তানের কুমন্ত্রণা প্রতিহত করুন এবং আত্মসমর্পণ করবেন না। মহান আল্লাহ বলেন, وَ الَّذِیۡنَ جَاہَدُوۡا فِیۡنَا لَنَہۡدِیَنَّہُمۡ سُبُلَنَا ‘যারা আমাদের উদ্দেশ্যে সংগ্রাম করে আমরা তাদেরকে অবশ্যই আমাদের পথে পরিচালিত করব’ (সূরা আল-আনকাবূত : ৬৯)(৩) আল্লাহর নজরদারির অনুভূতি : সবসময় মনে রাখুন, আল্লাহ আপনাকে দেখছেন। ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নামে বর্ণিত কবিতার দু’টি পংক্তি:

إذا ما خَلَوْتَ الدهرَ يوما فلا تَقُلْ ... خَلَوْتُ، ولكن قل عليَّ رقيبُ
ولا تحسبن اللَّهَ يغفل ساعةً ... ولا أنَّ ما نُخفي عليه يغيبُ

‘যখন একদিন নির্জনে থাকো, তখন বল না- আমি একা। বরং বল- আমার উপর একজন পর্যবেক্ষক আছেন’।
‘কখনো ধারণা কর না যে, আল্লাহ এক মুহূর্তের জন্যও গাফেল এবং তাঁর থেকে কোন গোপন বিষয় আড়াল থাকতে পারে না’ (আল-জামিঊ লি ঊলূমিল ইমাম আহমাদ, ১৩/২৩৫ পৃ.)

(৪) জান্নাত ও জাহান্নামের কথা বেশি চিন্তা করা : নেককারদের জন্য প্রস্তুত জান্নাতের নে‘মত এবং পাপীদের জন্য শাস্তির কথা বেশি বেশি পড়া ও চিন্তা করা। (৫) একাকীত্ব ও অলসতা কমানো : অবসর সময় কমিয়ে দেয়া। সৎ, দ্বীনদার ও তাক্বওয়াবান বন্ধুদের সঙ্গ গ্রহণ করা এবং যতটা সম্ভব একা না থেকে নেককারদের সঙ্গ গ্রহণ করা। (৬) শরীরচর্চা ও খেলাধুলা : কোন উপকারী খেলাধুলা বা শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তোলা। এটি নফসের চাপ কমাতে সহায়ক। (৭) নেক আমল অব্যাহত রাখা : আপনি যে নেক আমলগুলো করছেন- জামা‘আতে ছালাত, তাহাজ্জুদ, যিকির, কুরআন তিলাওয়াত, কুরআন হিফয, ইলম অর্জন, ছাদাক্বাহ, প্রভৃতি কোন অবস্থাতেই ছেড়ে দেয়া যাবে না। বরং এগুলো আপনার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বিরাট নে‘মত এবং গুনাহ থেকে মুক্তির অন্যতম মাধ্যম। সুতরাং, আপনার প্রশ্নের উত্তরে বলা যায় যে, হ্যাঁ, গোপন গুনাহ অত্যন্ত বিপজ্জনক; কিন্তু আপনি যতক্ষণ গুনাহকে ঘৃণা করছেন, তওবা করছেন, মুক্তির চেষ্টা করছেন এবং নেক আমল অব্যাহত রাখছেন, ততক্ষণ আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়ার কোন কারণ নেই। আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে, আমাদেরকে এবং সকল মুসলমানকে প্রকাশ্য ও গোপন সকল গুনাহ থেকে হেফাজত করুন এবং উত্তম পরিণতি দান করুন। আমীন


প্রশ্নকারী : জাহিদ, ঢাকা।





প্রশ্ন (১০) : সাধারণ মানুষ কিভাবে আওয়াল ওয়াক্ত নির্ধারণ করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : সমাজের একশ্রেণীর মানুষ মনে করে যে, তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ পৃথক ছালাত। তাহাজ্জুদ ৮ রাক‘আত, আর তারাবীহ ২০ রাক‘আত। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : আল-কুরআন অবমাননাকারীর বিধান ও শাস্তি কী? অবমাননাকারীর শাস্তি কারা দিবে? সাধারণ জনগণ কি অবমাননাকারীকে শাস্তি দিতে পারে? এর প্রতিবাদে মিছিল-মিটিং ও সমাবেশ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : মানুষ বা পশু-পাখির কার্টুন ব্যবহার করে কোন শিক্ষা প্রদান করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : একজন ছাত্রাবাসে থাকে। ছালাতের সময় তার রুমমেট মোবাইল ফোনে/ল্যাপটপে নাটক-সিনেমা দেখে। এতে ছালাতের ক্ষতি হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : বিবাহের জন্য একাধিক মেয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেয়া জায়েয হবে, না-কি সরাসরি দেখার ক্ষেত্রে একজনের বেশি দেখা যাবে না? মেয়ে দেখার ক্ষেত্রে শরী‘আতের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবর ত্বাওয়াফ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : ‘আবূ বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ঈমানের সাথে সমস্ত মানুষের ঈমান ওযন করলে তাঁর ঈমানের পাল্লা ভারী হয়ে যাবে’-এই হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : ছেলের নাম ‘আদনান ইকতিদার’ রাখা যাবে কি? পিতা-মাতার সাথে মিল রেখে নাম রাখা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : জনৈক বক্তা বলেছেন, হজ্জ করার পূর্বে কোন অবস্থাতেই ওমরাহ পালন করা যাবে না? উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : মসজিদ কে কি masque বলা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : ছালাতে মহিলাদেরকে ইক্বামত দিতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ