রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:০৯ অপরাহ্ন
উত্তর :  মানুষ ভুল করতে পারে, কিন্তু কোন গুনাহ এমন নয় যার কারণে জীবন শেষ করে দেয়া বৈধ হয়ে যায়। শরী‘আতের দৃষ্টিতে সমকামিতায় লিপ্ত হওয়া কাবীরা গুনাহ। তবে এর চেয়েও বড় সত্য হল, আল্লাহ তা‘আলার রহমত ও ক্ষমা সীমাহীন। যে ব্যক্তি অজ্ঞতাবশত বা প্রবৃত্তির বশে কোন গুনাহে লিপ্ত হয়েছে, তার জন্য করণীয় হল খাঁটি তাওবা করা। আল্লাহর দিকে ফিরে আসা। হতাশা বা আত্মবিনাশের চিন্তা না করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘(হে নবী!) আপনি বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (সূরা আয-যুমার : ৫৩)। এ আয়াত স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, গুনাহ যত বড়ই হোক, শিরক ছাড়া, সত্যিকার তাওবা করলে আল্লাহ তা ক্ষমা করেন। তাওবার দরজা খোলা আছে। মানুষ ভুল করতেই পারে। বড় গুনাহ হলেও আল্লাহ তাওবার দরজা বন্ধ করেননি। খাঁটি তাওবার শর্ত তিনটি। যথা : গুনাহ ত্যাগ করা, আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হওয়া এবং ভবিষ্যতে আর না করার দৃঢ় সংকল্প করা। যদি কারো হক নষ্ট হয়ে থাকে, তবে তা আদায় করাও আবশ্যক।

আত্মহত্যা শরী‘আতে হারাম এবং গুরুতর কাবীরা গুনাহ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা নিজেরা নিজদেরকে হত্যা করো না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে পরম দয়ালু’ (সূরা আন-নিসা : ২৯)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজেকে কোন বস্তু দ্বারা হত্যা করবে, ক্বিয়ামতের দিন তাকে সেই বস্তু দ্বারা শাস্তি দেয়া হবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৭৭৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১০৯)। অতএব, গুনাহের কারণে নিজের জীবন শেষ করার চিন্তা করা শরী‘আতসম্মত নয়; বরং তা শয়তানের প্ররোচনা। সঊদী আরবের আলেমদের বক্তব্যেও এ বিষয়টি স্পষ্ট। শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন যে, ‘বান্দা যত বড় গুনাহেই লিপ্ত হোক, যদি সে আন্তরিকভাবে তওবা করে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন এবং এক্ষেত্রে হতাশ হওয়া উচিত নয়’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনু বায, ৭ম খণ্ড)। অনুরূপভাবে মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেন যে, ‘শয়তান মানুষের অন্তরে হতাশা ঢুকিয়ে তাকে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরাতে চায়। তাই বান্দার কর্তব্য হল, বারবার তওবা করা এবং নেক আমলে অবিচল থাকা’ (লিকাউল বাব আল-মাফতূহ, ৩/৩৮৫ পৃ.)।

অতএব করণীয় হল, অবিলম্বে ঐ গুনাহ থেকে সম্পূর্ণ বিরত হওয়া। খাঁটি তওবা করা। ফরয ইবাদতে যত্নশীল হওয়া, নফল ইবাদত, কুরআন তিলাওয়াত ও যিকির বৃদ্ধি করা। খারাপ পরিবেশ ও প্রলোভন থেকে দূরে থাকা, সৎ সঙ্গ গ্রহণ করা এবং নিজেকে উপকারী কাজে ব্যস্ত রাখা। একাকীত্ব, অলসতা ও গোপনীয় পরিবেশÑ এসব থেকে দূরে থাকা উত্তম। কারণ এগুলো গুনাহের দিকে টেনে নিয়ে যায়। অন্তরে অনুশোচনা থাকা ঈমানের আলামত। যে ব্যক্তি নিজের ভুল বুঝে কষ্ট পায়, সে আল্লাহর নিকট প্রিয় হতে পারে যদি সে ফিরে আসে। আল্লাহ তা‘আলা তওবাকারীদের ভালোবাসেন (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২২২)। তাই হতাশা নয়, আশা, তওবা ও সংশোধনের পথই অবলম্বনীয়। জীবন আল্লাহর আমানত। এই জীবনকে নেক আমল ও সংশোধনের মাধ্যমে সুন্দরভাবে ব্যবহার করাই বান্দার দায়িত্ব।


প্রশ্নকারী : মোহাম্মদ মাসুম, ঢাকা।





প্রশ্ন (৬) : এনজিও থেকে লোন নিয়ে ব্যবসা শুরু করি। পরবর্তীতে বিষয়টি বুঝতে পেরে খুবই অনুতপ্ত হই। এখন পিতার সম্পদ বিক্রয় করে যদি ‘এনজিও’-এর টাকা পরিশোধ করি, তাহলে কি ঐ ব্যবসা থেকে অর্জিত টাকা হালাল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : বালতিতে বা আবদ্ধ পাত্রে নাপাক কাপড় ধৌত করলে তা কীভাবে পবিত্র করতে হবে? অনেকে বলে ৩ বার ধৌত করলেই তা পবিত্র হয়ে যাবে। এ কথা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : চাকুরীজীবী ব্যক্তি অফিসের যাবতীয় পণ্য ক্রয় করে। কিছু পণ্য ক্রয় করার সময় দেখা যাচ্ছে পণ্যের দাম ৩০০/৪০০ টাকা, যা সব দোকানে একই দাম। কিন্তু ঐ ব্যক্তি সেই পণ্যটি ২৮০/৩৮০ টাকায় ক্রয় করতে পারে। উক্ত পণ্য ক্রয়ে যে ২০ টাকা সাশ্রয় হল, সেই টাকা কি তিনি নিজে গ্রহণ করতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ফরয ছালাতের পর সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার ব্যাপারে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ আলেমগণের অভিমত জানতে চাই। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯): ব্যাংকে সূদ নেয়া ব্যতীত টাকা রাখা বা সঞ্চয় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : আমি একজন অটো ড্রাইভার। অভাব-অনটনের কারণে বছর খানেক আগে NGO থেকে দুই লাখ টাকা লোন নিয়েছিলাম, যার কিস্তি এখনো চলমান। পরবর্তীতে জানতে পারি যে, সূদ ভিত্তিক লোন দেয়া-নেয়া দুটোই হারাম কাজ। এখন আমি তাওবাহ করতে চাচ্ছি। সেক্ষেত্রে কি লোন শোধ করে তাওবাহ করতে হবে, না-কি কিস্তি চলমান অবস্থায় তাওবাহ করলে হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ওহাবী কাদেরকে বলা হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : জনৈক বক্তা বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘আমি প্রত্যেক তাক্বওয়াশীল ব্যক্তির দাদা’। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : ছালাতে তাশাহ্হুদের সময় দৃষ্টি কোন্ দিকে রাখতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : জুমু‘আর ছালাত ছাড়া কোন ছালাত আদায় করে না। এমন বন্ধু বা আত্মীর সাথে সম্পর্ক রাখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : কোন ব্যক্তি মারা গেলে সাথে সাথে কবর খনন করা হয়। আর দাফন করতে দেরী হলে কবরটিকে বসে বসে পাহারা দেয়া হয়। এর কারণ কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : তায়াম্মুমের সঠিক পদ্ধতি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ