উত্তর : মানুষ ভুল করতে পারে, কিন্তু কোন গুনাহ এমন নয় যার কারণে জীবন শেষ করে দেয়া বৈধ হয়ে যায়। শরী‘আতের দৃষ্টিতে সমকামিতায় লিপ্ত হওয়া কাবীরা গুনাহ। তবে এর চেয়েও বড় সত্য হল, আল্লাহ তা‘আলার রহমত ও ক্ষমা সীমাহীন। যে ব্যক্তি অজ্ঞতাবশত বা প্রবৃত্তির বশে কোন গুনাহে লিপ্ত হয়েছে, তার জন্য করণীয় হল খাঁটি তাওবা করা। আল্লাহর দিকে ফিরে আসা। হতাশা বা আত্মবিনাশের চিন্তা না করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘(হে নবী!) আপনি বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (সূরা আয-যুমার : ৫৩)। এ আয়াত স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, গুনাহ যত বড়ই হোক, শিরক ছাড়া, সত্যিকার তাওবা করলে আল্লাহ তা ক্ষমা করেন। তাওবার দরজা খোলা আছে। মানুষ ভুল করতেই পারে। বড় গুনাহ হলেও আল্লাহ তাওবার দরজা বন্ধ করেননি। খাঁটি তাওবার শর্ত তিনটি। যথা : গুনাহ ত্যাগ করা, আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হওয়া এবং ভবিষ্যতে আর না করার দৃঢ় সংকল্প করা। যদি কারো হক নষ্ট হয়ে থাকে, তবে তা আদায় করাও আবশ্যক।
আত্মহত্যা শরী‘আতে হারাম এবং গুরুতর কাবীরা গুনাহ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা নিজেরা নিজদেরকে হত্যা করো না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে পরম দয়ালু’ (সূরা আন-নিসা : ২৯)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজেকে কোন বস্তু দ্বারা হত্যা করবে, ক্বিয়ামতের দিন তাকে সেই বস্তু দ্বারা শাস্তি দেয়া হবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৭৭৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১০৯)। অতএব, গুনাহের কারণে নিজের জীবন শেষ করার চিন্তা করা শরী‘আতসম্মত নয়; বরং তা শয়তানের প্ররোচনা। সঊদী আরবের আলেমদের বক্তব্যেও এ বিষয়টি স্পষ্ট। শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন যে, ‘বান্দা যত বড় গুনাহেই লিপ্ত হোক, যদি সে আন্তরিকভাবে তওবা করে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন এবং এক্ষেত্রে হতাশ হওয়া উচিত নয়’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনু বায, ৭ম খণ্ড)। অনুরূপভাবে মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেন যে, ‘শয়তান মানুষের অন্তরে হতাশা ঢুকিয়ে তাকে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরাতে চায়। তাই বান্দার কর্তব্য হল, বারবার তওবা করা এবং নেক আমলে অবিচল থাকা’ (লিকাউল বাব আল-মাফতূহ, ৩/৩৮৫ পৃ.)।
অতএব করণীয় হল, অবিলম্বে ঐ গুনাহ থেকে সম্পূর্ণ বিরত হওয়া। খাঁটি তওবা করা। ফরয ইবাদতে যত্নশীল হওয়া, নফল ইবাদত, কুরআন তিলাওয়াত ও যিকির বৃদ্ধি করা। খারাপ পরিবেশ ও প্রলোভন থেকে দূরে থাকা, সৎ সঙ্গ গ্রহণ করা এবং নিজেকে উপকারী কাজে ব্যস্ত রাখা। একাকীত্ব, অলসতা ও গোপনীয় পরিবেশÑ এসব থেকে দূরে থাকা উত্তম। কারণ এগুলো গুনাহের দিকে টেনে নিয়ে যায়। অন্তরে অনুশোচনা থাকা ঈমানের আলামত। যে ব্যক্তি নিজের ভুল বুঝে কষ্ট পায়, সে আল্লাহর নিকট প্রিয় হতে পারে যদি সে ফিরে আসে। আল্লাহ তা‘আলা তওবাকারীদের ভালোবাসেন (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২২২)। তাই হতাশা নয়, আশা, তওবা ও সংশোধনের পথই অবলম্বনীয়। জীবন আল্লাহর আমানত। এই জীবনকে নেক আমল ও সংশোধনের মাধ্যমে সুন্দরভাবে ব্যবহার করাই বান্দার দায়িত্ব।
প্রশ্নকারী : মোহাম্মদ মাসুম, ঢাকা।