উত্তর : ইসলামে পোশাকের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত রয়েছে। যেমন-
১. হারাম কিছু না থাকা: অশ্লীল ছবি, প্রাণীর প্রতিকৃতি ইত্যাদি না থাকে। ২. শিরক বা কুফরি প্রতীক না থাকা: যেমন- ক্রুশ, হিন্দু পূজার চিহ্ন, দেব-দেবীর প্রতীক। ৩. অন্য ধর্মের ইবাদতের পরিচয় প্রকাশ না পাওয়া।
কলকা (paisley) মূলত ফুল-পাতার মত একটি অলঙ্কারিক নকশা। ইতিহাসে এটি পারস্য থেকে ভারতবর্ষে এসেছে, পরে হিন্দু-মুসলিম উভয়ের পোশাকে সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। তাই এটি যদি শুধু শিল্পরূপে ব্যবহার হয়, তাহলে মুসলিমের জন্য পরা জায়েয। কিন্তু যদি এটি হিন্দু পূজার প্রতীক বা ধর্মীয় চিহ্ন হিসাবে ব্যবহার হয়, তবে তা মুসলিমের জন্য পরা হারাম। আল্লাহ বলেন, وَ الَّذِيْنَ لَا يَشْهَدُوْنَ الزُّوْرَ ‘আর তারা (আল্লাহর বান্দাগণ) মিথ্যা বা বাতিল অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয় না’ (সূরা আল-ফুরক্বান : ৭২)। অর্থাৎ অন্য ধর্মের কুফরি-শিরকীয় প্রতীক, উৎসব বা ইবাদতের সাথে অংশগ্রহণ করা বা তাদের প্রতীক ধারণ করা জায়েয নয়। এ প্রসঙ্গে নবী (ﷺ) বলেছেন, مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ ‘যে কোন জাতির সাথে সাদৃশ্য রাখে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত’ (আবূ দাঊদ, হা/৪০৩১, সনদ হাসান ছহীহ)। তবে সাধারণ নকশা বা অলঙ্কারিক পোশাক ব্যবহার নবী (ﷺ) করেছেন। যেমন: كَانَ لِلنَّبِيِّ ﷺ جُبَّةٌ رُومِيَّةٌ ‘নবী (ﷺ)-এর একটি রোমান তৈরি জুব্বা ছিল’ (মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮২৬৫ সনদ ছহীহ)। বোঝা গেল, অন্য জাতির তৈরি পোশাক ব্যবহার জায়েয, যদি তাতে ধর্মীয় প্রতীক না থাকে।
প্রশ্নকারী : আসমা আনোয়ার, চট্টগ্রাম।