রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০২:৫৪ অপরাহ্ন
উত্তর :  উক্ত দাবীর পক্ষে কোন বিশুদ্ধ প্রমাণ নেই। কারণ ইমামগণ সর্বদা কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহর অনুসরণ করতেন এবং জনসাধারণকে দলীল ভিত্তিক আমল করার জন্য উৎসাহিত করতেন। আর ছহীহ দলীল থেকে যেটা পাওয়া যায় তা হল, ১১ রাক‘আত। যেমন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রামাযান মাসে এবং রামাযানের বাইরে ১১ রাক‘আতের বেশি ছালাত আদায় করতেন না’ (ছহীহ বুখারী, হা/১১৪৭, ২০১৩, ৩৫৬৯; ছহীহ মুসলিম, হা/৭৩৮)। ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ও ১১ রাক‘আত তারাবীহ পড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাও ছহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে (মুওয়াত্ত্বা মালেক হা/৩৭৯, ১/১১৫ পৃ.; মিশকাত হা/১৩০২, পৃ. ১১৫; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, ৩/১৫২ পৃঃ, হা/১২২৮)।

অন্যদিকে ২য় খলীফা ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ২০ রাক‘আত তারাবীহ চালু করেছিলেন মর্মে যে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে, তা যঈফ বা জাল হিসাবে প্রমাণিত। অর্থাৎ এ দাবীর ছহীহ কোন ভিত্তি নেই (বায়হাক্বী, হা/৪৬১৭, মুনকার; আল-বাইছুল হাছীছ, পৃ. ৪৮)। এ প্রসঙ্গে শায়খ আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) দীর্ঘ আলোচনার পর বলেছেন, لم يثبت أن عمر صلاها عشرين ‘ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর পক্ষ থেকে ২০ রাক‘আত সাব্যস্ত হয়নি’ (ছালাতুত তারাবীহ, পৃ. ৫৭)।

ইমাম আবু হানীফা (রাহিমাহুল্লাহ)-কে তারাবীহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি ২০ রাক‘আতের কথা স্মরণ করিয়ে দেন (আল-আরফুশ শাযী, শরহে তিরমিযী, পৃ. ১০১ ও ১৬৬)। কিন্তু উক্ত বক্তব্য ইমাম আবু হানীফা থেকে প্রমাণিত নয়। আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী বলেন, ‘উক্ত কথা আমাদের কাছে নির্ভরযোগ্য সূত্রে পৌঁছায়নি’ (ঐ, পৃ. ১৬৬ দ্র.)। ইমাম মালেকের পক্ষে ২০ নয়; ৩৬ রাক‘আতের কথা বলা হয়। কিন্তু এটাও সঠিক নয়। কারণ তিনি বিতর সহ ১১ রাক‘আতের হাদীছ বর্ণনার একজন রাবী। ইমাম শাফেঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বা ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের (রাহিমাহুল্লাহ) ব্যাপারে ২০ রাক‘আতের পক্ষে কোন বক্তব্য পাওয়া যায় না। ইমাম শাফেঈ (রাহিমাহুল্লাহ) ২০ রাক‘আতের হাদীছকে روي শব্দ উল্লেখ করে দুর্বল বলার চেষ্টা করেছেন। আর ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ) নির্দিষ্ট কোন রাক‘আতের পক্ষে কথা বলেননি (বিস্তারিত দেখুন : ‘তারাবীহর রাক‘আত সংখ্যা : একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ’ শীর্ষক বই)। মূলত এগুলো সব অন্ধভক্তদের সৃষ্টি কল্পিত কাহিনী ও ইমামদের নামে মিথ্যাচার।


প্রশ্নকারী : মুজাহিদ, গাবতলী, বগুড়া।




প্রশ্ন (৪৫) : গর্ভবতী মহিলাদের ছিয়াম অন্য কেউ করে দিতে পারবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫২) : যে ব্যক্তি রামাযান, শাওয়াল, বুধবার ও বৃহস্পতিবার ছিয়াম পালন করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে’ (আহমাদ, হা/১৫৪৭২) মর্মে বর্ণনাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : ইয়াতীমের সম্পদ গ্রাস করার পরিণাম কী? ইয়াতীমের মাল দেখাশোনা বা ব্যবসায় খাটালে তা থেকে লভ্যাংশ নেয়া কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫): ইসলামের দৃষ্টিতে বিকাশ এজেন্টের ব্যবসা করা জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : কোন মুসাফির যখন কোন মসজিদে জামা‘আতের সাথে এশার ফরয ছালাত আদায় করতে চাইবে, তখন সে কি দুই রাক‘আত পড়বে, না-কি চার রাক‘আত আদায় করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : মৃত ব্যক্তির নামে, মসজিদে হালাকা করা অর্থাৎ দু‘আ বা যিকিরের আয়োজন করা, কোন দু‘আর মাহফিল করা বা কোন হুজুর ডেকে কুরআন খতম পড়ানো ও খাওয়ানো কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদীনায় দশ বছর অবস্থান করেছেন এবং প্রত্যেক বছরই কুরবানী করেছেন। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : যারা বলেন, নবীজি (ﷺ) হাজির নাযির। তারা দলীল দেয় যে, ‘যখনই যে কেউ আমাকে সালাম করেন তখনই আল্লাহ আমার রূহকে আমার কাছে ফিরিয়ে দেন, যেন আমি তার সালামের উত্তর দিতে পারি’। তাহলে নবী (ﷺ) কি কবরে জীবিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : হায়েয  বা অসুস্থতার কারণে ভঙ্গ হওয়া ছিয়াম কিভাবে আদায় করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৯) : জনৈক বক্তা বলেন, যে বান্দা রামাযানের ছিয়াম পালন করে তার সাথে প্রত্যেক দিন তাঁবুতে সুরক্ষিত হুরদের মধ্য হতে একজনকে বিবাহ দিয়ে দেন। প্রত্যেক স্ত্রীর সাথে ৭০টি দামী কাপড় থাকবে। প্রত্যেকটির রং হবে পৃথক পৃথক। তাকে ৭০ প্রকারের সুগন্ধিযুক্ত রং দেয়া হবে। এক রঙের সাথে অন্য রঙ মিলবে না। প্রত্যেকেই বসে থাকবে হীরার খাটে, যাতে মুক্তা দ্বারা বিন্যস্ত করা থাকবে ৭০টি বিছানা, যার আস্তর থাকবে রেশমের। ৭০টি বিছানার উপর থাকবে ৭০টি পালঙ্ক। প্রত্যের স্ত্রীর জন্য থাকবে ৭০ জন্য সেবিকা, যারা তার সেবা করবে। আর ৭০ জন সেবিকা থাকবে তার সাথে মুলাক্বাতের জন্য। আর প্রত্যেক সহচরের সাথে থাকবে অনেক সম্ভ্রান্ত সাথী। জান্নাতে স্বর্ণের পাত্র থাকবে তাতে বিভিন্ন রঙের খাবার থাকবে। প্রথম যে স্বাদ পাওয়া যাবে শেষেও সে স্বাদ পাওয়া যাবে। আর তার স্বামীকেও অনুরূপ লাল হীরার খাট দেয়া হবে, যার উপর দু’টি স্বর্ণের বালা থাকবে, যা বিন্যস্ত থাকবে লাল হীরা দ্বারা। এটা রামাযানের প্রত্যেক দিন ছিয়াম পালনকারীর জন্য, অন্য নেক আমলের জন্য নয় (ত্বাবারাণী, আল-মু‘জামুল কাবীর হা/৯৬৭)। উক্ত বর্ণনা কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : মসজিদে হারাম বা মসজিদে নববীর চত্বরে ছালাত আদায় করলে কি মূল মসজিদে ছালাত আদায় করার সমান ছাওয়াব পাওয়া যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : ঋণ নিয়ে কুরবানী দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ