উত্তর : উৎপাদিত ফসলের খরচ বাদ দিয়ে নয়, বরং সমুদয় উৎপাদিত ফসলের মধ্য থেকে উশর দিতে হবে। নবী (ﷺ) বলেছেন, ‘যে ফসল বৃষ্টি বা ঝর্ণার পানিতে সিক্ত ভূমিতে উৎপাদিত হয় কিংবা স্বাভাবিক আর্দ্রতার কারণে বিনা সেচে উৎপাদিত হয়, তাতে দশ ভাগের এক ভাগ যাকাত (উশর) আবশ্যক হয়। আর সেচ দ্বারা উৎপাদিত হলের বিশ ভাগের একভাগ যাকাত (উশর) আবশ্যক হয়’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৪৮৩)। এখানে সেচ দিতে গেলে উৎপাদন খরচ হয়। কিন্তু রাসূল (ﷺ) উৎপাদন খরচ বাদ দিতে বলেননি। বরং উশরের পরিমাণে কম-বেশি করেছেন। তা হলো বিনা খরচে হলে দশ ভাগের এক ভাগ (১/১০), আর খরচ করে হলে বিশ ভাগের এক ভাগ (১/২০) যাকাত দিতে হবে। সুতরাং ফসল উৎপাদনের ব্যয়সহ পুরো ফসলেরই যাকাত (উশর) দিতে হবে।
উল্লেখ্য যে, শস্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে যদি কেউ ঋণ করে থাকে, তাহলে শস্য কর্তনের পরে প্রথমে শস্য উৎপাদনের জন্য যে ঋণ নিয়েছে তা পরিশোধ করে অবশিষ্ট শস্যের যাকাত আদায় করতে পারে। ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, يَقْضِيْ مَا أَنْفَقَ عَلَى الثَّمَرَةِ، ثُمَّ يُزَكِّى مَا بَقِىَ ‘প্রথমত ফল উৎপাদনে যা ব্যয় করেছে তা পরিশোধ করবে, অতঃপর অবশিষ্টাংশের যাকাত আদায় করবে’ (সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী, হা/৭৮৫৮)। ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, يَبْدَأُ بِمَا اسْتَقْرَضَ، ثُمَّ يُزَكِّيْ مَا بَقِيَ ‘প্রথমে যে ঋণ নিয়েছে তা পরিশোধ করবে। অতঃপর অবশিষ্টাংশের যাকাত আদায় করবে’ (সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী, হা/৭৩৯৭, সদন ছহীহ; আহমাদ শাকের, কিতাবুল খারাজ, পৃ. ১৫৩)।
প্রশ্নকারী : সিরাজুল ইসলাম, বিল শ্রীকলা, মান্দা, নওগাঁ।