বুধবার, ২২ Jul ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ন
উত্তর : কবরের উপর বাড়ী নির্মাণ করা বড় অন্যায়ের কাজ। সালাফগণ বলেন, সমগ্র উম্মতের সর্বসম্মতিক্রমে কবরের উপর ঘর-বাড়ি নির্মাণ, পাকা করা, তার উপর লেখা, ছালাত আদায় করা, প্রদীপ জ্বালানো হারাম’ (ইক্বতিযাউছ ছিরাত্বিল মুস্তাক্বীম, ২/২৬৭; মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ২৪/৩১৮, ২৭/৪৪৮ ও ৩১/১১; তাফসীরে কুরতুবী, ১০/৩৮১; মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১৩/২২১; মাজম্ঊূ ফাতাওয়া ইবনে উছাইমীন, ১৭/২১২; তালখীছু আহকামিল জানায়িয, পৃ. ৮৪)। জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, نَهَى رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَنْ يُجَصَّصَ الْقَبْرُ وَأَنْ يُقْعَدَ عَلَيْهِ وَأَنْ يُبْنَى عَلَيْهِ ‘রাসূল (ﷺ) কবর পাকা করতে, কবরের উপর বসতে ও কবরের উপর গৃহ নির্মাণ করতে নিষেধ করেছেন’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৯৭)। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘তোমাদের কারো জ্বলন্ত অঙ্গারের উপর বসে থাকা এবং তাতে তার কাপড় পুড়ে গিয়ে শরীরের চামড়া দগ্ধীভূত হওয়া কবরের উপর বসার চেয়ে উত্তম’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৯৭১)। অন্য বর্ণনায় তিনি বলেন, لَا تَجْلِسُوْا عَلَى الْقُبُوْرِ وَلَا تُصَلُّوْا إِلَيْهَا‏ ‘তোমরা কখনো কবরের উপর বসবে না এবং কবরের দিকে মুখ করে ছালাতও আদায় করবে না’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৯৭২)।

দ্বিতীয়তঃ এমতাবস্থায় উক্ত কাজের জন্য কঠোরভাবে তওবাহ করার পর দু’টি করণীয় রয়েছে। ১- ক্ববরের উপর নির্মিত বাড়িকে ভেঙ্গে ফেলা। কেননা রাসূল (ﷺ) ক্ববরের উপর নির্মাণ করতে নিষেধ করেছেন। ২- পুরাতন ঐ ক্ববরকে খনন করে অবশিষ্ট অংশগুলো সসম্মানে অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত করা। যেমন বিভিন্ন ফক্বীহ ও শায়খ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘নিঃসন্দেহে কবর খনন করা নিষিদ্ধ, তবে বিশেষ প্রয়োজনে পুরাতন কবরকে এক জায়গায় থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত করা জায়েয’ (কুয়েতী ফিক্বহ বিশ্বকোষ, ৩২/২৫২ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৩০৬৩৫৫)। জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ‘আমার পিতার সাথে (একই কবরে) অন্য এক লোককে দাফন করা হয়েছিল। তাই আমি তার মরদেহকে অন্যত্র স্থানান্তরিত করার ইচ্ছা করলাম। অতঃপর ছয় মাস পর আমি পিতার মৃতদেহকে তুললাম (এবং অন্যত্র দাফন করলাম)। (যেহেতু তিনি উহুদের দিন শহীদ হয়েছিলেন তাই) তাঁর শরীরের কোন অংশই পরিবর্তন হয়নি। কেবল দাড়ির কিছু চুল মাটির সংস্পর্শে কিছুটা পরিবর্তন হয়েছিল’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৩৫১, ১৩৫২)। উক্ত হাদীছের ভিত্তিতে ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) অনুচ্ছেদ রচনা করেন, ‘কোন কারণে মৃতদেহকে ক্ববর বা লাহ্দ হতে বাহির করা যাবে কি?’ (অধ্যায় নং-২৩, অনুচ্ছেদ নং-৭৭)। হাফিয ইবনু হাজার আসক্বালানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীছ প্রমাণ করে যে, বিশেষ প্রয়োজনে মরদেহ বাহির করা জায়েয (ফাৎহুল বারী, ৩/২১৫ পৃ.)। মুআ‘বিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কূপ খননের উদ্দেশ্যে ক্ববর স্থানান্তরিত করেছিলেন (কিতাবুল জিহাদ, পৃ. ৯৮; মাওয়াহিবুল জালীল, ৬/২০ পৃ.)।

উল্লেখ্য, শায়খ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘কবর স্থানান্তরিত করার সময় অবশ্যই সর্বাধিক সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। অত্যন্ত যত্ন সহকারে অবশিষ্ট অংশগুলো বহন করতে হবে। যাতে মৃতদেহের কোন প্রকারের অসম্মান না হয় (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৩০৬৩৫৫)। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) বলেন, كَسْرُ عَظْمِ الْمَيِّتِ كَكَسْرِهِ حَيًّا ‘মৃত ব্যক্তির হাঁড়ভাঙ্গা যেন তার জীবিত কালের হাঁড় ভাঙ্গার মতই’ (আবূ দাঊদ, হা/৩২০৭; ইরওয়াউল গালীল, ৩/২১৩ পৃ.)। ইমাম ইবনু আব্দিল বার্র (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘জীবিত ব্যক্তির হাঁড় ভাঙ্গলে যেরূপ গোনাহ হয়, মৃত ব্যক্তির হাঁড় ভাঙ্গলেও তদ্রুপ গোনাহ হয়’ (আত-তামহীদ, ১৩/১৪৪ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : মুহাম্মাদ গোলাম রব্বানী, সাঘাটা, গাইবান্ধা।





প্রশ্ন (২৭) : যদি আমি আমার বাবার হারাম টাকা ব্যবহার করি। আর লাভের পর আমি টাকা ফেরত দিই অথবা গরীবদের দান করি, তাহলে কি এটা হালাল হবে? যদিও টাকা নেয়ার আর কোন বিকল্প নেই। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : মালাকুল মাওত কিভাবে একসাথে একাধিক ব্যক্তির জান কবয করেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : প্রচলিত আছে যে, বিলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আযান সঠিকভাবে দিতে না পারার জন্য তাকে বাদ দিয়ে নতুন মুয়াযিযন নিয়োগ দেয়। তখন বিলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহর কাছে অভিযোগ করে আল্লাহ তুমি আমাকে তোতলা বানিয়েছ। এটার জন্য দায়ী তুমি। আর আমার মুয়াযিযন না থাকার দায়ী তুমি। নতুন মুয়াযিযন ফজরের আযান দিল, তখন জিবরীল (আলাইহিস সালাম) এসে বলেন, আজ কি আযান হয়নি? তখন লোকজন বলল, হ্যাঁ, অনেক সুন্দর হয়েছে। তখন জিবরীল (আলাইহিস সালাম) বলেন, বিলাল আযান না দিলে সকাল হবে না এবং সূর্যও উঠবে না। প্রশ্ন হল- উক্ত ঘটনার কি কোন দলীল আছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : টার্কী মুরগীর গোশত খাওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : ইসলামে ব্যবসায় সর্বাধিক কত পার্সেন্ট লাভে পণ্য বিক্রয় করা উচিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : একটি মসজিদে ক্বিবলার ওয়ালের সাথে একটি কবর আছে। কবরটি ইট-সিমেন্ট দিয়ে ঊঁচু করা। বিষয়টি ইমামকে জানালে বলেন, মসজিদের দেয়ালই যথেষ্ট। নতুন করে দেওয়াল দেয়া লাগবে না। উক্ত দাবী কি সঠিক? এমন মসজিদে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : স্ত্রীর বোন বা শালীর সাথে অপকর্মে লিপ্ত হলে স্ত্রী কি ত্বালাক্ব হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর কবর কোথায় হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : জনৈক ব্যক্তি বিশেষ ফযীলত মনে করে প্রতি শুক্রবার ছিয়াম পালন করেন। এভাবে ছিয়াম রাখা যাবে কি? ক্বাযা ছিয়াম শুক্রবারে আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : আমার স্ত্রী ২০২২ এর মার্চ মাসে সন্তান প্রসব করেন, সে জন্য এপ্রিলে ছিয়াম রাখতে পারেননি। পরের বছর সন্তানের বয়স কম থাকায় এবং বাচ্চা যথেষ্ট বুকের দুধ পাবে না, এই জন্য ২০২৩ এর ছিয়াম ও রাখেননি বা রাখতে পারেননি। এমতাবস্থায় আবার সে কনসেপ করে এবং এই রামাযানের (২০২৪) পরেই ডেলিভারি সম্ভব্য সময়। সে জন্য এই বছরের (২০২৪) ছিয়াম রাখতেও পারবে না। তাহলে তার মোট ৩ বারের ছিয়াম ক্বাযা হচ্ছে। এই অবস্থায় শারঈ বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : প্রথম রাক‘আতে দ্বিতীয় সিজদার পর মাথা তোলার সময় তাকবীর দিয়ে জালসা ইস্তিরাহাতের জন্য বসতে হবে, না-কি জালসা ইস্তিরাহাতের পর তাকবীর দিয়ে দাঁড়াতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : তাবলীগ জামায়াতের ‘ফাযায়েলে হজ্জ’ বইয়ের ৯২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে, জামে মসজিদে বার হাজার পাঁচশ’ (১২,৫০০) ছালাতের ছওয়াব। মসজিদে আকছার ছওয়াব বাষট্টি কোটি পঞ্চাশ লক্ষ (৬২,৫০০০০০০), মদীনার মসজিদের ছওয়াব তিন নিল বার খর্ব পঞ্চাশ আরব (৩১২৫০০০০০০০০০০) এবং হারাম শরীফের ছওয়াব একত্রিশ শঙ্ঘ পঁচিশ পদ্ম, (৩১২৫০০০০০০০০০০০০০০০)। উক্ত বর্ণনা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ