উত্তর : ‘মুযিল্লাতুল ফিতান’ তথা পথভ্রষ্টকারী ফিতনাসমূহ বলতে সেই সব ফিতনা বোঝায়, যা মানুষের উপর এসে তাদেরকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করে এবং ছিরাতুল মুস্তাক্বীম থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। যেমন: এমন সন্দেহ, যা মানুষকে সত্য থেকে বিভ্রান্ত করে এবং সঠিক পথ থেকে সরিয়ে দেয়। খারাপ দাওয়াতদাতা, যারা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে ফেলে এবং দুর্বল মনের মানুষদের ধোঁকায় ফেলে; নিজেদের বাকপটুতা ও প্রভাবশালী বক্তব্য দিয়ে তাদেরকে প্রলুব্ধ করে। রোগ বা দারিদ্র্য, যার কারণে মানুষ বিরক্ত ও অস্থির হয়ে পড়ে এবং আল্লাহর তাক্বদীরের উপর অসন্তুষ্ট হয়ে যায়। ধন-সম্পদ, যার দ্বারা অনেক মানুষ প্রতারিত হয়; শয়তান তাদের মনে অহংকার সৃষ্টি করে এবং তাদেরকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করে। এ ধরনের আরও যা কিছু রয়েছে, যা একজন মুসলিমকে তার দ্বীন থেকে বিচ্যুত করে বা একজন কাফিরকে হিদায়াত গ্রহণ থেকে বিরত রাখে, এগুলো সবই ‘মুযিল্লাতুল ফিতান’-এর অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়া কোন কোন জিনিস বাহ্যিকভাবে ফিতনা ও কষ্টের মত মনে হতে পারে। যেমন দারিদ্র্য, অসুস্থতা, শত্রুর প্রাধান্য ইত্যাদি; কিন্তু বাস্তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ নেয়ামত ও অনুগ্রহ হতে পারে। কারণ এগুলো মানুষকে আল্লাহ্র দিকে ফিরে আসার কারণ হতে পারে। হিদায়াত ও তাওফীক লাভের মাধ্যম হতে পারে। সংকীর্ণতা ও অস্থিরতা থেকে মানুষকে প্রশস্ততা ও কল্যাণের দিকে নিয়ে যেতে পারে। অতএব, একজন মুসলিমের জন্য উচিত হল- ধৈর্যধারণ করা এবং বিপদ দূর করার জন্য আল্লাহ্র দিকে ফিরে যাওয়া (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়েমাহ, ৩/১৩০-১৩১, ফৎওয়া নং ৮৮৫৬)। সুতরাং কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ফিতনা কখনো গোমরাহির কারণ আবার কখনো হিদায়াতের পথও খুলে দেয়।
প্রশ্নকারী : ডা. আতীকুর রহমান, বাড্ডা, ঢাকা।