উত্তর : যে ব্যক্তি কোন প্রতিষ্ঠানের (সরকারী, বেসরকারী বা অন্য কোন সংস্থা) সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ বেতনে সম্মত হয়েছে, তার জন্য চুক্তির মেয়াদ চলাকালীন সেই চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করা জায়েয নয়। কারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের চুক্তিসমূহ পূর্ণ কর’ (সূরা আল-মায়িদা : ১)। আল্লাহ আরো বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দেন, আমানতসমূহ তাদের প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দিতে’ (সূরা আন-নিসা: ৫৮)। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘মুসলিমগণ তাদের শর্তসমূহের উপর অটল থাকবে, তবে এমন শর্ত নয় যা হারামকে হালাল করে বা হালালকে হারাম করে’ (তিরমিযী, হা/১৩৫২; ইবনু মাজাহ, হা/২৩৫৩; আবূ দাঊদ, হা/৩৫৯৪)।
অতএব, বেতন বৃদ্ধির জন্য কোম্পানির উপর চাপ সৃষ্টি করতে কাজ বন্ধ করা যাবে না। শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকেও কর্মচারীকে এমন কিছু করতে বলা জায়েয নয় যা চুক্তি ভঙ্গের কারণ হয়, যেমন চুক্তির মেয়াদকালে ধর্মঘট করা। তবে হ্যাঁ, কর্মচারী বা ইউনিয়ন চুক্তি ভঙ্গ ছাড়া বেতন বৃদ্ধির জন্য দাবি করতে পারে। পক্ষান্তরে কোম্পানি সেই দাবি মানতে বাধ্য নয়, তারা চাইলে গ্রহণ করতে পারে, চাইলে প্রত্যাখ্যান করতে পারে। তাদের উপর কেবল সেই বিষয়গুলোই বাধ্যতামূলক যা চুক্তিতে নির্ধারিত হয়েছে। আল্লাহই সর্বাধিক অবগত (ইসলাম ওয়েবসাইট, ফৎওয়া নং-৫২২৮৮, ৩রা রজব ১৪২৫ হিজরী মোতাবেক ১৮/০৮/২০০৪ খ্রি.)।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে, যে দিন কাজ করেনি, সে দিনের বেতন নেয়া নীতিগতভাবে জায়েয নয়। কারণ কাজ না করে সেই দিনের পারিশ্রমিক নেয়া হলে তা খিয়ানতের শামিল হতে পারে। কারণ পারিশ্রমিক কাজের বিনিময়ে। কিন্তু যদি সরকার/প্রতিষ্ঠানের নীতিমালায় বৈধ ধর্মঘটের অধিকার থাকে এবং স্পষ্টভাবে বলা থাকে যে, সে সময়ের বেতন কর্তন করা হবে না, তাহলে সেটি চুক্তির আওতায় পড়বে। এ ক্ষেত্রে বেতন নেয়া হারাম বলা যাবে না, কারণ মালিক পক্ষই তা অনুমোদন করেছে।
প্রশ্নকারী : কামরুল ইসলাম আশেক, কুতুবদিয়া, কক্সবাজার।