উত্তর : ইসলামে নাপাক হওয়ার সাধারণ নীতি হল- কোন বস্তুকে নাপাক বলার জন্য কুরআন, ছহীহ হাদীছ বা সালাফদের ইজমা থেকে প্রমাণ লাগবে। যে প্রাণী খাওয়া হালাল নয়, তার মূত্র, বিষ্ঠা, রক্ত সাধারণভাবে নাপাক ধরা হয়। কিন্তু লালা সম্পর্কে আলাদা বিধান রয়েছে। ইমাম ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যে সব প্রাণীর গোশত খাওয়া হালাল নয়, তাদের মূত্র ও বিষ্ঠা নাপাক। তবে তাদের লালা সম্পর্কে শরী‘আতে কোন দলীল নেই যে এটি নাপাক। সুতরাং মূলনীতি হলÑ যতক্ষণ না নাপাক হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়, ততক্ষণ তা পবিত্র’ (মাজমূঊ ফাতওয়া ওয়া রাসাইল ইবনে উছাইমীন, ১১/১২০ পৃ.)। ইসলামী শরী‘আহর অন্যতম মূলনীতি হল, الأصل في الأشياء الطهارة حتى يثبت الدليل على النجاسة ‘মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে সবকিছুই পবিত্র, যতক্ষণ না শরী‘আত প্রমাণ করে যে তা নাপাক’ (আল-মাজমূঊ, ১/১৬০ পৃ.)। মনে রাখা ভালো হবে, টিকটিকি একটি কষ্টদানকারী ও বিষাক্ত প্রাণী। রাসূল (ﷺ) একে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন (ছহীহ বুখারী, হা/৩৩৫৯; মিশকাত, হা/৪১১৯)।
হারাম প্রাণীর মলমূত্র হারাম ও নাপাক। তা কাপড়ে লেগে গেলে, পরিষ্কার করে ছালাত আদায় করতে হবে। যেহেতু কোন ছহীহ প্রমাণ নেই যে, টিকটিকির লালা নাপাক, সুতরাং এটি পবিত্র ধরা হবে। কাপড়ে লেগে গেলে কাপড় নাপাক হবে না। ছালাতের জন্য সেই কাপড় পরে ইবাদত করা হলে তা বিশুদ্ধ হবে ইনশাআল্লাহ। নাপাক কাপড় পরে অন্য কোনো নাপাক কাপড় ধরলে করণীয় হল- যদি শরীর বা কাপড়ে নাপাকির প্রভাব শুষ্ক অবস্থায় থাকে এবং তা অন্য কাপড়ের সঙ্গে শুধু স্পর্শ করে, তবে অন্য কাপড় নাপাক হবে না। কারণ, নাপাকি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হতে হলে নাপাক বস্তুটির ভেজা বা তরল অবস্থা থাকা শর্ত। কিন্তু যদি নাপাক কাপড় ভিজা হয় এবং সেই ভেজাভাব বা আর্দ্রতা অন্য কাপড়ে স্থানান্তরিত হয়, তখন অন্য কাপড়ও নাপাক হয়ে যাবে।
প্রশ্নকারী : ইসরাত, ঢাকা।