রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১৩ অপরাহ্ন
উত্তর :  মানুষ ভুল করতে পারে, কিন্তু কোন গুনাহ এমন নয় যার কারণে জীবন শেষ করে দেয়া বৈধ হয়ে যায়। শরী‘আতের দৃষ্টিতে সমকামিতায় লিপ্ত হওয়া কাবীরা গুনাহ। তবে এর চেয়েও বড় সত্য হল, আল্লাহ তা‘আলার রহমত ও ক্ষমা সীমাহীন। যে ব্যক্তি অজ্ঞতাবশত বা প্রবৃত্তির বশে কোন গুনাহে লিপ্ত হয়েছে, তার জন্য করণীয় হল খাঁটি তাওবা করা। আল্লাহর দিকে ফিরে আসা। হতাশা বা আত্মবিনাশের চিন্তা না করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘(হে নবী!) আপনি বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (সূরা আয-যুমার : ৫৩)। এ আয়াত স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, গুনাহ যত বড়ই হোক, শিরক ছাড়া, সত্যিকার তাওবা করলে আল্লাহ তা ক্ষমা করেন। তাওবার দরজা খোলা আছে। মানুষ ভুল করতেই পারে। বড় গুনাহ হলেও আল্লাহ তাওবার দরজা বন্ধ করেননি। খাঁটি তাওবার শর্ত তিনটি। যথা : গুনাহ ত্যাগ করা, আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হওয়া এবং ভবিষ্যতে আর না করার দৃঢ় সংকল্প করা। যদি কারো হক নষ্ট হয়ে থাকে, তবে তা আদায় করাও আবশ্যক।

আত্মহত্যা শরী‘আতে হারাম এবং গুরুতর কাবীরা গুনাহ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা নিজেরা নিজদেরকে হত্যা করো না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে পরম দয়ালু’ (সূরা আন-নিসা : ২৯)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজেকে কোন বস্তু দ্বারা হত্যা করবে, ক্বিয়ামতের দিন তাকে সেই বস্তু দ্বারা শাস্তি দেয়া হবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৭৭৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১০৯)। অতএব, গুনাহের কারণে নিজের জীবন শেষ করার চিন্তা করা শরী‘আতসম্মত নয়; বরং তা শয়তানের প্ররোচনা। সঊদী আরবের আলেমদের বক্তব্যেও এ বিষয়টি স্পষ্ট। শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন যে, ‘বান্দা যত বড় গুনাহেই লিপ্ত হোক, যদি সে আন্তরিকভাবে তওবা করে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন এবং এক্ষেত্রে হতাশ হওয়া উচিত নয়’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনু বায, ৭ম খণ্ড)। অনুরূপভাবে মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেন যে, ‘শয়তান মানুষের অন্তরে হতাশা ঢুকিয়ে তাকে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরাতে চায়। তাই বান্দার কর্তব্য হল, বারবার তওবা করা এবং নেক আমলে অবিচল থাকা’ (লিকাউল বাব আল-মাফতূহ, ৩/৩৮৫ পৃ.)।

অতএব করণীয় হল, অবিলম্বে ঐ গুনাহ থেকে সম্পূর্ণ বিরত হওয়া। খাঁটি তওবা করা। ফরয ইবাদতে যত্নশীল হওয়া, নফল ইবাদত, কুরআন তিলাওয়াত ও যিকির বৃদ্ধি করা। খারাপ পরিবেশ ও প্রলোভন থেকে দূরে থাকা, সৎ সঙ্গ গ্রহণ করা এবং নিজেকে উপকারী কাজে ব্যস্ত রাখা। একাকীত্ব, অলসতা ও গোপনীয় পরিবেশÑ এসব থেকে দূরে থাকা উত্তম। কারণ এগুলো গুনাহের দিকে টেনে নিয়ে যায়। অন্তরে অনুশোচনা থাকা ঈমানের আলামত। যে ব্যক্তি নিজের ভুল বুঝে কষ্ট পায়, সে আল্লাহর নিকট প্রিয় হতে পারে যদি সে ফিরে আসে। আল্লাহ তা‘আলা তওবাকারীদের ভালোবাসেন (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২২২)। তাই হতাশা নয়, আশা, তওবা ও সংশোধনের পথই অবলম্বনীয়। জীবন আল্লাহর আমানত। এই জীবনকে নেক আমল ও সংশোধনের মাধ্যমে সুন্দরভাবে ব্যবহার করাই বান্দার দায়িত্ব।


প্রশ্নকারী : মোহাম্মদ মাসুম, ঢাকা।





প্রশ্ন (১৫) : ‘আরাফার দিনের মত শুক্রবারের দিনও কি আল্লাহ অসংখ্য মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র যদি পাপ মুক্তের জন্য বিয়ে করে এবং বিয়ের পর স্ত্রী তার বাবার বাড়িতে থেকে দুইজন পৃথকভাবে লেখাপড়া করে, তাহলে কি জায়েয হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : ‘আল্লাহ তা‘আলা ছয় দিনে বিশ্বকে সৃষ্টি করে ক্লান্ত হয়ে বিশ্রামের জন্য সপ্তম দিনে নিদ্রা যান’— ইহুদী-খ্রীষ্টানদের এরূপ বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : আহলে কিতাবদের যব্হ করা পশু খাওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : আমাদের গ্রামে ঈদের ছালাতের আগে মাইকে অনেক ডাকাডাকি করে। এমনকি ছালাত শুরুর আগে ৩০/৪০ মিনিট বয়ান করে। ইসলামে এর কোন প্রমাণ আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : ইসলামের সর্বোত্তম  কাজ কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : দেশের সরকার যদি বেনামাজী হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা যাবে কি, যেহেতু ছালাত পরিত্যাগ করা কুফর? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাড়িতে মেহেদী ব্যবহার করেছেন কি-না? দলীলসহ জানতে চাই। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : মক্কায় একদিনের ছিয়াম বাইরের এক লক্ষ ছিয়ামের সমতুল্য। সেখানে এক দেরহাম খরচ করলে এক লক্ষ দেরহামের সমান এবং একটি নেকী করলে এক লক্ষ নেকীর সমান ছওয়াব পাওয়া যায়। বিভিন্ন হাদীছে মসজিদে নববীর ছওয়াব সমজিদে আক্বছার চেয়ে অধিক এসেছে। অথচ এখানে উভয় মসজিদের ছওয়াব পঞ্চাশ হাজার বলা হয়েছে। এর অর্থ করা হয়েছে, প্রত্যেক মসজিদের ছওয়াব পূর্ববর্তী মসজিদ হিসাবে বলা হইয়াছে অর্থাৎ জামে মসজিদের ছওয়াব পাঁচশ’ ছালাত নয়, বরং মহল্লার মসজিদ হতে পাঁচশ’ গুণ বেশী। এই হিসাব মতে জামে মসজিদে বার হাজার পাঁচশ’ (১২৫০০) ছালাতের ছওয়াব। মসজিদে আকছার ছওয়াব বাষট্টি কোটি পঞ্চাশ লক্ষ (৬২৫০০০০০০), মদীনার মসজিদের ছওয়াব তিন নিল বার খর্ব পঞ্চাশ আরব (৩১২৫০০০০০০০০০০) এবং হারাম শরীফের ছওয়াব একত্রিশ শঙ্ঘ পঁচিশ পদ্ম, (৩১২৫০০০০০০০০০০০০০০০) (ফাযায়েলে হজ্জ, পৃ. ৯২)। তাবলীগী নিসাবের ‘ফাযায়েলে হজ্জ’ কিতাবে বর্ণিত উক্ত ফযীলত কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : সৌন্দর্যের জন্য ভ্রু চাঁছা কি বৈধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : কোন ব্যক্তি তওবা করার পর পুনরায় সেই পাপে লিপ্ত হলে তাকে কি কাফফারা দিতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : ডান দিক থেকে কাতার পূরণ করার কোন দলীল আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ