বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন
উত্তর :  উক্ত দাবীর পক্ষে কোন বিশুদ্ধ প্রমাণ নেই। কারণ ইমামগণ সর্বদা কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহর অনুসরণ করতেন এবং জনসাধারণকে দলীল ভিত্তিক আমল করার জন্য উৎসাহিত করতেন। আর ছহীহ দলীল থেকে যেটা পাওয়া যায় তা হল, ১১ রাক‘আত। যেমন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রামাযান মাসে এবং রামাযানের বাইরে ১১ রাক‘আতের বেশি ছালাত আদায় করতেন না’ (ছহীহ বুখারী, হা/১১৪৭, ২০১৩, ৩৫৬৯; ছহীহ মুসলিম, হা/৭৩৮)। ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ও ১১ রাক‘আত তারাবীহ পড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাও ছহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে (মুওয়াত্ত্বা মালেক হা/৩৭৯, ১/১১৫ পৃ.; মিশকাত হা/১৩০২, পৃ. ১১৫; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, ৩/১৫২ পৃঃ, হা/১২২৮)।

অন্যদিকে ২য় খলীফা ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ২০ রাক‘আত তারাবীহ চালু করেছিলেন মর্মে যে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে, তা যঈফ বা জাল হিসাবে প্রমাণিত। অর্থাৎ এ দাবীর ছহীহ কোন ভিত্তি নেই (বায়হাক্বী, হা/৪৬১৭, মুনকার; আল-বাইছুল হাছীছ, পৃ. ৪৮)। এ প্রসঙ্গে শায়খ আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) দীর্ঘ আলোচনার পর বলেছেন, لم يثبت أن عمر صلاها عشرين ‘ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর পক্ষ থেকে ২০ রাক‘আত সাব্যস্ত হয়নি’ (ছালাতুত তারাবীহ, পৃ. ৫৭)।

ইমাম আবু হানীফা (রাহিমাহুল্লাহ)-কে তারাবীহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি ২০ রাক‘আতের কথা স্মরণ করিয়ে দেন (আল-আরফুশ শাযী, শরহে তিরমিযী, পৃ. ১০১ ও ১৬৬)। কিন্তু উক্ত বক্তব্য ইমাম আবু হানীফা থেকে প্রমাণিত নয়। আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী বলেন, ‘উক্ত কথা আমাদের কাছে নির্ভরযোগ্য সূত্রে পৌঁছায়নি’ (ঐ, পৃ. ১৬৬ দ্র.)। ইমাম মালেকের পক্ষে ২০ নয়; ৩৬ রাক‘আতের কথা বলা হয়। কিন্তু এটাও সঠিক নয়। কারণ তিনি বিতর সহ ১১ রাক‘আতের হাদীছ বর্ণনার একজন রাবী। ইমাম শাফেঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বা ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের (রাহিমাহুল্লাহ) ব্যাপারে ২০ রাক‘আতের পক্ষে কোন বক্তব্য পাওয়া যায় না। ইমাম শাফেঈ (রাহিমাহুল্লাহ) ২০ রাক‘আতের হাদীছকে روي শব্দ উল্লেখ করে দুর্বল বলার চেষ্টা করেছেন। আর ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ) নির্দিষ্ট কোন রাক‘আতের পক্ষে কথা বলেননি (বিস্তারিত দেখুন : ‘তারাবীহর রাক‘আত সংখ্যা : একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ’ শীর্ষক বই)। মূলত এগুলো সব অন্ধভক্তদের সৃষ্টি কল্পিত কাহিনী ও ইমামদের নামে মিথ্যাচার।


প্রশ্নকারী : মুজাহিদ, গাবতলী, বগুড়া।




প্রশ্ন (২৮) : নবীগণের দ্বারা কি অনিচ্ছাকৃত কাবীরা গুনাহ সংঘটিত হয়েছিল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : কেউ কোন নারীকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার জন্য করণীয় কী? সে কি অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : হিজড়ারা জিনের সন্তান। এ দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : যিলহজ্জ মাসে কয়দিন তাকবীর পাঠ করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : ছালাতের শেষ বৈঠকে দরূদ ও দু‘আ মাসূরা পাঠ করার সময় তাশাহহুদ পাঠ করেছি কি করিনি এরূপ সন্দেহ হলে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : ছাত্রাবাসে দেশের নতুন বিজয় উপলক্ষে এবং যারা মারা গেছে তাদের স্মরণে নফল ছিয়াম রাখে। এরকম আনুষ্ঠানিকভাবে নফল ছিয়াম রাখার কোন দলীল আছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : জনৈক আলেম বলেছেন যে, যঈফ হাদীছ মানা যাবে যদি তা সমাজের উপকার হয়। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবর ত্বাওয়াফ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : মহিলার পেটে বাচ্চা থাকলে কি ত্বালাক্ব পতিত হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) বিভিন্ন খারাপ কাজের সাথে জড়িত এমন ইমামের পিছনে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফজরের পূর্বে দু’রাক‘আত সুন্নাত ছালাত ও বিতর ছালাত কখনো ছাড়তেন না। প্রশ্ন হল- যদি কেউ ছেড়ে দেন, তাহলে কি তিনি গুনাহাগার হবেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : যে সকল রাষ্ট্র আল্লাহকে সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক মনে করে না, সেই রাষ্ট্রের অধীনে যারা সরকারী চাকুরী করেন তাদেরকে দেশের নির্বাচনের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করতে হয়। মুসলিম হিসাবে বাধ্যগত কারণে উক্ত দায়িত্ব পালন করা কি কুফরীর অন্তর্ভুক্ত হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ